বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কালো গোলাপের চাবি
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Queen (০ পয়েন্ট)
X
লেখিকা: Queen
*উপন্যাস: কালো গোলাপের চাবি*
*অধ্যায় ৩: আহানের সত্যি
ছাদের রেলিংয়ে শিশির জমেছে। রাত ২টা ১৯। নিশির হাত কাঁপছে, কিন্তু আহানের হাতটা শক্ত করে ধরে আছে। নিচে গলিতে রায়হান উঠে বসেছে। বুলেটপ্রুফ ভেস্টের ওপর রক্তের ছোপ, কিন্তু লোকটা মরেনি। ওর পিস্তল এখনও হাতে।
"নিশি, ওর থেকে দূরে সরেন।" রায়হানের গলা ভাঙা। "ওরা দুই ভাই মিলে আপনার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।"
আহান নিশির চোখের দিকে তাকাল। ওর ধূসর চোখ দুটোয় আজ কোনো ছায়া নেই। শুধু ক্লান্তি। "তোমার মনে আছে, নিশি? তিন বছর আগে, আরাভ যেদিন চলে যায়, সেদিন বৃষ্টি ছিল। তুমি ওর ব্যাগ আঁকড়ে ধরে বলেছিলে, 'আমাকে মাফ করে দাও'।"
নিশির নিঃশ্বাস আটকে গেল। "তুমি কীভাবে জানো? ওই রুমে তো আমি আর আরাভ ছাড়া কেউ ছিল না।"
"আমি ছিলাম।" আহান আস্তে বলল। "জানালার ওপাশে। দেয়ালের ছায়ায়। আমি সবসময় ছিলাম। তুমি যখন আরাভকে ঘুমের ওষুধ মেশানো চা দিয়েছিলে, আমি দেখেছি। তুমি যখন ওর বুকের ওপর পড়ে কেঁদেছিলে, আমি শুনেছি।"
নিশি দু’পা পিছিয়ে গেল। "তুমি... তুমি পুলিশকে বলোনি কেন?"
"কারণ আমি পুলিশ না, নিশি। আমি শুধু আহান। আরাভের জমজ। ও ডাক্তার, আমি ক্রিমিনালদের সোর্স। আমাদের চেহারা এক, কিন্তু রক্ত আলাদা।"
*তিন বছর আগে, ১৭ই নভেম্বর*
আরাভ-নিশির সম্পর্ক তখন বিষ। আরাভ সন্দেহ করত নিশি ওকে কন্ট্রোল করতে চায়। নিশি ভাবত আরাভ ওকে ইগনোর করে। ঝগড়ার এক রাতে নিশি রাগে আরাভের গ্রিন-টি’তে তিনটা ঘুমের ট্যাবলেট গুঁড়া করে মিশিয়ে দেয়। ওর প্ল্যান ছিল আরাভ ঘুমালে ওকে বোঝাবে, সরি বলবে।
কিন্তু আরাভ চা’য়ে চুমুক দিয়েই বুঝে ফেলে। ও নিশির গাল চেপে ধরে বলে, "তুমি সাইকো। তুমি আমাকে মেরে ফেলতে চাও।"
নিশি কাঁদতে কাঁদতে বলে, "না, আমি শুধু চেয়েছিলাম তুমি একটু থামো। আমার কথা শোনো।"
ওই মুহূর্তে জানালার বাইরে দাঁড়ানো আহান সব দেখে। ওর বুকের ভেতর কিছু একটা ভেঙে যায়। ওর ভাইকে কেউ মারতে চাইছে। আবার ওই মেয়েটার চোখের পানিও ও সহ্য করতে পারছে না।
আরাভ ওই রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে চলে যায়। যাওয়ার আগে আহানকে ফোন করে। "নিশিকে দেখে রাখিস। ও বিপদজনক। কিন্তু... ওকে ঘৃণাও করতে পারি না।"
আহান কথা রাখে। তিন বছর ধরে নিশির ছায়া হয়ে থাকে। নিশি যখন নতুন চাকরিতে জয়েন করে, আহান অফিসের সামনের চায়ের দোকানে বসে থাকে। নিশি যখন রাতে থ্রিলার বই পড়ে ভয় পায়, আহান ওর দরজার বাইরে পাহারা দেয়।
ছয় মাস আগে আরাভ ঢাকায় ফেরে। বলে, "চল, নিশিকে টেস্ট করি। ও যদি এখনও সেই আগের নিশি থাকে, তাহলে ওর শাস্তি হওয়া উচিত। আর যদি বদলে যায়, তাহলে..."
"তাহলে কী?" আহান জিজ্ঞেস করে।
"তাহলে তুই ওকে নিস। আমি চলে যাব।" আরাভ হাসে। "কিন্তু আমার শর্ত আছে। খেলাটা আমি সাজাব। তিনটা ধাঁধা, তিনটা লাশ।"
এভাবেই শুরু হয় 'কালো গোলাপের চাবি' খেলা।
*বর্তমানে, ছাদে*
হঠাৎ ছাদের দরজা লাথি দিয়ে খুলে গেল। আরাভ ঢুকল। জীবিত, সুস্থ। হাতে সাইলেন্সার লাগানো পিস্তল। ওর পরনে কালো শার্ট, আরাভের মতোই।
"বাহ, ইমোশনাল রিইউনিয়ন চলছে?" আরাভ তালি দিল। "আমার ভাই দেখি ভিলেন থেকে হিরো হয়ে গেছে।"
নিশি চিৎকার করল, "তুমি তো মরে গেছো! আমি তোমার লাশ দেখেছি!"
