বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
_______________গল্প________
"""" ♥♥কোচিং সেন্টারে ভালোবাসা ♥♥"""""
===>
তখন এইচ এস সি টেস্ট এক্সাম শেষ হয়েছিল।
খুব টেনশনে ছিলাম, মাত্র তিনমাস পরেই এক্সাম। অনেক লেসন বাকি ছিল তখন পর্যন্ত! অন্যান্য সাবজেক্ট এ মোটামোটি পারলেও ইংরেজি!
ওপ্স ইংরেজিতে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল,,,,,,,,,,
যায়হুক তড়িঘড়ি না করে ফ্রেন্ড কে ফোন দিছিলাম কোচিং করার উদ্দেশ্যে_______
==>হ্যালো দুস্তঃ কই তুই?
---> এইতু আছি।
==> কোচিং করার জন্য স্যার পাইছিস?
---> হ্যা, তুকে একটু পরেই ফোন করতাম, শোন
আগামীকাল থেকে স্যার পড়াবে, অনেক ভালো
টিচার ,,,,, অনেকদিন ধরে চকরিয়া
ইউনিভার্সিটি কলেজ এ ইংরেজি তে অধ্যাপনা
করে আসছে,,,।
==> ওহ,,,,খুবই ভালো খবর বন্ধু। অসংখ্য ধন্যবাদ,,,
কাল দেখা হচ্ছে তাহলে____ রাখি
---> ওকে, রাখ।
পরের দিন রওয়ানা দিয়েছিলাম কোচিং এর উদ্দেশ্যে ___
খুব ভালোভাবে প্রায় ১ মাস পড়ার পর
হঠাৎ লক্ষ্য করলাম কলেজ ড্রেস পড়া নতুন একটা মেয়ে কোচিং সেন্টার এর দিকে আসতেছে,,,,
মেয়েদের দিকে থাকানোর অভ্যাস না থাকলেও এই মেয়েটার দিকে কেন জানি হা করে তাঁকিয়ে রইলাম,,,,
_____ওহ হ্যা, মেয়েটা আসলেই অনেক সুদর্শন এবং সুন্দর ছিল______
আমার পাশ দিয়ে হেঁটে সে কোচিং সেন্টার এ প্রবেশ করছিল, আমার বুকের মধ্যে হঠাৎ আচমকা এক ধরনের অনুভূতি চলে আসল যা আগে কখনো হয়নি।
হইতু এটাকেই বলে "লাভ এট ফার্স্ট সাইড"
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম।
ফ্রেন্ড এর ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে সেদিনের মতু ক্লাসে ঢুকলাম।
পরের দিন ক্লাসে বসে অপেক্ষা করতেছিলাম মেয়েটার জন্য,
_______ওই তু চলে আসল!
আসার পর থেকেই এক দৃষ্টি তে থাকিয়ে ছিলাম তার দিকে। হঠাৎ দেখি মেয়েটাও আমার দিকে তাকানোর চেষ্টা করতেছে ,,,,,, ফলে চোখাচোখি হয়ে যাওয়াতে লজ্জা পেয়ে ঐদিন মাথা নত করে নিছিলাম।
দিনের এক ঘন্টার ক্লাসে কতবার যে তার সাথে চোখাচোখি হত আল্লাহ ই ভালো জানবে,,,।
দিন দিন তার প্রতি ফিলিং বেড়ে যাচ্ছিল। তার চাহনি, হাটার ষ্টাইল, তার সবকিছুর মায়ায় জড়িয়ে যাচ্ছিলাম। যতই দেখছিলাম ততই আকৃষ্ট হচ্ছিলাম।
যেখানে যায় না কেনো সেখানেই শুধু তার প্রতিচ্ছবি ভাসতে থাকে,,,।
ওহ না, এইভাবে হয়না কিছু একটা বলতে হবে। বলতেই হবে তাকে ভালো লাগার কথা।
কোচিং সেন্টার এর অন্যান্য মেয়েদের সাথে যথেষ্ট ফ্রি থাকা সত্ত্বেও ,,, এই একটা মেয়ের নামটা জানার সাহস ও করতে পারিনি,,।
দিন ঘনিয়ে আসছিল এক্সাম দুই সপ্তাহ বাকী ছিল মাত্র!
নাহ! আগামীকাল বলতেই হবে,,,, সেও তু আমাকে পছন্দ করে নাহলে আমার দিকে তাকিয়ে থাকত না,,
এইভাবে প্রত্যোক দিন মনের সাথে দ্বন্দ্ব করে বের হওয়া সত্ত্বেও কোচিং সেন্টারে গিয়ে তার মায়াময় চেহারা আর চোখের দিকে তাকিয়ে চোখাচোখি হওয়া ছাড়া কিছুই করা হচ্ছিল না।
অবশেষে শেষ কোচিং ক্লাস এসে পড়ছিল,,
নিজেই নিজের সাথে প্রতিজ্ঞা করে বের হয়েছিলাম যে আজকে অবশ্যই বলতে হবে____
শেষ কোচিং ক্লাস উপলক্ষে টুকটাক কিছু প্ল্যান ও করছিলাম,, যেমনঃ স্যার কে কিছু গিপ্ট করা,এবং বিদায় ক্লাস পার্টি উদযাপনের জন্য কেক কাটা ইত্যাদি,,
যায়হুক প্ল্যান মোতাবেক বন্ধুরা মিলে স্যারের জন্য
গিপ্ট এবং পার্টি কেক নিয়ে কোচিং সেন্টারে হাজির হলাম,,,,,!
