বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কনস্পিরেসি-০৪

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পলিটিক্যাল থ্রিলার,কনস্পিরেসি (পর্ব-৪) সাইফকে অবাক দৃষ্টিতে বস্তুটার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে খসরুর চোখেমুখে প্রশান্তির একটা ছায়া পড়ল।সাইফকে ভড়কে দিতে পেরেছে!কাজটা সহজ না। সাইফ এখনো বস্তুটার দিকে তাকিয়ে আছে।বুঝতে পারছেনা এই সাধারন জিনিসটা "গুরুত্বপূর্ণ" হয় কী করে? 'ফোন?'অস্ফুটে বলে উঠল সাইফ। 'জী।' কথা না বলে রুমালে প্যাঁচানো কালো রঙের সেলফোনটা তুলে নিল সাইফ। এনড্রোয়েড ফোন,তবে খুব বেশি দামী না।আজকাল কম দামে চাইনিজ সেট ভালই বিকোচ্ছে।এই ফোনটাও তেমনই।একেবারে নতুন সেট।চকচক করছে।এই মুহুর্তে অবশ্য সুইচড অফ। সাইফ চোখ তুলে খসরুর দিকে তাকাল।"কাহিনি কী" টাইপের দৃষ্টি ফুটে উঠেছে সাইফের চোখে। খসরু গলা খাকারি দিয়ে বলতে লাগল,'লোকটার কথা শেষ হবার সাথে সাথেই 'টিএনটি' কল ট্রেস করে।বেশি দুরে না।বনানী থেকে কলটা এসেছিল।আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বলাই বাহুল্য সন্দেহজনক কাউকে পায়নি।পরে আশপাশে সার্চ করে ফুটপাতের উপর এই ফোনটা খুঁজে পায়।' 'ফুটপাতে?' 'জী।' 'স্ট্রেঞ্জ।আপনি এর মধ্যে অবাক করা কিছু দেখতে পাচ্ছেন?' 'জী পারছি।' সাইফ আর কিছু বলল না।একটু বিরতি দিয়ে বলল,'ফোনটা ভালমত চেক করে দেখা হয়েছে?' 'জী,তবে কলারকে ট্রেস করবার মত কিছুই নেই।সযত্নে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।' 'ফিঙ্গারপ্রিন্ট?' 'মুছে ফেলা হয়েছে।' 'আই সি।'আরো গম্ভীর হয়ে গেল সাইফ।'আপনার কাছে গ্লাভস আছে?' খসরু কিছু না বলে ড্রয়ার থেকে একটা উলের দস্তানা বের করে টেবিলে রাখল। সাইফ ওগুলো পরে নিল হাতে। জানে,যারা ফোনটা চেক করে দেখেছে তাদের পর আর চেক করার মত কিছু বাকি নেই। এরপরও নিজের চোখে দেখার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করতে পারছেনা। দস্তানা পরে রুমাল থেকে ফোনটা তুলে নিল।প্রথমেই ব্যাক কাভার খুলে ফেলল।ব্যাটারির উপর নজর চালাল।স্বাভাবিকভাবেই ফোনের মতই ঝা চকচকে ব্যাটারি।এবার ব্যাটারি খুলে ফেলল।একটা সিম কার্ড দেখা যাচ্ছে। ফের অবাক হয়ে গেল সাইফ।কার্ড থেকে সিম আলাদা করার পর যে দাঁতগুলো অবশিষ্ট থাকে ওগুলো বেশ ধারালো।অর্থাৎ সিমটাও একেবারেই নতুন।আজই সম্ভবত কেনা হয়েছে। মেমরি কার্ডের স্লট ফাঁকা। এবার নজর দিল ফোনের কোনার একটা ক্ষুদে স্ক্রুর দিকে।স্ক্রুর উপর একটা স্টিকার দেখা যাচ্ছে। উপরে ছোট্ট করে ফোনের ব্রান্ডের নাম লেখা। অর্থাৎ সেট খোলা হয়নি।