"ওটা লাশ ছিল, কিন্তু আমার না।" আরাভ পকেট থেকে একটা ছবি বের করল। "ওর নাম রনি। আমার পেশেন্ট। ক্যান্সার লাস্ট স্টেজ। ওকে আমি টাকা দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, তোর চেহারা আমার মতো করে সার্জারি করে দেব, আর তুই আমার হয়ে মরবি। বিনিময়ে তোর ফ্যামিলি ২০ লাখ পাবে।"
নিশির মাথা ঘুরে গেল। "তুমি... তুমি একটা মানুষকে কিনে নিলে মরার জন্য?"
"খেলার জন্য স্যাক্রিফাইস লাগে, জান।" আরাভ পিস্তল তুলল। "আর দ্বিতীয় লাশটা রায়হান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার এই মহান ভাই ওকে ভেস্ট পরিয়ে দিয়েছে। চিটিং, আহান। তুই রুলস ভাঙলি।"
আহান নিশিকে নিজের পেছনে আড়াল করল। "খেলা শেষ, আরাভ। নিশি প্রমাণ করেছে ও বদলেছে। ও আমাকে বেছে নিয়েছে অন্ধকারকে জেনেও।"
"ও তোকে বাছেনি।" আরাভ দাঁত কিডমিড করল। "ও ভয় পেয়ে তোর হাত ধরেছে। সত্যিকারের টেস্ট এখনও বাকি।"
টাস। গুলি।
নিশি চোখ বন্ধ করল। যখন খুলল, দেখল আহান ওর সামনে। বুকের বাঁ পাশে ফুটো। রক্ত গলগল করে বেরোচ্ছে। আহান হাসছে।
"বলেছিলাম না... ছায়া সবসময় ঢাল হয়।" আহান নিশির গাল ছুঁল। ওর আঙুলে রক্ত লেগে গেল। "তিন বছর আগে তুমি আরাভকে ঘুম পাড়াতে চেয়েছিলে। আজ আমি তোমার জন্য ঘুমাব। পার্মানেন্টলি।"
"না!" নিশি আহানকে জড়িয়ে ধরে মাটিতে বসে পড়ল। "তুমি মরতে পারো না। তুমি আমার শাস্তি। তুমি আমাকে রোজ মনে করাবে আমি কী করেছি। প্লিজ, আহান।"
রায়হান ততক্ষণে আরাভকে ধরে ফেলেছে। হাতকড়া পরাচ্ছে। আরাভ বাধা দিচ্ছে না। শুধু ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
"আমি জিতলাম না হেরে গেলাম, বুঝতেছি না, ভাই।" আরাভ ফিসফিস করল।
অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। স্ট্রেচার। অক্সিজেন মাস্ক। নিশি আহানের হাত ছাড়েনি একবারও।
*হাসপাতাল, আইসিইউ, ৭২ ঘণ্টা পর*
ডাক্তার বলল, "মিরাকল। গুলি হার্ট ছুঁয়ে বেরিয়ে গেছে। ২ মিলি এদিক-ওদিক হলেই..."
নিশি তিন দিন ঘুমায়নি। চুল এলোমেলো, চোখের নিচে কালি। আহানের জ্ঞান ফিরল ভোর ৪টায়।
"চতুর্থ ধাঁধা।" আহানের গলা ফ্যাসফ্যাসে। "আমি যদি বেঁচে যাই, তুমি কি আমার অন্ধকারকে আপন করবে? আমার সাথে থাকবে? জেল, কোর্ট, সমাজ... সব ফেস করবে?"
নিশি আহানের রক্তশূন্য ঠোঁটে আলতো চুমু খেল। এই চুমুতে ঘৃণা নেই, ভয় নেই। আছে শুধু দায়। আর অদ্ভুত এক মায়া।
"আমি রাজি।" নিশি বলল। "তুমি আমার অন্ধকার। আমি তোমার আলো হবো না। আমি তোমার সাথে অন্ধকারেই থাকব। ডার্কলি।"
আহান চোখ বন্ধ করল। ঠোঁটের কোণে হাসি। "তাহলে খেলা শেষ। আমি জিতে গেছি।"
*কিন্তু খেলা শেষ হয়নি।*
সেদিন রাতেই নিশির ফোনে মেসেজ:
"তৃতীয় লাশ বাকি আছে, নিশি। তুমি ভাবছো খেলা শেষ? যাকে তুমি সবচেয়ে বিশ্বাস করো, সে-ই তোমাকে ছুরি মারবে। চতুর্থ ধাঁধা শুরু। - A"
A কে? আরাভ তো জেলে, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি পাহারায়। আহান হাসপাতালের বেডে।
নিশি কেবিনের জানালা দিয়ে নিচে তাকাল। ইমার্জেন্সির সামনে দাঁড়িয়ে আছে তিথি। নিশির বেস্ট ফ্রেন্ড। হাতে কালো গোলাপ। মাস্ক পরা।
তিথি ফোন কানে ধরে নিশির দিকে তাকিয়ে আছে। ওর ঠোঁট নড়ছে। নিশি পড়তে পারল: "সরি, দোস্ত।"
নিশির মনে পড়ল, তিন বছর আগে ঘুমের ওষুধের আইডিয়াটা তিথিই দিয়েছিল। বলেছিল, "ছেলেরা কথা না শুনলে একটু ঘুম পাড়িয়ে দিতে হয়।"
নিশির শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নামল। তৃতীয় লাশ কি তিথি নিজে হবে? নাকি নিশি?
চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now