বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"কাউন্ট ড্রাকুলা"
লেখক : ব্রাম স্টোকার
অনুবাদক : তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
---------------------------
পর্ব ১০
জোনাথনের দিনলিপি
১৬ ই অক্টোবর।।
সিজারিনা ক্যাথেরিনের খবর জানতে চেয়ে টেলিগ্রাম করা হয়েছিল, উত্তর মেলেনি। এদিকে মীনাকে সম্মোহন করা হলে একই বিবরণ দেয় সে, " ঢেউয়ের নাচ, অন্ধকার "।
১৭ ই অক্টোবর।।
ভার্নার পোর্ট কমিশনের অফিসের এক সামান্য কর্মচারীকে আর্থার মোটা রকম ঘুষ দিয়ে বলেছে, " আমার এক বন্ধুর বহু মূল্যবান কিছু জিনিসপত্র চুরি গেছে। সিজারিনা ক্যাথেরিনে যে কতগুলো লম্বা বাক্স রয়েছে, জাহাজটি বন্দরে এলেই আমরা ঐ বাক্সগুলো খুলে দেখব। আপনাকে ব্যবস্থা করে দিতে হবে।"
বাক্সের ভেতর যদি কাউন্ট ড্রাকুলার দেহটি ধ্বংস করা হয়, হেলসিংয়ের মতে, সঙ্গে সঙ্গে তা ধূলিকণায় পরিণত হবে। কাজেই খুন করা হয়েছে, এই সন্দেহ কারোর মনে জাগবে না।
২৪ শে অক্টোবর।।
এক সপ্তাহ কেটে গেল। জাহাজটির কোনও খবর নেই।
২৫ শে অক্টোবর।।
ক্যাথেরিনের খবর পাওয়া গেছে। ডারড্যানেল্লেস থেকে জাহাজটি সবে ছেড়েছে। আগামীকাল সকালে তার এখানে এসে পৌঁছাবার কথা।
২৬ শে অক্টোবর।।
ক্যাথেরিনের আসার আশায় আনন্দে গতরাতে ভাল ঘুম হয় নি। ভোরে উঠে গুর্খা ছুরিটিকে শানিত করলাম। কিছুক্ষণের ভেতরেই জাহাজটির আসার কথা।
২৭ শে অক্টোবর।।
বিকেলটা কি সুন্দর আর স্বচ্ছ। কিন্তু সৌন্দর্য উপভোগের মন নেই, ক্যাথেরিনের চিন্তায় মন ভারাক্রান্ত।
২৮ শে অক্টোবর।।
এইমাত্র টেলিগ্রাম এল সিজারিনা ক্যাথেরিন আগামীকাল দুপুর একটায় গালাৎসে পৌঁছবে। এই সংবাদে আমি স্তব্ধ, মরিস উত্তেজিত আর মীনার ক্ষত উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
হেলসিং প্রশ্ন করলেন, " গালাৎসে পৌঁছবার গাড়ি ক'টায়?"
মীনা উত্তর দেয়, " আগামীকাল সকাল সাড়ে ছটায়।"
" আমরা কি কোনও স্পেশাল ট্রেন পেতে পারি না?", আর্থার জিজ্ঞেস করেন।
হেলসিং বলেন, " এ তো আর আমাদের লন্ডন নয় যে স্পেশাল ট্রেন মিলবে। আর নির্দিষ্ট সময়ের আগে পৌঁছেই বা লাভ কি? এখন শোন, কে কি করবে?....মীনা, জোনাথন আর মরিস গালাৎসে যাবে। আমি, সিউয়ার্ড আর আর্থার এখানে থাকব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতির বিষয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পরামর্শ করব।"
মীনা বলে, " ডাঃ সিউয়ার্ড, ঘুরে ফিরে একটা চিন্তাই আমায় শুধু ভাবিয়ে তোলে.....ড্রাকুলার প্রভাবে আমায় ঘুমে চলা রোগীর মতো চলতে হবে না তো?"
