বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একজন খুনী পাপীষ্ঠ ব্যক্তির জান্নাত লাভের উত্তম ঘটনা। এবং সকলকে হক্বের দাওয়াত। সকলেই শেষ পর্যন্ত পড়ার পর মন্তব্য করবেন। ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত পড়লে বুঝতে পারবেন ওলি-আউলিয়াদের দরবারে গেলে কি পাওয়া যায়?
এই ঘটনাটি এসেছে বুখারী, মুসলিম শরীফ সহ প্রায় ৩৫টি হাদিস শরীফের কিতাবে।
============================
সাধারণ মানুষ ভুল করে গুনাহ করে তওবা করলে অবশ্যই সে মাফ পাবে তার প্রমাণ নিম্নবর্ণিত এই হাদিস।
একজন লোক ৯৯ মানুষকে খুন করেছে। ৯৯টি মানুষকে খুন করার পর তার ভুল সে নিজেই বুঝতে পারল। লোকটি ভুল বোঝার পরে শুধু সামনের দিকে দৌড়াচ্ছে আর বলছে, আমার কি কোন উপায় আছে। আমি কি আল্লাহর কাছে মাফ পাব? এইরকম বলছে আর দৌড়াচ্ছে। কিছুদুর দৌড়ানোর পর তার সামনে এক মুন্সি চোখে পড়ল। ঐ মুন্সি বলতেছে ভাই কি ব্যাপার তুমি এইরকম নাঙ্গা তলোয়ার হাতে নিয়ে দৌড়াও কই? আর উপায় আছে উপায় আছে বলো? সে বলল, কি উপায় আছে আমি জানি না। আমি তো ৯৯টি মানুষকে খুন করেছি। কোথায় গেলে আমি এই গুনাহ থেকে মুক্তি পাব, দয়া করে জানা থাকলে বলে দিন?
ঐ মুন্সি বলতেছে, তুমি যা করেছো, তাতে তো তোমার জন্য জাহান্নাম লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।
তুমি কেমনে মাফ পাবে?
যেই বলছে উপায় নাই, হাতের সেই নাঙ্গা তলোয়ারটা দিয়ে সেই মুন্সির গলায় ধরেছে।
আর বলছে, কোন উপায়ই যখন নাই তোকেও আর রাখব না। এই বলে তার নাঙ্গা তলোয়ার দিয়ে মাথাটা গর্দান থেকে আলাদা করে দিয়েছে।
এইবার সে আরো পাগলের মত দৌড়ায়, সামনের দিকে যায় আর বলে হায় হায় কেমনে বাঁচব, আমার কি আর কোন উপায় আছে?
আমি তো ১০০টি মানুষকে খুন করলাম। জীবনটা ধ্বংস করে দিলাম। জাহান্নামের আগুনে যেতে হবে, বিপদ এগিয়ে আসতেছে যেকোন মুহুর্তে আমি মারা যাব।
এই চিন্তা করতে করতে পাগলের মত দৌড়াচ্ছে। তখনও তার হাতেই ছিল সেই রক্তমাখা নাঙ্গা তলোয়ার।
একটা সাধারণ মানুষ একজন আল্লাহর ওলীর ভক্ত ছিলেন। এলাকায় একজন আল্লাহর ওলী থাকতেন। ওই আল্লাহর ওলির কাছে যেই যেত জাহান্নামী মানুষেরা পর্যন্ত খালিছ তওবা করে জান্নাতী হয়ে যেত। সুবহানাল্লাহ্।
ঐ সাধারণ মানুষটা বলে ভাইজান রে,,, পাগলের মত কেন দৌড়াও? কি হয়েছে তোমার?
খুনি লোকটি বলে ভাইজান মনটা ব্যাথায় ব্যথিত।
১০০ জন মানুষকে খুন করলাম। আমার জীবনে আল্লাহর জাহান্নাম ছাড়া কোন উপায় নাই।
আমি তো আর বাঁচব না মরণ মনে হয় আমার সামনে চলে এসেছে। এতগুলো মানুষকে খুন করেছি, আমি কেমনে ওই কঠিন জাহান্নামের আগুন সহ্য করব? আমি কি কোন উপায় পাব রে ভাই?
