বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- আমনেকে আর কয়শত বার বইলতে হবে রাইতের সাড়ে দশটার ফরে লিফট চলা বন্ধ, বাসা ভাড়া লইবার সময় না বইললেও একটা কতা আছিল। নিয়ম মানি চইলতে ফাইরলে আমনে আমার বাড়িতে ভাড়া থাকেন না অইলে আমনের মতন ভাড়াটিয়ার আমার দরকার নাইয়ের।
- চাচা, আপনি বয়সে আমার বাপের সমান দেইখা নরম সুরে আপনার সব অযৌক্তিক কথাবার্তার উত্তর দিই, কিন্তু আপনে ভাইবেন না নরম কইরা কথা বলি দেইখা আমি সরল সিধা পাবলিক। অন্য ভাড়াটিয়ারা আপনের এমন আজগুবি নিয়ম মাথা পাইতা নিলেও আমি এইটা মাইনা চলতে পারুম না, ঢাকা শহরে রাইত শুরুই হয় বারোটার পরে আর আপনে কিনা সাড়ে দশটায় লিফট বন্ধ করার নিয়ম করেন। অফিস শেষে ঢাকার রাস্তাঘাটে জ্যামের লগে যুদ্ধ কইরা সাড়ে দশটার আগে আসা আমার সম্ভব না।
- আমনের সম্ভব না অইলে আই কি কইরতে ফারি, আমনেরে মুখে অখন নোটিশ দিলাম বাসা ছাড়ি দিবার লাই, কাইল বেন বেলায় কাগজের নোটিশ ফাঠাই দিমু।
- নোটিশের তোয়াক্কা করনের ছ্যারা আমি না, দেন গা নোটিশ, কোন নাটকীর পো আমারে খেদাইতে আহে আমি দেইক্ষা লমু নে।
রাতের মাত্র পৌনে এগারোটা, আর সোহেল মিয়া বাসার লিফটের সামনে গিয়ে দেখে যে লিফট বন্ধ, হাতে অফিস থেকে ফেরার পথে কিছু বাজার সদাইয়ের ব্যাগ, আর এই ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নবম তলায় তার ফ্ল্যাটে উঠা তার কাছে রীতিমত এভারেস্টে উঠার সমতুল্য। তাই বাসায় থাকা ছোট ভাইয়ের মোবাইলে ফোন দিয়ে বাড়িওয়ালাকে গিয়ে লিফট অন করার অনুরোধ করতে বলেছিল সে। আগে থেকেই জানত সে নোয়াখালীর এই আজিব চিজ চ্যাঁচ্যাঁম্যাচি করবে। কিন্তু সে বিন্দুমাত্র ভাবতেও পারে নাই যে বাড়ীওয়ালা বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়ে দেবার মতো কথাবার্তা বলবে তার সাথে। পরের দিন ঠিকই লিখিত নোটিশ পেয়ে গেলো এবং যথারীতি সে সেটা তোয়াক্কা করলো না, আর যার ফলাফল এক মাস পর একদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পর সে দেখতে পেলো। বাড়ীওয়ালা পুলিশ ডেকে নিয়ে এসে রীতিমত তাকে বের করে দেবার চেষ্টা করলো। কিন্তু পুলিশের এস,আই সোহেলের পূর্ব পরিচিত ছিল, তাই এস,আই বাড়ীওয়ালাকে ব্যাপারটা মীমাংসা করে ফেলার জন্যে অনুরোধ করলো, কিন্তু তাতেও কাজ হলো না। উল্টো বাড়ীওয়ালা গিয়ে ইন্সপেক্টরকে নালিশ করে বসলো এস,আই কোন ব্যবস্থা না নেওয়াতে। সোহেলকে ইন্সপেক্টর সাহেব থানায় দেখা করার জন্যে খবর পাঠালো তারপর;
- স্লামালাইকুম ওসি সাব, কেমন আছেন?
- কেমন আর থাকা হয় ভাই আমাদের মতো জনগণের সেবকের, এমনিতেই দেশের এতো ঝামেলা ট্যাঁকেল দিতে দিতে জানে পানি নাই তার উপর যদি আপনারা ভাড়াটিয়া আর বাড়ীওয়ালা যদি এমন পিকুলিয়ার ক্যাচাল করেন আবার সেই ক্যাচালের নালিশ বাড়ীওয়ালা বারবার করে যায় তাইলে আপনি বলেন কেমন আর থাকি, মুরুব্বি মানুষ বাড়ীওয়ালা তাই আমি ওনাকে দুই এক কথা সান্ত্বনা দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম, কিন্তু শেষে সে আবার পরোক্ষ ভাবে খোঁচা দিয়ে গেলো আমাকে।
- কি কইতাছেন আপনে স্যার, ঐ করমচোদ কি কইছে?
- আর বইলেন না, আপনেরে যদি নোটিশ মোতাবেক বাড়ি ছাড়া না করি সে নাকি এম,পি সাহেবের পি,এসের কাছে যাবে, ওনার কেমন নাকি ভাইগ্না লাগে। সোহেল মিয়া শুনেন, আমি ওসি আপনাদের এলাকার, আজ আছি কাল নাই, সারা দেশেই আমাদের ঘুরে ঘুরে পোস্টিং হয়, এইগুলা গায়ে মাখি না, তবে আপনি যেহেতু অনেকদিন থেকে এই এলাকায় বাস করেন আর তার উপর সরকারি দলীয় মানুষও বটে তাই বলি যে ক্যাচালটা আপনার পলিটিকাল চ্যানেলে সমাধান করে ফেলেন।
- আচ্ছা স্যার, বুঝছি, অরে কালা ঝিলের পানি হুঙ্গাইয়া শিক্ষা দেওন লাগব বুঝছি আমি। আইজকা যাই স্যার, স্লামালাইকুম।
ওসি সাহেবের সাথে দেখা করে আসার পর সোহেলের মাথা পুরো আগুন গরম, সে কি করবে না করবে কিছু থেকে কিছু ঠিক করে উঠতে পারছে না কারণ পলিটিকাল লাইনে তার সাথে অনেক মন্ত্রী মিনিস্টার সহ প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মানুষের সাথেও পরিচয় আছে। কিন্তু এই ব্যাপার নিয়ে তাদের কাছে গেলে সবাই শুরুতে অট্টহাসি দিয়ে তারপর চেহারাটা একটু কঠিন করে বলবে তাকে;
“মাছি মেরে হাত নোংরা করাতে বলতে আসছিস তুই? তুই ঘাড়ে গর্দানে কয়টা দিয়া ডিসমিস কইরা ফেল আর তাতেও না হইলে সিস্টেম কইরা দিস, তারপর আহিস আমার কাছে, আমার একটা মান ইজ্জত আছে তুই বুঝস না, এই ছোট কামে আমি যদি হাত লাগাই তাইলে কাইলকা জন্ম লইওন্না পোলা আইয়া আমার দিকে তাকাইয়া দাঁত ভেটকাইয়া হাসতে থাকবো”।
সোহেল বেনসন একটা ধরিয়ে এখন শুধু একটা কথাই ভাবছে যে, কি লাভ এতো ক্ষমতাবানের সাথে সম্পর্ক থাকলে যখন প্রয়োজনের সময় তা কোন কাজেই আসে না।
ক্ষমতার হাস্যকর অক্ষমতা
অশ্রু হাসান
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now