বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এইতো ৩২৩ এ বসা আছে ছেলেটি
মায়াবী সাবলীল চেহারা। যথেষ্ট লম্বাও আছে।
আমিই জিজ্ঞেস করলাম,
--কি হয়েছে?
ছেলেটি অনবরত বলা শুরু করলো,
--তার হাতে ছুরি ছিল না! কিন্তু মুখে কথা ছিল।
যেটা দিয়ে মাটিতে কিছু করতে না পারুক, আমার হৃদয়কে
ক্ষত বিক্ষত করতে পেরেছে! সুন্দর ভাবে আলতো করে
ধরে অনবরত এফোঁড়ওফোঁড় করেছে!উফ কি যন্ত্রণা!এখনো
আছে।
নির্লজ্জের মত জিজ্ঞেস করলাম,
--রক্ত বের হয়েছিল?
--না বের হতে দেইনি!
--কেন! এত ক্ষত হল রক্ত বের হল না কেন?
--আরে রক্ত বের হলে যদি ভালবাসা কমে যায় তাই শক্ত
করে বুক চেপে সহ্য করছিলাম!
--তাতে কাজ হল?
--হ্যা হয়েছে কিন্তু সামান্যটুকু চোখ ফেটে বের হয়ে
পড়েছে! কি করবো! আপনিই তো বলেন সহ্যেরও সীমা
আছে!
--তোমার অপরাধ কি ছিল?
হাসছে কেন ছেলেটা এভাবে! বিরক্ত লাগছে! আবার
জিজ্ঞেস করলাম,
--আশ্চর্য ! বলো?
--আমি তাকে তার থেকেও ভালবাসি!
--এখনো ভালবাসো?
--উম,বাসি!
--কত ভাবে ভালবাসো?
--যখন তার বয়স আর আমার বয়স ৮০ হবে তখনো এখন কার মত
ভালবাসবো! যখন অনেক রাত হবে তখন জেগে উঠিয়ে
কিছুক্ষণ ফাকা রাস্তায় হাটিয়ে বাকি রাত টুকু ছাদে
নিয়ে গান শুনাবো! বৃষ্টি যখনি হোক কাচের জানালার
পাশে বসে তার মাথাকে আমার বুকের সাথে লুকিয়ে
আমি বৃষ্টি দেখবো!"
--ভিজবে না?
--জানিনা!
--আহা! ছেলে! কাঁদছ কেন?
--আমি ওকে দেখতে পাচ্ছি! আমি ওকে সেভাবে ধরেও
রেখেছি যেভাবে বললাম!
--সে তোমার জগতে নাই! তাহলে আমিও দেখতাম!
ছেলেটি চোয়াল শক্ত করে প্রতিবাদের সুরে বললো,
--আপনি মিথ্যা বলছেন! আপনি দেখুন! এই যে ও আমার
বুকের ভিতরে মাথা দিয়ে বসে আছে!
--ও কি কাঁদছে?
--হ্যা
--কেন?
--আমার হৃদয় ক্ষত বিক্ষত করে ও ভাল থাকতে পারেনি
তাই কাঁদছে!
--এই কান্না যে ভালবাসার না জানো?
--না
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম,
--হ্যা ভালবাসার না,এটা হল মায়া থেকে কান্না!
তোমার জন্যে তার মায়া লাগছে তাই কাঁদছে!
--তাহলে বুকে মাথা রেখে আছে কেন?
--কারন তোমাকে ও বিশ্বাস করে তাই নির্ভয়ে মাথা
রেখে আছে! ও জানে তোমার দ্বারা ওর কোন ক্ষতি হবে
না! কিন্তু ও তোমাকে ভালবাসে না! এটা ধ্রুব সত্য!
--যাকে এত বিশ্বাস করে তাকে ভালবাসবে না কেন?
--অন্য প্রশ্ন করো!
--ভালবাসে না তো সারারাত ব্যালকনিতে আমার সাথে
গল্প করতো কেন?
--সারারাত গল্প ভাল লাগা থেকেও করা যায়!
--কিন্তু সারারাত ওর হাত আমি ধরেছিলাম! আচ্ছা
মানলাম কিন্তু মাথা ব্যথা হলে সারারাত মাথায় হাত
বুলিয়ে দিতো কেন?
--এটা করুণা!
--ধ্যাত! আপনি বড্ড বেশি বুঝেন!
ছেলেটি কাঁদছে!
অনবরত কাঁদছে! ছেলেরা কাঁদলে সচরাচর ভাল লাগে না
দেখতে কিন্তু একে সুন্দর লাগছে। হয়তো তার চোখের
জলে ভালবাসা এখনো রয়ে গেছে।
--আহা! কাঁদছ কেন? ছেলেরা কাঁদলে দেখতে ভাল
লাগেনা জানো না?
--ওর কি আমাকে ভালবাসা উচিত ছিল না?
ছেলেটা বড্ড বেশি বাচ্চাদের মত প্রশ্ন করছে! মেজাজ
খারাপ হচ্ছে আমার। সে আবার বললো,
--আপনি তাকে বেহেশতের পথ দেখিয়ে দিবেন তাহলে
আমি নরক ডিঙিয়ে হলেও বেহেশতে পৌছাবো কারন
শুনেছি ভালবেসে নরক ডিঙিয়েও নাকি বেহেশতে
যাওয়া যায়!
--তোমার সময় শেষ! ওইযে কবরের প্রহরী চলেও এসেছে!
আমার এখানে থাকা নিরাপদ নই! তুমি এখন মৃত! নিজের খুন
নিজেই করেছো! ভাল থাকা এবং বেহেসতে যাওয়া এখন
আর তোমার পক্ষে সম্ভব নই! তবুও ভাল থেকো!"
বলেই কবরস্থানের গেট পার হতে হতে শুনলাম ছেলেটি
বলছে,
--নরকও কিন্তু তাকে ভুলাতে পারেনি, পারবেও না! কারন
নরকের আগুনের থেকেও তার দেওয়া কষ্টে কষ্ট বেশি
ছিল! অনেক বেশি!এখন আমি অনেক সুখি!হাহা!"
গগনবিদারী অট্টহাসি বাজছে!
এই হাসিতে অভিশাপ আছে!
আছে নরকের যন্ত্রণা!
কিন্তু নরকের আগুনে যে সুখ আছে এটি আমিও জানতাম
না।
.
কবর নং ৩২৩ ||
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now