বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সবাই বলছে এতো করে, যা না, দেখা করে আয় না ঐ ছেলেটার সাথে..
মাথা তেল চুপচুপ করে দিয়ে শক্ত করে বেণী বাঁধছেন মা। আর মার কোলের কাছে ঠাণ্ডা মেঝেতে আরাম
করে বসে আছে মিলি। খোলা জানলা দিয়ে হু হু করে ঢুকে পড়ছে রাতের বাতাস। নগরীর কোলাহল শোনা যাচ্ছে, তবে অনেক ধীর লয়ে। রাত পৌনে বারটায় এই মাঝ-শহরও স্থবির হয়ে পড়ে।
মিলির ঘুম পাচ্ছিল খুব। অন্যমনস্ক স্বরে বলে ওঠে- কোন ছেলেটা?
মাথায় আলতো একটা চাপড় দিলেন মা! - কোন ছেলেটা আবার কি? যে ছেলেটা গত সপ্তাহে এসে দেখে গেল তোকে। তোর বাবার কলিগের ছেলে। নাম যেন কি..ও হ্যাঁ আবীর..
মিলি- ও আচ্ছা। তা ও কোথায় দেখে গেল! চোখ বড় বড় করে আমিই তো তাকিয়ে দেখছিলাম বারবার! তাকে তো তাকাতে দেখলাম না একবারও!
মা- আহা ভদ্র ছেলে! তোর মত ইঁচড়ে পাকা নাকি? তাছাড়া তুই কোন মহাসুন্দরী এসেছিস যে সে বারবার
তাকিয়ে দেখবে?!
মিলি- আচ্ছা বেশ, মহা-টহা না.. কিন্তু চলনশীল সুন্দরী বলেই তো তাকিয়ে দেখবে, বৌ হিসেবে আদৌ তার চলবে কিনা!
- খালি প্যাঁট প্যাঁট কথা!
মাথায় মার দ্বিতীয় চাপড় পড়ল এবার! - যা ঘুমা এখন, আর কাল বিকেল চারটায় আবীরের সাথে দেখা করতে যাবি তুই। ওর মাকে আমি বলে দিয়েছি..
- মা...
মিলির কাতর গলাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলেন মা!
- কিসের মা?! ঝুলায়ে রাখব নাকি সম্পর্কটাকে? ছেলের পরিবার রাজি, আমরা রাজি, ছেলেও বেচারা নিমরাজি! শুধু আমার মেয়ের এদিকে দেখা করবার সময় হচ্ছেনা!
ধ্যাত!- আপনমনে বলল মিলি।
তারপর ঘুমানোর আগে মুখ ধুতে গিয়ে আয়নায় চোখে পড়ল, গালের উপর সদ্য গজিয়ে ওঠা বিশাল ব্রণটা!
- এইবার ভাল হইছে! ব্রন গালে নিয়ে, আমার সবচেয়ে পুরোনো ড্রেসটা পরে কোনরকম সাজগোজ ছাড়া দেখা করতে যাব কালকে। দেখেই রিজেক্ট করে দিবে। বিয়ের ভুত পালাবে ব্যাটার মাথা থেকে!
পরদিন বিকেলে..
রেস্টুরেন্টে ঢুকেই ঘড়ি দেখল আবীর। নাহ চারটা বাজেনি এখনো। মিলির ছোটবোন তুলি বলছিল, মিলি খুবই সময় সচেতন। আর এটাও বলেছে যে মিলি একটা সুযোগ খুঁজছে শুধু সম্বন্ধটা ভেস্তে দেওয়ার। তাই তুলি আর আবীর ব্যাপারটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নিল!
