বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

খর্গজিৎ 2

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X সে কখনো হারে নি, তাই তার নাম হয়ে গিয়েছিল খর্গজিত। আর তাই সে বিশ্রাম নিতেও পারেনি। একটু জিরোতে গেলেই প্রথমদিকে তার বাবা-মা আর পরে তার শুভানুধ্যায়ীরা বলেছে – না এখন নয়, পরে বিশ্রাম নেবে......তোমাকে আরো আরো আরো দৌড়াতে হবে...আরো...ও...ও...। দৌড়ের নেশায় সেও নতুন উদ্দ্যমে বার বার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বাবা-মা কারো চিরকাল বেঁচে থাকে না। একসময় খর্গজিতের বাবা-মাও দেহ রাখলো। ইতিমধ্যে বিয়ে করে সংসার করে ছেলেমেয়েও হয়েছে খর্গজিতের। একসময় ছেলেমেয়েরাও বিয়ে-থা করে অন্যত্র ঘর বেঁধে সংসার করতে থাকে। তারপর এক বাদলভরা ঝড়ের রাতে আকস্মিক খর্গজিতের বৌ’ও মারা যায়। এই বিশাল দুনিয়ায় একা হয়ে যায় খর্গজিত। জঙ্গলে একা একা ঘোরে বা বাসায় চুপটি করে বসে থাকে। কিছুই ভালো লাগে না তার। একদিন কচ্ছপ, ইঁদুর আর বেজী এলো তার কাছে। তারা প্রথমে খর্গজিতের কুশল জিজ্ঞাসা করলো। তারপর গল্প শুরু করলো। যে বিশাল জঙ্গলে তারা থাকতো, কচ্ছপ কোনদিন সেই জঙ্গল পার হতে পারে নি। গল্পে গল্পে কচ্ছপ খর্গজিতকে জিজ্ঞাসা করলো – আচ্ছা খর্গজিত ! তুমি কতদূর গিয়েছিলে ? এই যে জঙ্গলটা, এই জঙ্গল পার হয়েছিলে তুমি ? খর্গজিত হেসে জবাব দিয়েছিল – হ্যাঁ, তা পার হয়েছিলাম বৈ কী ! শুনে কচ্ছপ বলেছিল – তাহলে তুমি নিশ্চয় সেই ছাতিমগাছটা দেখেছ......যে গাছে ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী বাস করে ? কত সুন্দর সুন্দর গল্প শোনায় তারা দুজন...শুনলে মন ভরে যায়...তুমি নিশ্চয় তাদের মুখে অনেক অনেক গল্প শুনেছ...। কচ্ছপের প্রশ্নের উত্তরে খর্গজিত আমতা আমতা করে বলে – না তো ! আমার তো দেখা হয় নি তাদের সাথে! ইঁদুর তখন বলল – বাদ দাও ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমীর কথা......আচ্ছা, তুমি তো ওওওই সরোবর ছাড়িয়ে অনে......ক দুর গিয়েছিলে, তুমি কি দেখেছ ওই সরোবরে শীতকালে নানা রঙের পরিযায়ী পাখীরা দলবেঁধে এসে গানে গানে সরোবরটাকে কেমন মুখরিত করে রাখে ? শুনে খর্গজিত বলে – না তো ! কখনো শুনিনি তো ! তখন বেজী জিজ্ঞাসা করলো – আচ্ছা খর্গজিত ! ওই যে দুরের পাহাড়টা দেখা যাচ্ছে, তুমি ওই পাহাড় ছাড়িয়ে আরোওও দূরে গিয়েছিলে ? খর্গজিত কাঁধ ঝাঁকিয়ে হাসলো, তার মানে ও যে গিয়েছিল সেটা জানালো। তখন বেজী বলল- তাহলে তো তুমি পাহাড়ের ওপর যে মন্দিরটা আছে সেটা নিশ্চয় দেখেছ ? খর্গজিত তখন বেশ লজ্জা পেয়ে বলে – না হে আমি ওটাও দেখিনি......আসলে দৌড়ের সময় আমি এত মন দিয়ে দৌড়েছি যে আমার চারপাশে কি আছে না আছে, কি হচ্ছে না হচ্ছে কিছুই খেয়াল করি নি......। সত্যি বলতে কি......খেয়াল করতে ইচ্ছেও করে নি............... বলতে বলতে একটু অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল খর্গজিত। হঠাত দেখে ইঁদুর আর বেজী দুজনে মিলে কচ্ছপের দুটো পা কামড়ে ধরে ছুটে পালাচ্ছে। কারণটা বোঝার আগেই এক ব্যাধ জাল ছুঁড়ে দেয় খর্গজিতের দিকে আর খর্গজিত ধরা পড়ে যায়। পরে এ হাত ও হাত হতে হতে এক হাট থেকে এই মিনি চিড়িয়াখানায়। স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে খর্গজিতের চোখের কোনা থেকে জল গড়াতে থাকে। সারাজীবন ধরে জেতার নেশাতে ছুটেই গেল............ দুটো বাচ্চা ছেলে-মেয়ে জালের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। খর্গজিতকে দেখিয়ে একজন অপরজনকে বলে – দ্যাখ দ্যাখ...খরগোশটার চোখ থেকে কেমন জল গড়িয়ে পড়ছে.........বোধহয় ও আর বেশীদিন বাঁচবে না রে...............


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ খর্গজিৎ 2

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now