বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেবার বইমেলা উপলক্ষ্যে স্নেহময় আর নিবেদিতা পৌঁছে গেলো কৃষ্ণনগর দুদিন আগেই । সকালে পৌঁছে গেস্ট হাউসে যে যার ঘরে স্নানটান করে তারা বেরোলো দুপুরের খাবারের সন্ধানে । একটা হোটেলে খেয়েদেয়ে দুজনেই ঠিক করল আজ ছুটির মেজাজে আছি যখন, একটু ঘুরে বেড়াই শহরটা, আর খানিকবাদে ক্ষিদে পেলে আমরা সরভাঁজা খাবো কোথাও একটা । শীতের দিন দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে সময় নেয় না । এক কাপ করে গরম চা খেয়ে ওরা দুজনেই ফিরছে হেঁটে হেঁটেই তাঁদের গন্তব্যে । মাঝে চায়ের দোকানে চা খেতেখেতে চায়ের দোকানের মালিক সুভাষবাবুর মুখে শুনল দুজনেই যে, কদিন আগে ঐ কোর্টের মাঠের পাশে ভূত দেখে ভয় পেয়ে শ্রীময়ীর মৃত্যুর ঘটনাটা । স্নেহর বরাবরি ভূতের উপর একটা কৌতূহল ছিলই , জীবনে ভূত না দেখাটা কবে যে সার্থক হবে, এই কথা শুধু ভাবে যখনি কারুর মুখে শোনে এইসব ভূতের সত্য কাহিনীগুলো । ‘ভূতবাবাজী বোধহয় খুব হিংসুটে প্রকৃতির হয়’, এই ধারনা স্নেহর মধ্যে ক্রমশ বদ্ধমূল হতে থাকে, তার একমাত্র কারণ এখনো পর্যন্ত ভূতের অদর্শনই হবে বোধহয় । আবার নিবেদিতা হলো স্নেহর ঠিক উল্টো চরিত্রের এক মানুষ, ভূতের নামেই তার জিভ শুকিয়ে শুকনো হয়ে যায়, বোধহয় আড়ষ্টও হয় কিছুটা, কারণ সে গল্পগুলো শোনে এক মনে কিন্তু কোন প্রশ্ন করতে শুনে নি আজ পর্যন্ত কেউ । যাকগে সে, মানুষ তো এক এক রকমই হবে, এর মধ্যে আর নতুনত্ব কি আছে ? ঐ গল্প শোনার পর থেকেই নিবেদিতা এক নাগারে স্নেহকে বলে চলেছে, “স্নেহদা আমরা কিন্তু হেঁটে ঐ জায়গাটা দিয়ে ফিরব না, প্লিস তুমি হয় রিক্সা নাও অথবা ঐ ট্রেকারে করে চলে যাই চলো ।“ স্নেহময় বললো, “আরে চলো আমি তো আছি, আর ঐ ভূতবাবাজীরা কখনই বেশী লোক থাকলে আসে না জানো তো, চলো এগোতে থাকি, তার পর যা পাই তাতেই না হয় উঠে যাব । আর এই শীতের রাতে অন্ধকারে সে সব পেলে তো ? ভয় পেয়ো না, আমি তো সঙ্গে আছি ।“ এই বলে দুজনেই হাঁটতে থাকে আর স্নেহ একাই একটানা গল্প করে চলেছে নিবেদিতার সঙ্গে । কিছুটা এগোনোর পর পিছন থেকে একটা আলো পরতেই , স্নেহ দাঁড়িয়ে পড়ল, আর বলল, “দাড়াও নিবেদিতা, তোমার ভাগ্য ভাল, দেখেছো তুমি , একটা গাড়ি মনে হয় আসছে এদিকেই আমাদেরকে নিতেই ।“ স্নেহময় ও নিবেদিতা দুজনেই হাত নাড়িয়ে গাড়িকে থামার ইঙ্গিত করতে থাকল। গাড়িটা একেবারে এসে দাঁড়াল তাঁদের সামনেই, গাড়ি নয়, একটা ফাঁকা ট্রেকার । স্নেহময় বলল, “কোর্ট রোডের পিছনে আমরা স্টেশন রোডে যাব ।“ ড্রাইভার বলল, “বসুন , দশ টাকা করে দেবেন ।“ গাড়ীতে বসতেই স্নেহময় ও নিবেদিতার নাকে সাংঘাতিক এক পোড়া গন্ধ লাগতে থাকল । গাড়ি চালাতে চালাতেই ড্রাইভার বলল, “তিনজনেই টাকা বের করে রাখুন, আমি দাঁড়াব না বেশীক্ষণ ।“ স্নেহময় বলল, “আরে ভাই, আমরা তো দুজন, এই নাও তোমার কুড়ি টাকা ।“ ড্রাইভার বলল, “এই যে, একদম পিছনে, তোমার টাকাটাও বের করে রাখ কিন্তু।“ এই কথা শুনে স্নেহময় ঘার ঘুরিয়ে পেছন সিটে দেখে, কেউ নেই, কিন্তু, পোড়া উৎকট গন্ধটা যেন একদম গায়ের কাছে ঐ পিছনের সিট থেকেই আসছে , সেটা টের পেলো । এইটুকু কথোপোকথনেই নিবেদিতা সরে একদম স্নেহময়বাবুর গা ঘেসে বসলো, মুখে কোন কথা নেই । মিনিট পাঁচেক গাড়িটা এগিয়েই একটা বড় তেঁতুল গাছ ছাড়িয়ে আর একটা বড় ঘন পাতার দ্বারা আবৃত বড় তেঁতুল গাছের সামনে এসেই ক্যাঁএএচ করে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গেলো । স্নেহময় বলে উঠলো, “ড্রাইভার সাহেব, এ কিরকম গাড়ি চালানো? ফাঁকা রাস্তা, সাবধানে চালান ।