বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রথম বার রিং হওয়ার পরেই রুহী ফোন
টা রিসিভ করল । আমি একটু অবাক না
হয়ে পারলাম না । ঘড়ির দিকে
তাকিয়ে দেখি রাত তিনটার
কাছাকাছি বাজে ! এতো রাতে রুহী
জেগে আছে ?
কেন ?
আমার যেমন ঘুম আসছে না সেই রকম
ভাবে কি ওরও ঘুম আসছে না ?
নাহ !!
জেগে থাকতেই পারে ! এমনি তে সে
ঢাকার মেয়ে ! ঘুমাতে ঘুমাতে একটু
তো দেরী হতেই পারে !
রুহীর কন্ঠস্বর শুনে বাস্তবে ফিরে
এলাম । রুহী বলল
-এতো রাতে ?
-সরি ! তোমাকে ডিস্টার্ব করলাম !
-না ঠিক আছে ! আমার এমনিতেও ঘুম
আসছিল না । জেগেই ছিলাম ।
ঘুম আসছিল না ?
রুহী কি কোন ব্যাপার নিয়ে
চিন্তিত ?
কোন ব্যাপার নিয়ে অস্থির হয়ে
আছে ?
আমার ব্যাপার নিয়ে ?
নাহ !!
অপু মিয়া বেশি বেশি কল্পনা করতেছ!!
আউল ফাউল গল্প লিখে লিখে তোমার
মাথায় কেবল এই গুলাই ঘুরতেছে ।
এতোই সহজ !
একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হল আর
তারপরই সে তোমার প্রেমে পড়ে
গেল ! মেয়েরা এতো বোকা হয়
নাকি ??
মেয়েরা বোকা না হোক কিন্তু আমি
তো বোকা !
আমি ঐ মেয়ের প্রেমে পরেছি । এবং
ভাল ভাবেই পরেছি !
বলতে গেলে হাবুডুবু খাচ্ছি !!
রুহী আবার বলল
-কিছু বলবা ?
-আসলে ? আমি....
রুহী হেসে ফেলল । বলল
-প্যাচাচ্ছ কেন ? বল ।
আমি খুব বড় করে দম নিলাম । তারপর এক
নিঃশ্বাসে বললাম
-রুহী আমি তোমাকে ভালবেশে
ফেলেছি !
লাইনটা বলতে মনে হয় আমার তিন
সেকেন্ডেরও কম সময় লেগেছে । রুহী
ঠিক মত বুঝতে পেরেছে কি না আমি
জানি না ! আমি নিজের কানেই আমি
ঠিক মত শুনতে পাইনি আর রুহীতো শুনতে
পাবার কথাই না ।
বলে ফেলেই মনে হল কি করলাম !
কি দরকার ছিল !
ভালই ছিল কথা হচ্ছিল ! দেখা হচ্ছিল
এখন ?
আমি আর একটুও দেরি করলাম না । ফোন
কেটে দিলাম সঙ্গে সঙ্গে ! তারপর
বন্ধ !
আর কোন কথা নাই । নিজের গালে
একটা জুতা মারতে ইচ্ছে করছে !
রুহী কি না কি ভাববে ! এমন করে কেউ
কাউকে প্রপোজ করে ! তাও আবার
রুহীকে ! রুহী হাসনাত !
নাম করা একজন মডেল !
ঐ মেয়ে কোন দিন আমাকে
ভালবাসবে !
কোনদিন না !!
যাও এতো দিন আমার সাথে টুকটাক
কথা বলতো এখন তো আর বলবে না !
আমার সাথে হয়তো আর ডেখাই করবে
না । আমার নাম্বর থেকে ফোন গেলে
ফোন ধরবে না অথবা নাম্বারটাই
বদলে ফেলবে ! ফেসবুক থেকে হয়তো
আমাকে ডিলিট করে দিবে !
ফেসবুক !!
এই ফেসবুক থেকেই রুহী হাসনাতের
সাথে আমার পরিচয় ! বলতে গেলে
খানিকটা হঠাৎ করেই ।
আমার ফেসবুকে ফ্রেন্ডের সংখ্যা খুবই
কম । অপরিচিত কাউকেই আমি
ফ্রেন্ডলিষ্টে যোগ করি না কিন্তু
ফ্যান পেইজ মাহশাল্লাহ লাইক
দেওয়া আছে হাজার খানেকের উপর ।
প্রতিদিন কোন যে আপডেট আছে ! এই
রকম একটা পেজ থেকে রুহীকে প্রথম
দেখতে পাই । পেজটা সম্ভবত কোন
মিডিয়া ফটোগ্রাফারের ছিল । রুহীর
একটা ছবি দেখলাম ! সাদা রংয়ের
সেলোয়ার কামিজ পরা । আসলে
আমার সব সময় সাদার প্রতি আমার সব
সময় আলাদা আকটা আকর্ষন আছে !
