বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কালো

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মাছ-বাজারে চুনোপুঁটি দেখে মনটা চাঙ্গা। অনেকদিন দেশি ছোটমাছ বাজারে উঠে না। মাছওয়ালা দু’শ টাকা কিলো চাচ্ছে। আরেফিন দামাদামি শুরু করলো। ‘কিছু কম নেন না, ভাই! দেড়’শ, নেন।’ ‘না, না। হইবে না।’ ‘হইবে না বললেই তো হয় না।’ ‘কি করমু ভাই? এই সব মাল এহন আর হস্তায় পাওয়া যায় না।’ ‘আচ্ছা ভাই! আরও দশ টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছি-দেন?’ ‘না--হইবে না।’ ‘বাব্বা। এ তো দেখছি, খুঁটি মেরে বসে আছে!’ ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে। আধা কিলো দেন--একশ আশি করে দিচ্ছি।’ ব্যাগে মাছওয়ালা চুনোপুঁটি ভরে দিচ্ছে, এমন সময় মোবাইল বেজে উঠল। ‘হ্যালো, হ্যালো... জ্বি জ্বি...হ্যাঁ হ্যাঁ...আমি সমকালে আছি...আমার নাম? আরেফিন দস্তিদার... হাসপাতাল থেকে বলছেন? কী সমস্যা?... গুরুতর?... না আসলে, বুঝা যাবে না?... মহাগ্যাঞ্জাম?... বলেন কী!... বিশ্বাস হবে না কেন? আপনি ডাক্তার, আপনার কথা অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য... নয় নম্বর ওয়ার্ড তো? আচ্ছা আচ্ছা, এখুনি আসছি আমি....।' যাঃ, সব মাটি ! শুক্কুরবারে দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর চুটিয়ে একটা ঘুম। হাঞ্জাবেলা পত্রিকায় নিউজ-টিউজ পাঠিয়ে প্রেস ক্লাবে মাস্তি। চায়ের সাথে চোস্ত আড্ডা। সবই ভেস্তে যাবার যোগাড়। জার্নালিজমের এই এক ফ্যাসাদ। কখন কোথায় খবর তৈরি হয়, কে জানে? ঠিক সময় পৌছে দিতে না পারলে, এডিটরের বাপবাপান্তের শেষ নেই। ভাগ্যিস, মাছ বাজারের গলির মুখে আলীমকে পাওয়া গেল। ‘ধর তো ভাই ব্যাগটা! মেসে পৌঁছে দিস। এই রিকসা, চল-।’ কাধে ক্যামেরা এবং হাতে ডাইরি নিয়ে তরতর করে সিঁড়ি দিয়ে হাসপাতালের তিনতলায় উঠছে আরেফিন। ‘নয় নম্বর ওয়ার্ডটা কোনদিকে?’ ‘হাতের ডাইনে যান।’ নয় নম্বর ওয়ার্ডের সামনে বিরাট জটলা। বিশ পঁচিশ জন নারীপুরুষ এক সঙ্গে চিল্লাচিল্লি করছে। রীতিমতো হৈ চৈ-- গন্ডগোল। ‘নীরবতা বজায় রাখুন। রোগীদের অসুবিধা করবেন না’- কে কার উপদেশ শুনে? হট্টগোলে মেতে গেছে সবাই। আরেফিন ভিড়ের মধ্যস্থলে পৌঁছে যায়। যাকে কেন্দ্র করে ডাক্তার রোগী ও দর্শনার্থীদের বাদানুবাদ তাকে স্পষ্ট দেখতে পায় সে। মেয়েটি হাত উঁচিয়ে এক নাগারে চিৎকার করছে, ‘পুলিশের ভয় দেখান আমাকে? ডাকুন আপনার পুলিশ। আমি জেলে যেতে এক পায়ে খাড়া। কিন্তু আপনারা করছেনটা কী? ডাক্তার হয়ে খুনীর মত আচরণ করছেন কেন?' হাসপাতাল মাথায় তুলে মেয়েটি ঘোষণা করলো, ‘রোগী আমার কে, জানাটা আপনাদের এত জরুরি কেন? আমি বলেছি তো, ও আমার মেয়ে, আমার মেয়ে।’ ‘তোমার মেয়ে!’ সবাই হো হো করে হেসে উঠল। ‘এই মেয়ে?’ এপ্রোন পরা এক ডাক্তার জেরা শুরু করে, ‘তোমার বয়স কত হে? ফাজলামি করার জায়গা পাও না-- না? রোগী তোমার মেয়ে হয় কি করে?' মেয়েটি তাচ্ছিল্য ভরে উত্তর দেয়, ‘এতই যখন আপনার কৌতুহল, খোঁজ নিয়ে দেখুন গে আপনি।’ ভারি আমোদ পায় উপস্থিত নরনারীরা। নানা রকম আশালীন মন্তব্য করে তারা। ‘দেহেন গে যাইয়া! কাজের বেডিরে অর ভাতার আকাম-কুকাম কইরা পেট করছে!’ ‘এখন উনি আইছেন জামাইরে উদ্ধার করতে।’ ‘আরে ভাই বোঝেন না! রাস্তার মেয়েছেলে, রাস্তার!’ ‘সমাজটা এক্কেবারে উচ্ছন্নে গেছে।’ ‘কালে কালে আরও কত কী দেখমু!’ যুবতী নার্সটি মন্তব্য করে, ‘আল্লাহর গজব আসতে আর বেশি দেরি নাই।’ ‘এই মেয়ে, নষ্টামির আর জায়গা পাও না-- না?’ বয়স্ক নার্সটি ঘৃণায় নাক সিটকায়। বলে, ‘ছিঃ ছিঃ ছিঃ! লজ্জা শরমের মাথা খাইছে, চেড়ি!’ এবার লম্বা মত সিনিয়র ডাক্তার মেয়েটির মুখের কাছে এসে ধমকে উঠলেন, ‘শেষবারের মত তোমাকে ওয়ার্নিং দিচ্ছি। এক্ষুনি তোমার রোগী নিয়ে বের হয়ে যাও। না হয়, আমি পুলিশ ডাকতে বাধ্য হব ।’ মেয়েটির মুখে কোনো ভয়ভীতি দেখা গেল না। ডাক্তারকে কোনো রকম পাত্তা না দিয়ে মুখের উপর আঙ্গুল নেড়ে ব্যঙ্গ করে উঠল, ‘কী আমার মুরোদ রে! বলি-- এটা হাসপাতাল, না পুলিশের থানা? ডাকুন ডাকুন, আপনার পুলিশ। ডাকুন।...কী সাংঘাতিক ব্লিডিং হচ্ছে...ছিঃ ছিঃ, আপনারা ডাক্তার, না কসাই?' সিনিয়রের অপমান সহ্য করতে না পেরে যুবতী নার্সটি মেয়েটিকে ঠাস ঠাস দু’টি চড় মারল। ‘দূর হ, নষ্টা বজ্জাত মাইয়া! তুই নিজে তো রাস্তার। আরেকটারে ধইরা আইন্যা সকালবেলা গ্যাঞ্জাম শুরু করেছিস, হারামজাদি!’ দু’জন নার্স মেয়েটিকে জাপটে ধরল। তিনজনে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। মেয়েটি দু’জনের সঙ্গে কিছুতেই কুলিয়ে উঠতে পারছে না। শিগগির অবাধ্য মেয়েটিকে তারা কবজা করে ফেলল। চ্যাংদোলা করে সিঁড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছে । ভিড়ের লোকজন দারুন মজা পাচ্ছে। তারা উচ্চস্বরে হো হো করে হাসাহাসি করছে। ‘এইখানে কোনো মানুষ নাই? সবই দেখছি অমানুষ!’ মেয়েটি চ্যাংদোলায় থেকে ডুকরে কেঁদে ওঠে। ‘এই সিস্টার!’ আরেফিন কঠিন স্বরে বলল, ‘ওকে ছাড়ুন আপনারা।’ নার্স দু’জন আরেফিনের কাঁধের ক্যামেরার দিকে তাকায়। দেখে হাতে নোটবুক। তারা আস্তে করে মেয়েটিকে মেঝের উপর শুইয়ে দেয়। ঝট করে উঠে দাঁড়ায় মেয়েটি। চোখের জল মুছে ফেলে ওড়না দিয়ে। ‘আপনি সাংবাদিক? দেখুন ভাই, ওরা কী করছে? এটা হাসপাতাল, না অন্যকিছু? আসুন আমার সঙ্গে।’ আরেফিন খেয়াল করে দেখল মেয়েটিকে। হলুদ সালোয়ার কামিজ পরা। মাঝারি উচ্চতা। কুচকুচে কালো--কালীদেবীর মত। মেয়েটির চোখ উপচে পানি পড়ছে। আরেফিন তার পিছু পিছু ওয়ার্ডের ভেতরে ঢুকল। ব্লিচিং পাউডার, ফিনাইল, ডেটল আর ওষুধের বিচ্ছিরি গন্ধ নাকে ঝাপটা দিল। যত রোগী বেডে, তার চেয়ে বেশি মেঝেতে। চারদিকে ‘আঃ ওঃ, আল্লাগো, মাগো, বাবাগো, মলাম গো, গেলাম গো’ আর্তনাদ আর কোঁকানি। ফিমেল ওয়ার্ড, কিন্তু মহিলার চেয়ে পুরুষ দর্শনার্থী বেশি। এক পাশে মেঝের উপর রক্তে ভাসছে যে রোগীনিটি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আরেফিন। ‘দেখুন, দেখুন আপনি। একবার তাকাইয়া দেখুন। মরে যাচ্ছে মেয়েটি, আর তারা চিকিৎসা করবেন না। ঠিকানা যাচাই করছেন!’ আরেফিন দেখল, মেঝেতে পড়ে থাকা মেয়েটির দেহ নিথর। শুধু ফ্যাকাসে মুখে বড় বড় অদ্ভুত জ্বলজ্বলে দুটি চোখ নড়াচড়া করছে। বয়স কতই বা হবে? বড়জোর বারো কিংবা তেরো? ‘রোগী আপনার কে হয়?’ ‘আমার মেয়ে।’ ‘আপনার মে-য়ে! আপ-নার!' স্ন্যাপ নেবে বলে ক্যামেরা রেডি, ভিউ ফাইনন্ডারে আরেফিনের চোখ। এতক্ষণ বাইরের কথোপকথন বোধগম্য হচ্ছিল না। এবার অদ্ভুত মেয়ের আরও অদ্ভুতুরে কথা শুনে আরেফিন বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যায়। ক্যামেরা থেকে চোখ তুলে কালো রঙের আশ্চর্য মেয়েটিকে দেখে সে। বলছে কী? ওর মেয়ে! এও কি বিশ্বাস করতে হবে! নিজেকে মা বলে দাবি করছে, অথচ ওর নিজেরই বয়স আঠারো উনিশের বেশি হবে না। মেরে কেটে বড়জোর বিশ। বিশ বছরের মেয়ের বারো বছরের কন্যা? কেমন করে? ‘আমার নাম পিকু--- রোজিনা আক্তার পিকু।’ মেয়েটি আরেফিনের দিকে সোজাসুজি তাকায়। কথা বলা শুরু করে সে। মুখে অনেকগুলো গ্যাজা দাঁত। ‘নিজের কানে শুনলেন তো। ওরা আমাকে কত কী বলছে? একটা মানুষ মারা যাচ্ছে, তারা আমলেই নিচ্ছে না। আমাকে পুলিশে দেবে? আরে, দিবি তো দে। আমি তো মানা করছি না। আগে মেয়েটিকে বাঁচাও। ডাক্তারের মত কাজ কর। কসাইয়ের কাজ করছো কেন?' ‘সত্যি করে বলুন তো, রোগী আপনার কে?’ আরেফিন জিজ্ঞাসা না করে পারল না। ‘বললাম তো, আমার মেয়ে!’ পিকু খ্যাপে উঠল, ‘আর কতবার কমু-- আমার মেয়ে, আমার মেয়ে!’ ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠল সে, ‘আর দেরি করবেন না, ডক্টর প্লিজ... !’ দু’জন ডাক্তার ও তিনজন নার্স ক্রন্দনরত পিকু, রক্তে ভেসে যাওয়া রোগী এবং আরেফিনের ক্যামেরাকে বারবার তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। ‘সিস্টার রোগীকে ‘ইনসেন্টিভ কেয়ারে নিয়ে যান। অপরেশন লাগবে।’ মা দাবিদার অদ্ভুত মেয়ে পিকুকে লক্ষ্য করে বয়স্ক ডাক্তারটি বললেন, ‘অনেক ওষুধপত্র লাগবে কিন্তু। সব আপনাকে দিতে হবে। পরে কোনোরকম ঝামেলা পাকানো চলবে না।’ আরেফিনের দিকে ‘দুঃখ দুঃখ’ মুখে দু’জন ডাক্তার তাকালেন। জুনিয়র ডাক্তারটির কথা শুনে মনে হলো, কাব্য-সাহিত্য পড়েন বা লিখেন। ‘কী বলবো ব্রাদার? নামেই আরোগ্য নিকেতন। ওষুধপত্রের যা সরবরাহ তা সমুদ্রের সামনে গোষ্পদ মাত্র।’ ‘কত টাকা লাগবে?’ সিনিয়র ডাক্তারের কাছে পিকুর ব্যাকুল প্রশ্ন। ‘হিসেব করে বলতে হবে। রেজিস্টারের রুমে চলে আসুন, আপনি।’ রক্তভেজা মেয়েটিকে স্ট্রেচারে উঠানো হচ্ছে । আয়া ও নার্সদের মুখ বেজায় অখুশি ও বিরক্তিতে ভরা। আয়ারা জানে, এ সব মেন্দামার্কা রোগীতে কোনো বকশিশ মিলবে না। আর সকালবেলা নার্সরা রিলাক্স মুডে ছিল। বলা নেই, কওয়া নেই, উঠকো ঝামেলা এসে হাজির। অপারেশন মানে সার্জনের সামনে অ্যাটেশন হয়ে খাড়া থাকা। নাকমুখে মাক্স পরে রোবটের মত আকার ইঙ্গিতে চলা। ছুরিকাঁচি এগিয়ে ধরা। ডাক্তারের পেছন পেছন পিকু হেঁটে গেল। আরেফিন এই ফাঁকে রোগী, পিকু, ডাক্তারদের ঝটপট কয়েকটা ছবি তুলে ফেলল। হাসপাতালে এমন ঝক্কি-ঝামেলা নিত্য লেগে থাকে। এখানে থেকে আর কী হবে? এ সব নিউজের গুরুত্ব তেমন নেই। বড়জোর ছুটির দিনে ভেতরের পাতায় ‘আঁতেল মার্কা কলাম’ লেখা যায়; কিন্তু ফ্রন্ট পেইজের খবর এটি নয়। এডিটর ছাপতে চায় না। রোড এক্সিডেন্ট, গণ ধর্ষণ, পুত্রের হাতে মা খুন, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, পুলিশ কাস্টডিতে মৃত্যু, বাসে আগুন... এগুলো হলো গরম খবর। যেদিন এমন গরম খবর, সেদিন পত্রিকার মার মার, কাট কাট। সম্পাদক খুশি, সংবাদদাতা খুশি। সবাই খুশি। আরেফিন ভাবে, দূর ছাই! আজকের দিনটাই ভেস্তে গেল। সারা সপ্তাহ জুড়ে মেসের খাবার-- বেগুন তো বেগুন, টমেটো তো টমেটো! চলছে দিনের পর দিন। অরুচি ধরে গেছে। শুধু শুক্রবারে চার বন্ধু মিলে একটু ভালোমন্দ খাওয়া। নিজেরাই রান্না করে। অপু ছেলেটার অনেক গুণ। রান্নার হাত দারুণ। পুঁটি মাছের চচ্চড়ি সজনে দিয়ে যা রাঁধে না! বিএম কলেজে থার্ড ইয়ারে পড়ছে, এরিমধ্যে সাংবাদিকতায় হাত পাকিয়ে ফেলেছে। তাড়াতাড়ি না ফিরলে তিনজনে সাবাড় করে ফেলবে। একবারও ভাববে না, আরেফিন খেল কি খেল না। রেজিস্টারের রুম থেকে হন্তদন্ত হয়ে বের হলো পিকু। বিষন্ন ও গম্ভীর। