বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প:-কালো বাটের ছাতি, লেখক:-শুভ. (কালো বাটের ছাতাটি)
দমদম স্টেশন , প্রায় সন্ধ্যা হয় হয় ভাব ।
আব্দুল লতিফ বার বার এদিক ওদিক
তাকাচ্ছে । রশিদ মিঞার এতক্ষনে চলে
আসার কথা । ট্রেন আর পাঁচ মিনিটের
মধ্যেই চলে আসবে অথচ তার কোন খবর নেই
। রশিদ মিঞা না এলে কলকাতা শহরে
একাই যেতে হবে । মা বেশ অসুস্থ ,
ডাক্তার যে ওষুধের নাম বলে দিয়েছে তা
কলকাতা শহর ছাড়া নাকি পাওয়া
যাবেনা । পনেরো বছর বয়সি আব্দুল লতিফ
এর আগে কখনো শহরে একা যায়নি । আজ
কেমন ভয় ভয় করছে , তার উপর সন্ধ্যা
ঘনিয়ে আসছে । শহরে রাতে তেমন আধার
নামতে পারেনা , চারিদিকে বৈদ্যুতিক
লাল নীল আলোকছটায় জ্বল জ্বল করে পুরো
শহর । এদিকে গ্রামে ভিন্ন চিত্র । সন্ধ্যা
নামলেই নিকষ কালো ছেয়ে যায়
চারিদিকে । মাগরিবের আযানের সময়
হয়ে এসেছে । তাতেই স্টেশনের আসে
পাশে যেনো ছোপ ছোপ আঁধার নেমে
আসতে শুরু করেছে । স্টেশনে বেশ লোকজন
, সবাই ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে । এত
মানুষের ভীরেও কেমন একা একা লাগছে ।
মনের মাঝে কেমন একটা কুহু ডাকছে । দূরে
ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে , তার
সাথে আযানের শব্দ । হঠাৎ মনে হলো
কেউএকজন ওর দিকে তাকিয়ে আছে । ডান
পাশে চোখ পরতেই প্রথমে চমকে উঠলো ।
শুভ্র সাদা দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধ তার
দিকে তাকিয়ে আছে । সাদা দাড়িগুলি
বুক অব্দি নেমে গেছে , পরনে ধবধবে সাদা
জোব্বা , হাতে একটি কালো বাট ওয়ালা
বেশ বড়সড় ছাতা । বৃদ্ধ হলেও বয়সের ভার
মোটেও ছুতে পারেনি তাকে । বেশ উঁচু
লম্বা এবং বলিষ্ঠ দেহ । দাড়ানোর ভাব
দেখেই বোঝা যায় বেশ শক্ত সামর্থ্য ।
ট্রেন প্রায় চলে এসেছে , বৃদ্ধ লোকটি দ্রুত
এগিয়ে এসে আব্দুল লতিফের সামনে
দাঁড়িয়ে বললো , সামনে তোর ঘোর বিপদ
বাছা , এই ছাতাটি রাখ , তোকে বিপদ
থেকে রক্ষা করবে । আব্দুল লতিফ লোকটির
কথার আগামাথা কিছুই বুঝলোনা , তার
কথা বলার ধরনে গা কেমন ছমছম করে
উঠলো । তবুও ছাতাটি নিতে অস্বিকার
করে বললো , এখন তো বৃষ্টি নেই আর
আপনার ছাতা আমি নেবোই বা কেনো !
লোকটি জোর করে ছাতাটি হাতে দিয়ে
বললো , সাবধানে যাস আর কিছুদিন রাতে
এভাবে একা বের হোসনে , যা ছাতাটি
তোকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে
বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছে । লোকটির এমন
কথাবার্তার কারন বুঝে উঠতে পারলোনা
আব্দুল লতিফ আর বোঝার সময়ও নেই , ট্রেন
ছেড়ে দিচ্ছে । ওদিকে ছাতাটি ধরিয়ে
দিয়েই লোকটি হনহন করে হেটে চলে
যাচ্ছে । আব্দুল লতিফ উপায় না দেখে
ছাতা হাতেই দৌড়ে ট্রেনে উঠে পরলো ।
লোকজনের ভীরে সামনে আগাতে
পারলোনা । দরজার থেকে কিছুটা সামনে
একটা সীট ধরে দাড়িয়ে রইলো । এই
বগিটাতে লোকজনে যেনো ঠাসা । সব
অপরিচিত মুখ । তবুও চোখ যেনো ঘুরে
ফিরে চেনা জানা মুখ খুঁজে ফিরছে।
লোকটির কথাটি তখনো মাথায় ঘুরছে ।
কিসের বিপদের কথা বললো সে ! আর এই
ছাতাটিই বা কি করে রক্ষা করবে ! কেমন
তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে সবকিছু । কেমন
অস্বস্তি লাগছে সাথে ভয়ও । রশিদ
মিঞাকে কষে একটা গালি দিতে ইচ্ছে
করছে যদিও বয়সে তিন বছরের বড় । এখন বড়
ছোটর হিসেব মাথায় আসছেনা , মাথায়
শুধু ঘুরছে সেই বৃদ্ধ লোকটির কথা , সামনে
তোর ঘোর বিপদ !
