বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কনস্পিরেসি-০৭ (শেষ পর্ব)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সিঁড়ির নীচের ছায়া ছায়া আঁধারে দাঁড়িয়ে আছে সাইফ।একটু আগেই ওয়াচম্যানকে ম্যানেজ ঢুকেছে এপার্টমেন্টটাতে।ওয়াচম্যানের অলক্ষ্যে এখানে এসে অপেক্ষা করছে প্রায় একঘন্টা হবে।এখন বাজে রাত সাড়ে এগারোটা।বিশ্বজিত এখনো আসেনি। আজ আসবে কিনা সেটাও বুঝতে পারছে না সাইফ।না আসার কোনো কারণও নেই অবশ্য। আরো পনেরো মিনিট পর গেট খোলার আওয়াজ হল।এখান থেকে গেটটা দেখা যায় না।উকি দিয়ে গোটা ব্যাপারটা ভন্ডুল করবার ইচ্ছে নেই সাইফের।লিফট অথবা সিড়ি, যেভাবে আগন্তুক উপরে যাক না কেন সাইফের চোখ এড়িয়ে যেতে পারবে না। গেটের কাছ থেকে টুকরো টুকরো কথার আওয়াজ ভেসে আসছে। আগন্তুক আর ওয়াচম্যান কথা বলছে। আরো মিনিটখানেক পর পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল।এদিকেই আসছে আওয়াজটা।সাইফ আরো ভেতর দিকে সেঁধিয়ে গেল।আঁধারের আরো গভীরে। সিড়ির দিকে এগোল আগন্তুক। একটা সিড়ি পার হবার পরই আড়াল থেকে বেরিয়ে এল সাইফ। আগন্তুককে এক নজর দেখাটা জরুরী। এখান থেকে ওয়াচম্যানের কাউন্টারটা দেখা যায়,তবে ওয়াচম্যানকে দেখা যাচ্ছে না এই মুহুর্তে।সম্ভবত পাশেই নিজের কোয়ার্টারে গিয়ে ঢুকেছে। সাইফ পায়ে পায়ে কয়েক ধাপ সিড়ি বেয়ে উঠল। অত্যন্ত সতর্ক থাকা সত্বেও হঠাৎ করেই শব্দ হয়ে গেল। যদিও খুবই সামান্য,এরপরও জায়গায় জমে গেল সাইফ। রুদ্ধশ্বাস কয়েকমুহুর্ত কেটে যাবার পর আবার পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল উপর থেকে।এবার আর ভুল করল না সাইফ।ওখানেই বরফের মত জমে রইল। খানিক বাদেই উপর থেকে তালা খোলার ধাতব শব্দ পাওয়া গেল। দরজা বন্ধ হতেই নড়ে উঠল সাইফ। এক ছুটে চলে এল দরজার মুখে। *** দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ল বিশ্বজিত। সারাদিনের ধকলে ক্লান্ত শরীর একটা দীর্ঘ শাওয়ার পেতে চাইছে।গায়ের জামাটা খুলে টাওয়ালের খোঁজ করতেই দরজায় খট খট আওয়াজ উঠল। ভ্রু কুঁচকে উঠল বিশ্বজিতের।সে কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে না। নিখুঁত প্ল্যানকেই এতদিন প্রধান অস্ত্র বলে জেনে এসেছে সে।কিন্তু কালো গাড়িটা দেখার পর থেকেই বিশ্বাসে সরু একটা ফাঁটল ধরেছে। টাওয়েল খোঁজা বাদ দিয়ে দরজার কাছে চলে এল।পিপহোলে চোখ রাখতেই যারপরনাই অবাক হয়ে গেল বিশ্বজিত। এই চেহারাটা খুবই পরিচিত তার। যদিও সামনাসামনি কখনো দেখেনি মেজর সাইফকে। লোকটার সাহস দেখেও অবাক হল বিশ্বজিত। একেবারে নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে দরজার ওপাশে।