বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুজন কিউরেটর মাত্র।মঙ্গলগ্রহ থেকে তাদেরকে বিভিন্ন গ্রহে পাঠানো হয়েছে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী খুজে আনার জন্য।উদ্দেশ্য একটাই এবং তা হল প্রাণীটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট নিয়ে গবেষণা করা।
কিউরেটর দুজন বিভিন্ন গ্রহে অনুসন্ধান করল।কিন্তু নাহ!পেল না মনমত কোন প্রাণী।কী করবে এখন?
অবশেষে পৃথিবীর দিকে রওয়ানা হল।একজন বলে ওঠল সময়ও তো শেষ হয়ে এসেছে প্রায়।
--হ্যাঁ, তাই তো!কী করা যায় এখন?
--এখনই ভাবতে থাকি কোন প্রাণী বাছাই করা যায় তা নিয়ে।
--আরে আমরা তো 'পৃথিবী' নামক গ্রহের কোন প্রাণী সম্পর্কেই জানিনা ভালভাবে।
তাহলে ভাবব কীভাবে?
--হ্যাঁ, তাই তো!তুমি ঠিকই বলেছ।
তো এখন কী করতে পারি?
--আমারও একই প্রশ্ন!!!
অবশেষে পৃথিবীতে গিয়ে পৌঁছাল।কিছুক্ষণ
অনুসন্ধানের পর 'পিপীলিকা' নিয়ে মঙ্গল গ্রহে তাদের নিজস্ব কেন্দ্রীয় Laboratory তে ফিরে গেল।
Laboratory র প্রধান 'পিপীলিকা' দেখেই রেগে গেলেন ক্লান্ত কিউরেটরদের প্রতি।
তিনি বললেন, "একি!আজব তো!!!যেটাকে হাত দিয়ে ভালভাবে ধরা যায় না, সেটা দিয়ে কীভাবে আরামে গবেষণা করব?"
শুরু হয়ে গেল কিউরেটর আর Laboratory প্রধানের মধ্যে বিতর্ক।
কিউরেটররা বলছে, "স্যার,এরা তো খুবই বুদ্ধিমান প্রাণী!"
--কিভাবে?
--এই যে দেখেন না যে, এদের মধ্যে কত
শৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়।
--হুম...বুঝলাম।তারপর?
--এরা তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আগে থেকেই খাবার সংগ্রহ করে রাখে।
একটা সভ্যতাকে কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায়
সে চিন্তাও তারা করে বিধায় তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয় সবক্ষেত্রেই।
--ইহ!তাদের শৃঙ্খলা!আবার সব ক্ষেত্রেই!!!
মানুষকে যখন বিনা কারণে কামড়ায় তখন
এদের শৃঙ্খলা কোথায় থাকে?
(কিউরেটর দুজন লা-জবাব হয়ে গেল)
কি ব্যাপার?(দুষ্টুমি/তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে)
জবাব নেই?হাহা....
কিযে বল না তোমরা!খুব হাসি পায় আমার!!!
আমি বলি মানুষই সবচেয়ে বুদ্ধিমান।
(এবার কিউরেটরদ্বয় মনে মনে খুব মজা পেল।বিনয়ের সহিত বাঁশ দেওয়া যাবে এবার তাহলে স্যারকে।ভালই হল।)
--কিন্তু স্যার,এরা তো ঝগড়াটে!ওরা অন্যায়ভাবে একে অপরকে হত্যা করে, নির্যাতন করে।এরা পৃথিবিটাকে ধ্বংস করে ফেলেছে প্রায়।এদের কারণে পৃথিবীতে
দু দুটো বিশ্বযুদ্ধ ঘটে গেল।ধ্বংস হল অনেক শহর।
--ওওও........আচ্ছা আচ্ছা!!!তোমরা তো
মহাজ্ঞানী!কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলে এতদিন তোমাদের জ্ঞান?
এরা পৃথিবীকে ধ্বংস করে ফেলেছে?শহর
ধ্বংস করেছে এরা?আচ্ছা বলতো দেখি,
শহরগুলো কে তৈরি করেছে?পিপীলিকা?
পৃথিবিটা কি আগে এমন ছিল?নাকি কেউ
রঙ্গিন করে আধুনিকভাবে সাজিয়েছে?কে সাজিয়েছে?পিপীলিকা?
--স্যার, এরা তো এদের নিজেদের সাজানো পৃথিবীকেই ধ্বংস করে ফেলেছে।
--ফেলেছে!নাকি আরও উন্নত করছে?
শুধু এগুলো নিয়েই ভাবলে?অন্য কিছুর জ্ঞান তোমাদের নেই?জেনে রেখ, যে বিষয়ে
গবেষণা করতে চাও সে বিষয়ের উপড় ব্যাপক জ্ঞানের পাশাপাশি অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের মোটামোটি জ্ঞানও থাকা লাগবে।
তবেই গবেষণা পূর্ণতা পাবে।
--জ্বী,স্যার।
--জান(?) মানুষের জন্য আল্লাহ তা'আলা
জান্নাত-জাহান্নাম রেখেছেন!তাই তাদেরকে
পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ভাল-খারাপ কাজ করার ক্ষমতা উভয়টাই দান করেছেন।সাথে
'ইবলিস' নামক শয়তানকেও লাগিয়ে দিয়েছেন তাদের পিছনে।ইবলিশের ধোকায়
পড়ে তারা খারাপ কাজ করে।নতুবা সব দিক দিয়েই তারা পিপীলিকার চেয়ে এগিয়ে।এমনকি যারা খারাপ কাজ করে না
তাদের মধ্যে অনেকে শৃঙ্খলার দিক দিয়েও
পিপীলিকার চেয়ে 'আকাশ-পাতাল' পার্থক্য
পরিমাণ এগিয়ে।
--কিন্তু স্যার, পিপীলিকাকেও তো আল্লাহ
তা'আলা ভাল-খারাপ করার ক্ষমতা দিয়েছেন বলেই তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাঝে মাঝে মানুষকে সহ অনেক প্রাণীকে
কামড়ায়।
--তা ঠিক!তবে ওরা ধোকায় পড়ে কামড়ায় না। লোভে পড়ে কামড়ায়।কারণ ওদের পেছনে আল্লাহ তা'আলা ইবলিশকে লাগিয়ে
দেননি।সুতরাং, লোভে পড়েই ওরা মানুষকে কামড়ায়।
--স্যার, মানুষও তো লোভে পড়েই খারাপ
কাজ করে।
--মানুষের লোভ আর পিপীলিকার লোভের মধ্যে পার্থক্য আছে।মানুষ ইবলিশের ধোকার কারণে লোভে পড়ে।আর পিপীলিকা এমনিতেই লোভে পড়ে।ধর্মীয় বিষয়টা বাদ
দিলেও মানুষই শ্রেষ্ঠ।ভেবে দেখ, কেন শ্রেষ্ঠ?এবার বুঝেছ?
--জ্বী, স্যার।
--যাও, এবার মানুষ নিয়ে আস।
(এবার কিউরেটরদ্বয় আবার 'পৃথিবী' নামক
গ্রহটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now