(আল্লাহর ওলির মুরিদ এবং ভক্ত হলে কি হয়- সুরা ইউনুসের ৬৪নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেন, “আমার ওলি-আউলিয়াদের কাছে দুনিয়াতেও সুসংবাদ, আখিরাতেও সুসংবাদ।")
সাধারণ লোকটা বলে আয় আমার ভাই, আপনি কি করেছেন, আমি জানতে চাই না। অমুক এলাকায় একজন আল্লাহর ওলী বাস করেন। উনার সঙ্গে আল্লাহ এবং নবিজীর প্রেমের সম্পর্ক আছে।
ওই ওলির কাছে যদি আপনি যেতে পারেন ভাই, আমার মনে হয় আপনার কোন ব্যবস্থা উপায় পেয়ে যাবেন।
(নিভে যাওয়া বাতি তাড়াতাড়ি জ্বলে উঠল)
চিৎকার দিয়ে উঠল ভাইজান রে, আমি ওলির কাছে গেলে যেকোন উপায় পেয়ে যাব এইটা যখন তুমি বলেছো। এই যে দেখ নাঙ্গা তলোয়ার ফেলে দিলাম। তলোয়ার আর হাতে রাখলাম না। তোমার দাওয়াত পেয়ে যাচ্ছি আমি ওলির দরবারে তওবা করার জন্য। তওবা করার জন্য ১০০টি খুনকারী ওই লোকটি পাগলের মত দৌড়ায় । কেবলমাত্র একটা লাফ দিয়েছে আল্লাহর ওলির দরবারে তওবা করার জন্য।
সেই মুহুর্তে আজরাঈল আলাইহিস সালাম তার জান-টা কবজ করে ফেললেন। সঙ্গে সঙ্গে চলে আসল আযাব-গজবের ফেরেস্তারা। উনারা এসে বলে এ তো ১০০ জন কে খুন করেছে। একে জাহান্নামের সিজ্জিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছি।
তখন ইল্লিনের রহমতের ফেরেস্তারা পাগলের মত দৌড়ায় আর বলে ক্ষবরদার। এই ব্যক্তি খালিছ তওবা করার জন্য ওলীর দরবারে যাচ্ছিল। তওবার নিয়ত করেছে। আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে গেছে।
ওকে আমরা জাহান্নামে নিতে দিব না।
আমরা ওকে জান্নাতের ইল্লিনে নিয়ে যেতে চাই।
আল্লাহপাকই দুইটা দল ফেরেস্তাকে পাঠিয়েছেন। একদল ফেরেস্তা জাহান্নামে নিয়ে যাবে, আরেকদল জান্নাতে নিয়ে যাবে।
এমতাবস্থায় আল্লাহপাক জিব্রাইল আলাইহিস সালাম কে বিচার করার জন্য পাঠাচ্ছেন। আয় আমার জিব্রাইল আলাইহিস সালাম যান যান ঐ জায়গায় গিয়ে রহমতের ফেরেস্তা আর যহমতের ফেরেস্তাকে আপনি শান্ত করে দেন। ওই ব্যক্তি আমার ওলী বান্দার কাছে তওবার নিয়ত করে ফেলে। তওবার জন্য যদি ওলির দরবারে যাওয়ার ওই ব্যক্তির এক পা বেশি হয়ে যায়। আর ওলীর রাস্তায় যাওয়ার পথটা যদি বেশি হয়ে যায় ওই জায়গা থেকে ওলির দরবার পর্যন্ত তওবার জায়গা পর্যন্ত, যদি ৫ মাইল রাস্তা হয় তার মধ্যে যদি সে ৩ মাইল গিয়ে থাকে তাহলে ওর তওবা কবুল করে আমার ওলীর ওছিলায় আমি ওর জন্য জান্নাত বরাদ্দ করেছি। ওর জীবনের গুনাহ আমি আল্লাহ মাফ করে দিয়েছি।
আর যদি ৫ মাইলের মধ্যে ২ মাইল গেল ৩ মাইল যেতে পারে নাই তাহলে যহমতের (আজাব-গজবের) ফেরেস্তার কাছে জানটা দিয়ে বলেন ওর তওবা কবুল হয় নাই।
জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম আসতেছেন। আল্লাহ পাক বলেন রে,,, আমার জমিন আমি আল্লাহ যাকে মাফ করতে চাই, আমি আল্লাহ যাকে ভালবাসি তার উপরে কোন প্রকার কোনো রকমের রাস্তা আমি খোলা রাখি না। এ জমিন, ও তো একটা পা দিয়েছে, ওই একটা পা ওলির দরবারে যাওয়া বেশি হয়ে যা। এক পা বাড়িয়ে দিয়ে বেশি রাস্তা করে দেওয়া হলো। আর কম রাস্তা হলো আল্লাহর ওলির দরবারে যেতে সামান্য রাস্তা বাকি।
জিব্রাঈল আলাইহিস সালাম মেপে রহমতের ফেরেশতা এবং যহমতের ফেরেস্তাদেরকে বলে দিচ্ছে, ইনি তো তওবা করেছে, তওবা আল্লাহর ওলীর ওছিলায় কবুল হয়ে গেছে। (আল্লাহু আকবার)
__________________________________
এই হাদিস শরীফের ঘটনা থেকে আমাদের অনেক শিক্ষার প্রয়োজন আছে। এখনতো আল্লাহপাকের হক্কানি ওলীদের কাছে এক শ্রেণির বেঈমান মুন্সিরা যেতে নিষেধ করে। অথচ হক্কানি ওলি-আউলিয়াদের সোহবত ইখতিয়ার করা ফরজ। আমাদের জীবনে অনেক রকমের গুনাহখাতা রয়েছে। কিন্তু এগুলো গুনাহ মাফ পাওয়ার জন্য হক্কানি ওলিদের মাধ্যমে আল্লাহপাকের নিকট খালিছ তওবা করতে হবে।
মাওলানা রুমি রহঃ বলেছেন, " এক মুহুর্ত আল্লাহর ওলীর সাহচর্যে থাকা, একশত বছর বে-রিয়া নফল ইবাদতের সোয়াব অপেক্ষা উত্তম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now