আজ সবকিছু মিলির পছন্দমত হবে এখানে..আবীরের গায়ে অ্যাশ-নেভি ব্লু চেকচেক শার্ট, টেবিলে রাখা হলুদ গোলাপ তোড়া, একটা নতুন কেনা মোহনীয় সুগন্ধি যেটার প্রায় অর্ধেক বোতল ও ঢেলে দিয়ে এসছে নিজের গায়! এমনকি, হালকা সুরে যে গানটা বাজছে রেস্টুরেন্টে ত মিলির পছন্দের.. জানে আবীর! আরে ও নিজেই তো বলে দিয়েছে বাজাতে! এতো করেও যদি এই মেয়ে 'না' বলে, কিচ্ছু করার নেই আবীরের। ও তো 'হ্যাঁ' প্রায়
বলেই দিয়েছিল..অ্যারেঞ্জ বিয়েতে আবার এতো বাছাবাছি কিসের! মেয়ের ফ্যামিলি ভাল, ভাল পড়াশোনা করছে, দেখতেও ঠিকঠাক। ব্যাস তার আর এমন কি চাহিদা! তাছাড়া সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট
হল বাবা মা চাইছেন.. কিন্তু না! মহারাণী নাকি কনফিউজড, তুলি বলল সেদিন! অথচ তুলির সাথে রীতিমতো ভাব হয়ে গেছে আবীরের। চটপটে পিচ্চিটা ওকে ডাকছে জিজু! আবীরও
ঠিক করে রেখেছে বিয়ের পর ছোটবৌ ডাকবে ওকে! কিন্তু বিয়েটা হলে তো!!
ঠিক চারটায় ঢুকল মিলি। এক কোনে বসা আবীর হাত নাড়ল..
আমার ফকিরনী দশা! আর উনি? বেশ তো গোল্টু গোল্টু নায়ক সেজে আসছে!- আপনমনে হাসল মিলি..
তারপর চেয়ার টেনে বসতে গিয়েই.. "হ্যাঁএএচ্ছো ও ও ও" বিশাল একটা হাঁচি দিল ও!
আবীর- কি ব্যাপার এসিতে ঠাণ্ডা লাগছে নাকি? আপনার তো আবার অল্পতেই..
মিলি- না একটা গন্ধ আসছে কোথা থেকে..
আবীর- গন্ধ!
মিলি- না, কিছুনা। আমি..আমি আসলে বসবনা বেশিক্ষণ। কিছু কাজ আছে আমার।
আবীর- তো খাবেন না কিছু?
মিলি- না না.. আমি আজ দুপুরে খেয়েছিই দেরী করে। আপনি খান।
নিজের জন্য একটা কফির অর্ডার দিয়ে একটু নড়েচড়ে বসল আবীর। হঠাৎ খেয়াল হওয়াতে ফুলগুলো বাড়িয়ে দিল..
মিলি- হলুদ গোলাপ?
হ্যাঁ!.. আবীরের মুখে দিগ্বিজয়ী হাসি! ভাবখানা, "রমণী এই গোলাপেই আমি করিব তোমার হৃদয়হরণ!"
মিলি- কি একটা বোরিং গান বাজছে তাইনা?
আবীর- কেন! রবীন্দ্রসঙ্গীত আপনার পছন্দ না?
মিলি- পছন্দ.. কিন্তু শুধু সকালে আর মাঝরাতে! এর মাঝখানে আমি অন্য গান শুনি!
-ওহ.. দমে গেল আবীর!
মিলি- আর..দোকানে আর ফুল ছিলনা তাইতো?
এবারে আবীর খাবি খেল রীতিমতো - মানে?!
আমি তো জানতাম হলুদ গোলাপ আপনার..মানে অনেকেরই প্রিয় ফুল.. তাছাড়া সুন্দরও তো..
মিলি- হ্যাঁ সুন্দর, কিন্তু আজকের আকাশটা দেখেছেন? কালো কালো মেঘগুলো কেমন এক হয়ে আছে.. দেখেছেন? গাঢ় লাল গোলাপ হলেই না জমত এর সাথে!