এতটুকু দুঃশ্চিন্তা কিংবা উৎকন্ঠার ছাপ নেই। তারমানে সিক্রেট শ্যাডো জেনে ফেলেছে বিশ্বজিতের ডাইভার্শনের ব্যাপারটা।নইলে এত বেপরোয়াভাবে সরাসরি দরজায় এসে দাঁড়াত না স্বয়ং সিক্রেট শ্যাডোর প্রাণ ভোমরা। যাক,আর লুকোচুরি করে লাভ নেই। বিশ্বজিত যেভাবে চেয়েছিল সেভাবেই ঘটেছে ঘটনা। এখন মেজর সাইফকে সব খুলে বললেই ওর দায়িত্ব শেষ।এরপর কী ঘটবে সে ব্যাপারে অবশ্য কোনো ধারনা নেই বিশ্বজিতের। দরজার নবে হাত রাখল বিশ্বজিত। *** সাইফ দ্বিধাহীন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে।যখন বুঝতে পারল কেউ একজন দরজার ওপাশ থেকে ওকে দেখছে তখনও পিপহোলের দৃষ্টিপথ থেকে সরে যায়নি।বিশ্বজিতের মনস্তত্ত্ব যদি ঠিকমত পড়ে থাকে তাহলে সাইফ জানে,লুকোচুরির সময় শেষ হয়েছে। বিশ্বজিত এখন সেচ্ছায়ই ধরা দেবে। যদি এটাকে "ধরা" বলা যায়। তবে সতর্কতা একচুলও শিথিল হয়নি সাইফের।পুরো দেহ ধনুকের ছিলার মতই টানটান।অবস্থা বেগতিক দেখলে মুহুর্তেই হাতে অস্ত্র উঠে আসবে। তেমন কিছু ঘটল না অবশ্য।কয়েক সেকেন্ড পরই দরজা খুলে গেল। অবশেষে সাইফ মুখোমুখি হল সেই রহস্যময় কলারের। ছেলেটার বয়স সাইফের মতই।কিছু কম হতে পারে।ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল। শ্যামলা।চেহারায় তেমন বিশেষত্ব নেই।লম্বায় সাইফের চাইতে ইঞ্চিদুয়েক খাটো হবে। সাইফ এখন পর্যন্ত লোকটার নাম ছাড়া কিছুই জানে না।জানে না,সামনে দাঁড়ানো এই লোকটার আসল পরিচয় কী।কেনই বা সে ধারনা করছে বিপদ ঘনিয়ে আসছে দেশের উপর। 'হ্যালো মেজর সাইফ, কেমন আছেন?' প্রানবন্ত একটা হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল বিশ্বজিত। সাইফ কিছুটা হকচকিয়ে গেলেও পরমুহুর্তেই সামলে নিল।যে লোক সিক্রেট শ্যাডোকে নিয়ে এরকম একটা গেম খেলতে পারে সে সিক্রেট শ্যাডোর হেড অফ অপারেশন'স এর নাম জানবে না,এমনটা ভাবার কারণ নেই। পাল্টা হাসি দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল সাইফ।হাতটা ধরেই বুঝতে পারল নিয়মিত ব্যায়ামপুষ্ট শরীর। এথলেটদের মত পাকানো।আবারো লোকটার পরিচয় নিয়ে খুঁতখুঁত করতে লাগল সাইফের মন। 'ভেতরে এসে কথা বলতে নিশ্চয়ই আপত্তি নেই?' আবার বলে উঠল বিশ্বজিত। 'নেই।ইনফ্যাক্ট আপনার সাথে লম্বা আলাপ আছে আমার।এবং সেটা বসে করাটাই সমীচীন হবে। 'আসুন তাহলে।গরীবের ঘরে স্বাগতম।'দরজা ছেড়ে দিল বিশ্বজিত। সাইফ পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল।সামনেই গোটা চারেক সোফা সাজানো।ওরই একটায় বসে পড়ল সাইফ। ওর সামনে এসে দাঁড়াল বিশ্বজিত। 'জানতে চাইলেন না,আপনার নাম আমি কিভাবে জানতে পারলাম?' 