বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হরিদাস বাবু একবার সবার দিকে চোখ বুলিয়ে নিলেন।এরা কেউই তার পরিচিত না। এরকম ছোট্ট শহরে এতগুলো অচেনা মানুষ!
হরিদাস বাবু মুখ ঘুরিয়ে খাটিয়ার দিকে তাকালো।একটা যুবতি মেয়ের মুখ দেখা যাচ্ছে।শরীরটা মোটা কম্বল দিয়ে ঢাকা।শ্বশানের ঘাটবাবুর মায়া দয়া বলতে কিছু থাকেনা। মরা দেখতে দেখতে চোখ পচে গেছে।তবুও সে জিজ্ঞাসা করলো, কি হয়েছিলো?
কলেরা' হঠাৎ মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই! আহ!লোকটা খুব দুঃখের ভাব দেখিয়ে ফু'পিয়ে উঠলো।
দশটাকার নোটটা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন তারাতারি কাজ শুরু করেন বৃষ্টি বেড়ে যাচ্ছে।
আচ্ছা দেখি ডাক্তারের সার্টিফিকেটটা দেন।বলে লোকটার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো হরিদাস বাবু।
লোকটা খানিক হকচকিয়ে গেলো তারপর অন্যদের দিকে তাকিয়ে বললো, কিরে সার্টিফিকেটটা কার কাছে রাখলি?
অন্যদের মধ্যে একজন বলে উঠলো ওটা বোধহয় ফেলে এসেছি।
হরিদাস বাবু চেঁচিয়ে বললেন ফেলে এসেছেন মানে? জানেননা মরা পোড়াতে হলে সার্টিফিকেট দেখাতে হয়।
যান নিয়ে আসুন!
এখন আবার যাবো?
হ্যা! সার্টিফিকেট লাগবে।
আপনি এই বিশটাকা রাখুননা!
টাকার কথা পরে হবে।আগে সার্টিফিকেট লাগবে।
আরএকজন লোক পকেটে হাত দিয়ে বললো ও এই তো সার্টিফিকেট! পকেটেই রেখেছিলাম।
লোকটা একটা কাগজ বের করে দিলো।কিছু একটা লেখা কাগজে কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না।জলে ভিজে একেবারে ঝাপসা হয়ে গেছে লেখাটা।
এটা কি?এটাতো কিছুই পড়া যাচ্ছেনা!
জলে ভিজে গেছে! আমরা কি করবো?
তা বললেতো চলবেনা! রুগি কিসে মারা গেছে তাতো লিখতে হবে খাতায়।
বললাম তো কলেরায়!
আপনার মুখের কথায় হবে নাকি? ডাক্তারের লেখা চাই।
লোকটা এগিয়ে এসে তার হাতে নোট দুখানা গুজে দিয়ে বললো কেন আর ঝামেলা করবেন?
খাতায় যে কোন একটা লিখে নিননা!
হাত সরিয়ে ফেললো হরিদাস বাবু।তার মনে লেগেছে! সে ঘাটের বড় বাবু তাকে ঘুষ দিতে আসা!