- ও আচ্ছা.. এবারে কালো মেঘের সাথে গাঢ় লাল গোলাপের মিল খুঁজতে বসল আবীর!
বেচারার মুখভঙ্গি দেখে হাসি পেল মিলির। হাসি চাপতে গিয়ে খান তিনেক হাঁচি দিয়ে ফেলল আবারও!
আবীর- আমি কি কিছু করতে পারি?
মিলি- হ্যাঁ টিস্যুটা দিন..
আবীর- টিস্যু?!
অধৈর্য হয় মিলি- বলছি একটা টিস্যু তো দিন.. আরে আপনার পাশেই, গ্লাসটায় আছে..
- ওহ তাইতো!
দু'হাতে টিস্যু সমেত গ্লাসটা বাড়িয়ে ধরল আবীর! তারপর হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে সশব্দে কফির কাপে চুমুক দিল!
এবার আঁতকে উঠল মিলি- হায় হায় আপনি এভাবে কফি খান??
এই সেরেছে! কত প্র্যাকটিস করে এসেছে আজ শব্দ ছাড়া কফি খাবে! কিন্তু না.. সব গুবলেট হয়ে গেল!
আবীর- না মানে, মাঝে মাঝে বেখেয়ালে..
মিলি- হুমম.. তা তুলির সাথে কথা হয়েছে আপনার?
আবীর- তুলির সাথে? না না.. ওকে তো শুধু দূর থেকে দেখেছিলাম, ওই যে আপনাদের বাসায় গেলাম যেদিন..
মিলি- ও আচ্ছা.. আসলে কাল না অনেক রাত অবধি কার সাথে জানি কথা বলছিল তুলি। আমি পাশেই শুয়েছিলাম, ও ভেবেছে ঘুম। আমি আবার খুব ভাল নাক ডাকার অভিনয় করতে পারি তো! তো..সে তখন জিজু জিজু করছিল!
আবীর- কিন্তু আমি তো ওর জিজু হইনি এখনো!
মিলি- হুমম তাও ঠিক! কিন্তু এই হলুদ গোলাপ, অ্যাশ-নীল চেকশার্ট, রবীন্দ্রসঙ্গীত.. সব যে ওর বর্ণনার সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে আবীর.. ভাই?!
আবীর- অ্যাঁ!.. ইয়ে মানে.. শুধু আবীরই ভাল, ভাইটা বাদ থাক!
মিলি- আচ্ছা আচ্ছা ভাই বাদ! কিন্তু সমস্যা হল, হড়বড় হড়বড় করতে গিয়ে তুলিটা পুরো কথা বলেনা। সুগন্ধি আমার পছন্দ, কিন্তু কিছু স্পেসিফিক ব্র্যান্ডে আবার অ্যালার্জি আছে, যার একটা আজ আপনি বহুল
পরিমানে গায়ে মেখে আছেন! চেকশার্টটাও সুন্দর, কিন্তু শার্টের উপর দিকের বোতাম দুইটা খোলা! এই বুকের লোম দেখানো স্টাইলটা পুরনো! সেকেলে নায়কদের ছিল, আর আজকালকার বখাটে ছেলেদের আছে! এক্ষেত্রে মেয়েরা আর শার্ট দেখেনা, চোখ সরিয়ে নেয়!!
কিছুক্ষন কথা খুঁজে পায়না আবীর! বোতাম দুটো লাগিয়ে নিয়ে হালকা গলাখাঁকারি দেয় সে..
