বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পের নাম:কৌটো
হরলিক্সের একটা মাঝারী আকারের কৌটো।চারদিকটায় কালচে দাগ পড়ে যেন বার্ধক্যটা অনেকটাই স্পষ্ট করে তুলেছে।বোঝাই যাচ্ছে,কৌটোর বয়সটা যেই সেই নয়।অনেকটা বছর পেরিয়ে গেছে।কত হবে?বিশ কি বাইশ।তখন মজিদ সাহেব ক্লাস টেনে পড়তেন।মেট্রিক পরীক্ষার কদিন আগের কথা।বাইরে তখন শোঁ শোঁ আওয়াজ-ঝড় হবে বলে।এমন সময় কে যেন দরজার কড়া নাড়তে লাগলেন।
"কে?"মা বলে ওঠেন।
"আমি,রাহেলা দরজা খোলো।"ওপাশ থেকে বাবার কন্ঠ।
দরজা খুলতেই বাবা তখন ভিজে একাকার,হাতে একটা কৌটো।
"এ কি?"মায়ের প্রশ্ন।
"আরে মজিদের পরীক্ষা না?তাই আর কি।সাহেবের ছেলের জন্য সাহেব প্রতি সপ্তাহে কিনে দেখে আমিও কিনে নিয়ে এলাম।"
মা চোখ বড় বড় করে তাকান।"তুমি সাহেব?"
বাবা কাচুমাচু করে তাকান।"পরীক্ষা বলেই তো আনলাম আর কি-"
মজিদ সাহেবকে বাবা বড্ড ভালোবাসতেন।মাঝে
মধ্যে পিঠে হাত বুলিয়ে দিতেন।
"কিরে ব্যাটা,পড়ালেখা কেমন চলে?"
"এই তো।"মিন মিন করেন তিনি।
"ডাক্তার হইতে পারবি না?"
"পারব।"মজিদ সাহেব একবার ঢোক গেলেন।
মজিদ সাহেবকে ঘিরে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে দেখতে পেলেন না বাবা।কোন এক সকালে রক্তবমি করতে করতে লোকটা মারা গেলো,কারণটা আজও অজানা।
মেট্রিকের রেজাল্ট দিল।মজিদ সাহেব বোর্ড স্ট্যান্ড করেছেন।কলেজে ভর্তির টাকা নেই।
মা চেয়ারম্যানের কাছে যান।লোকটা মাকে কুপ্রস্তাব দেন।শক্ত হাতে মায়ের হাতটা ধরে মজিদ।
"মা আমি আর পড়ব না।"
মা আলতো হেসে ছেলের কপালে চুমু একে দেন।
কেউ বা আরো একধাপ এগিয়ে।
মুখ কুঁচকিয়ে বলে ওঠেন,"কেরানীর পোলা পইড়ে কি করবে?কামলা খাটতে কউ,কামে দিবে।"
মজিদ সাহেব তাই ভাবেন।মা বড্ড জেদি,ছেলেকে পড়াবেনই।এর ওর পায়ে ধরে চলতে থাকে কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি।
এটা ওটা রাখার বয়ামটা ভুলবশত হাত থেকে পড়ে ভেংগে যায়।মজিদ সাহেব হরলিক্সের কৌটোটা এগিয়ে দেন।মা হেসে ওঠেন।
পড়াশোনা জোরেশোরেই চলে,তাকে যে ডাক্তার হতে হবে।
মেডিকেলে ভর্তির ফল দেয়ার পর মজিদ সাহেব কাচুমাচু হয়ে মায়ের সামনে দাঁড়ান।
"মা।"
মা ফিরে তাকান।"বল।"
"আমি তো মেডিকেলে টিকে গিয়েছি।"
মায়ের চোখে আনন্দাশ্রু -
কলেজে পড়াশোনা চলে পুরোদমে।অনার্স মার্কটা যেন দুধভাত।প্রফেসররা চশমাটা ঠিক করে তাকান-একে দিয়েই হবে।
সাথে দুটো টিউশনি। সময়টা ভালই কাটছিল।মেয়েও জুটিয়ে ফেললেন কিভাবে কিভাবে যেন।অনেক বড়লোকের মেয়ে।চোখে রঙিন স্বপ্ন।
আজকাল বাড়িতে তেমন যোগাযোগ হয় না।ব্যস্ত ডাক্তারদের একজন।অংকোলজিতে এফসিপিএস কম্পলিট করা,টাকা কম কই।মা আজকাল যোগাযোগ করলেই কেমন যেন বিরক্ত লাগে তার।
"মজিদ আমার না শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ইদানীং। "
"তা তো হবেই।বয়স হয়েছে না।"
"হাটতে পারি না।"
"তোমার সমস্যাটা কি জানো?"চশমাটা ঠিক করেন হাত দিয়ে।"তুমি বার্ধক্যকে মেনে নিতে পারছো না।"
মা কি যেন ভাবেন।"একবার এসে ঘুরে যাবি?"
"সময় হলেই ঘুরে যাব।এখন রাখি।"ধড়াম করে মোবাইলটা রেখে দেন তিনি।
সেদিনের সকালটা বড্ড শান্ত ছিল।কেমন যেন নিস্তব্ধতা।কাকের কর্কশ আওয়াজগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল।তেমনই একদিনে ফোনটা বেজে ওঠে খুব সকালে।
"হ্যালো।"
"ভাইজান,মামী তো আর নাই।"
বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে ওঠে মজিদ সাহেবের-
যখন বাড়ি পৌঁছালেন ততক্ষণে কবর দেয়া হয়ে গিয়েছে।উঠোনে দাঁড়িয়ে একবার চারপাশটা দেখে নেন মজিদ সাহেব।সব কেমন যেন অপরিচিত লাগে।ঘরটা কেমন যেন ফাকা ফাকা,সব অচেনা।রান্নাঘরে সেই কৌটোটা-খুব কাছের কেউ।কাপা কাপা হাতে কৌটোটা ধরেন তিনি।কি যেন ভাবেন এক মূহূর্ত।তারপর জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন সেই ছোট্ট শিশুটির মতন।যে বাবা-মায়ের স্বপ্নে ছিল,আশায় ছিল,ভালোবাসায় ছিল-হয়তোবা বিশ্বাসেও ছিল।আজ কিছুতেই নেই।নেই সেই মানুষগুলোও-
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now