তারপর মেয়েটা ছবির নিচে যখন
লিংক দেখলাম একটু কৌতুহল হল
মেয়েটার উপর । লিংক ক্লিক করেই
দেখলাম রুহীর ফেবু প্রোফাইল ।
বেশ সিকিউর দেখলাম । কোন তথ্যই
নেই পাবলিকের জন্য । বেরিয়েই আসব
ঠিক তখনই আমার চোখে আর একটা
জিনিস বাধলো !
টুডে ইস হার বার্থডে !
আজ মেয়েটার জন্ম দিন !
মেসেজ অপশন ওপেন করা আছে !
কিছুক্ষন ভাবলাম চুপচাপ !
পাঠাবো একটা মাসেজ ?
না থাক কি ভাববে ?
আরে কি ভাববে ! জন্মদিন ! যে কেউ
উইস করতেই পারে ! এতে দোষের কি
আছে ?
তা অবশ্য ঠিকই আছে ! কিন্তু কি লিখে
পাঠাবো ?
কেবল জন্মদিনের লাইন টা ?
আমি লিখলাম
এক টুকরো আকাশ ছিল
সাথে এক টুকরো নীল
লাল সবুজের মেলা ছিল
কোমল শুভ্র ঝিল !
সেই ঝিলেতে ভাসিয়ে দিলাম
মনের যত ঋণ
শুনতে কি পাও বলছি তোমায়
শুভ জন্মদিন !!
মন মত হয়েছে লাইনটা ! সেন্ড অপশনে
চাপ দিয়েই দিলাম ।
আমি ভেবেছিলাম কাহিনী
এখানেই শেষ ! ঢাকার মেয়ে ! তার
উপর আবার মডেল এই মেয়ের তো
হাজার খানেক ফেবুতে হাজার
খানেক ফ্রেন্ড থাকবে ! আমার
মেসেজ হয়তো চোকখেই পড়বে না ! আর
পরলেও খুব একটা গুরুত্ব দিবে বলে মনে
হয় না !
কিন্তু আমার ধারনা একটু ভুল প্রমানিত
হল। সকাল বেলা আবার যখন ফেবুতে
লগইন করলাম তখন ইনবক্সে একটা মেসেস
দেখলাম । এবং অবাক হবার বিষয়
মেসেজা টা পাঠিয়েছে রুহী !
আমি সত্যি একটু অবাক হলাম !
মেসেজে লেখা
আপনার কবিতা ভাল লেগেছে । আরো
ভাল লেগেছে কবিতা আমার জন্য
লেখা দেখে ! ধন্যবাদ !
এতো সুন্দর রিপ্লাই দেখে আমারও
ইচ্ছে হল আমিও একটু মেসেজ পাঠাই ।
লিখলাম
সুন্দর মানুষ কে সব সময় সুন্দর করেই বলতে
হয় ! ওয়েলকাম !
আমি আমি ভেবেছিলাম এই
মেসেজটারও রিপ্লাই আসবে । আসলে
মেয়েটা যেভাবে মেসেজের
রিপ্লাই দিয়েছে আর আমি যেভাবে
রিপ্লাই দিলাম তাতে আর একটা
মেসেজ আমি আশা করতেই পারি ।
কিন্তু এতো জলদি আসবে ঠিক ভাবতে
পারি নি ! প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই
মেসেজ এসে হাজির ।
আমি সুন্দর না ছাই ! আচ্ছা আপনি কি
আমাকে চিনেন ?
আমি লিখলাম
ঠিক চিনি না ! তবে আপনার বেশ কিছু
চমৎকার চমৎকার ছবি দেখেছি ! আপনি
মনে হয় প্রিন্ট মডেল !
রুহী রিপ্লে দিল
হুম ! কিছু শাড়ি আর কামিজের মডেল
হয়েছি !
আমি লিখলাম
সুন্দর ! আসলেই সুন্দর !
.........
......
