বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কল্পনা

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান RAKIBUL ISLAM (০ পয়েন্ট)

X পাঁচ মিনিট এর জন্য আপনি নিজেকে মৃত্যু কল্পনা করুন, আর লেখাটা পড়ুন । . . . আমরা মুসলিম, ভয় করি না মৃত্যুকে । আমরা মুসলিম, শির উচুতে সবার শীর্ষে । আমরা মুসলিম, আমরা গর্বিত । আমরা মুসলিম, ভয় করি কোন বিপদে । . “মৃত্যু” শব্দ পৃথিবীর সবচেয়ে আতংকিত একটি শব্দ । এটি দুটি অক্ষরে গঠিত শব্দ ‘মৃত্যু’। এর তাৎপর্য বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না । জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এটাকে ভয় পায় । ইসলাম ধর্ম ব্যতীত, সকল ধর্মের মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করেছে, কিন্তু মৃত্যুকে কোন জাতি অস্বীকার করে নাই । , আমরা অনেকে বলি, মৃত্যু তোমায় খুঁজে নিবে, যেখানে পালিয়ে থাক । কিন্তু আমি মনে করি, আমরাই মৃত্যুকে খুঁজে নিব সময় হলে । উদাহরণ:– আপনি যদি গাড়ি বা রোড এক্সিডেন্ট মার যায় । তখন আমরা বলি, লোকটা ওখানে গেলে কেন? বা ঐ গাড়িতে উঠছে কেন? এটাই মেনে নিন যে আপনি মৃত্যুকে খুঁজে নিচ্ছেন । কারণ, যার ভাগ্যে যে খখানে মৃত্যু লেখা আছে । সে সেখানে যাবে, কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না । , এ পৃথিবীতে কোন মানুষ তার মৃত্যুকে জ্ঞান থাকতে কামনা করে না । সব মানুষ চায় আমি দীর্ঘজীবী হবো, আর আমার প্রচুর সম্পদ হবে । জানেন কি? যাদের সম্পদ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে পরিক্ষা করা হচ্ছে । আল্লাহর প্রদত্ত রিজিক, টাকা-পয়সা কে কোন কাজে ব্যয় করে । . জানি না কাউকে মৃত্যু কল্পনা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ কি নাজায়েজ । আমি জানি জিবন্ত মানুষকে মৃত্যু কল্পনা করা ঠিক না । তবুও আমি একজনকে মৃত্যু কল্পনা করে ছিলাম । . এশা নামাজের জন্য মসজিদে গেলাম । মসজিদে উঠতে শুনতে পেলাম, দক্ষিন পাশে চেয়ারে বসে যে লোকটি মাগরিব এর নামজ পড়েছিলো । সেই লোকটি বাসায় গিয়ে মারা গেছেন । হঠাৎ সব কিছু থমকে গেলো । মনে হচ্ছে কল্পনা, কারণ একটু আগে লোকটা নামাজ পড়েছিলো । মনটা সত্যি খারাপ লাগছে । এমন হাজার-হাজার লক্ষ-লক্ষ ঘটনার সাক্ষী আমরা । আপনার দাদা, তার বাবা, বা আপনার পিতা সবাই এই মৃত্যু শব্দটার সম্মুখীন হতে হয়েছে এমন কি আপনাকেও হতে হব । এ জগতের সকলকে মৃত্যু সম্মুখীন হতে হবে । আল্লাহ ছাড়া আর কেহ বঁচিবে না । মৃত্যু আমাদের নিকটতম অদৃশ্য সংঙ্গী । কখন কোথায় কিভাবে মৃত্যু হবে কেউ জানেনা । . ★কাল্পনিক ভাবনা ★ , পরের দিন ঐ চেয়ারে বসে আছে এক বৃত্তবান লোক । তার দিক তাকিয়ে তাকে মৃত্যু হিসেবে কল্পনা করলাম । তার পরনে ছিলো সাদা পাঞ্জাবি, সাদা টুপি, সাদা পাজামা, মাথায় সাদা পাগড়ি সুন্দর করে বাঁধা । লাশের মতো লাগছে সব কিছু সাদা । লোকটা মারা গেলো মসজিদের সব মুসুল্লি চারপাশে