বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"কাউন্ট ড্রাকুলা:
লেখক : ব্রাম স্টোকার
অনুবাদক : তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
---------------------------
পর্ব ৫
সিউয়ার্ড রক্ত দেবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন, এমন সময় আর্থার এলেন। বললেন, " আমি রক্ত দেব।" আর্থারের রক্তে লুসি অনেকটা উজ্জ্বল হল। তার গলার ক্ষত এক টুকরো কালো কাপড়ে ঢেকে হেলসিং সিউয়ার্ডকে বললেন, " প্রয়োজনীয় কিছু বইপত্রের সাহায্য নিতে হবে। আজ রাতে আমায় তাই আমস্টারডামে যেতে হবে। লুসিকে দেখো।"
ঘুমে লুসির চোখ বুজে আসছিল। কিন্তু ঘুমিয়ে পড়লে ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখবে, তাই সে জেগে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। ডাঃ সিউয়ার্ড সব কিছুই বুঝলেন। তিনি লুসিকে বললেন, " আপনার কোনও ভয় নেই। ঘুমিয়ে পড়ুন। সারা রাত আমি পাহারা দেব।"
লুসি ঘুমিয়ে পড়ে। তার মুখে উদ্বেগের লেশমাত্র নেই। রাতের নির্জনতার মধ্যে কেবল দেওয়াল ঘড়ির টকটক শব্দ কানে আসছে।
ভোর হয়ে এল। লম্বা একটা হাই তুলে ডাঃ সিউয়ার্ড চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন। এখন তাঁকে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।
দিন বয়ে যায়। ১০ ই সেপ্টেম্বর লুসি ফের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার হৃদপিন্ডের স্পন্দন অনিয়মিত ও ক্ষীণ হয়ে পড়েছিল। ডাঃ সিউয়ার্ড রক্ত দিয়েছিলেন। সারাদিন ঘুমিয়ে লুসি অনেকটা সুস্থ হয়েছিল।
পরদিন সন্ধ্যায় হেলসিং একটি পার্সেলের দড়ি খুলে গোছা গোছা রসুন ফুল বের করে সিউয়ার্ডকে বললেন, " লুসির রক্ষাকবচ। "
লুসি বলে, " এ মা, এ তো রসুন ফুল, বিশ্রী গন্ধ! আমি কেন, অনেকেই এ ফুল সইতে পারে না।"
লুসির এ হেন মন্তব্যে অসন্তুষ্ট হলেন হেলসিং। তিনি বললেন, " অকারণে আমি কোনও কাজই করি না। রসুন ফুলের গন্ধ লেদী নদীর জলের মতো। হারলেমে আমার এক বন্ধু কাঁচের ঘরে লতা -পাতা-ফুল-ফল নিয়ে গবেষণা করেন। অতি কষ্টে তাঁর কাছ থেকে এগুলো সংগ্রহ করতে হয়েছে আমায়।"
অত:পর হেলসিং লুসির ঘরে রসুনফুলগুলো ছড়িয়ে দিলেন আর তার গলার ক্ষতের কাছেও একগোছা বেঁধে দিলেন।
এরপর আরও কয়েকটা দিন কেটে গেল।
সেদিন মিসেস ওয়েস্টের্না ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলেন। লুসি ভাল আছে। খুশী মনে তাই দরজার কাছে দাঁড়িয়েছিলেন। ডাঃ সিউয়ার্ড আর উদ্বিগ্ন হেলসিং লুসির খোঁজ নিতে এলেন। মিসেস ওয়েস্টের্না, সিউয়ার্ড আর হেলসিংকে অভ্যর্থনা জানালেন। বললেন, " রাতে লুসির জন্য খুবই চিন্তিত ছিলাম। সন্তর্পণে তার ঘরে ঢুকে দেখি সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। রসুন ফুলের উগ্র গন্ধে ওর অস্বস্তি হতে পারে তাই ফুলগুলো সরিয়ে দিয়ে জানলার একটা পাল্লাও খুলে দিলাম। "