হলে স্টিকার ছেঁড়া থাকত।এটা অবশ্য না দেখলেও হত।ফোনটা নিশ্চয়ই আগেই এক্স-রে করে দেখা হয়েছে। কিছু পেলে খসরু ওকে জানাত। সেটের ব্যাটারি লাগিয়ে ফেলল সাইফ।পাওয়ার বাটন চাপতেই ডিসপ্লের আলো জ্বলে উঠল। ফোন রান করার জন্য সময় নিচ্ছে। অপেক্ষা করতে লাগল সাইফ।ওর কাজকর্ম গভীর আগ্রহে দেখছে খসরু। ফোন পুরোপুরি ওপেন হতে প্রথমেই কন্ট্রাক্ট নাম্বার চেক করল সাইফ। একেবারেই সাদা। আশাও করেনি-ভরা থাকবে। মেসেজও বলতে গেলে ফাঁকাই।শুধু ইনবক্সে একটা মেসেজ দেখা যাচ্ছে।অফিস থেকে এসেছে।নতুন সিম চালু করায় গ্রাহককে অভিনন্দন জানিয়েছে। এরপর সাইফ ডায়াল চেক করে দেখল।ডায়ালে শুধুমাত্র সিক্রেট শ্যাডোর নাম্বারটাই আছে আর সব ফাঁকা।হয় মুছে ফেলা হয়েছে কিংবা এই ফোন দিয়ে এই একটাই কল করা হয়েছে। প্রথম সম্ভবনায় তেমন কিছু বোঝা না গেলেও দ্বিতীয় সম্ভবনা বেশ বড় রকমের একটা ইঙ্গিত বহন করছে। এই ব্যাপারটা নিয়ে খসরুর সাথে আলাপ করতে হবে।তার আগে সাইফ ফোনের অন্যান্য অপশনে ঢু মারল। ব্র্যান্ডনিউ ফোনে সাধারনত যে সমস্ত অপশন এবং ডিফল্ট অ্যাপস থাকে তার বাইরে কিছুই নেই।মেমরি তো নেইই।বলতে গেলে পুরো ফোন ক্লিন,শুধু সিক্রেট শ্যাডোর নাম্বার ছাড়া। সাইফ ফোনটা আবার সুইচড অফ করে টেবিলে নামিয়ে রাখল।হাত থেকে দস্তানা খুলতে খুলতে খসরুর দিকে তাকিয়ে বলল,'এই ফোনটার ব্যাপারে আপনার মতামত কী?' কিছুক্ষন চুপ করে রইল খসরু। বোধহয় কথা গুছিয়ে নিচ্ছে। বলল,'স্যার,এই ফোনের কয়েকটা বৈশিষ্ট্য আছে যাতে করে বোঝা যায় ফোনটা সম্ভবত একবারই ব্যাবহার করা হয়েছে।সিমটাও।কিংবা আরো পরিষ্কার করে বললে, এই ফোন এবং সিম কেনাই হয়েছে আমাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য।' 'তো এটা কী প্রমাণ করছে?'নিজের চিন্তাধারাই খসরুর মুখ থেকে শুনতে চাইছে। ওর এবং খসরুর চিন্তাধারা যে একই খাতে প্রবাহিত হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহই নেই। 'স্যার,কলটা যেই করে থাকুক সে অত্যন্ত প্রফেশনাল।পুরো ফোনের কোথাও কোনো চিহ্ন রাখেনি তাকে ট্রেস করার মত।ফিঙ্গারপ্রিন্টও খুবই যত্নের সাথে মুছে ফেলা হয়েছে।' 'হুম,'মাথা নাড়ল সাইফ।চুপ হয়ে গেল। চিন্তায় পড়ে গেছে।এই ফোন যদি শুধুমাত্র সিক্রেট শ্যাডোর সাথে যোগাযোগের জন্যই কেনা হয়ে থাকে তাহলে কলারকে ট্রেস করার কোনো উপায় নেই বললেই চলে। কারন অনেকদিন একটা ফোন ব্যবহার করলে তাতে মালিকের পরিচয় প্রকাশিত হয়ে পড়বার মত অনেক কিছুই থাকে।যেমন আইএমই নাম্বার।সেটা তখন অনেকের কাছেই সংরক্ষিত হয়ে যায়।