বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কে খুনী? ৭ম ও শেষ পর্ব

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X মামা তার রবারের দুই জোড়া জুতা থেকে এক জোড়া নিজে পরে নিলেন।বাকি জোড়া দিলেন আমাকে।এরপর আমরা বের হলাম। কোথায় যাচ্ছি আমি এখনো জানিনা। রাস্তায় মুহিব সাহেবকে দেখলাম। কোথায় যেন যাচ্ছেন তিনি। আমি মামার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়লাম। তাই তাদের কথা শুনতে পেলাম না। আরে এটাতো লতিফ সাহেবের বাড়ি।পেছন দিক দিয়ে যাচ্ছেন কেন মামা?বুঝলামনা। প্রাচীর টপকে ভিতরে প্রবেশ করলাম আমরা। রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি হবে।বিদ্যুৎ চলে গেল। মামা একটু নড়েচড়ে বসলেন। মামাকে নিচু স্ব্ররে জিজ্ঞাসা করলাম,"এদিকে কার রুম মামা?মানে কে থাকে?" মামা বললেন,"সরোয়ার।" "তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো কেন?" "চুপ।একদম চুপ।কোনো কথা নয়।" মামার হাতে দেখি একটা রিভলভার। চাঁদের হালকা আলোতেও স্পষ্ট দেখলাম দুরে নড়ে উঠলো একটা ছায়ামূর্তি। পা টিপে টিপে এগিয়ে আসছে জানালার দিকে।আমার বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেল।কে হতে পারে লোকটা? সরোয়ার?নাকি অন্য কেউ? তার হাতেও আছে মারণাস্ত্র। কিছু একটা লাগিয়ে নিল সে পিস্তলের মুখে। আমরা আছি ঝোপের আড়ালে। তাই আমাদের দেখছেনা সে। বাড়ির এদিকটা এমনিতেই নানা ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ। যাহোক লোকটা হাত দিয়ে জানালার ঐপাশে কিছু একটাকে নিশানা করলো।ফ্যাঁত করে একটা শব্দ হলো শুধু।আবার। এভাবে পরপর তিন বার।আমার মাথাটা কিছুক্ষণের জন্য যেন পুরো ফাঁকা হয়ে গেল। লোকটা হঠাৎ চারিদিকে তাকাল। হতবুদ্ধি হয়ে দাড়িয়ে রইল।এমন সময় মামা বলে উঠলেন, কি হলো আবরার। কাজ ঠিকমতো করতে পারলেননা? বলেই ঝোপ থেকে বেরিয়ে তার দিকে পিস্তল তাক করে এগিয়ে গেলেন মামা।লোকটা মামার কথা শুনে একেবারে স্বাভাবিক রইল। ব্যাপার কি?হঠাৎ করে সেও পিস্তল তাক করল মামার দিকে। মামা একটা শিষ দিলেন।সাথে সাথেই সব ঝোপঝাড় থেকে টর্চের আলো এসে পড়ল লোকটার মুখে। হ্যা, আবরার। ঝোপ থেকে বেড়িয়ে এলেন ইন্সপেক্টর জাবেদ সাথে আরো কয়েকজন জুনিয়র অফিসার।তাদের সাথে আছে সরোয়ার। আবরার জিজ্ঞাসাবাদে যা জানাল তা হল, আবরার লতিফ সাহেবের ছেলে নয়।লতিফ সাহেব তার সৎ পিতা।তার বয়স যখন ৪ বছর তখন তার বাবা মারা যান। কিন্তু তার মাকে লতিফ সাহেবের পছন্দ হয় এবং বিয়ে হয়ে যায় তাদের। প্রথম দিকে আবরারকে বেশ স্নেহের চোখেই দেখতেন লতিফ সাহেব। কিন্তু পরে তা ধীরে ধীরে কমে যেতে লাগলো। ভালো ও ভদ্র স্বভাবের হওয়া সত্ত্বেও লতিফ সাহেব তাকে সহ্যই করতে পারতেন না।ব্যাপারটা আবরারকে মনে মনে কে খুনী হিংস্র করে তুলল।তা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো যখন সে জানতে পারলো তার বাবা নিজের সব অর্থ-সম্পদ নেশাখোর ছোট ছেলে সরোয়ারকে দিয়ে দিবে।তাই আবরার এটা করার আর সুযোগ দিলোনা লতিফ সাহেবকে।সেই রাতে আবরার সবার অলক্ষ্যে লতিফ সাহেবের রুমে যায়। প্রথমে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে। শেষে অবস্থা বেগতিক দেখে গুলি করে দেয় মাথায়। খুন করতে দেখে যান রফিক সাহেব।যদিও তিনি খুনীর চেহারা লক্ষ্য করেননি। আবরারও সেটা জানত না যদি না সে এর কয়েকদিন পর মামা,ইন্সপেক্টর আর আমার সাথে রফিক সাহেবের কাছে না যেত। এরপর সে রফিক সাহেবকে খুন করার চেষ্টা করে। তার গুলি লাগে রফিক সাহেবের বাম কাধে। যদিও সে গুলিটা বুকেই করতে চেয়েছিল। হার্টের অসুখ থাকায় অকস্মাৎ আক্রমণে হার্ট অ্যাটাকেই মারা যান রফিক সাহেব। কিন্তু তার ভাগ্য এবারো খারাপ হল। রফিক সাহেবকে খুন করতে দেখে ফেলে আবরারের সৎভাই সরোয়ার। আবরার ভয় পেয়ে যায়।