বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কালো পাহাড়ের আলো

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X ++++হযরত বিলাল।হাবশী ক্রীতদাস। গায়ের রং কুচকুচে কালো।কিন্তু মানুষের বাইরের চেহারাটাই আসল চেহারা নয়।ভেতরটাই আসল। ভেতর অর্থাৎ হৃদয়টা যার ধবধরেপরিষ্কার সেই কেবল সুন্দর মানুষ।বিলাল কালো হলে কি হবে!তাঁর হৃদয়টি ছিল চাঁদের মতো পরিষ্কার। জোছনার মতোসুন্দর। সূর্যের মতো উজ্জ্বল। আর তাঁর বুকে ছিল বজ্রেরসাহস।সে সাহস ছিল সমুদ্রের মতো বিশাল। পর্বতের মতো অনড়।কালো মানুষের ভেতর যে এত রূপ, এত সৌন্দর্য থাকতেপারে তা বিলালকে না দেখলে বোঝাই যায় না।বিলালেল এই সুন্দর্যের আসল রহস্য হলো- তাঁর বিশ্বাস।তাঁর গভীর বিশ্বাস এবং ভালেঅবাসা ছিল আল্লাহররহমতের ওপর। আল্লাহর ওপর নবীর (স) ওপর।তাঁর সকল আস্থা ছিল আল্লাহর রহমতের ওপর। আল্লাহরশক্তির ওপর।আর নবীকে (স) তিনি ভালোবাসতেন প্রাণ দিয়ে। তাঁরসে ভালোবাসায় কোনো খাদ ছিল না। এতটুকু কৃত্রিমতাছিল না। তাই ক্রীতদাসহয়েও বিলাল মনিবেররক্তচক্ষুকে ভয় না করে নবীর (স) ডাকে সাড়া দিলেন।ইসলাম গ্রহণ করে তিনি পরম তৃপ্তি এবং প্রশান্তি লাভকরলেন।কেনা গোলাম হলে কী হবে?মনিব তো কেবল একটি মানুষকে টাকা দিয়ে কিনতেপারে। সে তো আর মানুষের হৃদয় কিনতে পারে না।বিলালের মনটাও তাঁর মনিব কিনতে পারেনি। এজন্যেতিনি স্বাধীন ছিলেন মনের দিকদিয়ে। আর স্বাধীনথেকেই তিনি তাঁর একমাত্র হৃদয়টা তুলে দিয়েছিলেনআল্লাহর হাতে। ইসলামের খেদমতে। নবীর (স)ভালোবাসায়।চুপে চুপে নয়। একেবারে সবার সামনে। প্রকাশ্যে তিনিইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন।বললেন, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো প্রভু নাই। ইসলামএকমাত্র জীবন বিধান। আর নবী (স) হলেন আল্লাহরপ্রেরিত মহান পুরুষ। যিনি সত্যের আলো নিয়ে আমাদেরমাঝে এসেছেন। তিনি এসেছেন সত্যের বারতা নিয়ে।মানুষের মুক্তির জন্যে।হাবশী ক্রীতদাস বিলাল!কুচকুচে কালো মানুষটির এঋ দৃঢ়কণ্ঠের আওয়াজ তারমনিব শুনতে পেল। শুনতে পেল কাফেররাও। তারা ক্রোধেফেটে পড়লো। বললো,কেনা গোলাম- কালো মানুষের এতবড় সাহস! এর পরিণামবড় ভয়ানক।বিলাল তাদের কথা যেন, শুনতেই পাননি। কারণ তিনি তোজানেন, দুর্বলদের ওপর সবলরা সব সময়ই অত্যাচার করে।জুলুম এবং নির্যাতন চালায়। এ আবার নতুন কী?কাফেররা বললো, এখনো তুমি মুহাম্মদের (স) পথ থেকেফিরে এসো বিলাল। তা না হলে তোমার কপালে অনেকদুর্ভোগ আছে। অনেক কষ্ট আছে।হেসে উঠলেন বিলাল।কালো মানুষের ভেতর থেকে ছিটকে পড়লো হাসিরতুফান। বললেন, আমাকে ভয় দেখাচ্ছো? তোমরা কিজানো, যে হৃদয় একমাত্র আল্লাহ এবং তাঁর নবীকে (স)ভালোবাসে, সে হৃদয় দুনিয়ার আর কাউকেই ভয় করে না!