বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত কিছুটা ২ হবে ।
দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে প্রস্তুতি নিলাম যাবো নিজের রুমের দিকে । হরর মুভি ছিল তাই সময় এর কথা মনেই ছিল না।
তবে ঘুম আসছে না । ঘুম না আসলে আমি বাবার পরিত্যক্ত ল্যাব-এই পরে থাকি।
তাই সিদ্বান্ত পাল্টিয়ে আজ ও গেলাম অদ্ভুত ঘড়িটি নিয়ে বসবো নিয়তি ধরে । ছোট থেকেই এই ঘড়িটি ল্যাব-এ ছিল । মা বলতো বাবা সময় নিয়ে কি সব গবেষণা করতো , তারই গবেষনার অংশ একটি এই ঘড়ি ।
এই উন্নত যুগে সময় নিয়ে গবেষণা অবশ্যই রাষ্ট্রের সংভিধান বিরোধী । এর একটি কারণ হচ্ছে ডক্টর ইউজেন হাইমি এর মৃত্যু । তিনিও বাবার মত একজন সময় গবেষক ছিলেন । একটি ল্যাব দুর্ঘটনায় তিনি মার যান । এই দুর্ঘটনায় অনেক বড় ক্ষয়ক্ষতি হয় দেশের । তাই তখন বাবাকে নোটিসে জানিয়ে দেওয় হয় যাতে তিনি এই গবেষণা বন্ধ করেন।
অবশ্য আমি অনেক ছোট ছিলাম । তিন এক বছর হবে বয়স আমার।
যেদিন বাবার হাতে নোটিস আসে ঠিক তার পরের দিন থেকেই বাবা নিখোঁজ । কোনো চিন্হ ছাড়াই একজন জলজ্যান্ত মানুষ গায়েব ।
অনেকে বলে তিনি সময়ভ্রমনে সক্ষম হয়েছেন । আবার একদল সমালোচনা ছুড়ে মারা হয় বাবার দিকে , এই বলে তিনি তার নোটিস পেয়ে পালিয়েছেন ।
যদিও তা যুক্তিহীন। বাবা পালালে তার গুরুত্বপূর্ণ ল্যাব এ ফেলে যেতেন না। তার চেয়েও এই গুরুত্বপূর্ণ ঘড়িটি তো কখনোই না ।
আর নোটিস এ জরিমানা উল্লেখ ছিল। অতএব তার মত একজন ধনী বিজ্ঞানী এমন পাগলাটে কাজ মোটেও করতে পরে না ।
বাবা অনেক বড় এক বিজ্ঞানী । যদিও তার গবেষণা সময়ভ্রমন নিয়ে না।
কলেজে পড়ি ।
বাবার ল্যাব এ থাকতে থাকতে অনেক বিষয়েই অবগত হয়ে আসছি ছোট থেকে । আমি জানি তার একটি গবেষণাও সময় ভ্রমন নিয়ে ছিল না । বরণ তিনি অনুবন্ধি সময়ের সমীকরণ সমাধান ও ব্যাখ্যা খুঁজছিলেন । যা সম্পুর্ন তাত্ত্বিক গবেষণা । কাজেই তার প্রতি সময় ভ্রমন নামক কাল্পনিক অপবদটি উদ্দেশ্যহীন ।
তার গবেষণায় কিছুটা প্র্যাকটিক্যাল খুঁটিনাটিও যুক্ত ছিল ।
সময় ঠিক দুইটা দশের ঘড়িতে ছিল । ল্যাব এ নিউম্যারিক লাইট জ্বালিয়ে বসলাম বাবার ক্লক টেবিলের সামনে ।
ভাবছি ,, কি করবো !! কি করবো.. !!