সরোয়ার ব্যাপারটা পুলিশকে জানিয়ে দিতে পারে। সরোয়ারকে যেদিন পুলিশ ছেড়ে দেয় সেদিন ইউসুফ মামা সেখানে গিয়ে চাপা মেরে আসেন যে সরোয়ার খুনীকে দেখেছে পালিয়ে যেতে। আর রিস্ক নিতে চাইলোনা আবরার। সরোয়ারকে মারতে গিয়ে ধরা পড়ল হাতেনাতে। রুমে বসে আছি আমি,মামা আর মুহিব সাহেব। মুহিব সাহেব বললেন, আপনি কি কারণে এতবার বয়স জিজ্ঞেস করেছিলেন? মামা বললেন,আপনাকে প্রথম দিন দেখে ৪৫এর বেশি বয়স বলে আমার মনে হয়নি। লতিফ সাহেব যখন আপনার কলেজ লাইফের বন্ধু। তখন তার বয়সও আপনার সমান কিংবা বেশি হলে ২ -৩ বছরের বড় ছোট হওয়ার কথা। কিন্তু আবরারকে তার বাবার বয়স জিজ্ঞেস করায় সে বলেছিল পঞ্চাশ বছর। তাও কিছুক্ষণ ভেবে বলেছিল। পরে আপনার কাছ থেকে তার আসল বয়স জানলাম। শেষে আমি বুঝতে পারি আবরার তার আপন ছেলে নয়। আপনার কাছ তাই তার বয়সটা জানতেই হলো।আর হ্যা লতিফ সাহেবের চেয়ে তার চার বছরের বড়। সে বিষয়টা জানতেন? 'না।' এবার আমি বললাম, "মামা, তুমি আবরারকে সন্দেহের তালিকায় আনলে কখন আর সরোয়ারকেই বা কখন বাদ দিলে।" "সন্দেহ তো সবাইকেই করছিলাম। সরোয়ার আহত রফিক সাহেবকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল।এতে তার কাপড়ে রক্ত লেগে যায়। পরে রফিক বুঝতে পারলো যে সে ফেঁসে যাবে।তাই সে ভয়ে রক্তমাখা শার্টটা খুলে তার ঘরের আলনায় রাখে। পুলিশ তার ঘরে অনুসন্ধান করার সময় সেটা দেখে এবং থানায় নিয়ে আসে।আর সে একজন ভালো শ্যুটার ছিল।সে যদি গুলি করতো তবে গুলিটা বুকে অথবা মাথাতেই লাগতো।সে তো জেনে শুনে বিষপান করার মতো রফিক সাহেবকে তার সামনে গিয়ে সামান্য আঘাত করবেনা! আঘাত করলে তো তাকে মেরে ফেলার জন্যই করবে।ছুরি দিয়ে খুন করলে খুনীর কাপড়ে রক্ত পাওয়া যায়।কিন্তু গুলি করলে তা হয়না।এই দুই কারণে সরোয়ার আমার সন্দেহ থেকে বাইরে চলে গেল।সরোয়ার গিয়েছিল রফিক সাহেবকে ধার করা টাকা দিতে মারতে নয়। আবার রফিক সাহেবের কথায় লতিফ সাহেবের খুনী ঘরের ভেতরেই ছিল।এক্ষেত্রেও বেঁচে গেল সরোয়ার। কারণ জাবেদ সাহেব খোঁজ নিয়ে জেনেছেন সরোয়ার সেদিন বাড়িতেই ছিল না।তাই সন্দেহটা আবরারের দিকেই যায়। সরোয়ারকে যেদিন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল সেদিন আমি তার সাথে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম।বাড়িতে গিয়ে আবরারকে বুঝিয়ে এসেছি যে সরোয়ার খুনীকে দেখেছিল কিন্তু পুলিশকে সে মিথ্যা বলছে। অবশ্য তা সরোয়ারের অগোচরেই বলেছি।এও বলেছি যে সরোয়ারকে আবার গ্রেফতার করা হতে পারে।আবরার ব্যাপারটা চিন্তা করে ঘাবড়ে যায়।কারণ, সরোয়ার গ্রেফতার হলে টর্চারের ভয়ে সত্যটা বলে দিতে পারে। এদিকে সরোয়ারকে সেদিন তার রুমে থাকতে নিষেধ করেছিলাম।তার বদলে সে বালিশ রেখেছিল তার বিছানায়।এবং তাকে এই কাজটা অত্যন্ত সাবধানে করতে বললাম। সে আমার কথাটা রেখেছে।ইন্সপেক্টর জাবেদকেও আমি সেখানে উপস্থিত থাকতে বলেছিলাম।" মামার কথা এতক্ষণ শুনছিলাম আমি আর মুহিব সাহেব। কথা শেষে মুহিব সাহেব একটা চেক ধরিয়ে দিলেন ইউসুফ মামার হাতে। আমি মামার হাত থেকে চেকটা আমার হাতে নিলাম। টাকার পরিমাণের ঘরে লেখা ৪০,০০০/= টাকা। ...............সমাপ্ত...........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কে খুনী? ৭ম ও শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now