পরোয়া করে না! তোমরা আমাকে কিসের ভয় দেখাও?তোমরা আমাকে কী করতে পারো? মারবে? মারতেপারো। কিন্তু আমার বিশ্বাসকে তো আর কেড়ে নিতেপারবে না! না, কখনোই তা পারবে না।গোলামের মুখে এই দুঃসাহসের কথা শুনে কাফেররাচরমভাবে ক্ষেপে গেল। জ্বলে উঠলো তাদের পাষণ্ড হৃদয়।তারা শুরু করলো তার ওপর পাশবিক নির্যাতন।অত্যাচারী আবু জেহেল। মস্তবড় এক কাফেল। বিশাল তারদলবল। আবু জেহেলল হুকুমে বিলালের ওপর ক্রমাগতচলেছে নির্যাতন আর নিষ্ঠুরতম অত্যাচার।কাফেররা তাকে আবের আুগনের মতো উত্তপ্ত মরুভূীমরবালির ওপর নির্দয়ভাবে মারতো।পাথরের কুঁচি এবং জ্বলন্ত আগুনের ওপর তাঁকে শুইয়েদিত।তাঁর গলায় দড়ি বেঁধে অবুঝ শিশুদের হাতে কাফেররাতুলে দিত।শিশুরা বোঝে না। তারা খেলার ছলে বিলালকে টেনেহেঁচড়ে ছাগলের মতো করে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াতোমক্কার অলিতে গলিতে। ঝাঁঝরা হয়ে যেত বিলালেরশরীর। তাঁর দেহ থেকে ঝরে ঝরে পড়তো টাটকা রক্ত।আর আবু জেহেল?সে নিজ হাতে বিলালকে শাস্তি দিল। তাকে উপুড় করেশুইয়ে দিত। তারপর বিলালের পিঠের ওপর পাথরের বড় বড়চাক্কি চাপিয়ে দিত।মরুভূমির মধ্যে সূর্যের চোখ থেকে যখন আগুন বের হয়, ঠিকসেই সময়ে আবু জেহেল বিলালের ওপর এভাবে পশুরচেয়েও জঘন্য আচরণ করতো।গরম বালিতে বিলালের বুক পুড়ে যেত। পিছের ওপর ভারীপাথরে চাপে তিনি বালির মধ্যে দেবে যেতেন।পিপাসায় বুক গলা শুকিয়ে যেত। পিপাসায় এবংযন্ত্রণায় তিনি ছটফট করতেন।বিলালের কষ্ট দেখে হায়েনার মতো হেসে উঠতো নরপশুআবু জেহেল। বলতো,এখনো সময় আছে বিলাল, মুহাম্মদের (স) আল্লাহ থেকেতুমি ফিরে এসো। তোমাকে ছেড়ে দেয়া হবে। আরকোনো অত্যাচার করা হবে না তোমার ওপর।কিন্তু যিনি একবার আল্লাহকে ভালোবেসে তাঁর সত্যদীনকে গ্রহণ করেছেন, তিনি মানুষের নির্যাতনের ভয়েপরাজয় বরণ করবেন কিভাবে?আল্লাহর প্রেমের কাছে,নবীর (স) প্রেমের কাছে এই জুলুম অত্যাচার তো খুবই তুচ্ছ।দুঃসাহসী বিলাল!পর্বতের মতো যাঁর বিশ্বাস। তিনি তার বিশ্বাস থেকেএক চুলও নড়লেন না। বরং আবু জেহেলর সকল অত্যাচারেরমধ্যেও তিনি হাসি মুখে জবাব দিলেন,আল্লাহ আহাদ। আল্লাহু আহাদ।বিলালের জবাবে পাপিষ্ঠ আবু জেহেল আরও বেশিক্ষেপে যেত। আর সেই সাথে বেড়ে যেত তারঅত্যাচারের মাত্রা।কখনো বা গরুর কাঁচা চামড়ায় ভরে, আবার কখনো বালোহার বর্ম পরিয়ে বিলালকে মরুভূমির মধ্যে- যখনদোজখের মতো সূর্যের মতো তেব, সেই সময় বসিয়েরাখতো। প্রাণবায় বেরিয়ে যায় যায়, এমন সময় তাঁকেপাপিষ্ট আবু জেহেল বলতো,এখনো ফিরে এসো বিলাল। আল্লাহ এবং মুহাম্মাদের (স)পথ থেকে ফিরে এসো। আমরাতোমাকে ছেড়ে দেবো।পর্বতের মতো অনড় বিলাল।