'অবান্তর প্রশ্ন।আপনি যে সিক্রেট শ্যাডোর ব্যাপারে বেশ ভাল রকমের স্টাডি করেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।' 'হুম,সেটা অবশ্য ঠিকই বলেছেন। তবে আপনার নাম আমি অনেক আগে থেকেই শুনেছি।আপনার একজন ফ্যান বলতে পারেন আমাকে।আজ আপনাকে স্বচক্ষে দেখতে পেয়ে সৌভাগ্যবোধ করছি। ' 'শুনে খুশি হলাম।এবার কি আমরা কাজে কথায় আসতে পারি?' 'নিশ্চয়ই।বলুন কী জানতে চান?' 'আপনার মেসেজটার ব্যাপারে সব কিছুই।প্রথম প্রশ্ন,আপনি কিভাবে ধারনা করছেন আমরা সবাই মিলে বিপদে পড়তে যাচ্ছি?' 'আমার মেসেজকে সত্যি ভাবছেন কেন? আমি তো ব্লাফও দিতে পারি আপনাদের,তাইনা?' 'একটু আগেই বললেন আপনি আমাকে আগে থেকেই চেনেন।তাহলে কিভাবে ধারনা করছেন আমি নিশ্চিত না হয়েই আপনার কাছে এভাবে চলে আসব?' 'তা ঠিক।কিন্তু কিভাবে নিশ্চিত হলেন,জানতে পারি?' 'আজ আপনাকে ট্র্যাক করতে গিয়ে একটা কালো গাড়ির হামলার শিকার হয়েছি আমি।' কথাটা বলেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সাইফ বিশ্বজিতের দিকে। কালো গাড়ির কথা শুনেই ভ্রু কুঁচকে উঠল বিশ্বজিতের।চোখ এড়াল না সেটা সাইফের।পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বলল,'হুম,বুঝতে পারছি।' বলেই চুপ হয়ে গেল বিশ্বজিত।'আপনারা যথেষ্ঠ কারিৎকর্মা তাতে কোনো সন্দেহ নেই।এত দ্রুত আমাকে ট্রেস করে ফেলবেন, সত্যিই ভাবিনি।তবে মি.সাইফ,আমি আপনার কাছে আরেকটু আশা করেছিলাম।' এবার ভ্রু কোঁচকাল সাইফ।'যেমন?' 'আপনি হয়ত ভাবছেন,আমার ফেলে যাওয়া ফোনটার মাধ্যমে আমি আপনাদের আমার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছি।কিন্তু আসল ব্যাপার হল,আমি নিশ্চিত ছিলাম না,আপনারা আমাকে সত্যিই খুঁজে পাবেন কিনা। সেজন্য ফোনের মাধ্যমে শুধু আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি তা না,বরং গোটা ফোনটাই একটা,মেসেজ।একটা ধাঁধা রেখেছিলাম আমি ফোনটার মধ্যে। সেটার সমাধান করতে পারলে আমার দেখা না পেলেও আপনারা মূল মেসেজটা পেয়ে যেতেন।যদিও ধাঁধাটা খুব সুক্ষ্ম, এবং এতে ভাগ্যের সহায়তাও প্রয়োজন, এরপরও আপনি ওভাবে মেসেজটা পেলেই ভাল লাগত আমার।আপনার সেই ক্ষমতা আছে। যাকগে,যা করেছেন সেটাও কম কিছু নয়।তাছাড়া এখন ধাঁধা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমাদের উচিৎ আসন্ন বিপদটা নিয়ে চিন্তা করা।' 'সেটাই।' সায় জানাল সাইফ। 'বেশ লম্বা গল্প।একটা ড্রিংক নিয়ে বসলে ভাল হত না?' 'নো,থ্যাংকস।আমি ড্রিংকস করি না।' 'জুস?' ইতস্তত করে রাজি হয়ে গেল সাইফ।'ওকে।' বিশ্বজিত এগিয়ে গেল ঘরের কোনে রাখা ফ্রিজের দিকে। ড্রিংক বানাতে কিছুটা সময় লাগবে ভেবে সাইফ উঠে দাঁড়িয়ে ড্রয়িংরুমের বিশাল জানালাটার দিকে এগিয়ে গেল।