বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কানকাটা চিত্র
দ্রুত পায়ে সাঈদ আসলামের বাড়ি ঢুকলো শমশের ৷ছোফায় বসে খবরের কাগজে চোখ বোলাচ্ছিল সে৷
"আজ একটা বড়সড় দাওয়াত পেয়েছি ভাই ৷কোনো প্রভাবশালী রাজনীতিকের চোখ লেগেছে আমাদের ওপর৷পাঠিয়ে দেয়া কালো কাচের গাড়িটা অপেক্ষা করছে তোমার বাড়ির সামনে৷তাহলে বোঝ ব্যাপারটা৷ "
পাঁচ মিনিটের মাথায় গাড়িটাতে মিশে গেল ওরা৷শা শা করে সামনে এগিয়ে চলল গাড়ি ৷পথে স্বগোক্তির মতো শুধু একটা কথাই বলল শমশের "Diamond cuts diamond."
একদম বাড়ির ফটকে গাড়ি থামল৷ফটকের সামনে শোভা ছড়ানো সবুজ গাছগুলো মনোরম করে রেখেছে পরিবেশটাকে৷সিড়িতে উঠতে গিয়ে পিছনে ফিরতে হলো৷আরেকটা কার আসলো৷ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে গাড়ি থেকে নামলেন রাজনীতিক৷কাছে এসে ঝুঁকে হ্যান্ডশেক করলেন৷রিসিভ করতে পারেন নি বলে দুঃখিত হলেন৷একটা জরুরি মিটিংয়ে ছিলেন সেটাও বললেন ৷কথা বলতে বলতে সবাই একটা ভি আই পি কক্ষে পৌঁছল ৷ধূমায়িত চা আর কফি নিয়ে ওয়েটার উপস্থিত ৷কারো সাথে কথা বলার পর ওদের সামনা-সামনি বসলেন৷চিঠিটা শমশেরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন,"এই সেই চিঠি যেটা আমারসহ মণ্ত্রীমহলের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ "
"চিঠিটা আপনার ডাকবক্সে কখন এসেছে আর আপনি কখন হাতে পেলেন?"
"মিটিং থেকে ফিরে৷"
শমশের চিঠিটা হাতে নিয়ে বলল,"আমি মনে করি বিষয়টা সরকারের হাতে দিলেই ভালো হয়৷আর যদি সরকারের হাতেই দেন তাহলে বিদেয় হই৷কেননা প্রসাশনের সাথে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের বাধে৷আর এতবড় বিষয়ে সরকার মুখে কুলুপ এটে থাকবে আমার মনে হয় না৷ "
"না মশাই বিষয়টা ওরকম নয় আর কেউ আপনার কাজে নাক গলাবে না এবং আপনি মনে করবেন এটা আমার ব্যক্তিগত প্রয়াস৷আমি জানতে চাই আমার বন্ধুদের মধ্য থেকে কারা এসব করছে৷আর এজন্যই আপনাকে ডেকেছি৷"
"আপনি কি মনে করেন আপনার বন্ধুদের মধ্য থেকেই এসব কেউ করছে?
"আমি শুধু শিওর হতে চাইছি মশাই ৷আপনি আমাকে নিশ্চিত করুন৷আমার শত শত বন্ধুর মতো শত্রুও আছে৷জানতে পারলে ওদের ক্ষতি পূরণ দিয়ে দিতাম৷ "
"কারো অপূরণীয় ক্ষতি হলে সেটা কিভাবে পূরণ করবেন৷ আর এই লোক হুমকিতে লেখেও নি কি ক্ষতি করছেন তার৷ "
থেমেই আবার বলল,"আপনার নাইটগার্ড আর দারোয়ানের সঙ্গে একটু আলাপ করিয়ে দিন৷আর তাদের ডিউটির নিয়মটা আমাকে দিন৷ "
নাইটগার্ড চলে যাবার পর দারোয়ান আসলো৷
"দ্বিপ্রহরে বাসায় গিয়েছিলে মনে হচ্ছে৷তোমার স্ত্রী তেতুলের আচার মনে হয় ভালোই বানায়৷
চিঠিটা কখন তুমি হাতে পেয়েছিলে,সত্যি বলবে কিন্তু;তোমার হাতের তেতুল আচারের গন্ধ আর চিঠির যেখানটায় ধরেছিলে সেটা কিন্তু একই গন্ধ!
"সত্যি বলছি স্যার,বাসা থেকে ফিরেই চিঠিটা পেয়েছিলাম৷কিন্তু স্যার বেজায় ব্যস্ত ছিলেন আর তখনেই মিটিংয়ের জন্য বাইরে বেরোচ্ছিলেন৷তাই উনি না আসা পর্যন্ত ওটা আমার কাছেই ছিল৷"
"সাবাস,একটুও মিথ্যা বলনি৷"
ওদের সঙ্গে কথা বলার পর শমশেরের মনে হলো এরা বড় নিরীহ আর এ বিষয়ে কিছু জানে না৷এবার প্রেক্ষাপট পাল্টে ফেলল শমশের৷
"যে মিটিং থেকে ফিরলেন সেটার বিষয়বস্তু কি ছিল৷ "
"বাণিজ্যিক বিধি-নিষেধ বিষয়ক৷ "
"মিটিংয়ের আগে এ বিষয়টা নিয়ে কার কার সঙ্গে শেয়ার
করেছিলেন?"
