বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কপাল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অনভুতিহীন লেখক (০ পয়েন্ট)

X কপাল''' মেজাজটা সেই মাপের গরম হয়ে যাচ্ছে। এখনও গালটা ব্যাথা করছে। বলতে হবে মেয়েটার হাতে জোর আছে। দুই গালে হাত দিয়ে হাটছি। গেট দিয়ে বেরোতেই রাহুলকে দেখতে পেলাম। ওকে দেখেই হাত দুটা নামিয়ে ফেললাম। . - কি মামা ঠিক হইছে??? (রাহুল) - কি ঠিক হবে? (আমি) - আরে তোরে কিজন্য পাঠাইছি আমি? - আরে হ্যা। কিজন্য জানি। ভু্লে গেছি। - আরে তৃপ্তিকে বুঝাতে পাঠাইছিলাম। - তৃপ্তি কে? - আরে কই আছিস তুই? তৃপ্তি আমার জিএফ। আর ও ভুল বুঝছে আমারে তাই তোরে পাঠাইছিলাম ওর ভুল ভাঙাতে। - ওহহহহ!!!! হ্যা ভুল ভাঙছে তো..... - মাই চুইট দোচ।। থ্যাংকস দোচ। - আরে পুরোটা শোন তো। - পরে এসে শুনব। - যা তাইলে আগে চড় খাইয়া আয়। (আস্তে করে) . অনেকক্ষন বসে আছি গেটের বাইরে। রাহুল আসছেনা এখনো। মেয়েগুলা ওরে গুম করে দিল নাকি। যেটা খুশি করুক। পুরোটা শুনে যেতে বলছিলাম। ভাবছি ভিতরে যাব। না আর ভিতরে যাওয়া লাগবেনা। ঐতো রাহুল আসছে। রাহুল কাছে আসতেই - . - এমা!!!!! এই ভিখাড়ি কে??? (আমি) - আমি ভিখাড়ি না। রাহুল। (রাহুল) - একিরে!!!! তোর এই অবস্থা??? - হ্লা তোর জন্য। তুই বলবি না ভিতরে ফুলনদেবী বসে আছে??? - বলতে চাইছিলাম। কিন্তু শোনার আগেই তো চলে গেলি। - কি মারটাই না দিলরে। শার্টটাও ছিড়ে নিয়ে গেছে। - এটা তোর জিএফ না রাক্ষসী। - জিএফই রে ভাই। তা হঠাৎ এত চেতল কেন বুঝলাম না। তুই কি বলছিলি? - ফ্লাশব্যাক এ যাবি?? - চল যাই। . হিরো হিরো ভাব নিয়ে তৃপ্তির সামনে গিয়ে দাড়ালাম। ওর সাথে আরো কয়েকজন মেয়ে। . - তৃপ্তি আমি রাহুলের ফ্রেন্ড। (আমি) - তো কি করতে আসছেন? রাহুলের গুনগান গাইতে? (তৃপ্তি) - আরে না কি বলে??? রাহুলের আবার কোন গুন আছে নাকি। সবই তো দোষ। - মানে কি বলতে চান? - আসলে রাহুল কিন্তু অনেক মেয়ের সাথে রিলেশন করে। অনেককে প্রেগনেন্ট ও বানাইছে। -- কি? - হুম আরো আছে। ও তোমার সাথেও নাকি এমনই করবে। ব্লা ব্লা ব্লা..... - আজ ওরে তো খাইছি। - আচ্ছা তৃপ্তি ওর সাথে ব্রেকাপ হলে আমার সাথে রিলেশন করো।।। ঠিক আছে? - ঠাসসসসসসসসস...... - তুমি আমাকে মারলে? - ঠাসসসসসসসস..... - আবার?.. - তুই আর তোর বন্ধু দুটাকেই দেখে নিব। - ঐ আমিও তোরে দেইখা নিমু। আলামিন দৌড় দে আপাদত......... . - এই হলো ফ্ল্যাশব্যাক। (আমি) - হ্লা তোরে কি জন্য পাঠাইছি আর তুই কি বলছস??? (রাহুল) - কিজন্য যেন পাঠাইছিলি? - ওহহহহহ গডডডড!!!!!! তোর কারণে আমার জিএফ গেল। - ব্যাপার না চল। দুজনে সেলিব্রেট করি। দুজনেই মেয়েদের হাতে মাইর খাইছি। ইয়াহু!!!!! - হ্লা আমারে খালি মাইর দেয় নাই। ইজ্জতও হরণ করছে। - তোরও ইজ্জত আছে