বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

খোলা চিঠি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X বোঝাতে পারিনি ভালোবাসি কতটা তোমায় আমার এ চোখের পানি কখনো কি তোমায় মনে করিয়ে দেয় আমায় আর কত কষ্ট পেলে বলো ? বুঝবে আমায় আমার ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে প্রতিটা মুহুর্তে খুজে চলেছি তোমায়… ।। নীল, তোমার কথা আজ অনেক বেশি মনে পড়ছে আজ।যখনই মনে পড়ে তখন মনের কষ্ট গুলি এমন ছোট ছোট কবিতায় বন্দি করে রাখি।আজ কত তারিখ মনে পড়ে তোমার? কি জানি হয়তো ভুলে গেছো।তোমার কাছে আমি এখন শুধুই অতীত।কিন্তু তুমি আমার কাছে অতীত,বর্তমান,ভবিষ্যত সবকিছু।কি করে ভুলি তোমায়? পাঁচ বছর আগের কথা।রঙ নাম্বারে পরিচয় হয় আমাদের।এরপর প্রায় আমাদের কথা হতে থাকে।কথা যেন শেষই হয়না।বরাবরই আমি কথা কম বলতাম।কারন তোমার কথা শুনতেই যে আমার বেশি ভাল লাগতো।তুমি যখন হাসতে তখন আমার মনে হতো তুমি আমার সামনে আছো।আমি চোখ বন্ধ করলে তোমার ঐ হাসিভরা মুখটা দেখতে পেতাম।কি যে ভালোলাগায় মনটা ভরে যেতো।তোমাকে কখনো তা বলা হয় নি। বললেই কি তুমি বিশ্বাস করতে?যাকে একটিবারের জন্যও কখনো দেখিনি তাকেই কিনা চোখ বন্ধ করলে দেখতে পাই।এটা কি বিশ্বাস করবার মত কথা?কিন্তু এটাই সত্যি।আমরা কেউ কাউকে কখনো দেখিনি।কিন্তু বিশ্বাস করো আমি তোমাকে সবসময়ই দেখতে পেতাম।কিভাবে জানো?তুমি যখন ফোন করতে না তখন ভাবতাম তুমি আমার সামনেই আছো।আর তোমাকে সামনে রেখে কত কথা বলতাম।যার বেশির ভাগই তোমার অজানা। তোমার কি সত্যিই কিছু মনে পড়েনা? মনে পড়েনা সেসব দিনগুলির কথা?ভালোবাসতে হয় কিভাবে তা আমি শিখেছি তোমার কাছ থেকে।তোমাকে মিস করব এমন একটা সময়ও দিতে না তুমি আমাকে।প্রতিটা মুহুর্তে তুমি আমার খোজ নিতে।একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে কতোটা ভালোবাসতে পারে তা জেনেছি তোমার কাছ থেকে।আমাদের ভালোবাসার দিনগুলোতে কখনোই কষ্ট কি জিনিস তা বুঝতে দাওনি।কিভাবে বুঝবো আনন্দের এই দিনগুলি খুবই অল্প সময়ের জন্যে ভাগ্যে ছিল আমার? তোমার মনে পড়ে,তোমার এক জন্মদিনের আগে তুমি খুব জেদ ধরলে – আমি যেন তোমাকে অবশ্যই গিফট দেই।আমিতো ভেবেই পাইনা কি দিলে তুমি খুশি হবে।অবশেষে ঠিক করলাম তোমাকে আমার লেখা একটি চিঠি দিব।আর সেটা ছিল তোমাকে দেয়া আমার প্রথম চিঠি।চিঠিটা পেয়ে তোমার সেকি আনন্দ!খুব ভাল লেগেছিল সেদিন তোমাকে এতো খুশি হতে দেখে।আজও তোমায় চিঠি লিখছি।তবে জানি এ চিঠি তুমি পড়বেনা।পড়বে কিভাবে? এ চিঠি তোমার পর্যন্ত কখনো পৌঁছাবেই না।এখন আমি তোমার কাছে চিঠি লিখি।আর এ খোলা আকাশে ছেড়ে দেই তোমাকে উদ্দেশ্য করে।জানি তুমি কখনো এ চিঠি পড়বেনা।তবুও মনের কোনে ক্ষীণ একটা আশা থেকেই যায়। আশা জিনিসটা অনেক কষ্টের।কত কিছুই তো আশা করেছিলাম।কিন্তু কোন আশাই তো পূরণ হল না।ভেবেছিলাম ফোনের জগত ছেড়ে এবার আমরা দেখা করবো।সারাদিন একসাথে থাকব।আরতো মাত্র দুটো মাস…দেখতে দেখতে কেটে যাবে-এভাবে তুমি আমাকে সান্তনা দিতে।