এভাবেই শুরু ! তারপর ফেবুতে
রিকোয়েষ্ট পাঠানো ! চ্যাটিং
তারপর ফোনে আলাপন । সবার শেষে
দেখা !
মজার ব্যপার হল রুহীর বাসা
মুহাম্মদপুরেই ! মুহাম্মাদ পুরের
লালমাটিয়াতে ! একদম আমার বাড়ির
কাছেই !
প্রথম আমাদের দেখা হল ।একদম হঠাৎ
করেই । ক্লাস ছিল । বাসস্ট্যান্ডে
দাড়িয়েছি বাসের জন্য ! হঠাৎ পেছন
ঠেকে আমার কাধে কারো হাতের
ছোয়া পেলাম । পেছন ফিরে দেখি
রুহী দাড়িয়ে !
আমি প্রথমে ঠিক মত চিনতে পারি
নি ! আসলে যখন মডেলিংয়ের ছবি
তোলে তখন তো হাজারও রকমের
মেকআপ দেওয়া থাকে তাই আসল
চেহারা খুব একটা ফুটে ওঠে না ।
কিন্তু বাস্তবের জীবনে তো আর
সেরকম হবে না । রুহী মনে হয় আমার
মনের কথাটাই বুঝে ফেলল । বলল
-কি চিনতে কষ্ট হচ্ছে ? পিসি
স্ক্রীনে দেখা চেহারার মত সুন্দর
লাগছে না, তাই না ?
আমি লজ্জা পেয়ে একটু হাসলাম ।
-আরে না । কি যে বল ? তুমি এমনিতেই
সুন্দর ! তোমাকে এভাবে এখানে আশা
করি নি । তাই একটু অবাক লাগছে !
-কেন ? আমি তো এখান থেকেই বাসে
উঠি প্রতিদিন ।
আমি অবাক হয়ে বললাম
-তুমি বাসে চলাচল কর ?
আমার থেকেও রুহী বেশি অবাক হয়ে
বলল
-কেন ? বাসে ছাড়া আর কিসে চলাচল
করবো ! প্রতিদিন যদি রিক্সা বা
সিএনজি তে করে ভার্সিটিতে
যেতে হয় তাহলে তো আমার খবরই হয়ে
যাবে !
-খবর ?
-না না ! আমার খবর না আমর বাবার
পকেটের খবর হয়ে যাবে ! হাহাহাহা !
আমি সত্যি একটু অবাক হলাম ।
মেয়েটাকে প্রথম যেরকম
ভেবেছিলাম মেয়েটা একদমই সে রকম
না ! একদম আমাদের মতই !
এভাবে প্রায়ই দেখা হত । কথা হত !
একদিন আমাকে ওকে স্টুডিও তে
নিয়ে গেল । কোন একটা সেলোয়ার
কামিজের মডেলিং ছিল মনে হয় ।ও
বিভিন্ন পোজে ছবি তুলছিল ! আমার
দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছিল !
আমিতো কেবল ওর দিকেই তাকিয়ে
ছিলাম ।
আমি যে ওর প্রেমে পরেছি অনেক
আগেই বুঝতে পারছিলমা । কিন্তু
গতকাল ব্যাপারটা আমার কাছে
আরো স্পষ্ট করে ধরা পড়লো ! গতকাল
আমাদের একসাথে রবীন্দ্রসরবরে
যাবার কথা ছিল । কি একটা প্রোগ্রাম
নাকি হবে । আমাকে বলেছিল
পাঞ্জাবী পরে আসতে !
তাহলে নিশ্চই ও শাড়ি পরে আসবে !
শাড়িতে ওকে এর আগে ছবিতে
দেখেছি । বাস্তবে দেখি নি !
আজকে দেখবো ! আমাকে বলেছিল
বাস স্টেন্ডেই দাড়াতে । আমি ওর
জন্যওয়েট করছিলাম । ঠিক সময়ে ও এসে
হাজির !
শাড়িতে !
ও মাই গড !!
মেয়েদের খুব বেশি সাজাগোজা
আমি পছন্দ করি না । কিন্তু আমি
রুহীকে দেখে বলতে গেলে একদম মুগদ্ধ
হয়ে গেলাম।
রুহী হালকা খয়েরী রংয়ের কাজকরা
করা একটা শাড়ি পরেছে !
হাত ভর্তি লাল কাঁচের চুড়ি ! সাথে
হাত মেহেদি ! বেশ গাঢ় করেই
মেহেদি দেওয়া !