ঘড়িটি হাতে নিয়ে আরেকবার চালু করার চেষ্টা করলাম ।
প্রতিবারই ঘড়িটি চালু হয় । তবে বিশেষত্ব কিছু নেই । চালু হতেই স্বাভাবিক ঘড়ির মত চলতে থাকে । অটো টাইমিং এড ছিল । তাই প্রতি বার টাইম সেট করার আগেই তা সঠিক সময় প্রদর্শন করতো । যদিও এটাতে টাইম সেটিং এর অপশন নাই , সব অটোমেটিক সেটিং হয় । এমন এডভ্যান্স টেকনিক্যাল ঘড়ি তো আজকাল অনেক পাওয়া যায় । যদিও বাবার ক্যাটলকটি ভিন্ন । এটি বাবার নিজের তৈরি ঘড়ি ।
তবে আমি গত দশ বছর ধরে এই ল্যাব এ আছি। সব হিসাব থিওরি কানা কানা মুখস্ত । তাছাড়া বাবার গুন ও আছে অল্পখানেক ।
ঘড়ি চালু করে প্রথমে লক্ষ্য ছিল না ঘড়ির দিকে । তবে হটাৎ লক্ষ্য করলাম সময় যখন দেওয়াল ঘড়িতে দুইটা বেজে পঁচিশ ছিল তখন ক্যাটলক ( বাবা তার গবেষণায় ঘড়ির নাম রেখেছিল ক্যাটলক ; যার অর্থ হলো বিড়াল-বন্দি ) ঘড়িতে দুইটা বিশ ।
এমনটা হওয়ার তো কথা না ...!!
প্রথমে ভাবলাম দেওয়াল ঘড়িতে সমস্যা । কারন ক্যাটলকে সময় ভুল দেখতেই পারে না। যতবার চালু করতাম ঠিক সময়ই দেখতো । দেওয়াল ঘড়িটিরও ভুল হবে না আমার জতটুক জানা ।বাবা এসব ঘড়ি উন্নত কোম্পানি থেকে তার গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে কিনেছিল । সব ঘড়িই রিয়ার কালেকশন বলতে গেলে।
আমি দ্রুত কম্পিউটারে দুই ঘড়ির বাস্তবিক পার্থক্য নির্নিয়ের জন্য বাইনারি পোগ্রাম স্টার্ট করে দিলাম ।
এরর আসছে।
খুব অদ্ভুত তো..!!!
একটু উদ্বিগ্ন হয়ে হিসাব মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছি । এদিকে খিয়াল করলাম সময় প্রতি দশ মিনিট পর ক্যাটলকে এক মিনিট করে পিছিয়ে যাচ্ছে ।
এমন টা হয় সাধারণ ঘড়িতে , তাও তা খুব অল্প সময় অর্থাৎ এক ক্রোনো সেকেন্ড এর জন্য হয় । (সময়ের সব চাইতে ক্ষুদ্র তম একক ক্রোনো )। এই পার্থক্য এতটাই কম যে ১ ক্রোনো সময়ের জন্যও দুইটি ঘড়ির সময়ে পার্থক্য তেমনটা ইফেক্ট করে না বাস্তবে । এই স্বাভাবিক সময় ব্যবধান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও হতে পারে ঘড়িতে ।
কিন্তু নাহ..!!
কিন্তু প্রতি দশ মিনিটে ৬০ সেকেন্ড প্রার্থক্য করে বেড়ে যাওয়া মানে অনেক কিছু ।
তাও এমন দুইটি উন্নত ঘড়িতে হওয়ার কথা না । যেগুলাতে টাইম ট্রেসার ও অটো টাইমিং সেট করা আছে।
আজকে কেন জানি অদ্ভুত লাগছে রাতটা ।
আজ যেন সময় আমাকে সময়কে নিয়েই ভাবতে দিচ্ছে না । মা জানলে হয়তো কান ধরে রুমে দিয়ে আসতো আমাকে।
হিসাব !! হিসাব !! হিসাব !!
কোনো মতেই মিলছে না । আধা ঘন্টা ধরে খালি অদ্ভুত সব কান্ড কারখানা হচ্ছে আমার সাথে... ঘড়িটি সব হিসাব গুলিয়ে দিচ্ছে ।
শেষ যখন দেয়াল ঘড়িতে দুইটা পয়তাল্লিশ হবে । ক্যাটলক ঘড়ির দিকে তাকাতেই হতভম্ব আমি । কিছুই লক্ষ্য করতে পারছিনা আমি ।
সব কেমন জানি সাধা ধোঁয়ায় পরিণত হতে লাগলো আসেপাশে... আমি এদিক ওদিক তাকাতেই দেখি সম্পূর্ণ রুম ফাঁকা । মানে সাধা কুয়াশায় ঘেরা ।
নিউম্যেরিক লাইট মনে হয় কাজ করছে না আর। তবু রুমে আলো আছে ।
নিজেকে একদম অন্ধ অন্ধ লাগছে । কিন্তু অনুভূতিটা যেন বিপরীত ।
বুঝে নিলাম আমি হয়তো আর বাবার ল্যাবেই নেই.....
( চলমান )
[ গল্পটি অনেক আগে লিখেছিলাম । একবার দেওয়া ও হয়েছিল জিজতে ]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now