জানালার ওপাশে ছড়িয়ে আছে বিস্তৃত নগরী।সাইফ জানালা খুলে বুক ভরে শ্বাস নিল। ঠিক তখনই বিস্ফোরনে কেঁপে উঠল পুরো ফ্ল্যাট। একটা অন্ধকার সরু গলিতে দাঁড়িয়ে আছে একজন ছায়ামূর্তি।সন্ধ্যা থেকেই পালাক্রমে এখান থেকে ত্রিশগজ দুরের একটা ফ্ল্যাটের উপর নজর রাখছে তিনজন মানুষ। লোকগুলোর ধৈর্য্য মুনিঋষিদের সমপর্যায়ের।এতটুকু বিরক্তি বা শিথিলতা নেই। অনেকক্ষন যাবত ধোঁয়ার তৃষ্ণা পেলেও সেটাকে গলা টিপে ধরে আছে।অন্ধকারে সিগারেটের আগুন অনেক দুর থেকে দৃষ্টি আকর্ষন করবে।যদিও তার শিফটে এখন পর্যন্ত কোনো আগন্তুক ঢোকেনি গলিটা দিয়ে।এই গলির মাথায় একটাই বাড়ি।সেই বাড়ির বাসিন্দারা সম্ভবত ঘরে ফিরে এসেছে অনেক আগেই। আরো দশমিনিট কাটল।বারোটা বাজার মৃদু সংকেত দিল রিস্টওয়াচটা।তার শিফট শেষ হয়েছে। এখন আরেকজন আসবে তার জায়গা নিতে।বোধহয় রওনা হয়েও গেছে তাদের ভ্রাম্যমান কন্ট্রোল সেন্টার থেকে। প্রয়োজনে আজ সারারাতই পাহারা দিতে হবে।যারা পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেদের কাজে কোনো রকম ফাঁক রাখতে পছন্দ করে না। লোকটা ঘুরে দাঁড়িয়ে পেছনে তাকাল তার সঙ্গী আসছে কিনা দেখবার জন্য।ঠিক সেই সময়ই বিকট আওয়াজে বিস্ফোরিত হল ত্রিশ গজ দুরের ফ্ল্যাটের একটা কামরা। শক ওয়েভের ধাক্কায় ফ্ল্যাটের জানালার কাচগুলোও প্রচন্ড গতিতে চুরমার হয়ে ছড়িয়ে পড়ল নীচের রাস্তায়।জানালা পথে দেখা গেল আগুনের টকটকে শিখার উদ্বাহু নৃত্য। লোকটার মুখ সামান্য বেঁকে গেল। সামনে পরিচিত কেউ থাকলে এটাকে হাসি বলে শনাক্ত করতে পারত। এখানে দাঁড়িয়ে মশা মারার সময় শেষ হয়েছে। বাঁকানো ঠোঁট নিয়েই পা বাড়াল কিছুটা দুরেই অপেক্ষমান কালো গাড়িটার উদ্দেশ্যে। সাত চোখের কোটরে তীব্র ব্যাথা।যেন খুললেই ওদুটো আশ্রয় থেকে বেরিয়ে আসবে।মাথার মধ্যে অসংখ্য রঙের নাচন।যদিও মাথাটা ফাঁকা হয়ে আছে।আগে পরের সমস্ত স্মৃতিই ধূসর।উজ্জল একটা আলো চোখের পাতা ভেদ করে যন্ত্রনা দিচ্ছে স্নায়ুতে।সে কারনেই হয়ত, যন্ত্রনার স্বরুপের মুখোমুখি হতে চোখদুটো খুবই ধীরে ধীরে খুলল মেজর সাইফ হাসান। পুরোপুরি চোখ মেলতেই চোখের সামনে দেখতে পেল সিক্রেট শ্যাডোর চীফ কর্নেল আজহার চৌধুরীকে।চেহারার উদ্বেগ চাপা দেবার কোনো চেষ্টাই তিনি করছেন না।কখনো করেন না।জানেন,সাইফের প্রতি তাঁর স্নেহকে তিনি কখনই আড়াল করতে পারবেন না।সাইফের বাবা মারা যাবার পর থেকে এই মানুষটাই বাবার ভূমিকা নিয়েছেন। সাইফের আর্মিতে যোগ দেয়া থেকে শুরু করে আজকের সিক্রেট শ্যাডোর এই অবস্থানে আসার পেছনে তাঁর অবদান অস্বীকার করবার নির্লজ্জতা তাঁর শত্রুও দেখাবে না। কর্নেল আজহারের পেছনে খসরুকে দেখা যাচ্ছে।