“ ড্রাইভার বলল, “শুনলেন না, পিছনের ভদ্রমহিলা নামবেন এখানে বললেন, তাইতো হঠাৎ অন্ধকারে এখানে দাঁড়ালাম ।“ স্নেহময় হতবাক হয়ে শুধু শুনল আর দেখল, ড্রাইভার সিট থেকে নেমে বলছে, “ এই সবিতা, তোমার টাকাটা দাও ।“ বলতে বলতে তেঁতুল গাছটার দিকে এগোচ্ছে । স্নেহময় বড় বিপদে পড়ল, ভিতু আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া নিবেদিতাকে একা রেখেই নেমে পড়ল আর গাড়ীর ভিতরের অস্পষ্ট আলোতে রাস্তার ওপারে যা দেখল, তাতে তার এই শীতে শরীরের রক্ত জমে বরফ হয়ে যাবার উপক্রম । স্নেহময় দেখল, গাছের এক উঁচু ডালে এক অর্ধউলঙ্গ বিকটদর্শনা নারী লম্বা লম্বা হাত বাড়িয়ে ডাল থেকে তেঁতুল ভেঙ্গে ভেঙ্গে খাচ্ছে আর প্রায় কুড়ি ফুট নিচে তার লম্বা পা দুটো দিয়ে গাড়ীর ড্রাইভারের গলাটাকে এমন ভাবে চেপে ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে, যেন মনে হচ্ছে, ড্রাইভার ছেলেটি গলায় দড়ি দিয়ে অসার, নিস্তেজ হয়ে ঝুলছে । আর সেই বিকটদর্শনা নারী বলছে, “আর কত টাকা নিবি ? টাকা টাকা করে আমাকে তো গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারলি । নে তুইও মর আমার সঙ্গে, আর থাক এই ভাবে ঝুলে আমার পায়ের নীচে । আর টাকা চাইবি ?” সাহসী স্নেহময়ের জিভ আড়ষ্ট হয়ে আছে, সে ধীরে ধীরে টলতে টলতে গাড়ীর কাছে এসে কোন রকমে নিবেদিতাকে এততুকুই বলল, “আমার শরীর খুব খারাপ লাগছে নিবেদিতা । আমাকে তুমি নিয়ে চলো ।“ নিবেদিতা গাড়ি থেকে নেমে স্নেহময়ের হাত নিজের কাঁধে রেখে ধীরে ধীরে স্টেশন রোডে গেস্টহাউসে পৌঁছল আর স্নেহময়বাবুকে তার ঘরের বিছানায় শুইয়ে দিলো হোটেলের কর্মচারীদের সাহায্যে । আর হোটেলের কেয়ারটেকার শ্রীবিলাসবাবুর কাছে শুনল, দু বছর আগে তপন নামের এক ট্রেকার ড্রাইভার কেরোসিন দিয়ে তার বউ সবিতা কে পুড়িয়ে মেড়ে ঐ তেঁতুল গাছটার নীচে রেখে গিয়েছিল আর আশ্চর্যজনক ভাবে সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই ট্রেকার ড্রাইভার তপনকেও ঐ গাছের নীচেই পাওয়া গিয়েছিল মৃত অবস্থায় । সারা দেহে কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না, শুধু গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মাড়া হয়েছিলো বলে জানা যায় । পরের দিন সকালে তপনের ট্রেকারটিও তেঁতুল গাছের তলায় ঐ রাস্তাতেই পাওয়া গিয়েছিল । কেয়ারটেকার বাবুর কাছে এই কথাগুলো শুনে নিবেদিতার রাতের খাওয়া ও ঘুম উবে গেলো । সারা রাত স্নেহময় বাবুর শুশ্রূষা করে কাটিয়ে অর্ধ অচেতন স্নেহময়বাবুকে সকাল হলে এ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসলো। দীর্ঘ তিনমাসব্যাপী চিকিৎসার পর স্নেহময়বাবু এখন ভালো আছেন, কিন্তু তার চাকরি ছেড়ে এখন তিনি শুধু ব্যাবসা করেন নিজের, সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত তিনি কাজ করেন, আর ডাক্তার-এর নির্দেশে তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ভোরবেলা পর্যন্ত ঘুমান।
স্নেহময়বাবু ও নিবেদিতা আমার অতি কাছের দুই মানুষ, তাঁদের মুখ থেকেই শোনা এই কাহিনী তোমাদের কাছে রাখলাম ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now