সিম কোম্পানি, ফোনের কাস্টমার কেয়ার,মালিক কখনো পুলিশি ঝামেলায় জড়ালে তাদের কাছেও খোঁজ থাকবে ফোনের। কিন্তু এই ফোনের আইএমই (IME) নাম্বার ট্রেস করে বড়জোর বিক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে ওরা।তার কাছ থেকে হয়ত ক্রেতার নাম ঠিকানা লেখা একটা রিসিটও পাওয়া যাবে।তবে যে মানুষ এত সতর্কতার সাথে পা ফেলছে সে এই ফোন ভুলেও নিজের আসল নামে কিনবেনা।আর ভাগ্য খুব বেশি ভাল হলে ক্রেতার চেহারার একটা আবছা বর্ননাও পাওয়া যেতে পারে বিক্রেতার কাছ থেকে।না পাবার সম্ভবনাই খুব বেশি। সেই আগের কথাই।এত সতর্ক ব্যাক্তি কিছুতেই নিজেকে শনাক্ত করবার রাস্তা রেখে যাবেনা।অর্থাৎ রাস্তা সবগুলোই বন্ধ। সাইফ মুখ খুলল,'এই ফোনটার দাম যদি পাঁচ হাজার টাকাও ধরি,তার মানে দাঁড়াল,কলার একটা কল করার জন্য পাঁচ হাজার টাকা খরচ করেছে।পাঁচ হাজার টাকা দামের একটা ফোনকল কি ভুয়া হতে পারে?আনমনেই যেন শেষের কথাটা বলল সাইফ। 'আচ্ছা স্যার,একটা জিনিষ বুঝতে পারছিনা।' সাইফ চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকাল খসরুর দিকে। 'কলার এই ফোনটাই কেন ইউজ করতে গেল।এখনকার হিসেবে যথেষ্ঠ দামী ফোনটা। আজকাল তো একহাজার টাকার মধ্যেও ফোন পাওয়া যায়।কিন্তু সে এই ফোনটাই ইউজ করতে গেল কেন?' 'গুড পয়েন্ট। আমিও ভেবেছি এটা নিয়ে।তবে কুল কিনারা করতে পারছিনা।' 'আচ্ছা,এমন কি হতে পারেনা,সে ব্যাক্তিগত ব্যাবহারের জন্য ফোনটা কিনেছিল এমন সময় আমাদের ফোন করার দরকার হয়ে পড়ে।' 'নাহ,তাহলেও সে কমদামী ফোন ব্যাবহার করতে পারত।এই যুক্তি আরেকটা কারণে ধোপে টিকছেনা। এরকম একটা দামী সেট ঢাকার ব্যাস্ত রাস্তায় খুব বেশিক্ষন পড়ে থাকা অসম্ভব।' 'হ্যাঁ,এটা আরেকটা অবাক করার মত ব্যাপার। ' সাইফের কথা শেষ হয়নি পুরোপুরি। শেষ করল,'যদিনা কেউ সেটার উপর নজর রেখে থাকে। ' আচমকা ব্যাপারটা মাথায় ঢুকল খসরুর।'ওহ মাই গড!তারমানে আমাদের টিম যখন ওখানে খোঁজাখুঁজি করছিল তখন সে খুব কাছাকাছিই ছিল?!' 'এগজ্যাক্টলি।ফোনটার উপর নজর রাখছিল কলার।আর আমার ধারনা আমাদের টিম ওখানে পৌঁছবার পরই সে ফোনটা রাস্তায় ফেলে দেয়। ফোনটা আমরা পেয়েছি সেটা নিশ্চিত হতেই কাজটা সে করেছে বলে আমার বিশ্বাস।' 'কিন্তু কেন?এই ফোন আমাদের হাতে তুলে দিয়ে সে কী বোঝাতে চাইছে?এতে তো কোনো ইনফর্মেশনও নেই যার মাধ্যমে কিছু আঁচ করা যায়।নাকি ফোনটা বিশেষ কারো?' 'সেটা হবার সম্ভবনাও কম। একেবারেই নতুন সেট এটা।কেউ আজকের আগে ব্যাবহার করেছে বলে মনে হয়না।আর করলেও সেই 'বিশেষ' ব্যাক্তিটিকে খুঁজে বের করা তো অসম্ভব।এই লোক এত কাঁচা কাজ করবেনা।' 'তাহলে?' 'জানার একটাই উপায় আছে। কলারকে হাতে পেতে হবে আমাদের।' 