তার পাশে একজন বয়স্ক ডাক্তারি এপ্রোন পরা ভদ্রলোক আর এক তরুণী নার্স। শেষোক্ত দুজনের উপস্থিতি প্রমান করছে সে এখন হাসপাতালে।রুমের পরিবেশটাও সে কথাই বলছে। 'এখন কেমন লাগছে,মাই বয়?' সাইফ জবাব দেবার জন্য উঠে বসতে গেল।সাথে সাথেই বুকের মধ্যে চিলিক দিয়ে উঠল একটা তীক্ষ্ণ ব্যাথা।ছড়িয়ে পড়ল সারাটা উর্ধাঙ্গে। 'উঠবেন না,আপনার পাঁজরের একটা হাঁড়ে সামান্য ফ্র্যাকচার হয়েছে।'সতর্ক করলেন বৃদ্ধ ডাক্তার। 'ওহ!' উঠেই পড়েছিল সাইফ।হেলান দিল বালিশে।দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটাতে দেখাচ্ছে ছয়টা বাজে। সকাল না সন্ধ্যা সে ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো ধারনা নেই সাইফের। ভারী পর্দা টানা থাকায় বাইরের আলো তেমন একটা আসতে পারছে না ভেতরে। গত রাত সোয়া বারোটার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্মৃতি নেই নিউরনে।শেষ মুহুর্তের কথা স্বরণ করল সাইফ। বিশ্বজিত ফ্রিজের দিকে এগোতেই ও উঠে জানালার কাছে গিয়েছিল। এরপরই বিকট একটা বিস্ফোরনের শব্দ হয়।শক ওয়েভের ধাক্কায় উড়ে গিয়ে জানালার গায়ে প্রচন্ড ধাক্কা খায় সাইফ।এরপর আর কিছু মনে নেই ওর।ব্যাপারটা জানা জরুরী। প্রশ্ন করবার জন্য মুখ তুলল। ওর মনোভাব বুঝতে পেরে কর্নেল আজহার বলে উঠলেন,'অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে নিশ্চয়ই? আমি বাসায় যাচ্ছি,খসরু তোমাকে সব জানাবে।' 'ওকে স্যার।'কন্ঠস্বর এখনো অনেকটা দুর্বল। 'বেস্ট অফ লাক।' কর্নেল আজহার চোখের ইশারায় ডাক্তার আর নার্সকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন রুম ছেড়ে। এতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলেও শিক্রেট শ্যাডোর সর্বোচ্চ কর্তা রুম ছাড়তেই একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ল খসরু। সে বসতেই সাইফ জিজ্ঞেস করল,' আগে বলুন এখন কয়টা বাজে।' 'স্যার,সন্ধ্যা ছয়টা।' মুচকি হাসল খসরু। সম্ভবনাটা মাথায় থাকলেও যারপরনাই অবাক হল সাইফ। তারমানে প্রায় আঠারো ঘন্টা ধরে ও অজ্ঞান ছিল?! 'জী না,স্যার', যেন সাইফের মনের কথাটা বুঝতে পেরেই বলল খসরু,'আসলে এতক্ষন অজ্ঞান ছিলেন না আপনি।সকালের দিকে জ্ঞান ফিরেছিল সামান্য সময়ের জন্য।পরে ডাক্তার ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলেন এতক্ষন।' শ্রাগ করল সাইফ। এরপর খসরু নিজে থেকেই বলতে আরম্ভ করল গতরাতের ঘটনা,'আততায়ী খুবই কমন একটা বুবিট্র্যাপ ব্যবহার করেছে।