বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

খিদে- ওজন কমানোর কাহিনী

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রোমান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X জেলখানায় কয়েদিদের ড্রেস পড়ে আমি এক কোণায় পড়ে আছি। আজ সকালে আসলাম মাত্র। আমার কয়েদখানায় আরো কয়েকজন আসামি আছে। একজনকে দেখলাম রাজার হালে পা ছড়িয়ে চেয়ারে বসে আছে। আশেপাশে তার সাঙ্গপাঙ্গ তিনজন তার পা আর ঘাড় টিপে যাচ্ছে। মনে হয় কোন বড়ভাই টাইপের। আমার দিকে কেমন জানি ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। তাদের মধ্যে একজন বললো, ওই ছোকরা, এদিক আই, ভাইজান ডাকে! আমি এগিয়ে গেলাম। ভীতুর মতো তাদের সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। কিরে, ব্যাটা তুই এই বয়সে আবার কি ক্রাইম করলি? আমারে দেখছস আটচল্লিশ টা মার্ডার কইরা এহানে আইছি। এদের দেখছস এরাও দু একটা মার্ডার করছে। আর তারা ভবিষ্যতে আমার মতো হতে চাই তই তুই এমন কি করছস ক দেহি? ভাইজান! আমি এক পুলিশরে থাপ্পড়াই ছি খালি! কেন? কি কারনে থাপ্পড়াইছিলি? হুদাই ভাইজান! জেলে আসার মন চাইলো তাই। মানুষ মারার সাহস নাই, চুরি ডাকাতিও করতে পারুম না, দূর্নীতিও হয়না আমারে দিয়ে তই সকালে পুলিশ একটা পাইছি সামনে অমনি একটা লাগাই দিছি। সবাই দেখলাম নড়েচড়ে বসলো, আর বললো, কি হয়ছে ভাই? কি এতো দুঃখ তোর যে জেলে আসা লাগলো? ভাইজান, সে অনেক কষ্টের কাহিনী। আমার এক্কান মাত্র বউ যারে আমি রুপন্তীর আম্মু বলে ডাকি। ঘরে আরেক্কান জিনিস আছে ভাই যার নাম জরিনা খালা। কিছুদিন আগে আমারে নিয়া ডাক্তারের কাছে গেছিল রুপন্তীর আম্মু। আমার নাকি ওজন বেড়ে যাচ্ছে। মোটা হয়ে যাচ্ছি। ভুঁড়িও নাকি দুই ইঞ্চি বের হয়ে আছে। বলেন ভাই আমারে কি মোটা লাগে? তারা সবাই মাথা নাড়লো, একদম না! তো ডাক্তার বললো, ডায়েট করা লাগবে। ডাক্তারে একটা খাবারের তালিকাও দিয়ে দিছে। আমি ব্যপারটা তেমন সিরিয়াসলি নি নাই। কিন্তু রুপন্তীর আম্মু পরেরদিন সকাল থেকে আমার উপর ১৪৪ দ্বারা জারি করছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গামলা গ্রীণ টি খাওয়াইছে। দুটো ছোট রুটি দিছে আর এক চামচ আলু ভাজি দিছে। কিছু কইতেও পারিনা ভাই একটা মাত্র বউ চলে গেলে আবার বিয়া করতে পারুম না। আর এখন যে হারে বউ পালায়। খেয়ে নিলাম চোখ বন্ধ করে। ভাবছিলাম রাস্তায় লুকিয়ে সিঙ্গারা খেয়ে নিবো। মোড়ের রমজানের দোকানে ঢুকে যে মাত্র সিঙ্গারায় কামড় বসালাম অমনি জরিনা খালা ক্যাচ ক্যাচ করে দুইটা ছবি উঠিয়ে নিল। জরিনা খালারে এখন খালা কম গোয়েন্দা বেশি মনে হয়। জরিনা খালারে ঘুষ দিতে চাইছিলাম কিন্তু তিনি নাকি দেশের সৎ নাগরিক। পরে ওই অবস্থায় অফিসে চলে গেলাম। অফিসে ঢুকে পিয়নরে ইশারায় ডেকে নাস্তা আনতে বললাম। সে ও দেখি রুপন্তীর আম্মুর সিক্রেট এজেন্ট। তারে নাকি আগে থেকেই কল দিয়ে না করে দিছে। আর সে নাকি আমার কেবিনে হিডেন ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়েছে যার নিয়ন্ত্রণ রুপন্তীর আম্মুর কাছে। এভাবে এক কাপ চিনি ছাড়া চা খেয়ে দুপুর হয়ে এলো। পরে জরিনার খালারে দিয়ে আমার টিফিন পাঠানো হল। চার কলের টিফিন। প্রথম কল খুলে দেখি একটা এনার্জি বিস্কিট, দ্বিতীয় কল খুলে দেখি দুইটা এনার্জি বিস্কিট, তৃতীয় কল খুলে দেখি দুই চামচ ভাত আর লাল শাক , লাস্টের কলে একটা চিরকুট যাতে লেখা এগুলো সব খেয়ে ভিডিও সহ আমাকে পাঠাবেন তা না হলে খবর আছে! যাই বলছে তাই করলাম। পরে একটু টি ব্রেক পেয়ে অফিসের পাশের দোকানে গরম গরম হাজী বিরিয়ানি খেতে গেছিলাম কেউ না দেখে মতো। হাতমুখ ধুয়ে বিরিয়ানি অপেক্ষায় আছি। সাথে সাথে কল, হ্যালো রুপন্তীর পাপ্পা কি করেন? এই তো অফিসের বারান্দায় বসে বসে কথা বলছিলাম, টি ব্রেক চলে তো। আচ্ছা কথা শেষ হলে আমাকে জানাইয়েন একসাথে বাড়ি যাবো আমি আপনার অফিসের পাশে হাজী বিরিয়ানি রেস্টুরেন্টে বসে আছি। আর খাওয়া হলো না। রাতে খাবার টেবিলে দেখি রুপন্তীর আম্মু আর জরিনা খালা মুরগীর রোস্ট, পোলাও খাচ্ছে। আমিও বেশ আগ্রহ নিয়ে গেলাম। প্লেট নিয়ে যে মাত্র খাবার নিবো তখন রুপন্তীর আম্মু বললো, আপনার খাবার পাশে ঢাকা আছে। ঢাকনা খুলে দেখলাম এক প্লেট সালাদ সাথে তিতা করলার জুস! রাতে এইটা খেয়ে কোনরকম ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে রাস্তায় পুলিশরে পিটিয়ে জেলখানায় আসলাম শুধুমাত্র ভালো খাবার খাবো বলে। সাথে সাথে কয়েদখানার নিচ দিয়ে খাবার দিয়ে গেল হাবিলদার । ডাল, ডিম আর মুরগী সাথে পোলাও আজকে নাকি ডিআইজি সাহাবের জন্মদিন। এদিকে ভাইজান আর তার সাঙ্গপাঙ্গোর চোখে পানি। কাঁদতে কাঁদতে বড়ভাই বললো, ভাই তোর এতো কষ্ট, এই নে আমার প্লেটের ভাতটুকুও তুই খা। আজ যদি আমি বাইরে থাকতাম তাইলে তোর রুপন্তীর আম্মু আর জরিনা খালারে মাইরা হাফ সেঞ্চুরি করতাম! ভাই থাক! এদের মারলে আমি কারে নিয়ে লিখমু!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ খিদে- ওজন কমানোর কাহিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now