'সেটাই বা কিভাবে?' 'চুপ করে রইল সাইফ।ভাবছে উপায়। জানে কিছু পাবেনা,এরপরও বলল, 'আপনি একটা টিমকে পাঠান।তারা ফোনটার আইএমই নাম্বার ধরে যতদুর ট্র্যাক করা যায়,করুক।'এরপর সাইফ ওর নিজের ফোনটা বাড়িয়ে ধরল খসরুর দিকে।'আর আপনি আমাকে কলারের এগজ্যাক্ট লোকেশনটা ম্যাপে লক করে দিন।আমি নিজে যাব ওখানে।' তিন গন্তব্যে এসে ব্রেক কষল মেজর সাইফ হাসান।গাড়ি থেকে নামার আগে গায়ের স্যুটটা খুলে ফেলল। যতটা ইনফর্মাল হওয়া যায়। গাড়ি থেকে নেমে এল।এখন পড়ন্ত বিকেল। সূর্যের তেজ দ্রুত কমে আসছে।আর কিছুক্ষন পরই সন্ধ্যা নামবে।এর আগেই যা করার করতে হবে।রহস্যময় কলারকে খুঁজে বের করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যান নেই ওর।এখানে কোনো সূত্র না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেটাও জানেনা।শুধু জানে কলারকে খুঁজে বের করা খুবই জরুরি। ওর সমস্ত ইন্দ্রিয় বলছে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। অবশ্যাম্ভী কিছু একটা প্রবল গতি নিয়ে ছুটে আসছে।অস্বস্তির ব্যাপার,সেই 'কিছু একটা' সম্পর্কে কোনো ধারনাইই নেই ওর। সেজন্যই কলারকে খুঁজে পাওয়া জীবন মরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার ব্যাপারটা কিছু না হবার সম্ভবনাও উড়িয়ে দেবার মত না।সেটাই নিশ্চিত হতে হবে। আসার আগে খসরুর কাছ থেকে ভালমত জেনে নিয়েছে লোকেশনের খুঁটিনাটি। এজন্য কোনো ধরনের ইতস্ততা ছাড়াই চলে এল জায়গামত। একেবারে বনানী মেইনরোডের পাশেই জায়গাটা।একটা ওভারব্রিজ আছে। হুস হাস করে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। এখানে কোনো স্টপেজ নেই। ব্যাস্ত পথচারীতে ব্যাস্ত ফুটপাত। একটা জিনিস ভাল করে খেয়াল করে দেখল।এ ওভারব্রিজকে কেন্দ্র করে জায়গাটাতে গড়ে ওঠা একটা কফিশপ,আর সাধারন দুটো দোকান ছাড়া অনেকদুর পর্যন্ত ফুটপাতের পাশটা ফাঁকা।এই তিনটে দোকানে যারা আসছে তারাও খুব ব্যাস্ত। হাঁটার ফাঁকেই মোবাইলে রিচার্জ করে নিচ্ছে, আবার কফিশপেও ঢুকে পড়ছে কেউ কেউ।কফিশপের কাস্টমাররা বেশিরভাগই স্কুল পড়ুয়া দেখা যাচ্ছে।ক্লাস নাইন টেনের ছাত্র ছাত্রী।সম্ভবত আশেপাশেই কোথাও হাইস্কুল আছে।টিফিন এবং ছুটির পর এসে ভীড় জমায় ছেলে পেলেরা। কফিশপ নামেই।আদৌ কফিই পাওয়া যায় কিনা তাই বা কে বলবে!এর চাইতে কনফেকশনারী বলাই ভাল। স্ন্যাকস,কোল্ড ড্রিংকস ইত্যাদি হাবিজাবি। সাইফ বুঝতে পারল এই জায়গাটাতে কেউ অলস সময় কাটায় না।যেমনটা দেখা যায় ঢাকার বাসস্টপগুলোতে। বাস আসার ফাঁকে কিংবা এমনিতেই অনেকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু এখানে কেউ কাজ ছাড়া দাঁড়াচ্ছে না।