বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রায় দশ মাস অাগের কথা। একদিন এক ছোট ভাইয়ের সাথে চ্যাট করছিলাম। কথায় কথায় হঠাৎ সে বললো, ভাইয়া। অামার গার্লফ্রেন্ড কে দেখবেন?
অামি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তোর গার্লফ্রেন্ড অাছে!? তুই প্রেম করিস?
সে বললো, হ্যাঁ ভাইয়া অনেক অাগে থেকে।
অামি বলি, কতোদিন ধরে সম্পর্ক?
সে বলে, এক বছর হবে।
অামি বলি, তাই নাকি? ওকে, দে ছবি তোর গার্লফ্রেন্ডের।
তখন সে তার, অার তার গার্লফ্রেন্ডের একি সাথে তোলা দুইটা ছবি দেয়। অার অামি দুইজনকে এক সাথে দেখে নিশ্চুপ হয়ে যাই ।
----
----
ছোট ভাইটা অামার চেয়ে চার বছরের ছোট। অার তার গার্লফ্রেন্ড অাছে, অার অামি বড় হয়েও এখনো একা। এটা ভেবে মনটা খারাপ ছিলো। ঠিক তখনি একটা মেয়ে এস এম এস করলো অামায়।
----
----
:- কেমন অাছেন? ( মেয়েটা)
= ভালো না, অাপনি কেমন অাছেন? ( অামি)
:- জি অামি ভালো অাছি। অাপনি ভালো নাই কেন?
কি হয়েছে অাপনার?
= অাসলে অামি ভালো, তবে মনটা ভালো নাই।
:- মন ভালো নাই কেন?
কি হয়েছে?
= অারে, অার বলিয়েন না। অামার ছোট ছোট ভাইদের গার্লফ্রেন্ড অাছে। অার অামি তাদের বড় হয়ে এখনো সিঙ্গেল, এটা কি মেনে নেওয়া যায়, বলেন?
:- হা হা হা, অাপনার ছোট ভাইদের গার্লফ্রেন্ড অাছে বলে মন খারাপ, নাকি অাপনার গার্লফ্রেন্ড নাই বলে মন খারাপ, কোনটা?
= দুইটাই কারন।
:- অাচ্ছা। তা, অামি অাপনার জন্য কিছু করতে পারি?
= অাপনি অামার জন্য কি করতে পারবেন? অাচ্ছা একটা গার্লফ্রেন্ড খুঁজে দেন।
:- বাহ রে....
অামি গার্লফ্রেন্ড পাবো কোথায় অাপনার জন্য? অামি পারবো না গার্লফ্রেন্ড খুঁজে দিতে। তবে একটা কাজ করতে পারি।
= কি কাজ?
:- অামি কিছুদিনের জন্য অাপনার গার্লফ্রেন্ড হতে পারি। তবে রিয়েল গারলফ্ন্ড না,শুধু অাপনার মন ভালো রাখার জন কিছুদিনের গালফেন্ড, যখন অাপনি অাবার
রিয়েল গালফেন্ড পেয়ে যাবেন, তখন অামাকে ভুলে যাবেন তখনই সম্পর্ক টা ভেঙে দিতে হবে।
= হা হা হা, মজা পেলাম অাপনার কথা শুনে।
:- দেখেন অামি কিন্তু একদম ফাজলামি করছি না, অামি সিরিয়াস ভাবে বলছি।
= অাপনি কি সত্যি অামার গার্লফ্রেন্ড হবেন?