আর আমি অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকি।কিন্তু এই দুটো মাসই যে আমার জীবনে এতো দীর্ঘ হবে কখনো কি ভেবেছিলাম!ভেবেছিলাম এই দুটো মাস তোমার জীবন থেকে আমাকে কেড়ে নিবে?কেড়ে নিবে আমাদের সব স্বপ্ন,সব আশা? তোমার সাথে দেখা হবার সব পরিকল্পনা যখন শেষ… ঠিক সেই মুহুর্তে আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি।অবশ্য কখনো তোমাকে তা বলা হয় নি।আমার মাথায় প্রায়ই যন্ত্রনা হত।শুধু তোমাকে কেন।কাউকেই সেটা বুঝতে দিইনি।কি যে অসহ্য যন্ত্রনা হতো!এরই মধ্যে একদিন আমি হঠাত জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হল।অনেক পরীক্ষার পর জানতে পারি আমার ব্রেন টিউমার হয়েছে।এ অসুখটা আমার অনেক ছোট বেলায় হয়,কিন্তু কাউকে কিছু জানতে না দেওয়ায় দিনে দিনে সেটা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায়।ডাক্তারদের কিছুই করার ছিলনা।হাতে মাত্র কটা দিন বাকি। যা দিনগুলিতে আমি তোমার জন্যে অপেক্ষা করব বলে ভেবেছিলাম সেই দিনগুলিতে আমি তখন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছি!আমরা ঠিক করেছিলাম নভেম্বরের ২১ তারিখ দেখা করব।আমি সবসময় দোয়া করতাম শেষ মুহুর্তে যেন একবারের জন্য হলেও তোমাকে দেখতে পাই।কিন্তু দেখো নিয়তির কি পরিহাস! তুমি কি আমাকে খুব ঘৃনা কর?কি করব বল তোমাকে যে কষ্ট দিতে চাইনি!তাইতো আমার অসুস্থতার কথা তোমাকে জানাইনি।আমি জানি আমার অসুখের কথা শুনলে তুমি অনেক বেশি কষ্ট পেতে।আজ সেই ২১ শে নভেম্বর।৩ বছর আগে এই দিনটায় আমাদের দেখা হওয়ার কথা ছিল।আমাদের সম্পর্কের দু বছর শেষে অনেক আশা করেছিলাম দুজন দুজনকে মন ভরে দেখব।কিন্তু তুমিতো জানোনা নিয়তি সেটা চায়নি।তাইতো তিন বছর ধরে এই দিনে আমি তোমার জন্য এখনও অপেক্ষা করি।আমি জানি তুমিও এই দিনে আমার জন্য অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করেছিলে। তুমি সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিলে তাইনা?কিন্তু তুমি জানোনা,শুধু তুমি না সেদিন বাড়ির সবাইকে আমি কষ্ট দিয়েছি।বিশ্বাস কর আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাইনি। এদিনটা শুধু আমাদের দেখা করারই দিন না।এদিনে আমি পৃথিবী ছেড়ে তোমাদের সবাইকে ছেড়ে অন্য এক জগতে পাড়ি জমিয়েছি।ইচ্ছে করলেও আমি আর তোমাদের মাঝে আসতে পারবোনা।সেদিন যা বলতে পারিনি তা আজ এই চিঠিতে লিখে দিলাম।জানি তুমি পড়বেনা।তবুও তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে এমন হাজারো চিঠি আকাশের মাঝে ভাসিয়ে দেই।ক্ষমা করো আমায়… নীলা কানিজ ফাহিমা , খুলনা খেকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ খোলা চিঠি
→ নারীদের প্রতি খোলা চিঠি
→ আসাদের খোলা চিঠি
→ মাকে লিখা খোলা চিঠি
→ প্রেমিকার কাছে খোলা চিঠি
→ খোলা চিঠি :- ঐন্দ্রিলা দাস
→ খোলা চিঠি
→ মা'কে লেখা খোলাচিঠি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now