বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কর্পোরেট লাইফ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কর্পোরেট লাইফ ____ হৃদয় মাহমুদ । : : : সিগারেটটা হাতে নিয়ে বসে আছে রিমন। রাগে সারা শরীর গরগর করছে। মন চাইছে নিজেকে মেরে দিতে আর না' হয় কাউকে মারতে। হৃদস্পন্দন সাপের মত ফোঁস ফোঁস আওয়াজ করছে। যেনো এক্ষুনি কাউকে ছোবল দিবে। পাশে বসা ভদ্র লোকটি "কেমন আছেন " জিজ্ঞেস করেও নাজেহাল হয়ে গেলো। চোখ দুটো রাঙ্গিয়ে জবাব দিলো " কেমন আছি তোকে বলতে হবে "? আচরনের আক্রমন দেখে লোকটি আর কোন প্রশ্ন করলো না, উঠে চলে গেলো। . জায়গাটা হলো রাস্তার পাশে একটা টং দোকান। এটা ফল্টু চাচার চা দোকান নামে পরিচিত সকলে এক নামে চিনে। বসার মত একটাই ব্যাঞ্চ তিনজন বসতে পারে বাকিরা দাঁড়িয়ে থাকে। সারা দিনে একবারই ভিড় জমে সেই বিকেল বেলায়। প্রতিদিনের মত আজো প্রচুর ভীড় জমে আছে। তবে ব্যাঞ্চের মধ্যে রিমন একাই বসে আছে কেউ পাশে নাই। পায়ের উপর পা তুলে সিগারেটটা না' জালিয়েই হাতে নিয়ে বসে আছে। যদিও রিমনকে সিগারেট টানতে কখনো দেখা যায়নি, সামনে বা লুকিয়েও টানে না কারন সে এটা পছন্দ করে না। আজকে হাতে দেখে সবাই অবাক হচ্ছে। যে দেখছে সেই চোখের ঈশারায় অন্য জনকে জিজ্ঞেস করছে কি হলো আজ। নিচের দিকে তাকিয়ে শুধু পা নাড়ছে যেনো বিশাল একটা দুশ্চিন্তা মাথায়। ফল্টু চাচা বলে ডাক দিলো শুনেনি বলে চিৎকার মেরে ডাকলো সকলে থমকে গেলো চাচাও ভয় পেলো। কি বা'জান বলে জবাব দিলে নিচের দিকে চাওয়া অবস্থায়ই বললো একটা রং চা দিতে। চাচা তাড়াতাড়ি চা বানিয়ে দিলো। এত্ত গরম চা দুই চুমুকে শেষ করে দিয়ে আবার চা দিতে বললো আরেকটা দিলো। তাও শেষ এভাবে পাঁচ পাঁচটা চা খেলো। সবাই নিশ্চুপে তার দিকে চেয়েই রইলো। . টাকাটা দিয়ে সেখান থেকে উঠে গেলো। পথে একটা অচেনা লোক থেকে লাইটার নিয়ে সিগারেটটায় আগুন জালালো। একবারের জন্যেও সেটা মুখে পুরলোনা হাতে নিয়েই একটা ফুট ওভার ব্রিজের উপর রেলিং ধরে পুড়ন্ত সিগারেটের দিকে চেয়ে রইলো। দেখছে একটা সিগারেট কিভাবে নিজে জলে পুড়ে ছাঁই হয়ে অন্যকে শান্তনা দেয়। অনবরত জলতেই আছে, সিগারেটটা ছোট হয়ে আসছে ধোঁয়ায় চারিপাশ অন্ধকার করে ফেলছে। কই কোন অনুভূতিতো কাজ করছে না। মাথায় বসে থাকা রাগের বোঝাওতো নড়ছেনা। একটিবার মুখে দেওয়ার আগ্রহ ওতো জাগছে না। তবে কি সিগারেটের কোন ক্ষমতা নেই মানুষকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করার। এটাতো দেখছি পুড়ে ছাঁই হওয়া পর্যন্ত একটা সময় অপচয় করছে, অর্থ নষ্ট করছে, ধোঁয়া ছেড়ে পরিবেশ দূষিত করছে, মুখে টানলে রোগের সৃষ্টি করে। কোন উপকারতো নাই। তবে সবাই যে বলে দুশ্চিন্তা দূর করে? আসলে সবই মনের ভ্রান্ত ধারনা। একটা সিগারেট একজন মানুষের কেবল ক্ষতিই করতে পারে, উপকার নয়। . পুড়ে যাওয়া সিগারেটের শেষ অংশটার দিকে একবার চেয়ে ফেলে দিলো। মাথার চুলগুলো হাতের ঈশারায় আঁছড়িয়ে বাসার দিকে রওয়ানা দিলো তখন রাতে ঠিক বারোটা। কলিং বেল চাপতেই তার স্ত্রী নুপুর দরজা খুললো। চুপচাপ ভিতরে ঢুকে কাপড় চেইঞ্জ করা ছাড়াই