কপালে লাল টিপ আর ঠোটে হালকা
লাল লিপস্টিক ! আর চোখে হালকা
করে কাজল দেওয়া ! চোখের পাতার
উপর আবার কালার করা ! একে কি বলে
কে জানে ?
চুল সম্পুর্ন ভাবে বাঁঁধে নি । কিছুটা
বাঁধা আবার কিছুটা ছাড়া ! চুলে দুটো
রক্তজবা গোজা !
আমি অনুভব করলাম আমার বুকের ভিতর
একটা তোলপাড় শুরু হয়েছে । রুহী আমার
কাছে এসে বলল
-কি ?
-কিছু না ।
ওর সাথে যখন রিক্সায় উঠলাম মনে
হচ্ছিল যেন আমি সব থেকে সুখি একজন
মানুষ ! চারিপাশে লোকজন কেমন করে
যেন তাকাচ্ছিল আমাদের দিকে ।
এতো দিন কেবল আমি দেখে গেছি
এমন করে আজ মানুষ আমাকে দেখছে !
আর মনে মনে ঈর্ষার জ্বলছে । এর থেকে
আন্দের আর কি হতে পারে ?
কোথায় কি প্রোগ্রাম হচ্ছিল আমার
কিছু খেয়াল ছিল না । আমি কেবল
রুহীকেই দেখছিলাম । অন্য কিছু আমার
চোখেই পরছিল না ।
আর বাসায় আসার পর থেকে শান্তি
পাচ্ছিলাম না কিছুতেই । ঘুমও আসছিল
না । তাই বলেই দিলাম । লাইনটা বলেই
ফোন বন্ধ ! প্রথম প্রথম একটু বুক ধড়ফড়
করলেও এখন অবশ্য শান্তিই লাগতেছে !
যাক !! বলে ফেলেছি ভাল করেছি !
কিন্তু ও যদি না করে দেয় ?
তাহলে ?
এইটা তো একটু চিন্তার বিষয় !!
সকাল বেলাতেও ফোন বন্ধই রাখলাম ।
ভার্সিতে যারার কথা ছিল তাও
গেলাম না । এমন কি একটা বার
পিসিও অন করলাম না ! রুহী কি
মেসেজ পাঠিয়েছে কে জানে !!
বিকেল বেলা একটু বের হতে হল ।
বাসায় কিছু খাওয়ার ছিল না । নিচে
গিয়ে নাস্তা খেতে হবে । আমি গেট
দিয়ে বের হব ঠিক এই সময় আমার মনে হল
আমি একটু ভুল দেখছি । কারন রিক্সা
করে দেখলাম রুহী আসছে ! মুখটা একটু
গম্ভীর !
আমি মনে মনে বললাম এটা হতে পারে
না । রুহী আমার বাড়ির ঠিকানা কই
পাবে ? আমি ঠিক করে তো কোন দিন
বলি নাই । নিশ্চই অন্য কেউ হবে ! কিন্তু
আমার ভুল ভাঙ্গলো যখন রিক্সাটা
আমার সামনে এসেই থামলো !
থামতেই পরে !
কিন্তু রিক্সার আরহী যখন বলল
-রিক্সায় উঠে বস !
তখন আর বুঝতে বাকী রইলো না যে
রুহীই !
আমি একটু অবাক হয়ে রুহীর দিকে
তাকিয়ে ! ভাবছি এই মেয়ে আমার
বাড়ি চিনল কিভাবে ?
আশ্চার্য বিষয় !!
-কি হল ? কথা কানে যায় না ? রিক্সায়
উঠতে বললাম না ?
আমি আরো অবাক হলাম রুহীর কন্ঠস্বর
শুনে ?
এই আমাকে ধমক দেয় ক্যান ?
রুহীর সাথে আমার পরিচয় প্রায় চার
মাসে মত । কোন দিন একটু জোরেও
কথা বলে নি ! আর আজকে কি হল ?
তখনই আমার কাল রাতের কথা মনে হল !
অপু মিয়া তুমি ফান্দে পরছো !
এতো দিন সে তোমার বন্ধু ছিল তাই
কন্ঠস্বর ছিল এক রকম ! আর কালকে তুমি
যেই কামডা করছো কন্ঠস্বর কি আগের
মত থাকে ??
না মামা না !!
