কালো গোলাপের চাবি "রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Queen(guest) (০ পয়েন্ট)
X
লেখিকা: Queen
*উপন্যাস: কালো গোলাপের চাবি*
*অধ্যায় ২: তৃতীয় ধাঁধা*
ভোর ৫টা। নিশি সারারাত জেগে। ল্যাপটপের স্ক্রিনে ওই মেইলটা জ্বলছে: "উত্তর: অন্ধকার।"
খুনি নিজেই ধাঁধার উত্তর দিয়ে দিল। মানে খেলার নিয়ম বদলে যাচ্ছে। ও আর নিশিকে টেস্ট করছে না। ও নিশিকে নিজের দিকে টানছে।
সকাল ৮টা। দরজায় আবার টক টক। এবার পিপহোলে দেখল অফিসার রায়হান। হাতে কফির কাপ।
"রাতভর ঘুমাননি বোঝাই যাচ্ছে।" রায়হান কফি এগিয়ে দিল। "আরাভের ফোন রিকভার করেছি। লাস্ট কল ছিল আপনার নম্বর থেকে। রাত ২টা ১৬। মানে ও মরার ১ মিনিট আগে।"
নিশির হাত থেকে কফি পড়ে গেল। "আমি কল করিনি। আমার ফোন তো..."
"আপনার ফোন ছাদে পাওয়া গেছে। আর কলটা আপনার ফোন থেকেই গেছে।" রায়হান চোখ সরু করল। "নিশি, আপনি খুনি না হলেও এই কেসে জড়িত। কেউ আপনাকে ফাঁসাচ্ছে।"
নিশি চুপ। বলতে পারছে না যে একজন মাস্ক পরা লোক ওকে চুমু খেতে চায়। বললে রায়হান ওকে পাগল ভাববে।
"আজ রাত ২টা ১৭ তে আপনি কোথায় থাকবেন?" রায়হান জিজ্ঞেস করল।
নিশি ঢোক গিলল। তৃতীয় ধাঁধার সময়। খুনি বলেছে রায়হান মরবে।
"বাসায় থাকব।" ও মিথ্যা বলল।
রায়হান চলে গেল। যাওয়ার আগে বলল, "আমি রাত ২টায় টহল দেব আপনার গলিতে। সাবধানে থাকবেন।"
মানে রায়হান নিজেই টার্গেট হওয়ার জন্য হাঁটতে যাচ্ছে।
*রাত ২টা ১০*
নিশি ছাদে। হাতে কালো গোলাপ। ও ঠিক করেছে রায়হানকে বাঁচাবে। খুনিকে থামাবে।
২টা ১৭ বাজতেই ছাদে কেউ উঠে এল। মাস্ক পরা ছায়ামানুষ। আজ ওর হাতে ছুরি নেই। শুধু একটা খাম।
"ধাঁধা লাগবে না আজ।" ও ফিসফিস করল। "কারণ তুমি উত্তর আগেই জানো। অন্ধকার।"
"রায়হান কোথায়?" নিশি চিৎকার করল।
ছায়ামানুষ খামটা এগিয়ে দিল। "ওকে বাঁচাতে চাও? তাহলে আমাকে চুমু খাও। এখন। ডার্কলি।"
নিশি পিছিয়ে গেল। "তুমি সাইকো।"
"আর তুমি?" ছায়ামানুষ মাস্ক খুলল।
নিশির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। মাস্কের নিচে আরাভের মুখ।
"অসম্ভব। তুমি মরে গেছো। আমি তোমার লাশ দেখেছি।"
আরাভ হাসল। "লাশটা আমার ছিল না, নিশি। আমি মরিনি। আমি তোমাকে টেস্ট করছিলাম। তিন বছর আগে তুমি আমাকে মারতে চেয়েছিলে। আজ দেখতে চাই, তুমি আমাকে ভালোবাসতে পারো কিনা। অন্ধকারকে ভালোবাসতে পারো কিনা।"
হঠাৎ নিচে গুলির শব্দ। টাস। টাস।
নিশি ছাদের কিনারে গিয়ে দেখল। রায়হান পড়ে আছে গলিতে। বুকে গুলি। পাশে দাঁড়িয়ে আরেকটা লোক। মাস্ক পরা। হুবহু আরাভের মতো দেখতে।
নিশি ঘুরে তাকাল। ছাদে দাঁড়ানো আরাভ তখনও হাসছে।
"ক্লোন না, নিশি। আমরা জমজ। আমি আরাভ। ও আমার ভাই, আহান। ও পুলিশ। ওই আমাদের খেলার বিচারক।"
নিশির মাথা ঘুরছে। "তার মানে... প্রথম থেকে দুইজন ছিলে?"
"হ্যাঁ। আমি তোমাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর জন্য ঘৃণা করতাম। আহান তোমাকে ভালোবাসত। তাই ও বলেছিল, তোমাকে টেস্ট করবে। তুমি যদি অন্ধকারকে বেছে নাও, তাহলে ও তোমার হবে।"
আরাভ এগিয়ে এল। নিশির থুতনি তুলে ধরল। "বলো, নিশি। তুমি কাকে চাও? আমাকে, যে তোমাকে ঘৃণা করে? নাকি আহানকে, যে তোমাকে ডার্কলি ভালোবাসে?"
নিশির চোখের সামনে রায়হানের রক্তাক্ত শরীর। কানে বাজছে ধাঁধা: "আমি মরলে তুমিও মরবে।"
ও বুঝল, ছায়া মানে আরাভ না। ছায়া মানে আহান। যে ওকে মেরেও বাঁচাবে।
নিশি আরাভের শার্ট খামচে ধরল। "আমি অন্ধকারকেই চাই।"
আরাভের ঠোঁট ওর ঠোঁটের কাছে আসতেই নিচ থেকে আহানের গলা ভেসে এল।
"নিশি, ওকে বিশ্বাস করো না। ও মিথ্যা বলে। আমি আসছি।"
কিন্তু ততক্ষণে নিশি আরাভকে চুমু খেয়ে ফেলেছে। ডার্কলি। রক্তের স্বাদ।
চুমু ভাঙতেই আরাভের মুখ বদলে গেল। ওটা আরাভ না। ওটা আহান। মাস্ক পাল্টে ফেলেছে।
"খেলা শেষ, নিশি।" আহান ফিসফিস করল। "তুমি অন্ধকারকে বেছে নিয়েছো। এখন থেকে তুমি আমার।"
নিচে পড়ে থাকা রায়হান নড়ে উঠল। ও মরেনি। বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরা। ও চিৎকার করল, "নিশি, পালাও! ওরা দুইজনই সাইকো!"
কিন্তু নিশি পালাল না। ও আহানের হাত ধরল। কারণ ওর ভেতরের অন্ধকারটা আজ প্রথম কেউ বুঝেছে।
আরাভ ওরফে আহান ওর কানে ফিসফিস করল, "পরের ধাঁধা কাল। পুরস্কার: আমার আসল পরিচয়।"
নিশি হাসল। প্রথমবার। মুখ নেই, তবু হাসল। ছায়ার মতো..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now