হরিদাস বাবু নিচু হয়ে মরার ওপরের কম্বলটা একটানে সরিয়ে ফেললো।তারপরই একটা আর্তচিৎকার বেড়িয়ে এলো তার মুখ থেকে।
মৃত যুবতীর বুক ও সারা শরীরে জমাট বাধা রক্ত।
বুক ও পেট ফালা ফালা করে চেরা।মনে হচ্ছে কোন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে কুপিয়ে কেটেছে।
দৃশ্যটা দেখে হরিদাস বাবু ভয়ে ছিটকে দূরে এসে বসে পরলেন মাথায় হাত দিয়ে।
কিছুক্ষন পর লক্ষ্য করলেন কেউ তাকে মারছে না।
তিনি আস্তে আস্তে উঠে দাড়ালেন।কেউ নেই সবাই দৌড়ে পালিয়েছে।
খুনের মরা নিয়ে এসেছিলো লোকগুলো।গোপনে পুরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলো।
হরিদাস বাবু দ্রুত আবার লাশটাকে ঢেকে দিলো কম্বল দিয়ে।
তার ইচ্ছে হচ্ছে একছুটে দৌড়ে পালাতে।কিন্তু খোড়া পা নিয়ে এটা তারপক্ষে অসম্ভব।
এখন তার কাজ হচ্ছে পুলিশে খবর দেয়া।
খুনের মরা এখন পুলিশেই সামলাবে।
মৃত দেহটার দিক আর একবার তাকালো সে।ফুটফুটে এক যুবতীর মুখ। মনে হচ্ছে একবার ডাক দিলেই জেগে উঠবে।
এখন এই মরা রেখে কোথাও যাওয়াও যাবেনা। যদি কুকুরে টেনে নেয়।এদিকে লোকগুলো সব অচেনা এতগুলো অচেনা লোকের খবর কি করে দিবে ভাবতে ভাবতে মরার পাশে হাটুগেড়ে বসে পড়লো হরিদাস বাবু।
ঝোপ বৃষ্টিতে অপলোক চেয়ে আছে হরিদাস বাবু মেয়েটির দিকে।কি করুন চেহারা মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ইচ্ছে করে বৃষ্টিতে ভিজচ্ছে।
হঠাৎ আনমনা হয়ে হরিদাস বাবু মেয়েটির মুখে হাত দিয়ে জল মুছে দিতে গেলো।
ফর্সা সরল মুখখানা।এরকম সুন্দর মেয়ে এত কাছ থেকে কখনও দেখেনি হরিদাস বাবু।
যদি জীবিত থাকতো মেয়েটি তাহলে এভাবে গালে হাত দিলে রেগে চেঁচিয়ে উঠতো না?
আহা! সত্যিই যদি সেরকম হতো।শুধু তার সাথে রাগ করার জন্য হলেও মেয়েটা বেচে উঠুক!
অনবরত ভিজে যাচ্ছে মেয়েটার মুখ।
কিন্তু তারপরও কেমন যেন গরম অনুভব করছে হরিদাস বাবু মেয়েটির মুখে হাত দিয়ে।মনে হচ্ছে এখনও জীবিত।
হরিদাস বাবু মেয়েটির গালে আস্তে করে একটা টোকা দিলেন বললেন অনেকক্ষন তো ঘুমালে এবার ওঠো।
বলেই মনে মনে হেসে উঠলেন হরিদাস বাবু এরকম কখনও হয়নাকি?
মরা কি আর বেচে উঠবে!
কতক্ষণ এভাবে খাটিয়ার পাশে বসেসে আছে তার কোন হুশই নেই হরিদাস বাবুর।
তার মনে হচ্ছে সে সারা জিবন এভাবে এই মেয়েটার পাশে বসে থাকতে পারবে।
সে হয়তো মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছে।
আচ্ছা! সে যদি মেয়েটার গালে একটা চুমু খায় তাহলে সে কি রাগ করবে?
শুধু একটা চুমু!
ভাবতে ভাবতে হরিদাস বাবু মেয়েটার মুখের ওপর হালকা ঝুকে এসে চুমু খেতে চাইলো।
তখন মৃত মেয়েটি বলে উঠল আমার নাম শিথি সরকার। সোনাবাড়ির রতন নাগ আমায় খুন করেছে।তুমি একটু দেখো.....
ছিটকে হরিদাস দূরে এসে গোঁ গোঁ শব্দ করতে লাগলো।ক্ষনিকের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে গেলো।
পরের দিন সকালে যখন তার হুশ ফিরলো তখন সে শুধু একটা কথাই বলতে লাগলো।খুন!রতন নাগ সোনাবাড়ি।
তারপর পুলিশ রতন নাগকে আটক করে স্বীকারোক্তি নিলো।
তারপর হরিদাস বাবু সুস্থ হলেন।
.............সমাপ্ত.............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now