বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ থেকে নয় বছর আগের কথা।
আমি তখন বাসায় বেকার বসে।
আমার কাজ বলতে বাবার হোটেলে খাওয়া আর আধ্যাত্মিক জ্ঞান -সাধনা করা।
যে সময়ের কথা বলছি, তারও বছর দুয়েক পূর্বেই পড়ালেখার সমাপ্তি ঘটিয়েছি।
চাকুরী -বাকুরীর কোন চিন্তা, ভাবনা নেই।
ছোটবেলা থেকেই আমার মধ্যে ধর্মীয় বিষয়টি কাজ করতো, মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে আমি বেশি ভাবতাম।
তাই সংসারের প্রতি বৈরাগ্য গুণ আমাকে গ্রাস করেছিল।
তাই দুনিয়ার চাকুরী, রুজি- রিজিকের কোন ভাবনা আমার মধ্যে ছিলনা।
কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্যরকম।
আমার প্রতি পিতা - মাতার হক রয়েছে, যখন তারা বার্ধক্যে পৌছাবে, অসহায় হয়ে যাবে, তখন তাদের দায়িত্ব ভার কে বহন করবে?-- মহান আল্লাহ সেটা ভাল করেই জানতেন।
তাইতো আমার মুরশিদ আমাকে স্বীয় কন্যার সাথে বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশ করে আমাকে সংসারে আবদ্ধ করে রাখেন।
এটা ছিল আল্লাহ পাকের একান্ত ইচ্ছা।
আমি তখন ' ফানা ফিশ শায়খ' এর দায়েরায় আবিস্ট।
আল্লাহ ও তদীয় রাসুলের জন্যই আমি আমার শায়খের প্রতিটি কথা ও ইচ্ছা - আকাংখ্যা মানতে বাধ্য ছিলাম।
নির্ধারিত সময়ে বিবাহের আয়োজন শুরু হলো।
অনেক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বন্ধু- বান্ধব, চাচাতো, মামাতো ভাই -বোন ও আত্মীয়দের উপস্থিতিতে আমার বিবাহ যাত্রা শুরু হলো।
আমাদের গাড়ি ছিল উন্মুক্ত, ছাদবিহীন।
কারন, বিবাহে আড়ম্বড়তা আমার মোটেই পছন্দ ছিলনা।
পথে যেতে যেতে এক স্থানে গাড়ীতে উপবিষ্ট আমার চাচাতো ভাইয়ের জামায় পাখিতে পায়খানা করে দেয়।
এটা দেখে এক পড়শি মামা খুব বিনোদিত হয়ে তাকে নিয়ে হাঁসা-হাঁসি করলো।
অথচ উনার উচিত ছিল এ ঘটনায় সমবেদনা জ্ঞাপন করা।
যাহোক যথাসময়ে আমরা শ্বশুর বাড়ি বিবাহ মজলিসে পৌছালাম।
বা'দ জুমা খাওয়া- দাওয়া অন্তে বিবাহ কার্যক্রম সুসম্পন্ন হলে, আমরা পুনরায় বাড়ি অভিমূখে রওয়ানা হলাম।
ফিরতি পথে ঘটলো উল্টা ঘটনা।
চাচাতো ভায়ের জামায় পাখি পায়খানা করাই, যে মামা হাঁসা-হাঁসি করেছিল।
এবার তাঁর জুব্বাতেই পাখি পায়খানা করে দিল।
আমি তখন স্পষ্টতই বুঝতে পারলাম, " কারো বিপদে খুশি হলে,সেও উক্ত বিপদে পতিত হবে। "
নয় বছর পেরিয়েছে বিবাহের; কিন্তু এখনোও শিক্ষনীয় সে স্মৃতিটি মন থেকে মুছে যায়নি।
আমরা একদিন স্মৃতির গহ্বরে বিলিন হয়ে যাব;কিন্তু আমাদের সুখ - দুঃখের স্মৃতিগুলো আমাদের আমল নামায় রয়ে যাবে সঞ্চিত হয়ে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now