তারমানে এখানে অনেকক্ষন ধরে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে কিংবা ফোনে কথা বললে খুব সহজেই নজরে পড়ে যাবে।আবার উল্টোটাও ঘটতে পারে।কারন নজর করার মত তেমন কেউ নেইই জায়গাটাতে। এ জায়গা কি উদ্দেশ্যমূলক ভাবে বেছে নিয়েছে কলার?যদি তাই হয় তাহলে তার প্রশংসা না করা অন্যায় হয়ে যাবে। তারমানে ব্যাপারটা দাঁড়াল,এখানকার দোকানিদের কাছ থেকে কলার সম্পর্কে কিছুই জানা যাবেনা। নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে।সেটাই বা কিভাবে? কফিশপের সামনে একটা ইলেক্ট্রিক পোল আছে।তার গোড়ায় একটা প্লাস্টিকের ডাস্টবিন।কফিশপের সৌজন্যে।ওই খাম্বা আর ডাস্টবিনের মাঝের ফাঁকটাতে পড়ে ছিল ফোনটা।জেনেছে সাইফ। সাইফ এগিয়ে গেল সেদিকে।কিছু একটা ফেলার ভঙ্গিতে ঝুকে পড়ল ডাস্টবিনের উপর।খাবারের প্যাকেট,কোল্ড ড্রিংকসের বোতল আর সিগারেটের গোড়া ছাড়া তেমন কিছু নেই ভেতরে।থাকার কথা না,এরপরও কোনো সম্ভবনাকেই এড়িয়ে যাওয়া স্বভাবে নেই সাইফের। লোকটা কথা বলছিল কোথায় দাঁড়িয়ে?খাম্বার গোড়ায় দাঁড়াবার সম্ভবনা নেই। ফিরে তাকাল সাইফ।কফিশপের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলার সম্ভবনাই বেশি। তাহলে তিনটা দোকানের কোনোটা থেকেই দেখা যাবেনা। সেটাই করেছে সম্ভবত কলার। এরপর সিক্রেট শ্যাডোর টিম আসার আগে ফোনটা সবার অগোচরে রেখে দিয়েছে জায়গামত।হুম,রেখে দিয়েছে।ফেলে দিলে স্ক্র্যাচ কিংবা ফেটে যেত। তেমন কিছু হয়নি।তবে যত যাইহোক,ওই ডাস্টবিনের কাছে তাকে একবারের জন্য হলেও যেতে হয়েছে।ফোনটা রাখতে।কফিশপের মালিক কি তখন খেয়াল করেনি তাকে? প্রশ্নই ওঠেনা।অবাস্তব চিন্তা। কতশত মানুষ আসছে,যাচ্ছে।এর মধ্যে কতজন ব্যাবহার করেছে ডাস্টবিনটা।তাদের মধ্য থেকে একজনকে চিহ্নিত করা আর খড়ের গাদায় সুঁচ খোঁজা,ব্যাপারটা একই। তবে হাল ছাড়তে চাইল না সাইফ। যেখানে কিনা হাল মাত্র একটাই! কফিশপের মালিকের সাথে কথা বলে দেখার মনস্থির করল সাইফ। এগিয়ে গেল কফিশপের দিকে।কাঁচের দরজাটায় ঠেলা দিয়ে ঢুকে পড়ল ভেতরে।কাস্টমার তেমন নেই। দুজন তেরো চোদ্দ বছর বয়সী ছেলে বসে বসে পেটিস জাতীয় কিছু একটা খাচ্ছে। সাইফ কাউন্টারে গিয়ে একটা ডায়েট কোক দিতে বলল।একেবারে কিছু না কিনলে খারাপ দেখায়। দোকানি একজনই।সম্ভবত মালিকও সেই।মাঝবয়সী। সারাদিন দোকানে বসে থাকতে থাকতে মেদ জমিয়ে ফেলেছে শরীরে। হেলেদুলে হেঁটে গিয়ে ফ্রিজ থেকে একটা কোকের ক্যান বের করে সামনে রাখল সাইফের। সাইফ ক্যান খুলে বরফ শীতল কোকে চুমুক দিয়ে আলাপ জমানোর ভঙ্গিতে বলল,'দোকান কেমন চলে আপনার? ' 'খারাপ না মাশআল্লাহ।' একগাল হেসে বলল সে।