শহর বেশি দূরে নয় , মাত্র একটি স্টেশন
পার হলেই পরের স্টেশন ।
ট্রেনের গতি এখন ধীরে ধীরে কমে আসছে
, সামনে নলখাগড়া স্টেশন , কিছু লোক
নামবে হয়তো কিছু উঠবে । ট্রেন থামতেই
কিছু লোক হুড়মুড় করে নেমে গেলো । সীট
খালি না হলেও কিছুটা ফাঁকা হলো ।
এতক্ষণ ঠাসাঠাসতে মনে হচ্ছিলো দম বন্ধ
হয়ে আসছে । এবার একটু আরাম লাগলো ,
ট্রেন চলতে শুরু করেছে । এতক্ষন গায়ে
হাওয়া লাগছিলোনা , তবে লোকজন
কিছুটা কমায় এবার বেশ ফুরফুরে হাওয়া
লাগছে । ট্রেনের গতি বেশ বেড়েছে ,
হঠাৎ আব্দুল লতিফের মনে হলো বেশ
একটা দমকা হাওয়া শীষ কেটে ওর কানে
পাশ দিয়ে চলে গেলো এবং সঙ্গে সঙ্গেই
কে যেনো পেছন থেকে খুব জোরে ধাক্কা
দিলো । এক ধাক্কায় নিজেকে শূন্যে
আবিষ্কার করলো , মনে হচ্ছিলো হাওয়া
যেনো তার সমস্ত শক্তি দিয়ে ওকে
ভাসিয়ে দরজার দিকে নিয়ে যাচ্ছে ।
আচমকা ঘটাং করে আওয়াজ হলো দুটি
ধাতব পদার্থের বারি খাবার মতন । আর
তখুনই আব্দুল লতিফ ছিটকে পরলো দরজার
সামনেই ট্রেনের বগির মেঝেতে । সঙ্গে
সঙ্গেই কানের পাশ দিয়ে শীষ কেটে চলে
গেলো ঝড়ো হাওয়া মনে হলো হাওয়ার
ভেতর থেকে কেউ বলে উঠলো , ছাতাটির
জন্য বেঁচে গেলি ! সামনে তাকাতেই
দেখতে পেলো ছাতাটি দরজার সামনে
আড়াআড়ি ভাবে নিচে পরে আছে । খুব
একটা ব্যথা না পেলেও প্রচন্ড ভয়
পেয়েছে । দু তিনজন ছুটে এসে ওকে ধরে
তুললো আর বাকি সবাই অবাক দৃস্টিতে ওর
দিকে চেয়ে রইলো । এই এক মুহুর্তে কি যে
ঘটে গেলো কারো মাথায় ঢুকছেনা ।
সবাই বিস্মিত । শুধু এতটুকুনই বললো ,
তোমার হাতের ছাতাটি যদি দরজায়
বেঁধে না যেতে তবে হয়তো এতক্ষনে তুমি
ছুটন্ত ট্রেনের বাহিরে আছড়ে পরতে ।
একজন এগিয়ে এসে অবাক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে বললো , তুমি তো খুব একটা
হালকা পাতলাও নও কিন্তু ওভাবে উড়ে
গিয়ে দরজার সামনে পরলে কি করে !! এ
প্রশ্নের উত্তর যে আব্দুল লতিফের কাছেও
নেই সেটা বুঝতে পেরে ওকে নিয়ে
নিজের সীটে বসিয়ে দিলো । ইতিমধ্যে
ট্রেনের গতি কমতে শুরু করেছে । ট্রেন
কলকাতার প্লাটফর্মে ঢুকছে ।
সেদিন রাতে ওষুধ নিয়ে ফেরার মত সাহস
আর আব্দুল লতিফের হয়ে ওঠেনি । সে
রাতটি মামার বাড়ি কাটিয়ে পরদিন
সকালের ট্রেন ধরেছে । দমদম
স্টেশনে নেমেই সেই বৃদ্ধটিকে দেখতে
পেলো । যেনো ওর পথ চেয়েই দাঁড়িয়ে
আছে । আব্দুল লতিফ ছুটে গিয়ে বৃদ্ধটির
সামনে গিয়ে প্রশ্ন করলো , আপনি কি
করে বুঝলেন যে আমার বিপদ ! এবং কি
করেই বা জানলেন এই ছাতাটিই আমাকে
বিপদ হতে রক্ষা করবে !
বৃদ্ধটি মুচকি হেসে বললো , সব প্রশ্নের
উত্তর হয়নারে বেটা । তবে আমি দেখতে
পেয়েছিলাম বদটা তোর পিছু নিয়েছে ।
ওকে দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম তোর
ঘোর বিপদ ! বলেই আব্দুল লতিফের হাত থেকে ছাতাটি নিয়ে হনহন করে স্টেশন ত্যাগ করলো ।
আব্দুল লতিফ এখনো ভাবে , সেটা হয়তো দুঃস্বপ্ন ছিলো। আর যদি বাস্তব হয় তবে এর কোন ব্যাখ্যা সে আজ পর্যন্ত পায়নি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now