বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঝাটা দিয়ে আমার পায়ের তলায় শুড়শুড়ি দিয়ে ঘুম ভাঙায় মিতু৷
আমি লাফিয়ে উঠে বসি৷
আজ ছুটির দিন৷ রাগ সংবরণ করে মিতুকে বললাম,
অবেলায় ডাকছো কেন?"
মিতু বাঙালি রমণীদের চিরচরিত নিয়ম বজায় রেখে বলল,
যা বাজারে যা৷"
বান্ধবী প্রেমিকা বিয়ে করলে এই সমস্যা৷ এরা সবসময় রোমান্টিক থাকে না, এরা ক্ষেত্রবিশেষে ভালোবাসে৷ আর ক্ষেত্রবিশেষটা কালেভদ্রে এসে হাজির হয়৷
এরা তুমি বলে কম, তুই বলে বেশি৷ প্রতিবাদ করলে বলে,
ভালোবাসার সময় বৌ৷
অন্যসময় বান্ধবী৷"
আমি মনের কথা মনে রেখে দিলাম৷ চোখ কচলে বাজারের লিষ্ট হাতে নিই৷
মিতু প্রস্থান করার জন্য পেছন ফিরলো৷ আমি মিতুকে ডাক দিয়ে বললাম,
আসো কবিতা শোনায় দু'লাইন৷
মিতু কাছে আসে না৷ কয়েক হাত দূর থেকে বলল,
শোনা কবিতা৷"
আমি বায়না ধরলাম,
কাছে না আসলে কবিতা শোনাবোনা৷"
-আসবোনা৷"
বলে আবার চলে যেতে চায় মিতু৷ আমি আবার থামায়৷
তারপর বলি,
"কেউ কথা রাখেনি,
বান্ধবী কাম প্রেমিকাও না৷
সে বলেছিল, ভেজা চুলে জমে থাকা পানি দিয়ে ঘুম ভাঙাবে৷
এখন সে ঝাটার শুড়শুড়িতে ঘুম ভাঙায়৷
কেউ কথা রাখেনি..."
মিতু কবিতার প্রশংসা না করেই চলে গেল৷
কবিতা ভালো হয়নি?"
থাক, বাজার করে ফেরার সময় আবার বানাবো৷"
অথচ কবিতা আমার প্রিয় না বলে এই মেয়েটা আমার সাথে অভিমান জমাতো৷ ভার্সিটির হাসিব ভাইকে দেখিয়ে বলতো,
দেখেছো হাসিব ভাই কি সুন্দর কবিতা বলে?
তুমি এতো ক্ষ্যাত ক্যান?"
আমি বলতাম,
আচ্ছা স্মার্ট হতে হলে, কার কবিতা পড়তে হবে?"
মিতু বলতো,
রবি,কাজী, সুনীল!"
-এরা কারা? তোমার কাজিন?"
-না৷
-বন্ধু? বান্ধবীর প্রেমিক? রিলেটিভ?"
মিতু রেগে লাল গোলাপী হয়ে বলতো,
রবীন্দ্রনাথ, কাজী আর সুনীল গং এর কথা বলেছি৷"
আমি মিনমিন করে বলতাম,
ও সেটা বলো৷ এমন ভাবে বলছো যেন, ওরা তোমার কাজিন বা বন্ধু৷
অথচ হিসেব করলে রবীন্দ্রনাথ তোমার দাদারও বড়৷"
মিতু একদিন চরম রেগে বলল,
তুই কাল থেকে পান্জাবী পরবি৷ তারপর কবিতা শোনাবি আমাকে৷
আমি বান্ধবীবের তোর কবিতা শোনাবো৷"
আমি পড়ে গেলাম চরম বিপদে৷ শেষে হাসিব ভাইয়ের হাতে পায়ে ধরে কিছু কবিতা চাইলাম৷
উনিও কম যান না৷ কপিরাইট শর্ত বাবদ পকেট খসিয়ে নিলেন৷"
তারপর আমি মোটামুটি ধরনের কবি হলাম৷ গুগলে খুঁজে সুনীলের কবিতা আমার ভালোলেগে গেল৷"
দিন পনেরোর মধ্যে আমার কবিতা আবৃত্তি শোনার জন্য মিতুর বান্ধবী, ক্যাম্পাসের ছোট-বড় কিছু আপুরা পাগল হল৷
প্রথমে মিতুর ভালো লাগলেও, শেষে হিংসে হচ্ছে৷
মিতু টুপ করে আমাকে বিয়ে করে বসলো৷ বিয়ে করে খাওয়াবো কি?"
আমি আব্বার সামনে যেতে ভয় পেলাম৷ মিতু সাহসী৷ সে নিয়ে গেল৷
আব্বা আর না করেনি৷
সেদিন ফেইসবুকে একটি আত্মনির্ভরশীল ভিডিও দেখিয়ে সবাইকে বোঝালো৷
পরিবারও বুঝলো৷"
পড়ালেখা চলাকালীন বৌ এর জমানো টাকায় চললো৷ শেষে চাকরী হল৷
বৌ এখন দেয়ার বদলে নেয়৷
আমি দেয়ার সময় কবিতা শোনায়,
"কেউ কথা রাখেনি!
প্রেমিকা বলেছিল, তার জমানো টাকায় পকেট চলবে৷
চাকরী পাওয়ার পর সে পাল্টে গেছে৷
কেউ কথা রাখেনি৷"
"কিরে এখনো শুয়ে আছিস? আসবো নাকি?"