বোঝা যায়,লোকটা আলাপী। খুশি হল সাইফ।'ভাল,কিন্তু কাস্টমার তো দেখছিনা তেমন?' 'আসল ব্যাবসা হয় স্কুল ছুটি হইলে আর সন্ধ্যার পর।টিফিন টাইমেও হয়।স্কুল তো অনেক আগেই ছুটি হইয়া গেছে।একটু পর আবার কাস্টমার আসবো।এর আগ পর্যন্ত একটু ফাঁকাই থাকে।' 'ও আচ্ছা।'একটু বিরতি দিয়ে বলল,'আচ্ছা,আপনি কি একটা উপকার করতে পারবেন আমার?' 'জী স্যার,বলেন?' 'আমি একটু আগে ডাস্টবিনটার কাছে গিয়েছিলাম দেখেছেন?' 'না তো স্যার।' সাইফ হতাশ হয়ে পড়ল।এইলোকের জগত দোকানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। দোকানের বাইরে কী হচ্ছে না হচ্ছে সে ব্যাপারে তার আগ্রহ নেই বোধহয়। এরপরও বলল,'আমার এক ফ্রেন্ড আজ দুপুরের দিকে আপনার দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল ফোনে।এরপর এখান থেকে যাবার পর ফোনটা আর পায়নি।ওর ধারনা ফোনটা এখানেই ফেলে গেছে। ইনফ্যাক্ট, কথা শেষ হতে সিগারেট ফেলার জন্য ডাস্টবিনটার কাছে গিয়েছিল ও। ফোনটা তখন প্যান্টের পকেটে ছিল,এক ফাঁকে পড়ে টড়ে গেছে বোধহয়।ও নিশ্চিত না।ফোনটা এখানেই হারাল না অন্য কোথাও,সেটা জানতে পারলে একটা খোঁজ করা যেত।এজন্যই শিওর হওয়া দরকার।আপনি সন্দেহজনক কাউকে দেখেছেন ডাস্টবিনের আশেপাশে?' 'এই তো স্যার মুশকিলে ফালাইয়া দিলেন। এত মানুষ,কার খোঁজ কে রাখে?অনেকেই তো ওই ডাস্টবিন ব্যাবহার করে।এর মধ্যে কে ফোন ফালাইল আর কে নিল সেইটা জানা তো সম্ভব না। 'তাও ঠিক।'সাইফও বুঝতে পারছে ব্যাপারটা স্রেফ অসম্ভবই।অবশ্য খুব বেশি আশা করেওনি ও।একটা সম্ভবনা যাচাই করতে এসেছিল,করেছে।কোক খাবার প্রয়োজনীয়তাও ফুরিয়েছে।বিল মিটিয়ে দিয়ে দোকানের বাইরে চলে আসবার জন্য পা বাড়াল।সুইং ডোরের কাছে পৌঁছে গেছে এমন সময় ডাক দিল দোকানি,'স্যার!' সাইফ ফিরে তাকাল তার দিকে।'কিছু বলবেন?' 'জী স্যার।' সাইফ এগিয়ে গেল আবার কাউন্টারের দিকে।চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকাল দোকানির দিকে। 'স্যার,আপনি কী কইতে পারবেন আপনের বন্ধু কোন সময় কথা বলতাছিল?' 'বললাম না,দুপুরের দিকে।' 'উহু,ঘড়ি ধইরা বলতে পারবেন?' 'তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যেই হবে,কেন?' 'তাইলে স্যার,একটা উপায় হইলেও হইতে পারে।' 'মানে!'সাইফ অবাক হয়ে দোকানির দিকে তাকিয়ে রইল। দোকানি সাইফের বিস্ময় উপভোগ করছে মনে হল।ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কনস্পিরেসি-০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now