বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কিছু গল্প, গল্প হয়না

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কিছু গল্প, গল্প হয়না . লেখকঃ অন্যরকম রুপকথা . রাত বাড়িতেছে, বাড়িতেছে আঁধারের ঘন-ঘটা । সাথে সাথে চাঁদ হইতে ঝরিয়া পড়িতেছে জোঁস্না আলো..!! সেই আলোই ঝল-মল করিতেছে চারিই পাশের সব কিছু । রুপালী আলোর ছঁটা পড়ে চিঁক চিঁক করিতেছে মৃদু দোল খাওয়া ঝিঁলের টল-মলে জল কণা..!! উড়ে চলা জোঁনাকি পোকারাও টিপ টিপ করিয়া জ্বালীয়ে যাইতেছে তাঁর নিয়ন আলো…!! শুধু আঁধারে অবকির্ণ হইয়া আছে আমার ধরত্রী । আমার চঞ্চলা মন প্রহৃত হইয়া রহিয়াছে একটি ছোট্ট শিশুর কম্পিত দৃষ্টি আর অসহায় আহুতি অবলোকন করিয়া । কিন্তু এমনটা হেতূ আকাশ কুশুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নহে, বিশেষ করিয়া আমার জন্য..!! এমনটাতো ইতিহাসে বিরল যে, কোন অসহায়ের আত্বচিৎকার সুঁচের মতো বিঁধলো আমার হৃদয়ে…!! আমার কর্ণকূহরে বারংবার এসে নাড়া দেই একটি প্রজার বেদনাত্বক আহাজারী…!! এতোকাল যেটা হইয়া এসেছে.. যে, অসহায় গরীবের চিৎকার আমি শত সহস্রবার এড়িয়ে গিয়াছি নিছঁক প্রহেলিকায়…!! কিন্তু আজ রাজা শিশির খানের এ কী হলো…?? তাঁর রাতের ঘুম কেঁড়ে নিয়াছে মেহেনতী মানুষের রক্ত প্রবাহিত দেহ বিশিষ্ট ছোট্ট বালকের করুণ স্বর ধবনি…!! যা আমি ইতঃপূর্বে বহু সহস্রবার ঠেলে ফেলিয়াছি রাজনের চাল দোখিয়ে প্রাজনের আঁঘাতে….!! আজ প্রত্যুষে যখন প্রভাতী আলো চোখে বিঁধতেই চিকন রেশমি সুতোর ভারী শাল গায়ে জড়ায়ে শিখিনীর রঁথে চেপে, মিষ্টি রোদ্রের স্বাদ আস্বাদন করিতে পূর্ব মাঠের দূর্গ পানে ছুটিতে ছিলাম তখন, নেত্র যুগল চলার পথের পথ চারীর ন্যায় চলিয়া গেল.. এক গরীব প্রজার শির্ণ বাটীর, ছোট্ট উঠানের এক কোঁনে.. গুটি-শুটি মেরে চুপটি করিয়া বসিয়া থাকা একটি বালকের পানে..!! যার সারা শরীর জুড়িয়া রহিয়াছে একমাত্র হাফ হাতা গেন্জি…। তবুও তার মুখে শোভা পাচ্ছে নির্মল হাসি… যা এই কঠিন শৈত্য প্রবাহের আঁচ অর্ক সম তাপে কমিয়ে দিচ্ছিলো কিনা কে জানে…? তা বোঝার আগেই আমার রঁথ পৌছায়ে গেলো পূর্ব মাঠের দূর্গে..!! সারা বেলার আরাম-আয়েস... আর শিতের দিনের পিঠা পায়েশ, ভুলিয়ে দিয়েছিলো সব ….!! বঙ্গদেশের বিখ্যাত ধৃতিষীর হুকো টানিতে টানিতে যখন বাটীতে ফেরার তাড়া লাগাইতে তখন মাঁঝ পথে এসে চোখ আঁটকে গেলো সেই ভাঙ্গা ঘরটার দিকে…!! যেখানে এক খন্ড আগুন জ্বালায়ে মায়ের কোলে বসিয়া আগুনের তাপ অনুভব করিতেছিলো সেই ছেলেটা…..যে, শীতে কাঁপছে…আর প্রলাপ বকছে…!! আগুন থেকে আসা ক্ষিণ তাপ মুহুর্তেই মিলিয়ে যায়তেছিল উপর থেকে ঝরিয়া পড়া নক্তস্নাত তুষারে…!! আর তাইতো মায়ের কোলে বসে অট্ট হাসির অন্তরালে অবুঝ শিশুটি মাকে বোঝাতে চায়ছিলো…. ‘ওগো প্রসুতি আমি বহ্নি তাপে বেশ প্লাহাদনেই রহিয়াছি….!!’ কিন্তু জননী গর্ভে ধরেছে বাছাকে…… বাছা নয় কভূ তার জনণী…!! তাই জননী তাঁর অশ্রু মুছে যায়তেছিলো বাছার হাসির অন্তরালে….!! মাহুতের ডাকে সম্ভিত ফিরে পাইয়া চলিয়া আসিলাম মোর রাজ বাটীতে…!! সদরের চৌকাঠে পা রাখিতেই কোলে আসিয়া ঝাঁপায়ে পড়িলো আমার একমাত্র কন্য…. যার সারা তনু যুড়ে জড়ানো আছে আরবীয় রেশমি কাপড় আর পান্না গীনি সর্ণ….!! তাই দেখে হঠাৎ করেই বুকের ভিতরটা মোঁচড় দিয়ে উঠিলো …!! আমার তনুজাও ঐ ছোট্ট বালকের সমবয়সি হইবে । তাহাকে শিতের এই প্রকম্পন থেকে মহানির্বান পেতে রাখা হইয়ছে রাজ- মহলের মধ্যে সব চায়তে উৎকৃষ্ট আর সু- সজ্জিত ঘরে…!! রাজন কন্যা বলে কথা…!! অথচ অপর দিকে জীর্ন-শির্ণ চালহীন গৃহে দিনাপাতি করিতেছে আমারি গরীব প্রজা….!! যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরাই করিয়া আসা কলুসিত চিত্র এসে প্রদর্শিত হয়তেছে আমার হৃদয় পটে…!! আমার এই খাঁন বংশের পূর্বের সকল শাশকই ছিলেন পানশৌচূ….!! আমি সহ সকলের একদিনের মদের নেশায় ব্যায় হওয়া টাকাতে গোটা পঞ্চাশটা পরিবারের একদিন সাচ্ছন্দে কেঁটে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নহে…!! তবে আমার পূর্ব পুরুষ গন পারমার্থিক কাজ করিতে চাহিতেননা, ইহাতে করিয়া নাকি রাজ বংশ ধংশ হয়…!! তারা বলিতেন বিদলিত মানুষগুলির দিকে কখনো সহানুভুতির নজর দিওনা…দাও ঢ়ুড়তা, যে রাজন যত বেশি ঢ়ুড়তা প্রদর্শন করিতে পারিবে তাঁর রাজকোষ ততবেশি সমৃদ্ধ হইবে…!! তাঁর পরবর্তি রাজ পুরুষগণ ততবেশি সমীহ আদায় করিতে সক্ষম হইবে….।যদিও মহিয়সিদের পান্ডুলিত রাজধর্ম বলে তার উল্টোটা…..!! কিন্তু আমার পূর্ব পুরুষরা তা মেনে চলতেন না…!! তারা সবাই হইলো একগুইঁয়ে…..!! আমার শরীরেও বহিয়া চলিতেছে সেই রক্ত…. তাই মেহেনতী মানুষ গুলো খুব খাতির করিলেও রাজনের সুদৃষ্টি কায়েম করতে তারা ব্যার্থতার সাকাঙ্খ পুরুষ্কারে ভূষিত হইয়াছে বহুবার…!! তবুও তাঁরা সব্রিড়তার খোলস মুক্ত হইয়া অবিচলিত ভাবে চির কাঙ্খিত একটু খানি সুদৃষ্টি কায়েম করতে যেন প্রতিজ্ঞা বদ্ধ…!! আজ কেন জানি মনে হচ্ছে তারা সফল…. তারা পাইতে চলিতেছে নন্দিানকাবর্ত বিশেষ রাজেন্দ্রর ভালোবাসা….!! কারণ আজকে আমার মনে হচ্ছে এই রাজা রাজত্ব সবিই হবে বৃথা…!! যদি না পাই প্রজাদের তৃপ্ত ভালোবাসা…। কারন আমিতো পুত্রহীন…আমার বংশের আলো হয়তো এখানেই নিভিয়া যাইবে….!! হয়তো আমাকে দিয়েই সত্যি কারের রাজার রাজা, রাজাধীরাজ স্রষ্টা শেষ বারের মতো প্রজ্বলন করিয়াছেন এই খাঁন বংশের প্রদিপ…!! তাহলে হয়তো ইতিহাসের পাতা অচিরেই ধরিয়া রাখিবে আমার বংশের কির্তি….!! যেখানে পূরোটা জুড়ে পুরিত আছে নিপিড়িত মানুষের আত্বচিৎকার আর রাজনের নাঁচ গৃহের নর্তকীর পায়েলের ঝঙ্কারে…!! তাহলে ইতিহাস পড়ে মানুষ আমাদের নসাৎ দেহে ঘ্রিনা ছুড়ে মারবে…!! নাহ্ আর নয় এই মিথ্যা রাজলীলা…!! এখন থেকে চলবে শুধু ভালোবাসা আদায়ের সাকাঙ্কিত প্রচেষ্টা… যেটা দু’টি হৃদয়ের সুপ্ত প্রাচিরের মাঝে আঁটকে আছে… তবে সেটা আর থাকবে না…. সেখানে স্ফুটিত হবে রাজন আর মেহেনতী মানুষের হৃদয়াঙ্গম আর আঁকাশ আর জমিনের ভালোবাসার আলিঙ্গন…!! . Written by: (মূকুট বীহিন রাজকূমার) ………..শিশির ছোঁয়া……….


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কিছু গল্প, গল্প হয়না

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now