জানতাম না তো। - মজা লসসসসসসস!!! - আরে না চল সেলিব্রেট করি। - হু চল। মাইর খাইয়াও সেলিব্রেট করতে হইতেছে।।।। কি কপাল!!!!! . অতঃপর দুই বন্ধু মিলে হাটতে লাগলাম। আমার গালে হাত আর হেতের নিজের শরীরে। বেচারার নতুন শার্টটা ছিড়ে ফেলছে মেয়েগুলা। কি কষ্ট!!!!! . ঘটনার এক সপ্তাহ কেটে গেছে প্রায়। মোটামুটি ভুলে গেছি। কিন্তু চড় দুটা ভুলিনি। এখনো ঐ পার্কের সামনে দিয়ে গেলে এমনিতেই হাত গালে চলে যায়। আর রাহুল আমারে দেখলে দোখ বন্ধ করে দৌড় দেয়। . অনেকদিন পর কলেজ খুলল আজ। বন্ধুদের সাথে অনেকদিন দেখা হয়না তাই কলেজ যাচ্ছি। মোবাইল টিপতে টিপতে আনমনে হেটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কেউ পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে দৌড় মারল। মোবাইলটা হাত থেকে পরে গেল। আর আমার মোবাইলের শ্রাদ্ধ সেখানেই কমপ্লিট। মেজাজটাই গেল বিগড়ে। সামনে তাকিয়ে দেখি একটা তথাকথিত স্মার্ট মেয়ে দৌড়ে যাচ্ছে। . - এইযে আপু.... (জোরে চিৎকার করে) . মেয়েটা দাড়াল। আমি হেটে হেটে সামনে গেলাম। . - এটা কি হলো? (আমি) - কি হলো? (মেয়েটা) - ধাক্কা দিলেন কেন? - না মানে তাড়া ছিল তো। সরি। - আপনার সরিতে আমার ফোনের ডিসপ্লে ঠিক হয়ে যাবে? - আসলে ইচ্ছে করে দেইনি তো। - ডিসপ্লের দাম চার হাজার টাকা দিন। - চার হাজার ডিসপ্লের দাম? - তা নয়ত কি?? দিবেন না মানুষ ডাক দিব? - আরে না দিচ্ছি তো.... . হঠাৎ তৃপ্তির আগমন। আমি তো পুরা হা। এই মাইয়া এখানে কি করে। এমনিতেই গালে হাত চলে গেল। তৃপ্তি আমার দিকে একবার তাকিয়ে আবার মেয়েটার দিকে তাকাল। . - ঐ মেঘা কি হইছে রে? (তৃপ্তি) - আরে ওনার ফোনটা ভেঙে ফেলছি। এখন চার হাজার টাকা চাচ্ছে। (মেঘা) - কি??? চার হাজার??? কি ফোন ছিল? (তৃপ্তি) - জি নকিয়া ১২০০।।।। (আমি) - নকিয়া ১২০০ ভাঙার জন্য চার হাজার? (তৃপ্তি) - জি না মানে... তৃপ্তি আপু ওনি আপনার ফ্রেন্ড তো? (আমি) - হ্যা। কেন? (তৃপ্তি) . এবার ফোনটা মেঘার হাতে দিয়ে বললাম . - মেঘাপু একবার ভেঙেছেন তো কি হইছে। আরও ১০ বার ভাঙেন। আমি গেলাম। (আমি) - কি আমি আপু? (মেঘা) - না তুমি জানু আমার। (আমি) . বলেই কলেজের দিকে এক দৌড়। বড়জোর বেচে গেছি। কলেজে এসেই রাহুলকে ধরলাম। . - কি মামা? তোর জিএফ এটা কি?? আমি যেখানে যাই সেখানেই হাজির। (আমি) - জি না। ও যেখানে যায় তুই নাকি সেখানে যাস। ও আমারে বলছে। (রাহুল) - ভাইরে মিথ্যা কথা। - এটাই সত্য। আমারে না করছে তোর সাথে না মেশতে। - একিরে!!!! মেয়ে না হিটলার। দোচ তুই আমারে বিশ্বাস কর। - বিশ্বাস তাও আবার তোরে? কতদিন আগের কথা মনে নাই? - মজা করছিলাম। - হ তোমার মজায় তো আমার পুরা.... আচ্ছা তোর ১২০০ মডেল ফোনটা দে। - ভাইঙা গেছে। - কসকি?? তুই এখনো বাইচা আছস কেমনে? - মজা লসসসসসস... - মজা দিতাছস নিমু না? - হ্লা সব তোর জিএফের জন্য।