ভীড় জমে গেলো । সবাই আহ আহ করতে আছে আর বলছে, এই মাত্র তো ভালো ছিলো । কেমন করে হলো? মৃত্যু এমন একটা জিনিস যা কাউকে পরোয়া করে না । কে ধনী কে গরিব । চার পায়া যুক্ত পালকিতে তাকে শোয়ানো হলো । চারদিক থেকে লোক-জন আসছে দেখার জন্য । সবই বলা-বলি করছে, “লোকটা যথেষ্ট ভালো ছিলো, কিন্তু তার এমন চলে যাওয়া কেমন যেন মনে হচ্ছে ।” কেউ বলছে, “ আল্লার মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে কেঁদে আর কি হবে, সবার একদিন না একদিন এই পথে যাত্রা করতে হবে । কেউ আগে কেউ পরে ।” কেউ বলছে, “ এটা দুনিয়ার নীতি সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করতে হবে । আদম থেকে আজ পর্যন্ত কেউ বেঁচে থাকতে পারেনি ।” কেউ বলছে, “ লোকটা অনেক সম্পদের মালিক, এখন সম্পদ দিয়ে কি হবে? কে খাবে? সব কিছু পড়ে থাকবে, কিছুই সঙ্গে নিতে পারবে না, আহ!” কেউ বলছে, “ কয়েক দিন আগে তার সাথে কথা হলো, অনেক সুন্দর মনের অধিকারী ছিলেন ।” এমন মন্তব্য হতেই থাকে মৃত্যু ব্যক্তিকে নিয়ে। যদি খারাপ হয় তাইলেও ভালো বলে, তবে অন্তর দিয়ে নয় । আলোচনা একটু বেশি হয় তাদের নিয়ে । , মসজিদে মসজিদে অ্যালান করা হয়েছে অমুনেক পিতা অমুক ইন্তেলকাল করেছে । তার জানাযা নামাজ এতটার সময় । দূর থেকে পিতার মৃত্যু খবর পেয়ে ছুট এসেছে ছেলে-মেয়ে । কাঁদছে পাশে বসে । সবাই শান্তনা দিচ্ছে । সবার বাবা-মা চিরদিন বেঁবে থাকে না । কাঁদিস না তোর আমার সবার একদিন যেতে হবে । কাঁদলে আত্মা কষ্ট পাবে । দোয়া কর, যেনো জান্নাত নসিব করে তোমার বাবাকে । , বাজার থেকে তিন টুকরো কাফনের কাপড় আনা হয় । গোসল এর জন্য মানুষ আনা হয় । কেহ বড়ই পাতা নিয়ে এসেছে , কেহ পানি গরম করছে । বড়ই পাতা দিয়ে পানি গরম করছে । কেহ চলে গেছে বাগানে, কাঁচা বাঁশ কাটতে । কেহ কোদাল আর খোন্তা, শাবল নিয়ে গেছে কবর খুড়তে । , পানি গরম করে গোসল করানো শেষ । তার গায়ে যা ছিলো দামি আংটি চেইন। তাবিজ, যেমন জন্মের সময় এসেছিলো তেমন করে, শুধু তিন টুকরো কাপড় দেওয়া হলো। বাঁশ কেটে সাইজ করাও শেষ । অন্য দিকে কবর খুড়া শেষ । সাদা কাপড় পড়িয়ে জানাযার জন্য তৈরি । ছয় জন ভালো মানুষ দিয়ে পালকি চার পায়া কাঁধে নিয়ে মাঠে নিয়ে যাচ্ছে । বাড়ির লোকেরা শেষ দেখা দেখে রেখেছে । , জানাযা শেষ করে, কবর এর নিকট নিয়ে যাওয়া হয় । কবরে রাখা হয় তার সাথে কিছু দেওয়া হয়নি তিন টুকরো সাধা কাপড় ছাড়া । সবাই মুঠ মুঠ ভরে মাটি দিচ্ছে কবরে । , মসজিদের পাশে ,পুকুর পাড়ে বা বাঁশ বাগানের বা শহরে কোন গোরস্তানে রাখা হলো । সঙ্গি প্রিয় মানুষ টা আজ একা । , হঠাৎ ইকামত শব্দ শুনে কল্পনাটা শেষ । চোখের জ্বল পাজামার পড়ে কিছু স্থান ভিঁজে গেছে । . যত বড় সম্পদের মালিক হও মৃত্যুকে আটকাতে পারবে না। যতই সম্পদশালী হও, তিন টুকরো সাদা কাপড় তোমার জন্য। যত জমির মালিক হও, তোমার সাড়ে তিন জমি তোমার । অনেকে সেটাও পায় না। বড় জোর কলা পাতা আর