বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
******কেন এমন হয়*******
মুন আর মুরাদের সম্প্রকটা তিন বছরের । দুই জন দুইজনকে খুব গভীরভাবে ভালোবাসে। একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতে পারবে না বলেই সাহস করে ওরা ওদের পরিবারকে জানিয়ে দিল। খোজঁখবর নিয়ে উভয় পরিবার ওদের বিয়েতে সম্মতি দিল। শুক্রবার ওদের বিয়ের দিন ঠিক করা হল।
বুধবার মুরাদ ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে্য রওয়ানা দিল। চোখে মুনকে নিয়ে সংসার করার, ভালোবাসার ঘর বানানোর একরাশ স্বপ্ন। কাল ওর হলুদ ভাবতেই ওর মন খুশিতে ভরে গেল। আর মাত্র দুইদিন তারপরই ও ওর মনের মানুষকে চিরজীবনের জন্য আপন করে পাবে। ভাবতেই কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতিতে ওর গা শিউরে উঠল। কিন্তু বিধাতার ইচ্ছে কেই বা বুঝতে পারে । মুরাদ যে বাসে ছিল সে বাসটা অ্যাক্সিডেন্ট করল।
মুন খুব খুশি। দুদিনবাদেই ও মুরাদের বুকে সারাজীবনের জন্য আশ্রয় নিবে। কত পরিকল্পনা করল নতুন সংসার নিয়ে। সন্ধ্যার দিকে ও মুরাদকে ফোন দিল। কিন্তু ওর ফোন বন্ধ পেল। ভাবল কোন কারণে হয়তো ফোন বন্ধ করে রেখেছে ।
রাত ৯ টার দিকে মুরাদের বোন জুথি মুনকে ফোন দিয়ে কেঁদে কেদেঁ বলল,"মুন,ভাইয়া আর পৃথিবীতে নাই। ঢাকা থেকে আসার পথে বাস অ্যাক্সিডেন্টে......" । মুন একটা ধমক দিয়ে ওকে থামিয়ে দিল । বলল,"বাজে কথা বাদ দাও , কি বলতেছো এইসব ?" জুথি ফুপিঁয়ে কেদেঁ বলল," ভাইয়ার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। রাতেই দাফন করা হবে। তুমি একটা সি এন জি নিয়ে চলে আসো।" বলেই লাইনটা কেটে দিল।
কথাগুলো কিছুতেই বিশ্বাস করল না মুন। যদিও কেন যেন স্বপ্ন ভাঙ্গার কষ্টটা ওর বুক চুরমার করে দিচ্ছে। পাগলের মত ছুটে গেল ও সি এন জি স্টেশন । রাত তখন ১০ টা বাজে । গ্রামের স্টেশন। কোন সি এন জি নেই স্টেশনে। অনেকক্ষণ পর একটা সি এন জি আসল। মুন সিএনজিটা রিজার্ভ করে গন্তব্যস্থলের দিকে রওয়ানা দিল।
জনশূণ্য পথ। রাস্তার দুইপাশে গাছের সারি নিশ্চুপ দাড়িয়ে আছে। চাদঁটাও তেমন আলো দিচ্ছে না। মুন বসে বসে ভাবছে," নিশ্চয়ই মুরাদ আর জুথি মিলে ওর সাথে মজা করছে। আগেও এমন অনেক মজা করেছে ওরা।যদিও এরকম সংবাদ নিয়ে মজা করে নি।তবে যদি এটা মজা হয় তাহলে আজ গিয়ে মুন জুতির লম্বা চুলের বেণীটা কেটে দিব। আর মুরাদকে এই রাতের বেলাতেই পানিতে গোসল করাবে।" ভাবতে ভাবতে অর্ধেকটা পথ চলে আসল। এইখানে রাস্তার দুইপাশে বেশ ঘন জঙ্গল। হঠাৎ-ই সি এন জি টা থেমে গেল। সি এন জি চালক বলল," আপা,একটু সি এন জি থিক্যা নাইম্যা খাড়াঁন। চাক্কা পাংচার হইয়্যা গেছে। নতুন চাক্কা লাগামু।" মুন নেমে রাস্তার পাশে দাড়াঁল। কেউ কোথায়ও নেই।চারদিক নিশ্চুপ।শুধু মাত্র গাছের ডালে কয়েকটা পাখির ডানা ঝাপটানো শব্দ শুনা যাচ্ছে। কিন্তু মুনভাবতেই পারে নি ওর পিছনে চালকরূপী হিংস্র জন্তুটা পৈশাচিক ইচ্ছা নিয়ে দাড়িঁয়ে আছে। হঠাৎই সি এন জি চালক ঝাপিঁয়ে পড়লো মুনের উপর। যৌনতার পৈচাশিক খায়েশ পূরণ করতে চালকরূপী জন্তুটা মুনের শরীরটা ছিড়েঁ কুড়েঁ খেল। আশা মিটিয়ে অর্ধ নগ্ন জ্ঞানশূণ্য মুনকে জঙ্গলে ফেলে পিশাচ জন্তুটা চলে গেল। একদিকে স্বপ্নভাঙ্গার এক বুক অসহ্য কষ্ট অন্যদিকে পাশবিক অত্যাচার দুইটা একসাথে সইতে না পারে মুনও চলে গেল মুরাদের মত পরজগতে।
পরদিন সকালে মুনের নিথর দেহটা জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হল।ওর পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হল। দাফন করা হল ওর নিজের গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে। অন্যদিকে মুরাদেরও স্থান হল ওর পারিবারিক কবরস্থানে। কত আদরের ,কত স্বপ্নের ভালোবাসার শেষস্থান হল মাটির নিচে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now