হেতেরে বাগে পাইলে না... - ঐ কি করবি??? - ভয় পাইস না। কিছু করমু না যাস্ট।ধাক্কা দিয়া সমুদ্রে ফালাই দিমু। - হেতে সাতার জানে। - হ সাতার কাইটা সমুদ্র দিয়া অস্ট্রেলিয়া যাইব নে। -হ্লা তুই আমারে দেবদাস বানাইয়া ছাড়বি। - এটারই চেষ্টায় আছি। . আরও চারদিন কেটে গেল। মেয়েটার চেহাড়া ভুলতে পারছি না। এই মেয়েটাকে আমার চাই। যেকোন মূল্যে ওকে পেতেই হবে। এজন্য আগে তৃপ্তিকে হাত করতে হবে। এরেই বলে কপাল!! . ভয়ে ভয়ে তৃপ্তির সামনে গেলাম। . - তৃপ্তি ও তৃপ্তি (আমি) - হ্যা বলুন কি বলবেন। (তৃপ্তি) - না মানে আমি তো তোমার ভাইয়ের মত। - তো? - না মানে আমাকে ক্ষমা করা যায়না? - কেন?? আপনিতো আমাকে দেইখা নিবেন। - আরে না। দেখমু বলছি। ঐ দেখা সেই দেখা না। - আচ্ছা হইছে মাফ করছি। - থ্যাংকস তৃপ্তি। - হুমমমমম - আসলে তৃপ্তি তুমি কত কিউট। কি সুন্দর তোমার চোখ। কি সিল্কী চুল। যেন হুর পরী। - সত্যি? - হ্যা গো সত্যি। - লাইন মারছেন? - আর না তোমারে লাইন মারমু কেন। আমি তো মেঘাকে লাইন মারতেছি। - কি???? - আরে না মানে মেঘার নাম্বারটা দাও না। - তার মানে এতক্ষনের এত ড্রামা মেঘার নাম্বারের জন্য?? - জি না মানে.... হ্যা.... - জীবনেও দিমুনা। - তুমি তোমার এই ভাইয়ের জন্য এতটুকু করতে পারবা না? (অত্যন্ত ইমোশনালি) - হইছে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল অফ কর। দিতেছি। - এই না হলে আমার বোন। - হইছে পাম কম মার। . অতঃপর অনেক অভিনয়ের পরে মেঘার নাম্বার পাওয়া গেল। শুধু ফোন দেয়ার অপেক্ষা। . রাত দশটা বাজে। হাত পা সমানে কাপছে। মেঘাকে ফোন দিব কি দিব না। দিয়েই ফেললাম। আলামিন খুব সাহসী!!! হুহু!!! রিং না হতেই ধরে ফেলল। কলের অপেক্ষায় ছিল নাকি না সারাদিন ফোন নিয়েই বসে থাকে। . - হ্যালো.... (মেঘা) - আপনার কাঙ্খিত নম্বরে এ মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটু পরে আবার ট্রাই করুন। টুট টুট টুট..... . হাপ ছেড়ে বাচলাম। নিজেকে এবার কেমন যেন ভিতু মনে হচ্ছে। না আবার ফোন দিলাম। নিজেকে সাহসী প্রমান করতেই হবে। এবারও রিং না হতেই ধরে ফেলল। রোবট নাকি মাইয়া। . - হ্যালো বলুন। (মেঘা) - জি মেডাম আসলে আপনি গ্রামীনফোন কোম্পানি থেকে লটারি জিতেছেন। (আমি) - আমারটা এয়ারটেল সিম। - ওহহহহ সো সরি। টুট টুট টু..... . বুকের হার্টবিট অসম্ভব বেড়ে গেছে। মনে হচ্ছে বুক ছেড়ে হার্ট বেড়িয়ে আসবে। হঠাৎ আমার ফোন বেজে উঠল। ওমাগ!!!! মেঘা। ধরব কি ধরবনা। দোটানায় পড়ে গেলাম। অবশেষে ধরলাম। . - হ্যালো... (মেঘা) - জি আমি রাখছি... (আমি) - ঐ একদম রাখবেন না। আঙুল কেটে ফেলব। (ওমাগ!!! ডেভিল মাইয়া) - আঙুল থাকলে তো কাটবেন। - কি? - না মানে কিছুনা। - তা