নৈরাশ্যে ভেঙে পড়লেন হেলসিং। ছোট ছেলের মতো প্রাণ খুলে কাঁদতে পারলে বোধহয় তিনি আরাম পেতেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বললেন, " বিশেষ কারণেই রসুন ফুল রাখার ব্যবস্থা রেখেছিলাম। আপনি সেগুলো না সরালে লুসিকে আজ আর রক্ত দিতে হত না। আমার ওপর বিশ্বাস না থাকলে বলে দিন, আমি দায়মুক্ত হই।"
মিসেস ওয়েস্টের্না ক্ষমা চাইলেন। অনেকটা শান্ত হয়ে হেলসিং বললেন, " আজ আমি লুসিকে পাহারা দেব।"
আবার রক্ত দেওয়া হল লুসিকে। সুস্থ হল সে।
ক্রমে ক্রমে ঘনিয়ে এল রাত। হেলসিং লুসিকে ঘুমের ওষুধ দিলেন। বললেন, " লক্ষ্মী মেয়ে, ঘুমিয়ে পড়ো এখন। প্রয়োজন বোধে আমায় ডেকো।"
ঘুমের ওষুধে কাজ শুরু হয়েছে। লুসি ঘুমিয়ে পড়েছে। নিস্তব্ধ রাত। চাঁদের আলো আজ কেমন যেন ঘোলাটে। একটা বাদুড় পাখা মেলে উড়ে আসছে এদিকে। জানলার সার্শিতে অনেকক্ষণ আঁচড় কেটে বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে গেল ক্রুদ্ধ বাদুড়টা।
১৭ ই সেপ্টেম্বর।।
হেলসিং ডাঃ সিউয়ার্ডকে যে টেলিগ্রাম করেছিলেন, ডাক বিভাগের আলস্যে তা বাইশ ঘণ্টা দেরীতে এসে পৌঁছল ডাঃ সিউয়ার্ডের হাতে। হেলসিং নির্দেশ দিয়েছেন....
" আজ রাতে অতি অবশ্যই লুসির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। রসুন ফুলগুলি যেন যথাস্থানে থাকে।"
রাজ্যের দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে ডাঃ সিউয়ার্ড হিলিংহামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি পৌঁছলেন হিলিংহামে....লুসিদের বিষাদ পুরীতে। বেশ কয়েকবার সজোরে কড়া নাড়লেন। কোনও সাড়াশব্দ নেই। মোটরের শব্দে পথের দিকে তাকিয়ে তিনি স্বস্তির শ্বাস ফেলেন, হেলসিং এসে গেছেন। উদ্বিগ্ন হেলসিং প্রশ্ন করলেন, " লুসি কেমন আছে?"
সিউয়ার্ড বললেন, " জানি না। আমি এইমাত্র এলাম।"
" কেন আমার টেলিগ্রাম পাওনি? "
" পেয়েছি। মিনিট পনেরো আগে।"
মূহুর্তের জন্য কেঁপে উঠলেন হেলসিং। তিনি বললেন, " বড় দেরী হয়ে গেল। আর বোধহয় লুসিকে বাঁচানো যাবে না। তাড়াতাড়ি ভেতরে চলো।"
ডাঃ সিউয়ার্ড বললেন , " অনেকবার কড়া নাড়লাম, কেউ দরজা খুলল না। ঝি চাকরের গাফিলতিতেই বাধ্য হয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।"
হেলসিং বললেন, " অপেক্ষা করার মতো সময় আমাদের হাতে নেই।" অত:পর তিনি খড়খড়ির ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে জানলা খুললেন। ভেতরে গিয়ে তাঁরা দেখলেন, লুসি আর তার মা পাশাপাশি শুয়ে আছেন। মিসেস ওয়েস্টের্নার দেহটি সাদা চাদরে ঢাকা, বোঝাই যাচ্ছে, তিনি মৃত। লুসি সম্ভবত সংজ্ঞা হারিয়েছে। তার গলার ক্ষতটি আরও গভীর, আরও সুস্পষ্ট।
কে যেন দরজায় টোকা দিচ্ছে। একজন ঝি অনেকটা সুস্থ হয়েছে, সে দরজাটি খুলে দেয়। ঘরে ঢুকল ক্যুয়েন্সি মরিস। লুসির প্রেমিক আর্থার তাকে পাঠিয়েছে লুসির খবর নিতে। মরিস ছেলেটি বড় ভাল! ঘর তাকে বাঁধতে পারে নি, আজ টেক্সাস, কাল অন্য কোথাও ঘুরে বেড়ায় সে। দুঃসাহসিক অভিযানই তার জীবনের ব্রত।
লুসিকে আবার রক্ত দিতে হবে। মরিস বললে, " আমি রক্ত দেব।" মরিসকে ধন্যবাদ জানালেন হেলসিং।
সংজ্ঞাহীন লুসির বুকের ওপর চার ভাঁজ করা একটা কাগজ। হেলসিং সেটা খুলে পড়তে লাগলেন। লুসি লিখেছে....