আমি আর একবার ধকম খাওয়ার আগেই
রিক্সায় উঠে বসলাম । রিক্সা য়ালা
কে মনে হয় আগে থেকেই বলা ছিল
রিক্সায়ালা রিক্সা ঘুড়িয়ে
চালাতে শুরু করলো !
কিন্তু মনের ভিতর একটা প্রশ্ন রয়েই
গেল !
রুহী আমার বাড়ি চিনলো কিভাবে ?
আমি রুহীকে বললাম
-তুমি আমার বাড়ি চিনলে কিাভবে ?
কিন্তু রুহী আমার কথার জবাব না
দিয়ে বলল
-কালকে রাতে ফোনে তুমি কি বলল?
আমি আরো অবাক হলাম ! এই মেয়ে
এতো জোর গলায় কথা বলা শিখলো
কিভাবে ?
আমি খানিনটা নিচু স্বরে বললাম
-আর কোন দিন বলব না !
-আর তারপর ফোন বন্ধ কেন ?
আমি আবার বললাম
-আর কোন দিন ফোন বন্ধ করবো না ।
-ফেসবুকে কতগুলো মেসেজ পাঠাইছি
তোমাকে ?
-বিশ্বাস কর আমি আর কোন দিন ফেসবুক
খুলবো না !
-আরে ধুর ! কাল রাতে কি বললা আবার
বল !
-আমি.....।
-বল !
আমি আবার একটু দম লিলাম ।
এবার রুহী একটু ধমক দিয়েই বলল
-বল
আমি আবার কালকের মত মুখস্ত বলার মত
করে করে বললাম
-আমি তোমাকে ভালবাসি !
রুহী আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-কালকে এটা বলেছিলে ? ঠিক আছে
এটাতেও চলবে ! এখন আমাকে বল
কালকের সাজ গোজ দেখে আমার
প্রেমে পড়েছ নাকি ....
-না বিশ্বাস কর আমি অনেক আগে
থেকেই.....
-তাহলে এতো দেরি করলে কেন
বলতে ? আর এমন ভাবে বললে যেন মুখস্ত
বলতেছে ! এ ফর অ্যাপেল বি ফো বল !
একটা মেয়েকে প্রোপজ করতেছ একটু
সুন্দর করে করতে হয় ! তার উপর আবার
মোবাইল বন্ধ ! এমন মেজাজ গরম হচ্ছিল
না তোমার উপর !!
আমি চুপ করে রইলাম ! রুহী আবার বলল
-শোন এখন আমরা লেকপাড়ে যাচ্ছি !
ওখানে আমার একটা খুব পছন্দের
জায়গা আছে । সেখানে গিয়ে তুমি
আমাকে খুব সুন্দর করে প্রোপজ করবা !
মনে থাকবে ?
-হুম !
-হুম ! কি ?
-থাকবে !
রুহী একটু হাসলো ! সুন্দর করেই হাসলো !
বলল
-যদি সুন্দর করে প্রোপজ না করতে
পারো দেখো সারা জীবন তোমার
কপালে দুঃখ আছে ! আর কিছু বলার
আছে ?
-হুম !
-কি ?
-তুমি আমার বাসার ঠিকানা
কিভাবে পেলে ?
রুহী কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে
থেকে হেসে ফেলল । বলল
-আমি তোমাকে এতোক্ষন কি বললাম
সেটা নিয়ে তোমার টেনশন নাই !
তোমার বাড়ির ঠিকানা কিভাবে
পেলাম সেটা নিয়ে তুমি চিন্তিত ।
আরো একটু হেসে বলল
-পন্ডিট কোথাকার ! নিজের ফেসবুক
ইনফোতে যে নিজের ফ্লাট নাম্বার
পর্যন্ত দেওয়া আছে সে খেয়াল আছে
আরে তাই তো !!
আমার তো মনেই ছিল না ।
রুহীর কথা শুনে আমি একটু হাসলাম ।
ঠিক তখনই আমার মনে হল আমরা লেকের
খুব কাছে চলে এসছি ! এখনই আমাকে
আবার প্রোপজ করতে হবে ! তাও আবার
সুন্দর করে !!
কিভাবে ???
কাল ফোনেই বলতে গিয়েই আমার
অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল ! আজ
সামনা সামনি কিভাবে বলবো ??
কিভাবে বলবো ভালবাসি ! কেউ
আমারে বাঁচায় না ক্যারে !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now