আলামিন সাহেব ফোন দিলেন কেন? - আপনি আমাকে চিনতে পেরেছেন? - হুম। চিনছি। মি. ভিতু সাহেব। - এহহহহ!!! আমি ভিতু না। - তা তো দেখলামই। - কি দেখছেন হ্যা??? দেখবেন আমি কেমন সাহসী? - দেখান তো। - আই লাভভভভভ..... মানে লাভভভভভ..... মানে ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না। - হি হি হি.... আপনি ব্যবসা করেন? - না মানে। আমার বাবা করে। - হইছে এখন কি বলবেন বলুন। - না মানে বুঝই তো। - তুমি? অনুমতি নিয়েছেন? - সরি। মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। আর বলব না। - হুম। এবার কি বলবেন বলুন। - না মানে কিছু বলব না। - আচ্ছা আপনি এমন ভিতু কেন? - আসলে.... - হইছে আর বুঝাতে হবে না । সাহস নিয়ে সামনে এসে যা বলার বলবেন। রাখলাম। . দুররর!!! ফোনটা কেটেই দিল। কেন যে বলতে পারলাম না। আসলেই অপদার্থ আমি। . প্রায় একমাস হয়ে গেল। প্রতি রাতেই মেঘাকে ফোন দিব ভাবি। কিন্তু সাহস হয়ে উঠে না। মেঘার সামনেও পড়েছি কয়েকদিন। কিন্তু কথা বলতে পারিনি। . আজ একটা ফেসবুক ফ্রেন্ড নেহার সাথে দেখা করব।অনেক ভাব নিয়ে গেলাম দেখা করতে। গিয়ে দেখি মেয়েটা আগে এসেই বসে আছে। দুজনে বসে কথা বলছিলাম। হঠাৎ কোথা থেকে মেঘা এসে হাজির। এমনভাবে তাকাল যেন খুন করছি। . - ওওও!!!! এই কারনে এক মাস যাবত আমাকে ফোন দেস না?? (মেঘা) - মেঘা তুমি না মানে আপনি?? (আমি) - কেন ভুল হইছে আসা? - আরে না কি বলেন। - ঐ একদম আপনি বলবি না। - আচ্ছা বলব না। - এখন প্রপোজ করবি। অন্য মেয়ে নিয়ে ডেটিং বের করছি তোর। - আরে না। ও তো আমার ফ্রেন্ড। - তোর কোন মেয়ে ফ্রেন্ড তো দুরের কথা আমার কোন মেয়ে ফ্রেন্ডের সাথেও তুই কথা বলতে পারবি না। প্রপোজ কর এখনি। - করতেই হবে?? - হুম। - ভালবাসি তোমাকে মেঘা..... - এটা প্রপোজ? - আর পারব না। একসেপ্ট করলে কর। নইলে এই যে নেহা আছে। - একদম খুন করে ফেলব। এখনি চল। . টানতে টানতে মেঘা বের করে নিয়ে যাচ্ছে। পিছনে তাকিয়ে দেখি নেহা হাসছে। নেহাকে ডাক দিয়ে বললাম... . - মেঘা ব্রেকাপ করলে তোমার সাথে প্রেম করব নেহা। বাই.... (আমি) - প্রেম করা ছুটাচ্ছি তোর... (মেঘা) . অতঃপর মেঘা লাঠি খুজতে গেল। আর আমি এই ফাকে দৌড়....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কপালের ভেতরে আটকে থাকা জুলাই
→ কপালকুণ্ডলা ( দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ )
→ কপালকুণ্ডলা ( প্রথম পরিচ্ছেদ )
→ নাকহীন & কপালে চোখ :0
→ সবার কপালে ভালোবাসা সয়না
→ কপাল
→ মেয়েদের কপালে টিপ কোথায় থেকে,
→ লুঙ্গি ও কপাল
→ ঝাড়ুর বড়ি কপালেই থাকতে।।
→ রিযিক যার কপালে লেখা থাকে সেই খায়- রিয়েন সরকার
→ কপাল তো ঠান্ডা
→ নন্দলালের মন্দ কপাল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now