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নামছে। আরেফিন তাকে অনুসরণ করে দু’তলায় নাগাল পেল। ‘অপারেশনে কত টাকা লাগবে বলল, ডাক্তার?’ ‘বিশ হাজার!’ হতাশ চোখে তাকায় পিকু এবং দু’তলা থেকে আস্তে ধীরে নামতে থাকে। ‘এত টাকা আছে আপনার কাছে?’ ‘না থাকলে আপনে দেবেন?’ দুর্বিনীত উত্তর। পরক্ষণে অনুতপ্ত কন্ঠে বলে, ‘সত্যি বলতে কি, আমার কাছে মাত্র সাতশ টাকা আছে।' ‘আমি বলছিলাম কী...।' ‘থামুন। সব বেটাকে আমার জানা আছে।’ পিকু ধমকে উঠে। আরেফিনের থতমত খাবার অবস্থা! মেয়েটার মাথায় নিশ্চয় ছিট আছে। এ সব পাগল ছাগলের সাতেপাঁচে থাকতে নেই। কিন্তু মাথার ভেতর তেকে পোঁকাটা কিছুতেই বের হচ্ছে না। 'ছয় মাসের কন্যা, নয় মাসের গর্ভ'-- এমন একটা কথা লালন ফকিরের গানে শুনেছে আরেফিন। বাস্তবে এমনটি কি সম্ভব? হাঁটতে হাঁটতে পিকুর সাথে হাসপাতাল গেটে আসে। ‘এখন কি করবেন আপনি?’ ‘কি করমু? ভাবছেন, পালাইয়া যামু? না না-- পালামু না। কানের দুল দুটি বেচমু। আশা করি এতে হয়ে যাবে।’ আরেফিন পিকুর কানে দুটি ঝুমকা ফুল দেখতে পায়। ঝিকমিক করছে। সোনার দুল। মিশমিশে কালো মুখে এই ঝিকিমিকিটুকুই চোখে পড়ে। মেয়েটিকে দেখলেই মন খারাপ হয়ে যায়। সুন্দর শুধু গায়ের রঙে হয় না, কালো সোনা বলেও একটা কথা আছে। কিন্তু এ মেয়েটি কালোর মধ্যে অত্যন্ত বেঢপ। লম্বার তুলনায় স্থুল। মুখশ্রী বলতে কিছু নেই। মুখে দাঁতের সংখ্যা বত্রিশের চেয়ে অনেক বেশি। কথাবার্তা দুর্বিনীত--যাকে বলে মুখরা রমনী। হাসপাতালের সামনে-- রাস্তার ওপারে দু’টি দোকান। ‘হরিচাঁদ স্বর্ণালংকার’- এর কাঁচের দরজা ঠেলে পিকু ভেতরে ঢুকে গেল। একবারও পেছন ফিরে দেখল না। আরেফিন এদিক ওদিক তাকাতাকি করে রিকসা খোঁজছে। এমন সময় সে চমকে উঠল--'কুহু কুহু' ডাক শুনে। বরিশালের হাসপাতাল চত্বরের বড় কোন গাছ থেকে কালো কোকিল ডেকে উঠল, কুউউ, কুউউ, কুহু...। আরেফিন ভাবলো, তা হলে এখনো বসন্ত যায়নি!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালো গোলাপের চাবি
→ কালোর মাঝে আলোর দীপ্তি
→ কালো ছায়ার অভিশাপ
→ পঁচিশে মার্চ কালোরাত
→ কালো কুকুর
→ কালো কুকুর (২)
→ অনিশ্চয়তায় ঘেরা অমাবস্যার গভির কালো অন্ধকারে থাকা এইচ.এস.সি পরিক্ষা ২০২০
→ কালো যাদু
→ কালো জাদু

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now