বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
,
- এই আপু শুনতে পাচ্ছিস? (সিফাত)
.
- হ্যা বল। (উর্মিলা)
,
- ১০০ টাকা দে তো।
,
টাকা কি গাছে ধরে??যে গাছে উঠলাম আর নিয়ে আসলাম।
,
- কালকে তো টিউশনির টাকা পাইলি ঐখান থেকে ১০০ টাকা দিলে কি হয়?
,
টিউশনির টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া দিয়েছি। ড্রয়াররে দেখ ৫০ টাকা আছে নিয়ে যা।
,
- তোর ৫০ টাকা তোর কাছেই রাখ লাগবে না আমার।
,
এই বলে সিফাত তার রুমে গিয়ে দরজা মেরে বসে আছে। প্রচন্ড রাগী সিফাত একবার রাগ করলে সেটা ভাঙানো উর্মিলার অনেক কষ্ট হয় কিন্তু কিছুই করার নাই অবুঝ। উর্মিলার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী উর্মিলা। উর্মিলার উদ্দেশ্য ছোট ভাইটাকে লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করা। সব মানুষই স্বপ্ন দেখে উর্মিলারও স্বপ্ন তার ভাইটাকে পড়ালেখা করিয়ে ভালো একটা চাকরি করা। তবে সব স্বপ্ন কিন্তু মানুষের পূরণ হয়না। আবার অনেক স্বপ্ন পূরণ হয়ে যায়।
,
সিফাত উর্মিলার থেকে ৫ বছরের ছোট তাই সিফাত উর্মিলার অবস্থাটা বুঝে না, যদি বুঝতো তাহলে উর্মিলার সাথে রাগ করতো না। উর্মিলা ১০০ টাকা নিয়ে সিফাতে রুমে গিয়ে দরজায় টুকা দিলো কিন্তু সিফাত দরজা খুলে না। পরিবারে বড় মেয়ে উর্মিলা আর সবকিছু তাকেই ম্যানেজ করতে হয়। যে সংসার চালায় সেই বুঝে সংসার চালানো কত কষ্ট। উর্মিলা সবসময় তার ভাইটাকে নিয়ে চিন্তা করে।
,
এতক্ষণ লাগে দরজা খুললে? (উর্মিলা)
,
ডাকছিস কেন বলো? (সিফাত)
,
এই নে টাকা।
,
আগে দিলে কি হত, এত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে দিলি কেন?
,
তুই বুঝবি না যা মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
,
এইভাবে চলে যাচ্ছে তাদের জীবন।
,
স্বাভাবিকভাবে সব স্কুলের ছুটি ৪ টা নাগাদ হয়ে যায়। কিন্তু একদিন সিফাত স্কুল থেকে আসার কথা বিকাল ৪ টা কিন্তু সন্ধা পেরিয়ে রাত হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এখনো সিফাত আসছে না উর্মিলা সিফাতের সব বন্ধুদের জিজ্ঞেস করলো কেউ বলতে পারে না। স্কুলের স্যারকে জিজ্ঞেস করা হলো স্যারও বলতে পারে না। একটা সময় উর্মিলার ফোনে একটা কল আসে। কল রিসিভ করতেই জিজ্ঞেস করলো আপনি কি উর্মিলা? হ্যা, আপনার ভাইয়ের নাম কি সিফাত? হ্যা কিন্তু কে আপনি? আমি কে সেটা পড়ে জানলেও চলবে আগে আপনি এই মেডিকেল এ আসুন আপনার ভাই রোড এক্সিডেন্ট করেছে।
,
উর্মিলা চিৎকার দিলো কিন্তু কি হবে এই চিৎকারে? কিছুই না। কপালে যা ছিলো তাই হলো। এক নিমিষে সব আশা, স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলে। নিঃস্ব হয়ে গেলো উর্মিলা। আসলে কিছুকিছু স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় কখনো পূরণ হয়না।
,
মেডিকেল এ গিয়ে জানা গেলো সিফাতের দুইটা পা কেটে ফেলতে হবে। টাকা লাগবে হাজার হাজার। সিফাতের এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের কারো জীবনে আসুক সেটা আমরা কেউ চাই না। এই ঘটনা স্কুলের সবাইকে জানানো হয়। স্কুলে সবার কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে, এখান থেকে ওখান থেকে। উর্মিলার মায়ের গয়নাগাটি বিক্রি করে। জমানো টাকা সব মিলিয়ে টাকা মেনেজ করতে ১০ দিন লেগে গেছে। আচ্ছা টাকা তো মেনেজ হয়ে গেলো, সিফাতকেও বাসায় আনা হলো কিন্তু সিফাত কি পড়ালেখা করতে পারবে? তার বোনের তো স্বপ্ন ছিলো পড়ালেখা করে ভালো একটা চাকরি করা কিন্তু সিফাতের তো দুইটা পা নেই পড়ালেখা করবে কিভাবে? পড়ালেখা করা যাবে কিন্তু চাকরি? কে দিবে চাকরি?
,
কিছুকিছু স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় মরে যায় স্বপ্নের মানুষগুলা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now