বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
------------------------------
"মুদি দোকান দিয়া তুমি বাল ফালাওগা। আমি ঢাকায় থাকবো। আর কোথাও যাব না।"
পপুলার ডায়গনসটিক থেকে বের হয়ে সিএনজি'র জন্য দাড়িয়েছিল যূথী। কিছুদিন তার শরীরটা ভাল যাচ্ছে না। দুর্বল লাগে সব সময়। রাতে প্রায়ই হাল্কা জ্বর আসে। ডাক্তার রক্ত টেস্ট করতে দিলেন। রক্ত দিয়ে বের হয়ে আসতেই রাহাতের ফোন।
অন্যপাশ থেকে রাহাত বলল,"যূথী, প্লিজ, একটু ভাইবা দেখ। এরকম আর কতদিন? বাবার মুদি দোকানটা ভাল চলে। তোমার আমার ভাল চলে যাবে। চল চট্টগ্রাম চইলা যাই।"
"রাহাত শোন, ঢাকা থেকে আমি কোথাও যাইতেছি না। অনেক কষ্টে এখানে শিকড় গাড়ছি। আমি এখানেই থাকব।"
"আচ্ছা, এখুনি কিছু বলতে হবে না। চিন্তা ভাবনা কর। এই রিস্কি বিজনেস আর কতদিন?"
কিছুক্ষণ চুপ থেকে যূথী বলল,"ছবিগুলা ইমেইল করছ শাকিলকে?"
"করছি।"
"ঠিক আছে। ইমেইল চেক করলে ও নিজেই ফোন দিবে আমাকে।"
"এমাউন্ট ঠিক করছ? ব্যাটা কিন্তু মালদার পার্টি। বাপের বিরাট বিজনেস।"
"হু জানি। দশ পনেরো লাখ ব্যাপার হওয়ার কথা না তার জন্য।"
"যূথী, চল এইটাই শেষ। যদি শালার কাছ থেইক্কা পনেরো লাখ বাইর করতে পারি তাইলে দুই জনে মিল্লা একটা বিজনেস দিতে পারব।"
যুথী চুপ করে থাকে।
সন্ধ্যার দিকে নিয়ম করে আবার জ্বর আসল তার। দুপুরে কিছুই খায়নি। তারপরও কিছু খেতে ইচ্ছা করছে না যূথীর। শাকিল এখনও ফোন দেয়নি। হয়তো অফিসে। তাদের বিশাল বিজনেস। আমেরিকা থেকে লেখাপড়া শেষ করে এসে বাবার চেয়ারে বসেছে।
একটু পরেই ফোন বাজল। শাকিল। ফেসবুকের এক পাবলিক গ্রুপ থেকে তাদের পরিচয়। তাকে বাগে আনতে খুব বেশি কাঠখড় পোড়াতে হয়নি যূথীকে। ছোটখাট কিছু মডেলিং করেছে সে। চেহারা এবং অভিনয় ক্ষমতা দুটোই ভাল তার।
"হ্যালো।"
"যূথী...যূথী......"
খকখক করে কাশি শুরু হয়ে গেল শাকিলের। তারও শরীর ভাল না। যূথী জানে শাকিল ছবিগুলো দেখেছে। তার গলায় এক ধরণের ভয় ছিল।
ধাতস্থ হয়ে শাকিল বলল,"যূথী, সর্বনাশ হয়ে গেছে। তোমার আমার কিছু খারাপ ছবি কে যেন ইমেইল করে আমাকে পাঠিয়েছে।"
নিরবিকার গলায় যূথী বলল,"জানি।"
"জান মানে?"
"শাকিল শোন, তোমারতো অনেক টাকা তাইনা। পনেরো বিশ লাখ তোমার জন্য কোন ব্যাপার হবার কথা না। কিছু টাকা ফেল। আর নয়তো এই ছবিগুলা অনলাইন থেকে শুরু করে পত্রিকায় দেবার ব্যবস্থা করব। একটা দুইটা না অনেক ছবি আছে।"
শাকিল চিৎকার করে বলল,"আর ইউ ফাকিং কিডিং মি? এসব নিয়ে জোক করো না যূথী।"
ঠান্ডা গলায় যূথী বলল,"আই আম নট জোকিং শাকিল। পনেরো লাখ লাগবে মাত্র। টাকাটা রবিবারের মধ্যে দিবা। আমার লোক আছে নিয়ে আসবে। কোন বুদ্ধি দেখাইতে যাইও না। আমার লোকেরা সব নজর রাখে।"
শাকিলের এবার হেচকি উঠে গেল। সাথে এক ধরণের গো গো শব্দ। বেচারার সম্ভবত শ্বাস কষ্ট শুরু হয়ে গেছে। ধনীর দুলাল। জন্মাবার পর থেকেই যাদের সব কিছু করে দেয়া হয় তারা এমন পরিস্থিতিতে কিঞ্চিত খেই হারিয়ে ফেলবে সেটাই স্বাভাবিক।
টানা তিন মিনিট বাতাসের সাথে যুদ্ধ করার পর শান্ত হল শাকিল। তারপরের এক মিনিট নিশ্চুপ। হঠাত উম্মাদের মত হেসে উঠল শাকিল।
যূথী বলল,"আর ইউ ওকে?"
"আই কুডন্ট বি এনি বেটার ইউ ফাকিং বিচ।"
"শোন শাকিল, মন ভরে গালি দাও। অসুবিধা নেই। তবে রবিবারের ভেতর টাকাটা রেডি রেখ। আর নয়তো ওই দিন রাতেই সব ছেড়ে দেব।"
বরফ শীতল গলায় শাকিল বলল,"তোকে আমি এক টাকাও দেব না। দেবার দরকারও নেই। আমি আর খুব বেশি হলে ছয় থেকে সাত মাস আছি দুনিয়ায়।"
"মানে?"
"আরে দুই নাম্বারী কি তুই শুধু একাই করিস? আমেরিকা থেকে শুধু ডিগ্রী নিয়েই আসিনি সাথে নিয়ে এসেছি ফুল ব্লোন এইডস। তোর রক্তটা চেক করিয়ে নিস। দেখ গিয়ে তোরও হয়ত এর মধ্যে হয়ে গেছে হা হা হা হা হা।"
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now