বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেক সময় হয়ে গেছে আর ভালো লাগছে না।
কিন্তু কিছু করার উপায়ও নেই বাইরে বেশ জোরেশোরেই বৃষ্টি নেমেছে আজ। এ রাতে থামবে কিনা কে জানে?
কিন্তু হরিদাস বাবুর বসে থাকতে আর ভালো লাগছে না।
এদিকে খিদেও বেড়ে গেছে। সেই সন্ধায় বগা কে পাঠিয়েছে খাবার আনতে ব্যাটা এখনও আসেনি।হয়তো বৃষ্টির কারনেই আসতে পারছেনা।
বসে বসে কয়েকবার পুরোনো খবরের কাগজ পড়ে ফেলেছে আর কিছু বাকি নেই। রাত প্রায় ঘনিয়ে এসেছে আজ হয়তে না খেয়েই রাত্রিযাপন করতে হবে। ভাবতে ভাবতে চেয়ার ছেড়ে জানলার কাছে এসে দাড়ালেন তিনি।
ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেছে ঘন্টা দুয়েক আগে আজ আর আসবেনা।
চারিদিক নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে শুধু টিনের চালে বৃষ্টির ঝনঝনানির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
বেশিদিন হয়নি শ্বশান ঘাটের ঘাটবাবুর কাজটা পেয়েছে।
এক পা খোড়া হওয়ায় কোন ভালো চাকরিও জুটছিলো না কপালে। শেষমেষ চেয়ারম্যান শান্তিলাল বাবুর কৃপায় এ কাজটা পেয়েছে।
এখানে তার কাজটাও সামান্য।কেউ মরা নিয়ে আসলে তার ডেড সার্টিফিকেট আছে কিনা শুধু সেটা চেক করা আর মিউনিসিপ্যালিটির দু টাকা ফি আদায় করা।
এই টাকা দিয়েই নিজের এক পেট দুবেলা খেয়েদেয়ে চলে যায়। বগাটাও ডোমের কাজ করে সেখান থেকে ও যা পায় তা দিয়ে ওর চলে যায়।
এ জগতে বগা ছাড়া তার খাতির করার কেউ নেই।তাই বগাকে নিজের সন্তানের মতই সে ভালোবাসে।
বৃষ্টি ক্রমশেই বেড়ে যাচ্ছে।এর মধ্যে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বগার আসার কোন লক্ষণ নেই।
সে যেখানে সেখানে রাত কাটাতে পারবে তাই আর অপেক্ষা না করে শুয়ে পরাই ভালো।
হাত বাড়িয়ে জানলাটা লাগানোর চেষ্টা করলেন হরিদাস বাবু।
এমন সময় অস্পষ্ট মানুষের আওয়াজ শুনতে পেলেন। বল হরি! হরিবল! বলে হাক দিচ্ছে।
চেয়ারম্যান বাবুর মা কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। মনে হয় তিনি গত হয়েছেন।
চেয়ারম্যান বাবু খুবই ভালো মানুষ এই বৃষ্টির রাতেও মাকে পোড়াতে ভুলেননি। আগুন জ্বলবে কিভাবে তার কোন খেয়ালই নেই হয়তো।
তারপরও তারা বড়লোক মানুষ অনেক টাকা খীচ করবেন নিশ্চয়ই।
দরজা ঠেলে বাইরে উকি দিলেন হরিদাস বাবু।তখনই কয়েকজন লোক ঘাড়ে খাটিয়া নিয়ে তার ঘরের সামনে দিয়ে এগিয়ে গেলো শ্বশানের চুল্লির দিকে।
দেখেই বুঝে গেলেন হরিদাস বাবু এ চেয়ারম্যান বাবুর মা নয়।চেয়ারম্যান বাবুর মা হলে অনেক লোজন থাকতো চেঁচামেচি থাকতো।ঢাকঢোল থাকতো।
যাইহোক এখন আর এত ব্যাস্ততা দেখানোর কোন দরকার নেই।
বলে চেয়ারে গিয়ে বসলো হরিদাস বাবু।আসুক ওরাই আসুক আমার কাছে।
ঘাটবাবুর অফিসে আর কোন কোন কর্মচারী না থাকলে সেই তো ঘাটবাবু।
বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলো কেউ এলো না।
আর কোন সারাশব্দও নেই।
কৌতুহলবসত সেই বেড়িয়ে এলো শ্বশান ঘাটের দুয়ার ধারে। হালকা আলোয় দেখতে পেলেন লোকগুলো খাটিয়াটা পাশে রেখে নিজেরাই কাঠ সাজাতে শুরু করেছে।
হরিদাস বাবু দৌড়ে গেলেন তাদের কাছে।
কি ব্যাপার হচ্ছে কি এসব?
লোকগুলো চমকে পিছে তাকালো।তাদেরমধ্
যে একজন এসে বললো ডোম টোম কিছুই দেখছি না।তাই নিজেরাই ব্যবস্থা করে নিচ্ছি।
ব্যবস্থা করে নিচ্ছেন মান? মরা রেজিস্ট্রি করাতে হবে না?
মরা রেজিস্ট্রি! আবার কি?
বাহ! যে কোন মরা এনেই আপনারা পুরিয়ে ফেলবেন! একি বেওয়ারিশ কারবার নাকি?
লোকটা একমুহূর্ত চিন্তা করে বললো ঠিক আছে রেজিস্ট্রি করে নিন। ক-টাকা লাগবে?
লোকটা জামার পকেট থেকে দু খানা দশ টাকার নোট বের করে দিলো।
.............চলবে.............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now