বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কর্মের প্রতিচ্ছায়া

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান SHUVO SUTRADHAR (০ পয়েন্ট)

X অংকন বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। অংকন সদ্য বিয়ে করেছে। পরিবারে বাবা-মা আর সদ্য বিয়ে করা স্ত্রী। বিয়ে করার পর থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকত তাদের দম্পতির। এভাবে কিছুূূদিন চলার পর একদিন.... অংকনঃ বাবা-মা তোমরা কি আমাদের ভালো চাও না? অংকনের বাবাঃ এই রকম বলছিস কেন! কোনো বাবা-মা কি চায় তার ছেলে যেন কারাপ থাকে। অংকনঃ তাহলে এতদিন ধরে যে বলছি বৃদ্ধাশ্রমে চলে যেতে তাহলে যাও নি কেন? অংকনের বাবাঃ বৃদ্ধাশ্রমে তো চলেই যেতাম কিন্তু তোদের ছাড়া আমরা কিভাবে থাকব? অংকনের স্ত্রীঃ থাকবার জন্য ফন্দি আটিয়ে লাভ নেই। অংকনের মাঃ বউ এই রকম বলছ কেন! তোমি তো কিছুূূদিন হলো আসছ তোমি কি বুঝবে আমরা আমার ছেলেকে কথটা ভালোবাসি। অংকনঃ ভালোবাসা বুঝাতে হবে না। আমাদের সোনার সংসারটাই তোমরা ধংস করে দিয়েছ। অংকনের বাবাঃ আমরা আবার কি করলাম? অংকনের স্ত্রীঃ তোমরা কি করনি বল! তোমাদের জন্য আমাদের সংসারের কোনো উন্নতি নেই। আজ তোমাদের এই অসুখ কাল অন্যটা এভাবে তো চলছেই। তোমরা প্রবীণ তোমরা আমাদের বোঝা। তোমাদের রেখেই বা লাভ কি তোমরা তো রোজগার ও করতে পার না। অংকন কত টাকা রোজগারই বা করে যে তোমাদের দেখবে। তোমাদের জন্য আমাদের বাড়িতে কোনো গেস্ট ও আসতে পারে। যদি তোমরা চলে যেতে তাহলে তোমাদের রুমকে গেস্ট রুম বানিয়ে ফেলতাম। অংকনের বাবাঃ ও তাহলে এই সমস্যা আমরা আজকেই বৃদ্ধাশ্রম চলে যাব। অংকনের মাঃ তোমাদের সুখেই আমাদের সুখ। তোমরা যদি আমাদের চলে যাওয়াতেই খুশি হও তাহলে তাতেই আমরা খুশি। তারপর তারা বৃদ্ধাশ্রম চলে গেলেন। এভাবে প্রায় সাত বছর চলে গেল। অংকনের অফিস থেকে বৃদ্ধাশ্রমের লোকদের অনুদান দিবে তাই অংকন বৃদ্ধাশ্রম গেলেন এবং অনেক লোকদের অনুদান দিলেন। কিন্তু হঠাৎ তার বাবা মাকে দেখতে পেলেন এবং সে তাদের কাছে গেল এবং বলল..... অংকনঃ তোমরা কেমন আছ? অংকনের বাবাঃ ভালই। অংকনঃ আমার একটি ছয় বছরের ছেলে আছে তার জন্য আর্শিবাদ করবেন। তোমাদের কি কি লাগবে আমাদের অফিস থেকে সাহায্য আসছে। অংকনের মাঃ আমাদের একটি ফ্যান হলেই চলবে। অংকনঃ শুধুই ফ্যান কেন মা! অংকনের মাঃ এখানে প্রচুর গরম। খুব গরম লাগে গ্রীষ্মকালে তুই কি সেই পরিবেশটা মানিয়ে নিতে পারবে। অংকনঃ এই রকম বলছ কেন? অংকনের মাঃ সময় হলেই বুঝতে পারবে। এভাবে আর ও বিশ বছর কেটে গেল। অংকনের ছেলের এখন ছাব্বিশ বছর। অংকনের ছেলেও বিয়ে করেছে এবং অংকনের ছেলে অংকনকে ও তার স্ত্রীকে বৃদ্ধাশ্রমে পাটিয়ে দিল যেভাবে অংকন তার বাবা-মায়ের সাথে করেছিল। তখন অংকন বুঝতে পারে কেন তার বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে ফ্যান রেখে গিয়েছিলেন। কারন তারা জানতেন তাদের সাথে যেটি হয়েছে অংকনের সাথেও সেটিই হবে। কথায় আছে না যেমন কর্ম, তেমন ফল। কিন্তু আমরা সেটা জেনেও বাবা-মায়ের সাথে কারাপ ব্যাবহার করি। আমরা বুঝতেই চেষ্টা করিনা যে আমরা যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এত বড় তাদেরই আমরা ছোট করে ফেলি। আমাদের সবাইকেই কর্মের প্রতিচ্ছায়া ভোগ করতে হবে। ভালো কর্ম করলে ভালো ফল, কারাপ কর্ম করলে কারাপ ফল। একটি প্রবাদ আছে না,,, কোথায় সর্গ কোথায় নরগ কে বলে তা বহুদুর, মানুষের মধ্যই সর্গ নরগ মানষেতেই সুরাসুর।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কর্মের প্রতিচ্ছায়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now