কিছু বাঁশ । অন্ধকার একটা কুটীর। লাক্ষ টাকার সেই বাতি পাবে না । পাবেনা ডিশ,কম্পিউটার, টিভি,মোবাইল, নেট। সংযোগের কোন মাধ্যম থাকবে না। থাকবেনা বিনেদন । তবে, আবার এগুলো সব পাবে । যদি চলতে পারো সে পথে । . . বিদেশ যেতে ভিসা লাগে । ভিসার সময় শেষ তোমার থাকার মেয়াদ শেষ । এই সময় এর মাঝে যে টাকা আয় করো সেটা তোমার । কেউ সময়টা কাজে লাগিয়ে বেশি আয় করে, আর কেউ সময় যখন শেষ পথে তখন হায়-হায় করে। কিন্তু কিছু করতে পারে না । আল্লাহ ঠিক তেমন একটা ভিসা দিয়ে পাঠিয়েছে আয় করার জন্য । কেহ ভালো দিকে আয় করছে আর কেহ খারাপ দিকে আয় করছে। যে দিন ভিসার সময় শেষ মৃত্যু হাজির । আর কেহ বৃদ্ধ বয়সে এসে হায় হায় করছে । দুনিয়ার ভিসা সময় শেষ হবার আগে সময় বাড়ানো যায় কিন্তু আল্লার ভিসা সময় নির্ধারিত । , চিন্তা করুন আপনার জন্মের ছয় বছর পর থেকে এই পর্যন্ত কি কি ভালো কাজ করেছেন আর কি কি খারাপ কাজ করেছেন । কষ্ট পাবেন না তওবা করুন । ভালো পথে চলে আসুন । , আপনাকে প্রতিদিন কবর ৭০ বার ডাকছে, যা আপনি শুনতে পাবেন না । মহানবী (স.) প্রতিদিন মৃত্যুকে কমপক্ষে ৭০ বার স্মরণ করতেন তার শ্বশুর সবচেয়ে কাছের সাহাবি হযরত আবু বকর (র.) ৭০ বার মৃত্যুকে স্মরণ করতে । জান্নাতের সু-সংবাদ প্রাপ্ত দশজনের একজন ছিলেন তিনি । তবুও কবরের চিন্তায় কাঁদতেন । কি হবে যখন, কবর এর দু’পাশের মাটি চাপ দিবে । সেই চিন্তায় , বার বার কবরের নিকট যেতে বলেছেন । কারণ কবর দেখলে আপনার মৃত্যুর কথা স্মরণ পড়বে । , আর আপনি আমি মৃত্যুর কথা স্মরণ তো দূরের কথা কবরের নিটক যাই না, ভয় হয় বলে । আরে ভয়তো হবেই । এই ভয়টা যদি অন্যায় কাজের সময় করতেন তা হলে হতো । , ভাইয়েরা বুঝেন, আখিরাতের কয়েক সেকেন্ড এর সমান এই দুনিয়া। রঙ্গ-রসের সময় অনেক পাবেন । কল্যাণ এর দিকে আসুন। , আপনার জন্মের সময় যেমন এসে ছিলেন । খালি হাতে ঠিক তেমন ফিরে যেতে হবে । আমল ছাড়া কিছু পারবেন না নিতে । . মরার আগে একবার মরে দেখুন, কে আপন কে পর বুঝতে পারবেন। কেহ আপন হবে না । স্ত্রী, পুত্র, বাবা-মা ভাই-বোন কেহ আপন নয় তোমার সময় এর ব্যবধানে সবাই সার্থপর হয়ে যাবে । সে দিন আল্লাহ ও রাসুল একমাত্র সম্বল থাকবে । বিথা এ জগৎ সংসার, যদি মানুষ না হতে পারো । নেক আমল না করতে পারেন । rakib


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুমি দূরে নও আছো আমার কল্পনায়
→ আমার কল্পনায় তুমি
→ বিয়ের পাত্রী দেখতে গিয়ে এক দ্বীনদার যুবকের ব্যতিক্রমী ৩টি প্রশ্ন অতঃপর যা ঘটলো কল্পনাতীত!!
→ কল্পনা
→ অবাস্তব কল্পনা অার অাফসোস করা দুটিই সময়ের অপচয়
→ কল্পনা আর বাস্তবতা
→ কল্পনার রাজ্য
→ ☺আমার কল্পনা হবে কি তুমি পার্ট 2
→ ☺আমার কল্পনা হবে কি তুমি...!!
→ কল্পনায়
→ সেই তুমি এখন আমার কল্পনা
→ বিয়ে ও পরিকল্পনা
→ কল্পনার রাক্ষসটি
→ কল্পনা-বিলাসিনী
→ কল্পনা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now