শত অত্যাচারেও তিনি তার বিশ্বাস থেকে ফিরেআসেননি। তখনো, সেই ক্লান্ত, মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়েওবিলাল হাসি মুখে উচ্চারণ করেছেন,আল্লাহু আহাদ। আল্লাহু আহাদ।ইসলাম গ্রহণ করার কারণে বিলালের ওপর যে রকমঅত্যাচার-নিপীড়ন নেমে এসেছিল তা এতই মর্মান্তিকযে এখনো মুখে সে নির্যাতনের কথা উচ্চারণ করতেওগায়ের পশম মুহূর্তেই লাফিয়ে ওঠে।অথচ কাফেরদের অত্যাচারের মাত্র যত বেড়ে যেত,ততোই বেড়ে যেত বিলালের সহ্যশক্তি। বেড়ে যেত তারধৈর্য। সেই সাথে বেড়ে যেত বিলালের আল্লাহ এবংতাঁর নবীর (স) ওপর অপরিসীম প্রেম এবং ভালোবাসা।একমাত্র প্রেম এবং ভালোবাসার জন্যে মানুষ সব ত্যাগইস্বীকার করতে পারে।বিলাল ছিলেন এই চরিত্রের জ্বলন্ত প্রমাণ। তিনিছিলেন সত্যের এক উজ্জ্বল প্রেমিক পুরুষ।তিনি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে (স) ভালোবেসেযাবতীয় ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন হাসি মুখে।আল্লাহর সন্তুষ্টির অর্জন, তাঁর দীনকে প্রতিষ্ঠা করাএবং নবীর (স) সাহচর্য ও ভালোবাসা লাভ করাই ছিলবিলালের একমাত্র উদ্দেশ্য।একদিন বিলালের ওপর অকথ্য নির্যাতনের বেদনাদায়কদৃশ্য নিজের চোখে দেখলেন হযরত আবু বকর। দেখে তিনিশিউরে উঠলেন। অনেক অর্থের বিনিময়ে গোলামবিলালকে আজাদ করে দিলেন হযরত আবু বকর।নবীকে দারুণ ভালোবাসতেন বিলাল। নবী (স) তাকে খুবইভালোবাসতেন।কালো হলে কী হবে?বিলালের হৃদয়ে যে সত্যেল সূর্য ছিল- তাতো ছিল অত্যন্তপ্রোজ্জ্বল। সে আলোর শিক্ষা বিলালেরকালো চামড়াভেদ করে বেরিয়ে আসতো। মেঘ ফুঁড়ে সূর্য যেভাবেপৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক সেইভাবে।বিলালকৈ অত্যন্ত পছন্দ করতেন নবী (স)। তিনি বললেণ,বিলাল আযান দাও। আমরা নামায আদায় করবো।বিলাল রাসূলের (স) নির্দেশে আযান দিলেন।বিলালই প্রথম আযানদাতা। অর্থাৎ প্রথম মুয়াজ্জিন।বিলালের উচ্চ কণ্ঠের আযানের ধ্বনিতে চারদিকেমুখরিত হয়ে যেত। চারদিকে সাড়া সাড়া রব পড়ে যেত।তার আযান শুনে কোনো মুসলমানই আর ঘরে বসে থাকতেপারতেন না। পুরুষ, নারী, যুবক, বৃদ্ধ এমনকি শিশুরা পর্যন্তবিলালের আযান শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়তেন।হযরত বিলাল!এক সময়ের হাবশী ক্রীতদাস!সেই কালো মানুষটি ছিলেন সত্যের পক্ষে অত্যন্তবিনয়ী। আর অন্যায় ও মিথ্যার বিরুদ্ধে ছিলেন অনড়পর্বত।বিলাল- কেবল একজন কালো মানুষের নাম নয়। বরং সত্য ওবিশ্বাসের আলোয় আলোকিত দুর্ভেদ্য এক কালোপাহাড়ের নাম-হযরত বিলাল!যে পাহাড় থেকে সত্য, বিশ্বাস এবং সাহসের আলোকেবলই ঝরে ঝরে পড়তো


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কালো পাহাড়ের আলো
→ কালো পাহাড়ের আলো
→ কালো পাহাড়ের আলো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now