ওহ হ্যা মেয়েটার নাম তু বলাই হইনি,,, ওর নাম ইমু ছিল
পুরা নাম অবশ্য জানিনা,,, ইমু নামটা জানতে পারছিলাম স্যার এর টাকার হিসাবের খাতা থেকে,,,
এর পর ইমুর জন্য
ছোট গিপ্ট যার মধ্যে একটা লাভ লেটার লিখে দিছিলাম, সেটা ব্যাগে রেখে তার জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম।
অনেক্ষণ হলো
কিন্তু কই ইমু তু আসছেনা,,,
অপেক্ষা যে কতটা কষ্টের তখনি বুঝেছিলাম
ওপ্স! তাহলে কি সে আসবেনা!
না তা কি করে হয়, স্যার সবাইকে আসতে বলেছিল শেষ ক্লাসে। মনে মনে ভাবতে ভাবতে অবশেষে আমাকে অবাক করে দিয়ে চলেই আসল।
আর তখন থেকেই আমার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছিল।
যায়হুক তখন একটা সমস্যার কারণে ঐদিন কোচিং সেন্টারে শেষ ক্লাস টা করা হয়নি। স্যারের বাসাতেই শেষ ক্লাস করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল,,।
ক্লাস শেষ হলে,,, গিপ্ট টা তাকে দেওয়ার জন্য পিছু নিয়েছিলাম,,, বন্ধুরা অবশ্য সবার সামনেই দিতে বলেছিল কিন্তু আমি মনে হয়েছিল যে ও কখনোই সবার সামনে নিবে না,,,।
পিছু পিছু হাটতেছি, সঙ্গি হিসেবে বিশ্বস্ত দুই বন্ধু azehar & tawhid তু ছিলই।
হাটতেছি আর হাটতেছি, ইমুটা তার দুই বন্ধু সহ সি কে বির দিকে চলে যাচ্ছিল।
না এদিক থেকে আসুক, ওর বাড়ি তু ঐ দিকে বন্ধুদের এই বলে অপক্ষা করতেছিলাম।
কিন্তু ঘন্টা খানেক হওয়ার পর ও তার আসার নাম নিশ্বাস নেই।
অবশেষে শেষ পথ টা অবলম্বন করলাম,,
তার যাওয়ার টম টম স্ট্যাশন এই অপেক্ষা করতে লাগছিলাম।
কোচিং শেষ হয়েছিল সেই কবে ৪ টায়,, আর তখন মাগরিবের আযান দিতে সম্ভবত ১০ মিনিট বাকী ছিল।
অপেক্ষা করতেই থাকলাম, ঐ যে সকালে প্রতিজ্ঞা করে বের হইছিলাম আজকে বলতেই হবে!,,,,
হটাৎ পশ্চিম দিক থেকে তাকে আসতে দেখে মনটা আনন্দে নেচে উঠল।
সে আমাকে দেকে অনেকটা অবাক হলেও, নিজেকে স্বাভাবিক করে গাড়িতে উঠে বসল,,,
আমি ভাবলাম আর এক মূহুর্ত দেরি করা যাবে না।
দ্রুত গাড়ির পাশে গেলাম এবং বললাম
==> ইমু!
তুমার জন্য একটা জিনিস আছে ,,
----> কী?
===> এই নাও এটা রাখ,,,বাড়িতে গিয়ে খুলিও!
পরক্ষণেই আমি এক দোড়ে চলে আসিলাম,,,
অতঃপর নতুন একটা গল্পের শুরু___________
ওহ হ্যা,,, দর্শক আপনাদের তু বলাই হইনি গিপ্ট টা কি ছিল,,,,,
গিপ্ট টা ছিল একটা ডাইরি
এবং ভেতরে একটা লাভ লেটার।।।।
যাতে লিখা ছিল______
প্রিয় ইমু__________
আজকের পর থেকে হইতু আর দেখাও হবে না। কথা বলা তু দূরের কথা।
০১৮৩৯******* এইটা আমার নাম্বার, মন চাইলে ফোন দিও| মন না চাইলে দিওনা সমস্যা নাই, তবে অনেক মিস করব তুমাকে। অনেক।
প্রথম কাউকে চিঠি দিচ্ছি,, আমি জানি একটি গাদাও এর চেয়ে ভালো লিখবে।
ইতি_______
কোচিং এ তুমার দিকে তাকিয়ে থাকা অপদার্থ ছেলে টা।
______________ THE END_____________
লেকখ: saddam hosen shamim ____♥
fb id:- www.facebook.com/s.hosenshamim
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now