খাটের উপর শুয়ে পড়লো। নুপুর তখনো ঘুমায়নি খায়ওনি রিমনের জন্য বসে আছে। __ কি হলো কাপড় চেইঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে এসো খাবে। __ রিমন চুপ। __ কি বলছি শুনতে পাচ্ছোনা? __ এবারও চুপ। মেজাজ কড়া দেখে আর কথা বাড়ালো না, পাশেই বসে রইলো। রিমন ঘুমিয়ে পড়লে তাকে ঠিক করে দিয়ে নুপুর সোফার উপর শুয়ে থাকলো রাগ করে সেও খায়নি। তবে খুব ভয়ও পেয়েছে কারন রিমন এমন রাগ আগে কখনোই করেনি। কি করতে কি করে বসে, না' আর এভাবে করা যাবে না, অনেক হয়েছে ভাবতে ভাবতে অনেক অনুশোচনা করলো। . দুজনে প্রেম করে বিয়ে করেছে পাঁচ বছর হলো। কোন সন্তান আসেনি। রিমন একটা জব করে, লাইফটা কর্পোরেট হয়ে গেছে । একে অপরকে খুব ভালোবাসলেও সময়ের বড় অভাব। নুপুর তাকে কাছে পেতে চাইলেও রিমনের সময়ের অভাবে তা হয়ে উঠেনা। সেই যে বিয়ে করেছে তখন থেকেই নুপুর বন্দি, খাঁচায় রাখা পাখির মত। একটু সময়ের অভাবে বের হতে পারেনি। সে চায় তার স্বামী যেনো তাকে নিয়ে একটু ঘুরে বেড়ায়, এখানে যায়, সেখানে নিয়ে যায় কিন্তু রিমন কখনো নাও করেনা তবে সময়ের অভাবে যাওয়াও হয়ে উঠে না। সে নিজে কোথাও নিতে পারে না, আবার কারো সাথে যেতেও দেয় না।রিমন তাকে অনেক ভালেবাসে যার জন্য সে চায়না বাসা থেকে বের হোক, অন্য পুরুষ গুলো তার দিকে বাজে নজরে তাকাক, বাজে ঈঙ্গিত করুক। কোন পুরুষের পাশে বসুক, কারো সাথে আড্ডা দিক গল্প করুক। এটা তার সহ্য হবে না, দেখতে বা শুনতে ভালো লাগবে না। রিমনও জানে একটি মেয়ে বিয়ের পরে খাঁচায় বন্দি পাখির মত হয়ে যায়, জেল-এর কয়েদীর মত বেঁচে থাকে। এভাবে সংসার জীবন মেইনটেইন করতে করতে একঘেঁয়েমি এসে যায়। জীবনের প্রতি বিরক্তি এসে যায়। তখন একটু বের হতে চায়, খোলা আকাশ, বিস্তীর্ণ জলরাশিতে পানির ঢেউ, ওপেন প্লেসে মানুষের হুদাহুদি ভীড় ইত্যাতি দেখতে মন চায়। পাখি হয়ে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখতে থাকে। কিন্তু বের হতে পারে না বলে শুরু হয় রিমনের সাথে মনমালিন্য। . রিমন সবকিছু বুঝেও করতে পারেনা। কর্পোরেট লাইফ সকাল হলেই অফিসের জন্য প্রস্তুতি, অফিস শেষে হয়ে যায় সন্ধ্যা, ক্লান্ত দেহে আর কিছুই ভালো লাগে না। তখন নুপুরকে আশ্বস্ত করে ছুটির দিনে কোথাও বের হওয়ার কিন্তু সেদিন পড়ে থাকে অফিসের অনেক অসমাপ্ত কাজ। হয়ে যায় তা নিয়ে ব্যস্ততা। এদিকে অনেক আশা নিয়ে সেজেগুজে অপেক্ষা করা নুপুরের মনটা হঠাৎই ভেঙ্গে যায়। রিমন শান্তনা দেয় " সোনা, আজকে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা সেরে নিই। রাগ করোনা প্লিজ, আগামী সপ্তাহে সিউর নিয়ে যাবো "। স্বামীর মায়া ভরা আকুতি মেনে নিলেও মন খারাপ করে সবকিছু খুলে ফেলে কেঁদেই ফেলে। এভাবে প্রত্যেকটা ছুটির দিনে নুপুর সেজে থাকে আর রিমনের ইম্পর্টেন্ট কাজ পড়ে থাকে। তাই আর যাওয়া হয়ে উঠে না। পরে পরে যেতে বললেও আর রেডি হতো না কারন কাজ পড়ে যাবে যাওয়া যাবেনা। এনিয়ে প্রায় দুজনে ঝগড়া করতো। আবার রিমন একাকীত্বে চিন্তা করতো। তার তো কোনো দোষ নাই আমিই তো সময় দিতে পারি না। পরবর্তিতে এক রকম