ফ্রিজের মধ্যে এমন ভাবে প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ বসিয়েছে যেন খুললেই ডেটোনেট হয়।' 'আততায়ীর পরিচয়ের ব্যাপারে কিছু জানা গেছে?' প্রশ্ন করল সাইফ। 'না,স্যার।যে বা যারাই কাজটা করে থাকুক তারা অত্যন্ত প্রফেশনাল। কোনো সূত্রই রেখে যায়নি।' 'কে বলেছে সূত্র রাখেনি? আমরা যে জানতে পারলাম ওরা প্রফেশনাল,এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র নয় কি?' সাইফের কথা অনুধাবন করতে পেরে হেসে ফেলল খসরু।একারনেই সাইফকে এত পছন্দ তার।নিরাশ হতে জানে না এই ছেলেটা। 'ওরা যে হাইলি ট্রেইনড এন্ড প্রফেশনাল তার আরো বড় প্রমান হল ওদের বিস্ফোরকের ব্যবহার। এমনভাবে এক্সপ্লোসিভ ব্যবহার করেছে যাতে করে বিস্ফোরনের ধাক্কা ওই রুমের বাইরে বের না হয়। একারনেই ওই রুমে থাকার পরও বেঁচে গেছেন আপনি।পুলিশ আমাদের আগেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ওখানেই আমাদের টিম পৌঁছতেই একটা টিমকে আমি ফ্ল্যাটের চারপাশটা রেকি করতে পাঠাই।তারা তেমন কিছু পায়নি।পুলিশ আপনাকে চিনতে পেরে আমরা যাবার আগেই এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে ফেলেছিল। পরে আমাদের তত্বাবধানে আপনাকে এখানে আনা হয়।আরো বড় ক্ষতি হতে পারত,আল্লাহ বাঁচিয়েছেন, পাঁজরের হাড়ে ফ্র্যাকচার ছাড়া তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।' সাইফ জানে প্রশ্নটার উত্তর কী হতে পারে,এরপরও করল,'বিশ্বজিতের কী অবস্থা?' মাথা নাড়ল খসরু।'হি ইজ নো মোর।' আততায়ী কারা,তা নিয়ে সন্দেহ নেই সাইফের মনে।সেইকালো গাড়ির আরোহী কিংবা আরোহীরা।কিন্তু তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারনা নেই ওর একমাত্র সূত্রটাকেও অদৃশ্য শত্রু ধ্বংস করে ফেলল।একটা হতাশা এবার সত্যিই ঘিরে ধরতে চাইল সাইফকে। হঠাৎই এমন সময় মৃত্যুর আগে বিশ্বজিতের বলা কথাগুলো মনে পড়ে গেল সাইফের। " ফোনের মাধ্যমে শুধু আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি তা না,বরং গোটা ফোনটাই একটা,মেসেজ।একটা ধাঁধা রেখেছিলাম আমি ফোনটার মধ্যে।সেটার সমাধান করতে পারলে আমার দেখা না পেলেও আপনারা মূল মেসেজটা পেয়ে যেতেন।যদিও ধাঁধাটা খুব সুক্ষ্ম, এবং এতে ভাগ্যের সহায়তাও প্রয়োজন।" উহুঁ,সব শেষ হয়নি।এখনো একটা আশা বেঁচে আছে।ধাঁধার সমাধান করতে পারলেই মূল মেসেজ পেয়ে যাবে ও। কিন্তু সমস্যা হল,জবাবের আগে প্রশ্ন জরুরী। অথচ সাইফ জানে না পর্যন্ত, সেই ধাঁধাটা আসলে কী? সর্বোপরি, সেই "ভাগ্যের সহায়তা" কি পাবে ও? (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কনস্পিরেসি-০৭ (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now