বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পৃথিবীতে হাজারো রকমের খেলা থাকতে মানুষ মানুষের মন নিয়ে খেলে বেশী অানন্দ পায়। অার মজার বিষয় হল, সবকিছুর বিচার হলেও পৃথিবীতে অাজও মন ভাঙ্গার কোন বিচার হয়নি।
মন ভাঙ্গলে খালি চোখে দেখা যায়না। তাই এর কোন প্রমানও নেই।
.
অামি দ্বীপ সাহা নামে এক ছেলেকে চিনি। বড্ড হাসিখুশি থাকে ছেলেটা। নতুন পরিচিত হয়ে ভেবেছিলাম তার চেয়ে সুখী মানুষ অার দ্বিতীয়টি নেই। সে নিজেও যেমন হাসে, তেমনি করে সাথের সবাইকে সবসময় হাসিখুশিতে মাতিয়ে রাখে।
গেল বারের পূজোয় গিয়েছিলাম তাদের বাড়ির কাছের মন্ডবে। সেখানেও তার নাচ দেখে দ্বিতীয়বার বিমোহিত হয়েছি। এত হাসিখুশির মাঝেও অামার কেন যেন মনে হত দ্বীপ জোর করে মিথ্যে হাসি হাসে। হাসির শেষ পথে গিয়ে হঠাৎ থেমে যেত। মনে হত সুখের গাড়ী হঠাৎ ব্রেক কষল।
সেদিন পূজোর রাতেই জানতে পারি দ্বীপ সত্যিই মিথ্যে করে হাসে। জগতের মানুষকে দেখিয়ে যায় প্রতিনিয়ত সে চরম সুখে অাছে।
সেদিন রাতে বাংলা মদের বোতল যখন ডগডগ করে গিলছিল, অনেকেই বলেছি অার খাসনে। যখন নেশায় বিভোর তখন শুরু হল দ্বীপের কান্না।
অামাকে জড়িয়ে কেঁদে কেঁদে বলছিল, " দোস্ত অঞ্জলীর বান্ধবীকে রাস্তায় দুদিন বলেছিলাম তোমাকে সুন্দর লাগে। সেই মেয়েটা অঞ্জলীর কাছে বলেছে অামি নাকি তাকে রাস্তাঘাাটে বিরক্ত করি। এই অঞ্জলীকে কখনো অামি চিনতামনা। সেই ঘটনার পর থেকে নিজে থেকে অামার জীবনে এল। ভালবাসার এক নাটক রচনা করল। ছেড়ে যাবার সময় তার বান্ধবীর কথাটা মনে করিয়ে দিয়ে গেল।
অাজ দেড় বছর অপেক্ষা করতেছি, তবুও ফিরে অাসেনি অঞ্জলী। বিশ্বাস কর দোস্ত অামার ভালবাসা মিথ্যে ছিলনা। অামার মনটা নিয়ে এ কোন খেলা খেলল?
.
সেদিন দ্বীপকে শান্তনা দিয়ে রাখতে পারিনি। জমানো পানিগুলো টপ টপ করে গাল বেঁয়ে নেমে যাচ্ছিল। দ্বীপকে বলতে পারিনি, এই খেলার কোন নাম হয়নারে। এটা নাম ছাড়া মন ভাঙ্গার খেলা।
.
দ্বীপ থেকে চলে অাসি অামার ঘনিষ্ট বন্ধু ইরাক প্রবাসী অাপনের কাছে। তিনজন ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলাম, অারিয়ান, অাপন, শ্রাবণ।
অাপনের বাল্যকালে এক প্রেম ছিল। হাইস্কুলে থাকাকালীন মেয়েটি তাদের নিজ গ্রামে চলে যায়। অার কখনো খুঁজে পায়নি তাকে। ছাত্রজীবনতো গেল সেই কবে। কত ঘুরলাম, কত মেয়ে দেখালাম। বলতাম মামা একটা প্রেম কর। অাপনের একটাই কথা, "যাকে হারিয়েছি, তার মত কাউকে পাইনা। অামার তাকেই চাই।"
.
পৃথিবীর মানুষগুলো বড্ড বেশী অভিমানী। যে মন থেকে ভালবাসে, তার মনে সারাজীবন একজনের বসতি থাকে। অার যে মন নিয়ে দুষ্টু দুষ্টু খেলা খেলে, তার ভালবাসার মানুষ থাকে অনেকগুলো। একটা চলে গেলেও অারেকটা যেন থাকে। কষ্ট পাওয়া চলবেনা। দিন শেষে সে মন ভাঙ্গার খেলোয়ারগুলো কারোরই হয়না। যাদের হয় তাদের মনের মত কখনোই হতে পারেনা।
.
এক বুড়া দোকানদার ছিল। নির্জন রাস্তা দিয়ে দু'একজন যা কিনে সেটাতেই বুড়োর চলে যায়। সে বুড়া প্রেম করত ভিক্ষে করতে অাসা এক মহিলার সাথে। বুড়ো বয়সের প্রেম সেটাই নিজের চোখে দেখেছিলাম। মহিলা যখন অাসত তখন বুড়ো মিঞা দোকান থেকে বের হয়ে চারিপাশটা দেখে নিত। তারপর দোকানে বসিয়ে কটকটি, বাদাম অার চানাচুর খাওয়াইত। অার মিষ্টি মধুর প্রেম করত। অনেকেই জানত, তবে কেউ কিছু বলতনা।
বুড়ো মিঞা এখন অার নেই। ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু সে মহিলার দেখা মিলে এখনো। প্রতি বিকেলে ভিক্ষে শেষে বন্ধ হয়ে থাকা দোকানের বেঞ্চটিতে ঘন্টাখানেক বসে থাকে।
অামার মনে হয় তাদের বুড়ো বয়সের প্রেমটিতেও কোন খেলা ছিলনা, ভালবাসা ছিল।
.
প্রতি খেলায় কেউ হারে কেউ জিতে কিন্তু মন ভাঙ্গার খেলায় খেলে একজন, জিতেও একজন। অার যাকে নিয়ে খেলে সে সবসময় হেরেই যায়। সে হেরে গিয়ে অার খেলেনা। ভালবাসার মাঠের কোণে অার অাসেনা। অন্ধকার রুমের কোনে চুপটি করে বসে থাকে। কেউবা দ্বীপের মত মিথ্যে হাসি হেসে বেড়ায়।
অার সেই প্রেম খেলোয়াররা নতুন কাউকে খুঁজে মন ভাঙ্গার খেলায় মেতে উঠার জন্য।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now