" আপনি কোনও চিন্তা করবেন না, কাউন্ট ড্রাকুলার আয়ু ফুরিয়ে এসেছে। বিপদের সমুদ্রে আমরা ঝাঁপ দিয়েছি ঠিকই কিন্তু সুন্দর একটি দ্বীপে পৌঁছবার সময় এসে গেছে। তাছাড়া, আমার জ্ঞান বুদ্ধিমতে আপনি ড্রাকুলার প্রভাবমুক্ত ", ডাঃ সিউয়ার্ড উত্তর দেন।
হেলসিং বললেন, " সম্মোহনের মাধ্যমে আমাদের ইচ্ছেমতই তোমাকে পরিচালিত করেছি।"
২৯ শে অক্টোবর।।
হেলসিং আজ একটু দেরীতেই মীনাকে সম্মোহন করলেন।
" কি দেখছ?"
" কিছু নয়।"
" কি শুনছ?"
" সমুদ্র শান্ত। খালাসীদের কণ্ঠস্বর শুনছি। কাছেই কে যেন কোথায় বন্দুক ছুঁড়ল। গুলির শব্দ প্রতিধ্বনিত হল। বনভূমিতে গাছের ডালে ডালে ঘষা লাগার শব্দ হচ্ছে। একটি বাছুর তারস্বরে ডেকে উঠল।"
আমি বললাম, " মীনার বক্তব্য থেকে মনে হয়, ড্রাকুলা ডাঙার কাছাকাছি। "
হেলসিং শেষপর্যন্ত আমাদের সকলকেই গালাৎসে যাবার অনুমতি দিয়েছেন। আমরা নির্বিঘ্নে গালাৎসে এসে পৌঁছলাম।
আমি, অধ্যাপক হেলসিং আর ডাঃ সিউয়ার্ড গালাৎসের বন্দর অফিসে এসে ঢুকলাম, সিজারিনা ক্যাথেরিনের খবর নিতে। সেখানকার অফিসের কর্মচারীটি আমাদের জানাল, " আপনাদের আকাঙখিত জাহাজটি কিছুক্ষণ আগেই গালাৎসে এসে পৌঁছেছে। আর আপনারা যে কফিন আকৃতির কাঠের বাক্সগুলির কথা বলছিলেন, জাহাজের ক্যাপ্টেন আমাদের জানিয়েছে, ক্যাথেরিন বসফোরাস বন্দর অতিক্রম করার পরেই কতজন বেদে এসে বাক্সগুলির দখল নিল। তারপর জাহাজ গালাৎসে এসে থামতেই তারা বাক্সগুলো নামিয়ে নিয়ে চলে গেল।"
এতবড় একটা দুঃসংবাদ শোনার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না কেউই। কাউন্ট আবার আমাদের হাত এড়িয়ে পালিয়ে গেল!
কিন্তু বিপদের কাছে মাথা নত করতে আমরা এতটা পথ আসিনি। আমরা শয়তানটার অনুসরণ করে, তাকে ধ্বংস করতে পৃথিবীর শেষপ্রান্ত পর্যন্ত যেতে রাজি। আমি নিশ্চিত, কাউন্ট আবার তার সেই পুরনো প্রাসাদে ফিরে যাচ্ছে আর ঐ বেদেগুলো হচ্ছে তার অনুচর। অবশ্য ওদের দিয়ে নিজের কাজ হাসিল করিয়ে যে ওদের নিশ্চিহ্ন করে দেবে, এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
আশা নিরাশার মধ্য দিয়ে আমরা হোটেলে ফিরে এলাম। আমাদের সকলকে ক্লান্ত দেখে মীনা বিশ্রাম নিতে বলল।
মীনার ডায়েরী
২৯ শে অক্টোবর।।
সিজারিনা ক্যাথেরিনের ক্যাপ্টেনের বিবরণ থেকে জানা গেল, জাহাজ কুয়াশার বুক চিরে প্রচণ্ড গতিতে ছুটছিল। জাহাজের এই আকস্মিক দ্রুততায় ক্যাপ্টেনও বিস্মিত হয়েছিলেন।
আমাদের কাছে যে ম্যাপ ছিল তা দেখে মনে হয়েছে, জলপথ গেলে ফুডুতে সেরেথ এবং বিসত্রিসের সঙ্গমস্থল থেকে ড্রাকুলার প্রাসাদ খুব একটা দূরে নয়। তাই ঠিক হল, আর্থার এবং জোনাথন জলপথে শত্রুর অনুসরণ নেবেন। তাঁরা একটি স্টিমলঞ্চ ভাড়া করলেন। মরিস বলল, সে ঘোড়ায় চড়ে কাউন্টের প্রাসাদে পৌঁছবে।