আবীর- আসলে আসার পথে জ্যামের মধ্যে এতো গরম লাগছিল..আর আসলে দেখুন, আপনার সম্বন্ধে যেটুকু জেনেছি আমার ভাল লেগেছিল। বাবা-মার পছন্দে অমত করার কোন ইচ্ছাও তখন হয়নি। কিন্তু যখন দেখলাম আপনিই না বলে ফেলবেন, আত্মসম্মানে লাগল খুব। আমার মত সুপাত্র কে না বলবে! তুলির কাছে জেনে নিলাম আপনার ছোটখাটো পছন্দ-অপছন্দগুলো, শুনলাম কত তুচ্ছ বিষয়ে খুশী হয়ে যান আপনি! ভাবলাম,মেয়েটাকে ইমপ্রেস করে ফেলি প্রথম আলাপেই! পরেরটা পরে দেখা যাবে। কিন্তু আপনি যখন সব বুঝেই গেছেন.. তখন আর লুকিয়ে কি লাভ! নাউ দ্যা ডিসিশন ইজ ইয়োরস..
মিলি- হুমম.. তুলি আপনাকে ঠিকই বলেছে, খুব তুচ্ছ বিষয়েই খুশী হয়ে যাই আমি! যেমনটা হয়েছি কাল রাতে তুলিকে আপনার সাথে এতো ফ্রিলি কথা বলতে দেখে.. ও জিজু ডাকছিল, ভাইয়ু ডাকছিল আপনাকে! একদিনের পরিচয়ে আমার ভীষণ আদরের বোনটাকে আপনি আপন করে নিয়েছেন.. আমি খুশী হয়েছি! তারপর যেদিন আমাদের বাসায় এলেন সেদিন, মার বানানো চিংড়ীর মালাইকারীটা একদম অখাদ্য হয়েছিল! তবু আপনার পাতে তুলে দেওয়াতে আপনি না করেননি। ভীষণ কষ্ট করে হাসিমুখে খেয়েছেন পুরোটা,
মানে আপনার সহ্যশক্তি চমৎকার! ভদ্রতার প্রলেপ আপনার স্বভাবগত, আরোপিত নয়.. তারপর আজ, এতো কষ্ট করে সবকিছু প্ল্যান করলেন...!
আবীর- তাতে কি! মিলল নাতো কিছুই! গোমড়া মুখে বলল আবীর।
মিলি- কত কবি জীবনভর শুধু ভেবে গেল, আর আপনি একটা ফোন কলেই বাজি মারতে চেয়েছিলেন?! নারীহৃদয়.. বোঝা এতো সহজ না মিস্টার!!
আবীর- তো এখন? উত্তরটা 'না'.. তাইতো? আর শেষের মন্তব্যগুলো আমার কনসোলেশন প্রাইজ!
মিলি- হুমম.. বেশ বুঝেছেন। এখন যাচ্ছি আমি।
আবীর- আচ্ছা, ভাল থাকবেন.. আর তুলিকে বলবেন মাঝে মাঝে ফোন করতে ওর ভাইয়ুকে..চলে গিয়ে আবার পেছন ফিরল মিলি।
- এই যে! কফির বিলটা দিয়ে আপনিও আসুন.. ধমক চড়ায় মিলি গলায় !
আবীর- মানে?!
মিলি- মানে, এমন মেঘলা একটা বিকেলে, রোম্যান্টিক বাতাস-টাতাস বইছে সব.. তার মাঝে অ্যাশ-নীল চেকশার্ট গায়, আমার হ্যান্ডসাম হবু হাসব্যান্ডকে ফেলে আমি একলা একলা ঘুরি আর ওর চোখে তাকিয়ে শুধু..
মৃদু হাসল আবীরও..হাসলে বেশ সুন্দর একটা টোল পড়ে ওর ডান গালে..মিলি ভাবল- পরে ছুঁয়ে দেবে একসময়!!
"তুমি কি ভুল বোঝা প্রহর, গানেরি সুর ভোলা রাতে,
আমারি বেদনা মুছে, কিছু গোলাপ দেবে হাতে..
তুমি কি হবে অনেক আশার মেঠো, পথে জ্বলা প্রদীপ জোনাকি..
তুমি কি বল আসবে, পথ ভোলা নদীর দেশে
ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাসাব হৃদয়, হবো দুজন সাথী"......
লিখাঃ Misty Meye
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now