বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

খেলা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ______ খেলা চালাকালীন সময়ে মাঠের মাঝখানে একটা চেয়ার ফেলে মাশরাফি বিন মর্তুজা বসে আছে। . চেয়ারে বসে পায়ের উপর আরেকটা পা তুলে গম্ভীর হয়ে খেলা দেখছে। মাঝেমাঝে আঙ্গুল তুলে রাজকীয় ভঙ্গিমায় বলছে, সোহান, একটু কম চিল্লাবা। বেশি বেশি ক্যাচ ধরবা। সোহান হাসছে। কিন্তু কথা শুনছে না। আগের থেকেও বেশি চিল্লাচ্ছে। বাউন্ডারির দিকে গড়ন্ত বলের দিকে তাকিয়ে চেঁচাতে চেঁচাতে বলছে, এক..এক..এক...এক তাসকিন বল করার পর মন খারাপ করতে করতে চেয়ারে বসা মাশরাফির কাছে আসল। মাশরাফি গম্ভীর হয়ে বলল, -ক্যাচ মিস করলে মন খারাপ করবিনা। বলটা শুধু লাইনে রাখবি। তাইলে দেখবি দলটাও লাইনে আছে। পার্সোনাল উইকেটের চাইতে দলীয় পারফর্মমেন্সটা বড় কথা। ঠিক বলছি? -হ, ম্যাশ ভাই। -যা বল কর। জোরে জোরে বল করবি। তোর বলের স্পীড দেখার মাঝেও শান্তি আছে। তাসকিন চলে গেল। বল করল। বাউন্ডারিতে আরেকবার ক্যাচ ফেলল সৌম্য সরকার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরেকটা অমূল্য উইকেট হারানোর যন্ত্রনায় তাসকিনের মন খারাপ হলনা। মাশরাফি ভাই মন খারাপ করতে নিষেধ করেছে। লাইনে বল রাখতে বলেছে। তাসকিন ঝড়ের মত ছুটে গেল বোলিং লাইনে। হাত থেকে বেরিয়ে গেল এটমিক গোলা। বজ্রের মত গতিতে গোলা ছুটছে স্ট্রাইকে। স্ট্রাইকে বিভ্রান্ত ব্যাটসম্যান চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে। মাঠের মাঝখানে এখনো চেয়ারে পায়ের পা তুলে বসে আছে মাশরাফি। পরনে সাদাকালো পাঞ্জাবী, পায়ে চপ্পল। মাশরাফির বিখ্যাত ট্রেডমার্ক ড্রেস-আপ। জার্সি খুলে ফেলেছেন দুই বছর আগে। সবধরণের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছেন। এই মুহুর্তে তার ছেলেমেয়ের সাথে বাসায় বসে টিভিতে খেলা দেখার কথা। বাসায় বসতে পারেননি। কুখ্যাত আবাল ফেসবুকার রাজীব হোসাইন সরকার তাকে বাসায় বসে থাকতে দিচ্ছেনা। অবসরের পর প্রত্যেকটা ম্যাচে তাকে মাঠে আসতে বাধ্য করেছে। মাঠের মাঝখানে চেয়ার পেতে বসিয়ে রাখছে। রাজীব ইচ্ছা করলেই তাকে ভিআইপি গ্যালারীতে বসিয়ে খেলা দেখাতে পারত। অথচ দেখাচ্ছেনা। ছেলেটার মতলব কি? মাথা খারাপ নাকি! ...আমি ক্রিকেট কম বুঝি। দড়ির ওপারে উড়ে গিয়ে পড়লে ছক্কা আর গড়াতে গড়াতে পার হলে চার হয় এতটুকু বুঝলেই আমার চলে যায়। ক্রিকেট ভালো লাগত। মাশরাফি নামের লোকটা আসার পর থেকে মাথায় গণ্ডগোল হয়েছে। শর্ট সার্কিট হয়ে কিছু নিউরণ পুড়ে গেছে। আমার উচিৎ ছিল 'বিডি-ক্রিকেট টিম' এর 'ঢালাও' সমর্থক হওয়া। অথচ এই সহজ বিষয়টা ঠিকঠাক পারিনি। আমি ভুল করে হয়ে গেছি 'মাশরাফি' সমর্থক। এই কুখ্যাত আবাল ফেসবুকার চায়- মাশরাফি কোনদিন ক্রিকেটকে বিদায় না দিক। ফর্ম থাকলেও খেলুক, না থাকলেও খেলুক। বিদায় দিলেও যেন সে এই দলটার ক্যাপ্টেন থেকে যায়। বৃদ্ধ হলেও সে ক্যাপ্টেন থাকবে। দাড়াতে না পারলেও সে ক্যাপ্টেন থাকবে। মাঠের মধ্যে চেয়ারে বসে সে ক্যাপ্টেন্সী করবে। চোখে হাই পাওয়ারের চশমা লাগিয়ে যেদিন কাছের জিনিসও ঠিকঠাক দেখতে পারবেনা সেদিনও সে ক্যাপ্টেন্সী করবে। যেদিন সে চশমা দিয়েও বল দেখতে পারবে না, শুধু বলের ড্রপ খাওয়া শব্দ শুনে কিছুটা আন্দাজ করতে পারবে...ঐটাই সম্ভবত বলের শব্দ...সেদিনও সে ক্যাপ্টেন থাকবে। নিজের পায়ের লিগামেন্ট বিসর্জন দিয়ে যে লোকটা একটা দলকে নিজের পরিবারের মত দাড় করিয়ে ফেলেছে, দাড় করিয়ে রেখেছে, সে সারাজীবনই এই পরিবারের ক্যাপ্টেন। এই হয়তো 'দল'টা বিসিবির কিন্তু 'পরিবার'টা মাশরাফির! মাশরাফি, You aren't very closure to your finish...You are very closure to YOUR 'Family'... -- রাজীব হোসাইন সরকার


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভাইরাস আর খেলার খাতা
→ “জীবন পুতুল খেলার গল্প” বইয়ের রিভিউ
→ খেলা
→ রক্তিম খেলাঘর - পর্ব ১
→ রক্তিম খেলাঘর - পর্ব ২
→ রক্তিম খেলাঘর - পর্ব ৩
→ রক্তিম খেলাঘর পর্ব - ৪
→ ফুটবল খেলার ইতিহাস
→ খেলা গ্রামের গল্প
→ খেলা দেখা বারণ (২য় ভাগ)
→ খেলা দেখা বারণ
→ খেলা দেখা বারণ
→ জীবন পুতুল খেলার গল্প
→ গ্রামীণ খেলাধুলা!!
→ দেখি কার দৌর কত দৌর? সার সাহস আছে খেলায় অংস গ্রহণ করুন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now