অবাধ্যের মত রিমনকে না'জানিয়েই যেখানে মন চাইতো চলে যেতো। কখনো বলতো, কখনো বলার প্রয়োজনও মনে করতো না। এক সময় নুপুর পুরোই যেনো অবাধ্য হয়ে যাচ্ছিলো রিমন খেয়াল করতো যদিও নিজের দুূর্বলতা বুঝতো আবার কথা না'শুনার জন্য ঝগড়াও করতো। . এভাবেই সেদিনও তাকে না' জানিয়ে বান্ধবী ও বান্ধবীর হাজব্যান্ডের সাথে বেরিয়েছিলো বলে শুনেই রাগারাগি শুরু হলো। দুজনে সারাটা দিন অনেক ঝগড়া করলো। পুরো একটা দিন তারা উপোস। সেদিন রিমন আর অফিসও করেনি সেই যে ভোর সকালে বের হয়েছে রাগারাগি করে আর কোন খবর নেই। নুপুর রেগে থাকার পর আর মন মানছে না দেখে দুপুরের দিকে খবর নিতে গিয়ে ফোন বন্ধ পেয়ে আরো ঘাবড়ে গেলো। আর কারো কাছ থেকে খবর নেয়ার মতও জানাশুনা কেউ ছিলো না। সারাটা দিন মনের মধ্যে অনেক কিছু বাজতে থাকলো। না' খেয়েই তার অপেক্ষায় বসে রইলো। ঝগড়া করলেও নুপুর রিমনের চেয়ে কম ভালোবাসেনা। এক মুহুর্ত খবর না' পেলে চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ে। এই ভয় থেকেই নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিলো আর এমন করা যাবে না। এখন থেকে সে যা বলবে তাই করবে। অনুমতি দিলে যাবে না'দিলে ইচ্ছামত কোথাও যাবে না। . অতঃপর রিমনের ঘুম ভাঙ্গলো জেগে দেখে নুপুর পাশে নাই। উঠে দেখে সে সোফায় শুয়ে আছে। ঘুমের মধ্যেই নুপুরকে পাজা কোলে করে খাটের উপর শুইয়ে দিলো। আর ভাবতে থাকলো "সব দোষই আমার। আমিই তোমাকে বাধ্য করেছি। ঠিকইতো আমি ছাড়া তোমাকে আর কে নিয়ে যাবে সেই আমিই তো নিবো বলে ব্যস্ত হয়ে যাই। একটি মেয়ে কতক্ষণ একা একা ঘরে বসে থাকতে পারে। সব ছেড়ে আমার কাছে আসলো আর আমিই তাকে কষ্ট দিচ্ছি। এই চাকুরিটাই আমাকে পাগল বানিয়ে দিলো। আমার সময়গুলো কেড়ে নিলো। আমাদের মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি করলো। আর না, এখন থেকে তোমার জন্য সপ্তাহে অন্তত একটি দিন বরাদ্দ রাখবে। ঐ দিনটি শুধুই তোমার জন্য। দিনটিতে আর কিছুই হবে না, কোন কাজ হবে না। সরি নুপুর, আমাকে ক্ষমা করে দিও, তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি "। তারপর অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নুপুরের ভরা ঘুমে ডাকবে নাকি ডাকবেনা ভাবতে ভাবতে নুপুর উঠে এসে পিছনে জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে সরি বলতেই রিমন একগাল হেসে দিলো। সামনে টেনে এনে বুকে জড়িয়ে ধরতেই নুপুর কাঁদতে কাঁদতে হাসতে লাগলো। একটি মাত্র রাত তাদের রাগ স্থায়ী ছিলো। কত কিছুই না হয়ে গেলো। রাত শেষে দুজনই একে অপরকে আপন করে নিলো কারন তারা দুজন দুজনকে যথেষ্ঠ ভালোবাসে। তরপর নুপুর বলতে লাগলোঃ __ সরি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আর কখনো এমন হবে না। তোমাকে না' জানিয়ে কোথাও যাবো না। __ ঠিক আছে (চিবুক ধরে) আর সরি বলতে হবেনা। এখন থেকে আমিই তোমাকে নিয়ে যাবো যেখানে যেতে চাও সেখানে। __ সত্যিই... __ হ্যাঁ সত্যি সত্যি সত্যি....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কর্পোরেট লাইফ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now