রান্নাঘর থেকে চিল্লায় মিতু৷ আমি ধড়ফড় করে উঠে বসি৷
বের হওয়ার সময় মিতুর কাছে বাড়তি টাকা চাইলাম৷
"বাবাকে দিয়ে ফেলেছি৷"
জবাব দেয় মিতু৷
আমি জানি সে বাবাকে দিয়ে ফেলেছে৷
আমার খরচের হিসাবটা তার বরাবর আছে৷ খরচের টাকাটা পকেটে রেখে বাকি সব বাবার হাতে তুলে দেয়৷
আমি ভাবি, আমি ভাগ্যবান৷"
ছুটিরদিন আসলেই আমার দূর্ভাগা মনে হয় নিজেকে৷ এদিন আমার বিড়ি টানার দিন৷ সেটা মিতু বুঝতে পেরে আমার পকেট খালি করে রাখে মহান বৃহস্পতিবারেই৷"
আমি হতাশ হয়ে বেরোনোর জন্য দরজার কাছে যাই৷ ছোটবোনকে দেখলাম, পায়ে নূপুর পরে উড়াউড়ি করছে৷
তাকে হাতের ঈশারায় ডেকে বললাম,
-আব্বার পকেট মারবি? ফিফটি ফিফটি?"
সে মুখ বাকিয়ে বলে,
-৭৫-২৫হবে?"
আমি "না" বলি৷
সে বলে,
আমাকে চোর ভেবেছিস?"
আমি তাকে বলি, আচ্ছা কবিতাটা শোন৷"
"কেউ কথা রাখেনি!
আমার আদরের বোনটাও না৷
আমার টাকায় চকলেট খেয়ে দাঁতে পোকা বাঁধানো ছোট বোনটাও না৷"
মেয়েটাও কবিতার প্রশংসা করলোনা৷"
রাস্তার মোড়ের টং দোকানের রহিম চাচাকে বললাম,
-চাচা বিড়ি দেন বাকিতে!"
চাচা ফোকলা দাঁতে হেসে বলে,
বৌমা বারণ করেছে৷ বিড়ি বাকি দিতে৷"
আমি হাসলাম৷ চাচাকে কাছে ডেকে বললাম,
আচ্ছা কবিতা শুনেন৷"
"কেউ কথা রাখেনি!
আমার রহিম চাচাও না!
একসময় আমাকে সেরা বিড়িখোর কাষ্টমারের উপাদি দেয়া রহিম চাচাও না৷"
আমি দুঃখ পেলাম চাচা!
চাচা বলল,
ফ্রি তে চা খা বাজান৷ তবুও দুঃখ পাইস না৷"
বাজারে আসলাম৷ পেয়াজের ধর শুনে৷ পেয়াজ ব্যাপারীকে বললাম,
"কেউ কথা রাখেনি!
পেয়াজও রাখলোনা৷
নির্যাতীত স্বামীগণ বৌ দ্বারা পেয়াজ কাটিয়ে তাদের চোখের জলে ভাসাতে পারেনি অনেকদিন৷
সত্যিই কেউ কথা রাখেনি৷"
তবুও পেয়াজ কিনলাম৷ ঝাজ কম৷
ফোনটা বাজছে পকেটে৷ ফোনের ওপাশ থেকে ছোটবোন বলল,
ভাইয়া খুশির খবর!"
আমি ভেবে বললাম,
কেউ কথা রেখেছে?"
ওপাশ থেকে টুপ করে ফোন কেটে গেল৷"
আমি বাড়ির পথে রওনা হলাম৷ আর মনে মনে ভাবছি,
কেউ কথা রেখেছে?
কে কথা রেখেছে?
কী কথা রেখেছে?
বিড়িওয়ালা,পেয়াজওয়ালা, ছোটবোন, নাকি মিতু?"
কে কথা রেখেছে?"
ঘরে ঢুকতেই মুখে মিষ্টি পুরে দিল আব্বা৷ ভদ্রলোক বুড়া বয়সে লাফাচ্ছে৷
আমি বললাম,
কে কথা রেখেছে?"
আব্বা বলল,আমি দাদা হচ্ছি৷"
আমি জানালার বাইরে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললাম,
তুমি কথা রেখেছো৷"
এখন আমি মিতুর পেটের কাছে কান নিয়ে রোজ বলি,
কেউ কথা রেখেছে!
কেউ কথা রেখেছে!"
মিতু ভ্রু কুচকে বলে,
পাগলের মতো এসব কি বলো?"
আমি চশমা নেড়ে বলি,
নয়তো মেয়েও কথা রাখেনি খপ্পরে পড়বে৷"
৬বছর পর,
এখন মেয়ে আমার বড় হয়েছে৷ বুড়ি হয়েছে৷
ফেইসবুকে ঢুকে দেখলাম৷
ইংরেজীতে মানুষ লিখছে,
"gonna tell my kids"
আমি দু'চারজন ছেলে মেয়ের প্রোফাইলে ঢুকলাম৷
এদের কারো এখনো খৎনা হয়নি অথবা মেয়েগুলো নাক ফুঁড়ায়নি৷
এরাও বলছে "টেল মাই কিডস"
আমার নিজেকে "টেল মাই কিডস" না বলা ক্ষ্যাত মনে হলো৷
মেয়েকে আম্মাজান বলে ডাকতেই কোলে এসে বসলো৷"
আমি কবিতা বলছি,
কেউ কথা রাখেনি৷
তোর মা ও না৷"
আমার কথা রাখেনী শুনে মেয়ে তার মাকে ডেকে আনে৷
মিতু এসে বলে,
কী কথা রাখিনি?"
আমি মেয়ের কান দু'হাতে বন্ধ করে বলি,
ঐ পাড়ার ছেলেরা প্রেমিকা দেখিয়ে দেখিয়ে আইসক্রিম চুষে খেল৷
আর আমি আবদার করলেই বলতে,
একদিন আমরাও খাবো...
কই সেদিন তো আসেনি!
নাহ! কেউ কথা রাখেনি৷"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now