"বেশ কয়েকজনের সাথে৷ "
ভুলটা যে তার এখানেই হয়েছে মনে হলো শমশেরের৷
" তার বিবরণটা আমি চাইছি৷তারা যদি আপনার কলিগ হয় তো biodata সহ দিলে মন্দ হয় না৷তবে আমি মনে করি সবাই আপনার কলিগ ছিলনা৷বিভিন্ন পেশার লোক ছিল৷আর এটা জানা প্রয়োজন যে আপনি কোন লোকদেরকে সাথে নিয়ে মিটিংয়ের আগে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন৷ "
বাসায় এসে ফাইলগুলো নিয়ে এক দুপুর পড়ে শমশের ৷বিকেলে সাঈদকে ওর বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে৷আগামী সকাল সকাল আসতে বলল৷ফাইলগুলো দিলো মাথাকে একটু ঘামানোর জন্য৷
"ফাইলগুলো কাল ভালো করে পড়েছো বাছাধন? সাঈদ তখন কফি মগে৷
"দেখোতো কিছু মনে করতে পারো কি না৷ "
চিঠিটা সাঈদের হাতে দিল শমশের ৷দু লাইনের একটা চিঠি "আমার সামনটা সাফ করে দে৷না হলে তোমাকেই সাফ করে দেব দুনিয়া থেকে৷ "
নিচের নামের জায়গায় একটা চিত্র৷ ঘাড়ের ওপর থেকে কেটে নেওয়া একটা মুন্ডু৷শুধুই কালো অবয়ব৷চোখ,নাক,মুখ কিছুই স্পষ্ট নয়৷সব কালো৷ব্যতিক্রম হলো একটা কান আছে একটা নেই৷কিছুই বুঝতে পারলো না ও৷শুধু বুঝলো এই সেই ডায়মন্ড যে অন্য ডায়মন্ড রাজনীতিক সারোয়ার কাদরিকে কাটতে চাইছে৷
"চিটির ভাষা থেকে বোঝা যাচ্ছে লোকটা তার চেনাজানা কেউ৷"
"হ্যা,তার ক্লোজেস্ট৷ লোকটা তার সঙ্গে ব্যবসার শেয়ারের বেলায় ছিল৷একসঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল অতীথি হিসেবে খাওয়া-দাওয়া করার পর৷যে তার কলিগ ছিল না৷লেখা পড়া নেই৷ছোট বেলা থেকেই ব্যবসায় হাতে খড়ি৷কানপাতলা লোক.......তবে একটা জায়গায় মিলছে না৷ "
বলতে বলতেই থেমে গেল৷এরপর বইয়ের তাক থেকে খুঁজে খুঁজে একটা বই নিয়ে বসে পড়ল৷
কিছুক্ষণ পর মনোযোগে বিচ্ছেদ ঘটলো ওর৷
তারপর ফাইলটার দিকে ইঙ্গিত করে বলল," ওখানেই সব উত্তর আছে৷
বড় চালাক লোক হে৷ সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হলো শেষে ৷সব ঠিক মিলে গেছে৷একটা গন্ডগোলে ছিল৷চলো পত্রিকায় একটা আবেদনপত্র পাঠাতে হবে৷ "
"পত্রিকায় আবেদনপত্র!বুঝতে পারলাম না?
"কিছু প্রমাণ আমাদের হাতে আছে আর কিছু সমুদ্রের পানিতে ভাসছে৷হাতে নাতে ধরতে হলে কিছু জ্যান্ত প্রমাণ তো চাই ৷ "
পরদিন সকালে যখন সাঈদ শমশেরের বাসায় আসল৷দেখলো শমশের কমপ্লিট ড্রেসে ঘরে তালা ঝুলাচ্ছে৷ওর দিকে ফিরে মুখে হাসি টেনে বলল,"চলো এবার হ্যান্ডকাফটা পরিয়ে দিয়ে আসি৷ "
রাস্তায় একটা কথারও উত্তর না দিয়ে সাঈদ আসলামকে একটা গল্প শোনালো শমশের ৷বিখ্যাত আঁকিয়ে ভিনসেন্ট ভ্যান গগের কান কেটে গেল যেভাবে ৷তার কাহিনী ৷চেহারা দেখতে ভালো ছিল না বলে আর জীবনে সফলতার পাশে ভিড়তে পারেন নি বলে এই শিল্পী অল্প বয়সে আত্মহত্যা করেন পরপারে চলে যান৷
সব শেষে সাঈদ আর সারোয়ার কাদরির আগ্রহের কাছে রহস্যের শেষ হলো এভাবে,"এ লোকটাও ব্যবসায়ী ছিল প্রথম ব্যক্তির মতো৷প্রথম ব্যক্তি ছিল অশিক্ষিত ৷কিন্তু সব ক্লু গুলো মিলতে হলে লোকটাকে হতে হবে শিক্ষিত ৷আপনার আরেক বন্ধু হাসান খাদেম ছিল ব্যবসায়ী এবং তার ছবি সংগ্রহের শখ ছিল আর তার প্রিয় শিল্পী ছিল ভ্যান গগ৷ওর বায়োডাটয় একটা সাইন পেলাম যেটা সব পরিষ্কার করে দিল৷আর সাগরে ভাসমান অননুমোদিত জাহাজগুলো এটাই সাক্ষ দিচ্ছে যে তিনিই চূড়ান্ত ব্যক্তি৷ফাইলে ওর সাইন ছিল এরকমঃইংরেজি ক্যাপিটাল লেটারের 'V' ছিল উল্টো 'A' এর মতো৷এরপর ছিল an.যেটা হচ্ছে ইংরেজীতে Van. "
সারওয়ার কাদরি একপাশ থেকে বলল Excellent আর সাঈদ অন্য পাশ থেকে বলল Fantastic.
"চলুন এবার আজকের খবরের কাগজের শিরোনামটা দেখা যাক৷ "
**নতুন করে আরোপিত বিধি-নিষেধের কারণে পানিতে ভাসতে পারছে না এম ভি হাসান৷ **"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now