:- জ্বী সত্যি, তবে কিছুদিনের জন্য। যদি রাজি থাকেন তাহলে গার্লফ্রেন্ড হবো।
= ওকে অাপনি যেমন চান তেমনি হবে।
:- তাহলে অাজ থেকে অামি অাপনার গার্লফ্রেন্ড
= অার অামি অাপনার বয়ফ্রেন্ড।
------
------
এইদিনের পর থেকে তার আর অামার মাঝে একটা সম্পর্ক হয়,। যদিও সম্পর্ক টা দুষ্টামী করে করা ছিলো।
কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর অামাদের সম্পর্কটা রিয়েলের মতো হয়ে যায় । সত্যিকারের গার্লফ্রেড বয়ফ্রেন্ড এর সম্পর্ক যেমন হয়, ঠিক তেমনি অামাদের সম্পর্ক টা হয়ে যায়।
সারাদিন দুইজনে চ্যাট করতাম, দুইজন দুইজনের কাছে সব কিছু শেয়ার করতাম।
-----
-----
প্রথম কয়দিন তার সাথে কথা বলতে অনেক ভালো লাগছিলো। পরে ধীরে ধীরে তার সম্পর্কে সে যখন বলতে লাগলো, তখন থেকে তার সাথে অাগের মতো কথা বলতে ভালো লাগতো না।
তার কারন যখনি কথা বলতাম সে উল্টা পাল্টা কথা বলতো।
সে বলতো, সে নাকি বেশিদিন বাঁচবে না। তার অনেক বড় একটা রোগ অাছে।
[ কি রোগ সেটা কখনো বলে না অামায়, অামি অনেক বার জিজ্ঞেস করছি তার পরেও বলে নাই ]
সে বলতো, তার হাতে অার মাত্র কয়েক মাস বাকি, তারপর সে চলে যাবে না ফেরার দেশে। অারো বললো তার রোগের কারনে তার স্বামী তাকে ডিভোর্স দিছে।
সে এখন একা থাকে তার বাপের বাড়ি। তার রোগের কারনে তার বন্ধু বান্ধব তেমন নাই। বাসায় সব সময়
বসে থাকতে তার ভালো লাগতো না। এই জন্য অামার সাথে কিছুদিনের সম্পর্ক করেছে। যে কদিন বেঁচে অাছে হাসি মুখে পার করার জন্য। শুধু এই না।
অারো অনেক কথা বলতো সে।
-----
-----
যখনি সে এসব কথা বলতো অামি রেগে যেতাম বলতাম এসব কথা বললে অামি অার তোমার সাথে কথাই বলবো না। অামার এসব কথা ভালো লাগে না, সব কিছু নিয়ে দুষ্টুমী ভালো লাগে না। তার কোন কথাই অামি বিশ্বাস করতাম না, অামি ভাবতাম সে মিথ্যে বলছে, দুষ্টুৃমী করছে অামার সাথে ।
-----
-----
অামি যখন রেগে যেতাম, সে তখন বলতো, এখন অামার কথা বিশ্বাস করোনা, তবে যখন অামি থাকবো না তখন বুঝবে।
কখনো যদি দেখো অামার অাইডি ডিএকটিভ ,অার মোবাইল নাম্বারে কল দিয়ে
যদি দেখো বন্ধ, তাহলে মনে করবে অামি অার বেঁচে নেই পৃথিবীতে। অামি চলে গেলাম না ফেরার দেশে।
তখনও অামি তার কোন কথা বিশ্বাস করতাম না।
অামি অামার মতো থাকতাম, মনে করতাম ফাজলামি করছে।
-----
-----
তার সাথে অামার সম্পর্ক ছিলো তিন মাসের মতো। এর পর সে একদিন রাতে চ্যাট করার সময় বললো। অামার অবস্থা বেশি ভালো না। হয়তো মরে যাবো কিছুদিনের মধ্যে,।অাজকে অার চ্যাট করতে পারবো না। শরীরটা ভালো না । এইটাই তার শেষ এস এম এস ছিলো।
এরপর সে অফলাইনে চলে যায়। অামি পরে তার এস এম এসের রিপ্লে দেই। ওইদিন অার অনলাইনে অাসেনি সে। এর পরেরদিনও অাসেনি। পরে অামি তার নাম্বারে কল দেই। দেখি তার মোবাইল বন্ধ । এর পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি তার অাইডি ডিটকডিভ করা। তখন অাবার কয়েকবার কল দেই দেখি বন্ধ তার মোবাইল ।
এর পরও মাঝে মাঝে কল দিতাম, সব সময় তার মোবাইল বন্ধ।
এখন প্রায় ছয় মাস হয়ে গেলো তার কোন খোঁজ পাইনি অার। তার অাইডি কখনো একডিভ হয়নি, নাম্বার টা খোলা পাইনি,।
-----
-----
এখন অামার মনে হাজার প্রশ্ন জাগে, সে অামাকে বলছিলো তার নাকি বড় কোনো রোগ, তার হাতে বেশি দিন না। কিছুদিন পরে সে না ফেরার দেশে চলে যাবে, অারো অনেক কথা। এখন অামার প্রশ্ন, সেকি তাহলে সব সত্যি বলছিলো,!?
সত্যি কি তার বড় ধরনের কোনো রোগ ছিলো?
-----
-----
সবচেয়ে খারাপ লাগে এই জন্য, সে সব সময় অামায় বলতো তার সাথে একবার দেখা করতে।
অামি বিদেশ থাকতাম। সে বার বার বলতো অামায় দেশে অাসতে। অামাকে একবার সে সরাসরি দেখতে চায়, মরার অাগে একবার অামায় সামনে চায়। এটা নাকি তার শেষ ইচ্ছে।
অার এখন অামি দেশে অাছি।
এখন দেশেই থাকি, কিন্তু তার ইচ্ছেটা পূরন করতে পারলাম না। হয়তো অনেক লেট করে ফেলছি।
-----
-----
বিঃ দ্রঃ গল্প টা বাস্তব ঘটনা নিয়ে লেখা। অার অাজ অামি জানি না সে কোথায় অাছে, কেমন অাছে.....
সে বেঁচে অাছে কি না।
writer: Mohammad Javed
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now