বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
পূর্ব আকাশে লাল বৃত্তটা উঁকি দিয়েছে মাত্র।শহর এখনো পুরোপুরি না জাগলেও হাসনার আখিতে প্রতিদিনকার মত এখন আর ঘুমের ছাপ নেই।নামাজ আর কোরআন তিলাওয়াতের পর নাস্তা তৈরি করা তার ডেইলি রুটিন।তারপর সাহেবকে ঘুম থেকে উঠিয়ে এক সাথে নাস্তা করিয়ে অফিস পাঠানো তার প্রধান কাজ।প্রধান কাজ এই জন্য বলছি ঘরের অন্যান্য কাজের থেকে হিমেলকে ঘুম থেকে ওঠানো সবচেয়ে কঠিন মনে করে হাসনা।
.
আজ ছুটির দিন।তাই ভাবছে আজ না হয়
একটু ঘুমিয়ে নিক।জাগাবো না।কিন্তু তার
একা একা ভাল লাগছে না।পিঠে হাত দিয়ে ডাকতে শুরু করল,
-এই ওঠো(হাসনা)
--কেন কি হইছে?(হিমেল)
-ওঠো তো ভাল লাগছে না।
--ছুটির দিনেও একটু শান্তিতে ঘুমাতে দেবে না নাকি?
-না দেব না।বিবাহিতদের জন্য ছুটির দিন হল বউকে সময় দেয়ার জন্য।আর তুমি পরে পরে ঘুমাচ্ছ।
--কেন যে বিয়ে করলাম?
-কি বললে?
--না কিছু না।বলেন এখন আপনাকে কিভাবে সময় দিতে হবে?
-কিছু হাড়ি পাতিল পরে আছে পরিষ্কার কর গিয়ে।
--কি? আমি এসব করব?
-হ্যা,প্রতিদিন আমি করি তাই ভাবছি ছুটিরদিনে তুমি করবা।
--হুম প্রেম করে বিয়ে করলে যা হয়।
-আচ্ছা হয়েছে এখন ফ্রেশ হয়ে নাস্তা কর তারপর কাজ।
.
হুম,হাসনা এভাবেই প্রায় সময় হিমেলের সাথে রেগে কথা বলে কিন্তু তাতে হিমেল রাগ করে না কখনো।বউকে প্রচণ্ড ভালবাসে হিমেল।সাড়ে চার বছর আগে ভালবেসে বিয়ে করেছিল তারা।হিমেলের
ভাল পজিশন আর হাসনার সৌন্দর্যতে দুই
পরিবারের থেকে অমত আসেনি।ধুমধাম করেই বিয়ে হয়।হিমেলের চাকরির সুবাদে ঢাকায় বাসা ভাড়া করে থাকে দুজন।ছুটিরদিনে প্রায় হাসনার কাজে সাহায্য করে হিমেল।কিন্তু বিয়ের সাড়ে চার বছর পর ও তারা দুজন থেকে তিনজন হতে পারেনি।এতে হিমেলের মনে অশান্তি না থাকলেও হাসনা কোলশূণ্যতার কষ্টে ভুগে।
হিমেলকে সেটা বুঝতেও দেয় না।আধুনিক
চিকিৎসার সেবা নিতেও কোন ত্রুটি করেনি হাসনা।ডাক্তার বলে,কোন সমস্যা নেই দুজনের।
অপেক্ষা করুন ইনশাল্লাহ হবে।অপেক্ষা করতে করতে হাসনা যেন পাগল প্রায়।
মা হতে না পারার যন্ত্রনাটা ইদানীং বেশ বেড়েছে হাসনার।তাই আবারো ডাক্তারের সম্মুখীন হবে ভাবছে।
.
কিছুদিন পর হিমেলকে অফিস পাঠিয়ে হাসনা চলল হসপিটালের দিকে।কাছাকাছি এসে দেখলো একটা মহিলা কি যেন ডাস্টবিনে ফেলে তাড়াহুড়ো করে গাড়িতে ওঠে চলে গেল।হাসনা খেয়াল করল, ডাস্টবিন থেকে একটা বাচ্চার কান্নার শব্দ ভেসে আসছে।হাসনা তাড়াতাড়ি ডাস্টবিনের কাছে গিয়ে দেখলো সুন্দর একটা মেয়ে বাচ্চা।দ্রুত কোলে নিয়ে নিল ময়লা থেকে তুলে।চার দিকে তাকিয়ে দেখলো কেউ নেই।ডাক্তার দেখাতে এসেছে সেই কথা ভুলে বাচ্চাটাকে নিয়ে বাসায় চলে গেল।বাসায় গিয়ে হিমেলকে ফোন দিয়ে বলল তাড়াতাড়ি বাসায় আসো।হিমেল ও চলে আসলো।এসে দেখলো হাসনার মুখ ফুটন্ত হাসি আর কোলে ফুটফুটে বাচ্চা।আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করল,
--কার বাচ্চা?
হাসনা সব খুলে বলল।
সব শুনে হিমেল বলল,ঠিক করেছো কিন্তু এখন ওর মা বাবা খুজে পাওয়া যাবে বলে
মনে হচ্ছে না।একটু বড় হোক এতিমখানায় দিয়ে আসবো।
-এতিমখানায় কেন? আমাদের তো কোন
বেবি নেই।আমরা যদি ওর....
--অসম্ভব।কার না কার পাপের বাচ্চার মা বাবা আমরা কেন হব?
-হতে সমস্যা কোথায়?
--সমস্যা আছে। অন্যের বাচ্চার দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না।
-তুমি নিও না।ওর দায়িত্ব আমি একাই নিতে পারবো।(বলে অন্য রুমে চলে গেল)
.
বিয়ের এত বছর হয়ে গেল কোনদিন হাসনার উপর এত রাগ করেনি হিমেল।
কিন্তু আজ ভীষণ রাগ হচ্ছে।কিছুতেই বোঝাতে পারলো না তার পক্ষে এটা মেনে নেয়া সম্ভব না।খানিকটা ভেবে হিমেল তার মাকে ফোন দিয়ে বলল,এসে দেখো তোমার বৌমা কি পাগলামি শুরু করেছে।
তুমি এসে তাকে বোঝাও।উত্তর আসার আগেই ফোন কেটে দিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে আছে।পর দিন হিমেলের মা
গ্রাম থেকে আসল।সব কিছু হাসনার থেকে শুনে হিমেলের কাছে গিয়ে বলল,
-কিরে কি হয়েছে?
--কি হয়েছে দেখোনি?
-হুম দেখছি।হাসনা যা করেছে ঠিক করেছে আর তার সিদ্ধান্তে আমিও একমত।
--ঠিক করেছে মানে? একদম ভুল করেছে।আমি এটা মানতে পারবো না।
-হাসনা যদি ভুল করে থাকে সেই একই ভুল আমিও ২৭ বছর আগে করেছি।
--মানে?
-হা,হাসনা যেভাবে ডাস্টবিন থেকে বাচ্চাটাকে কুড়িয়ে পেয়েছে আমিও সেইভাবে ডাস্টবিন থেকে তোকে কুড়িয়ে পেয়েছি।এখন বল তোকে লালন করে এত বড় করে আমি কি ভুল করেছি?
.
সব শুনে হিমেলের চোখে অশ্রুকণার জন্ম নিল।মাকে আর কিছু না বলে হাসনার কোল থেকে বাচ্চাটিকে নিজের কোলে তুলে নিল পরম যত্নে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now