" আজ ১৭ সেপ্টেম্বর। ভয়ঙ্কর রাত। পৃথিবীর আলো দেখার জন্য আমি হয়ত কাল বেঁচে থাকব না। তাই অতি কষ্টে আমার অভিজ্ঞতার বিবরণ লিখে গেলাম। আহার নিদ্রা ত্যাগ করে যারা রহস্যানুসন্ধানে ব্রতী হবেন, এই স্মারকলিপি হয়ত তাঁদের চলার পথে আলো দেখাবে।
...... নির্দিষ্ট সময় শুতে গিয়েছিলাম। রসুন ফুলগুলিও যথাস্থানে ছিল। নিদ্রাভীতি থাকা স্বত্তেও এক সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। জানলার কাছে ঝটপট শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। আমি জানি পাশের ঘরে ডাঃ সিউয়ার্ড আছেন। চিৎকার করে তাঁকে ডাকলাম। কোনও সাড়া নেই। বুঝলাম, আজ উনি আসেন নি। এদিকে আমার চিৎকারে মা উঠে পড়েছেন। তিনি ছুটে এলেন আমার ঘরে।
আবার সেই ভয়ঙ্কর ঝটপট শব্দ। ভয়ার্ত কন্ঠে মা বললেন, " ও কিসের শব্দ?"
খুব কাছেই অনেকগুলো নেকড়ে একসঙ্গে গর্জন করে উঠল। কে যেন জানলায় প্রচণ্ড আঘাত করল, কাঁচ ভেঙে ঘরময় ছড়িয়ে গেল কাঁচের টুকরো। মা'র গলা থেকে একটানা একটা ঘড়ঘড় শব্দ হচ্ছিল। তাঁর দৃষ্টি স্থির হয়ে গেছে। ঘরের মাঝে একরাশ আগুনের ফুলকি ভাসছে। গরম ধূলোয় দম আটকে আসছে। সারা দেহে অসহ্য এক কাঁপুনি। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। ঘরের ভেতর নেকড়ে বাঘটি এল কিভাবে? আমি কি স্বপ্ন দেখছি? ভয়াবহ কোনও দুঃস্বপ্ন?
নেকড়েটার জ্বলন্ত দুটো চোখ আমাদের চলচ্ছক্তি রোধ করল। প্রতিবেশীর কুকুরগুলো ডুকরে কেঁদে উঠল। মা পড়ে গেলেন। তাঁর হৃদপিন্ডের স্পন্দন থেকে গিয়েছে। তাঁর গা হাত পা বরফের মতো ঠাণ্ডা। তিনি মারা গেছেন। চিৎকার করে বাড়ির কাজের লোকগুলোকে ডাকলাম। তারা তিনজন চোখ রগড়াতে রগড়াতে ঘরে ঢুকল এবং মায়ের অবস্থা দেখে কাঁদতে লাগল। প্রথমটা তারা নেকড়েটাকে দেখতে পায় নি, পরে সেটাকে
দেখে তারা অজ্ঞান হয়ে যায়। "
লুসিকে বাঁচান গেল না। পরদিন ভোরের দিকে তার শেষ নিশ্বাস পড়ে। শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই তার মৃত্যুর কারণ।
সহিষ্ণুতা হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আর্থার। আর্থার আক্ষেপ করতে থাকেন, অকারণে হাসেন। মাঝে মাঝে বলছেন, " না, না, লুসির কিছু হয়নি। সব মিথ্যে কথা। সে আছে, চিরদিন থাকবে।"
মৃত্যু আজ লুসির স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ফিরিয়ে দিয়েছে। হেলসিং বললেন, " যখন সে ঘুমিয়েছিল, আমরা ভেবেছি সে মারা গেছে, আর যখন সে মারা গেল, আমরা ভাবলাম সে ঘুমিয়ে আছে।"
কত তাড়াতাড়ি কেটে গেল আর একটা দিন। সূর্যাস্তের একটু আগে একটা ঘোড়ার গাড়ি ঝড়ের বেগে ডাঃ সিউয়ার্ডের উন্মাদ আশ্রমের পাশ দিয়ে হুইটবাই এবির ধ্বংসস্তুপটার দিকে ছুটে গেল। গাড়িটাতে কফিনের মতো দেখতে বড় বড় কয়েকটা কাঠের বাক্স।
লুসি আর তার মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া একইদিনে হবে। মৃতদেহ দুটিতে রঙ বেরঙের অন্যান্য ফুলের সঙ্গে রসুন ফুলও ছড়ান রয়েছে আর লুসির গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সোনার একটি ক্রুশ।
সিউয়ার্ডকে কাছে ডেকে হেলসিং বললেন, " দেখেছ, লুসির দাঁতগুলো কিরকম শানিত আর চকচকে হয়ে উঠেছে? আজ আমরা রাতের অন্ধকারে মাটি খুঁড়ে লুসির মৃতদেহ বের করে শব ব্যবচ্ছেদ করব।"
ডাঃ সিউয়ার্ড বললেন, " শব ব্যবচ্ছেদের প্রয়োজন কি?"