হেলসিং বললেন, " ভাল কথা, তবে একা থেকো না। স্লোভাকরা বুনো পশুর মতই শক্তিশালী। "
ডাঃ সিউয়ার্ড বললেন, " আর্থার এবং আমি একসঙ্গে অনেকদিন শিকার করেছি। আমরা একসঙ্গে থাকলে মন্দ হত না। যাক, আমি মরিসের সঙ্গী হবো। বেদেরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের ভয় করি না। আমার মনে হয় তারা বন্দুকের ব্যবহার জানে না।"
হেলসিং বললেন, " ড্রাকুলা নিধনের বিশেষ অধিকার দেওয়া হল জোনাথনকে। আমার বয়স হয়েছে। দৈহিক শক্তি হারাতে বসেছি। আমি আমার বুদ্ধিকে কাজে লাগাব। "
একটু থেমে তিনি আবার বললেন, " জোনাথন যে পথে ট্রানসিলভ্যানিয়া গিয়েছিল, আমি আর মীনা সেই একই পথে বিসত্রিস হয়ে বারগো গিরিপথের ভেতর দিয়ে কাউন্টের প্রাসাদে পৌঁছবো। মীনাকে সম্মোহিত করে সব কিছুই জানতে পারব।"
জোনাথন বললে, " আপনি কি মীনাকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে চান? আমি নিজে ঐ প্রাসাদে দিনের পর দিন কাটিয়েছিলাম, চাঁদের আলোয় সেই প্রেতপুরী কেমন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে, যদি দেখতেন!"
হেলসিং বললেন, " কাউন্টের প্রাসাদে তোমার সেইসব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা আমার অজানা নয়। অতি অল্প সময় আমায় অনেক কাজ করতে হবে। পথের মাঝে একটা গণ্ডি কেটে দেব, মন্ত্রপূত সেই গন্ডির মাঝে মীনাকে রাখব। তার কোনও বিপদই হবে না। মনে রেখো, একবার যদি ড্রাকুলা আমাদের হাত এড়িয়ে পালিয়ে যায়, তাহলে শত বছরের পরমায়ু নিয়ে সে আবার নারকীয় লীলায় মেতে উঠবে।"
জোনাথন চুপ করে থাকে।
৩০ শে অক্টোবর।।
পরিকল্পনা রূপ দেবার জন্য সকলেই প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছেন। তাঁদের আগ্রহ আন্তরিকতা ও অধ্যবসায়ে মুগ্ধ হয়েছি। অবাক হলাম টাকার আশ্চর্য ক্ষমতা দেখে। আর্থার এবং মরিস দু হাতে টাকা খরচ করে চলেছেন।
জোনাথন এবং আর্থারের স্টিমলঞ্চ প্রস্তুত। এবার তারা সমুদ্রে পাড়ি দেবে।
ডাঃ সিউয়ার্ড ও মরিস ছ'টি তেজী ঘোড়া কিনেছেন।
জোনাথনকে বিদায় অভিনন্দন জানাতে গিয়ে আশঙ্কায় আমার মুখ কেঁপে উঠেছিল। এটাই আমাদের শেষ দেখা নয় তো? জোনাথন আশ্বাস দিয়ে বলল, " তুমি দেখো আমরা ঠিক বিজয়ী হব।"
হেলসিং আর আমি আজ রাত এগারোটা চল্লিশের ট্রেনে ভারেস্টি থেকে যাত্রা করব। সঙ্গে প্রচুর টাকা নিয়েছি। ঘোড়া এবং গাড়ি কিনব। নিজেরাই চালাব। এ ব্যাপারে অন্য কাওকে বিশ্বাস করা চলে না। হেলসিং অনেক ভাষা জানেন, যোগাযোগের অসুবিধে হবে না। আমার কাছে রয়েছে একটা রিভলভার, এটি আমার সঙ্গে না থাকলে জোনাথন শান্তি পেত না।
সবকিছুই আমি বইতে পারি, আমার গলার কাছের কলঙ্কিত ঐদুটো সূক্ষ্ম ছিদ্র ছাড়া।
(ক্রমশ)
-------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now