মৃদু হেসে হেলসিং বলেন, " তুমি তো জান, সিউয়ার্ড, প্রয়োজন ছাড়া আমি কোনও কিছুই করি না।"
ক্রমে ক্রমে ঘনিয়ে আসে সাঁঝের আঁধার। আর একটু পরেই রাত হবে। শুরু হবে অন্ধকার আর ভয়ের রাজত্ব। হেলসিং লুসির গলায় যে সোনার ক্রুশ ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, তা চুরি হয়ে গেছে। কে নিল? সোনার লোভে?
হেলসিং বললেন, " সিউয়ার্ড, পদে পদে আমাদের বিপদ। অতি সন্তর্পণে আমাদের এগোতে হবে। মিলিত হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। সবসময় মনে রাখবে, আমাদের যেন মতভেদ না হয়।"
ডাঃ সিউয়ার্ড বললেন, " আমি জানি কারণ ছাড়া আপনি কোনও কাজই করেন না। আপাতদৃষ্টিতে অনেক সময় আপনার কাজ অর্থহীন মনে হলেও আসলে তা যুক্তিসঙ্গত। তাই বলছি, আপনার সঙ্গে কোনওদিন আমার মতের অমিল হবে না।"
একস্টারগামী ট্রেনে মীনা আর জোনাথন চলেছে। একটার পর একটা স্টেশন আসছে। যাত্রীদের ওঠানামার শেষ নেই। জোনাথন ক্লান্ত, সে ঘুমিয়ে পড়েছে। অভিজ্ঞতার চাপে অল্প বয়সেই সে বুড়ো হয়ে গেছে। কত হাসিখুশি, আমোদপ্রিয় ছিল জোনাথন। আর আজ সব সময় কি চিন্তা করে চলেছে। ট্রানসিলভ্যানিয়ায় ড্রাকুলার প্রাসাদ দূর্গে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা লেখা ডায়েরী মীনা এখনও পড়েনি।
গাড়ি থেকে নেমে নবদম্পতি হাউড পার্কে গেল। এ সময় পার্ক বেশ ফাঁকাই থাকে। একটা বেঞ্চে তারা বসল। কিছুটা দূরে লম্বা, রোগা এক ভদ্রলোক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাঁর বাঁকা নাক, দাঁতগুলো ঝকঝকে আর গোঁফ চোখে পড়ার মতো।
জোনাথন লোকটিকে দেখে ভয় পেয়েছে। চুপিচুপি সে মীনাকে বলল, " মীনা, লোকটির আবির্ভাব ধূমকেতুর মতোই অমঙ্গলসূচক। " বলতে বলতে ভয়ে কাঁপতে লাগল সে, তার কথা জড়িয়ে আসতে লাগল।
মীনা তাড়াতাড়ি জোনাথনকে নিয়ে বাসায় ফিরল।
এক পিওন এল টেলিগ্রাম নিয়ে। ভ্যান হেলসিংয়ের টেলিগ্রাম। টেলিগ্রামে মীনাকে জানান হয়েছে, লুসি মারা গিয়েছে।
বান্ধবীর মৃত্যুতে মীনা শোকাকুল হল। আফশোস করতে লাগল, প্রিয় বান্ধবীকে সেই সময় ছেড়ে আসার জন্য।
পঁচিশ সেপ্টেম্বর ' দি ওয়েস্ট মিনিস্টার গেজেট ' বিস্ময়কর একটি খবর ছাপল....
' চারদিন হল হ্যাম্পস্টেড নগরীতে এক রহস্যময়ী নারীর আবির্ভাব হয়েছে। খেলার মাঠে যেসব ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করে, তাদের কয়েকজনের নিরুদ্দেশে প্রতিবেশীরা অত্যন্ত চিন্তিত। কোথাও কোথাও মায়ের কোল থেকেও জোর করে শিশু ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। অপহৃত শিশুগুলোকে পরে শহরের এখানে ওখানে রক্তশূন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের গলায় দুটি করে ছোট্ট ছিদ্র। জমাট রক্ত দিয়ে ছিদ্রের মুখ বন্ধ।
রহস্যময় এই ঘটনায় শহরবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।'
( ক্রমশ)
----------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now