বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জুয়া -রাফিন ইকরাম ।

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মালেক সাহেব একজন পাকা জুয়াড়ি। থ্রী কার্ডস এ তার কেরামতিতে যে কেউ হার মানতে বাধ্য। কত লোক যে তার কাছে হেরেছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসেব না থাকলেও মালেক সাহেব এ নিয়ে একদমই মাথা ঘামান না। মাঝে একবার তার প্রচন্ড জ্বর হল। সদ্য বিবাহিত বাইশ বছরের স্ত্রী দিন রাত সেবা করে তাকে সুস্থ করে তুলেছিল। জ্বরের ঘোরে তিনি তার স্ত্রীকে কথা দিয়েছিলেন যে আর জুয়া খেলবেন না। কিন্তু মানুষ কথা দেয় তা ভেঙে ফেলার জন্য। মালেক সাহেবও এর ব্যতিক্রম হলেন না। ষাটোর্ধ বয়সে বিয়ে করার ভীমরতি হলেও নিজের তৈরী সিক্রেট ক্যাসিনোর লাস্যময়ী নারীদের প্রতিই তার আকর্ষণ বেশী। নিজের স্বামীর সাথে অন্য মেয়েকে দেখে সালমা একা ঘরে ডুকরে কাদত। তবুও সে টু শব্দটি করে না। কেননা এতকিছুর পরও মালেক সাহেবের প্রতি মেয়েটির সম্মান এতটুকু কমেনি। আর মালেক সাহেবও সালমাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন। আজ পর্যন্ত স্পর্শও করেননি মেয়েটিকে। কেন জানি একটি আলাদা অনূভুতি কাজ করে এই মেয়েটার প্রতি। অন্যরকম একটি শ্রদ্ধা, একধরনের ভালোবাসা। এই বুড়ো বয়সে ব্যাপারটাকে মালেক সাহেব পাত্তা না দিলেও ভালোবাসাটাকে কিছুতেই অগ্রাহ্য করা যায় না। এই তো কিছুদিন আগেও মালেক সাহেব বাহিরের খাবারের সাথেই খুব মানিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সালমার হাতের খাবার ছাড়া অন্য যেকোনো কিছু বিষ এর মত লাগে। এই বিশ্বাসটা আরেকটু গাঢ় হবার পেছনেও কারন আছে। দীর্ঘ জুয়াড়ি জীবনে তার শত্রু সংখ্যাও নিতান্ত কম না। মালেক সাহেবের শংকা তার শত্রু সর্বদা তার আশেপাশেই থাকে। সুযোগ পেলেই ঘায়েল করবে তাকে। একমাত্র সালমাকেই তার পরম আপন মনে হয়। বিয়ের ঠিক পরদিন থেকেই সালমা মেয়েটা যেন মালেক সাহেবের পুরোটা দখল করে ফেলেছে। তবুও নোংরা মেয়েছেলে আর জুয়ার ধোয়াশা জগৎ থেকে একটুও বের করে আনা যায়নি তাকে। সালমা হয়ত তার স্বামীকে চোখের দেখা দেখেই সন্তুষ্ট। জুয়া, নোংরা মেয়ে আর সালমাই মালেক সাহেবের জীবনের সবকিছু। কিন্তু ঘটনা মোড় নিল অন্যদিকে যখনই মালেক সাহেবের সিক্রেট ক্যাসিনোতে জহির নামের ছেলেটি আসলো। জহির। মা আর প্রেমিকাকে নিয়েই ছিল তার জগৎ। দেখতে খুব সুদর্শন না হলেও নিজেকে নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করত না সে। একটা চায়ের দোকানই ছিল তার একমাত্র উপার্জনের ক্ষেত্র। স্বপ্ন বলেতে তার প্রেমিকাই ছিল তার সব। জহিরের মায়েরও খুব ইচ্ছা ছিল কবরে যাওয়ার আগে জহিরের একটা বন্দোবস্ত করে যাওয়ার। জহির যে এক শিল্পপতির কু লালসার ফসল তা জহিরকে কখনোই জানতে দেয়নি তার মা। বাবার কথা জানতে চাইলেই তার মা বলত বাবা জন্মের আগেই মারা গেছে। কিন্তু সত্যিটা আর কতদিন লুকিয়ে রাখবেন তিনি? যতটা দুঃখ জহির তার প্রেমিকা হারানোর ফলস্রুতি তে পেয়েছে তার চেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছে যখন সে জানতে পারে মালেক মিয়া তার আসল পিতা। চাপা একটা ক্ষোভ জমা হয় জহিরের মনে। মালেক মিয়ার শেষ পরিণতি সে নিজ হাতে করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষ দিয়ে বিষক্ষয়ের এক অসম যুদ্ধে নেমে পড়ার নেশা পেয়ে বসে তাকে। এদিকে নিজ পুত্রের কাছে অপমানিত হবার চেয়ে আত্মহননের পথটাই বেছে নিয়েছেন জহিরের মা। মায়ের মৃত্যুতে জহির ভেঙে পড়লেও মালেক মিয়াকে জুয়ায় হারিয়ে নিজের মায়ের সম্ভ্রম নষ্ট করার প্রতিশোধ নেয়ার দৃঢ় সংকল্প করে সে। মায়ের কবর জিয়ারত করেই সে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়। গন্তব্য মালেক মিয়ার সিক্রেট ক্যাসিনো। লক্ষ্য মালেক মিয়ার সম্পদ গ্রাস করা। জহিরের মুখটা মালেক সাহেবের খুব চেনা চেনা লাগছে। আগে কোথাও দেখেছে বলে মনে পড়ছে না তার। তবুও এই টিঙটিঙে রোগা ছেলেটার সাহস যথেষ্ট বেশি। ঢাকা শহরের বড় বড় জুয়াড়িরা যেখানে মালেক সাহেব কে সমীহ করে চলে সেখানে এই ছেলে কিনা বলছে সে আমায় হারিয়ে দেবে। বয়স কত হবে এই ছেলের? পঁচিশ কি ছাব্বিশ? -তুমি কি জানো তোমার জন্মেরও আগে থেকে আমি পিট খেলা শুরু করেছি? -জানি। আমি আপনার ব্যাপারে সব জেনেই এসেছি। -কত টাকা নিয়ে এসেছ? -আমি আপনার মত ধনী নই। তবে আমার কাছে আমার মায়ের হীরের একটা নেকলেস আছে। সেটা দিয়েই শুরু করব। -আচ্ছা। তো শুরু করি। তুমি জানো তো আমি থ্রী কার্ডস খেলি। -জানি। শুরু করুন। মালেক সাহেব একটু বিচলিত হলেন। কে এই ছেলে যে এতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে এসেছে? ও কি খুব বড় জুয়াড়ি? আমাকে ফাঁদে ফেলার চিন্তা করছে? কিন্তু ছেলের হালচাল দেখে তো গোবেচারা গ্রাম গঞ্জের ছেলেই মনে হয়। যাই হোক। ও যখন আমার সাথে খেলতে এসেছে তখন ওকে প্রফেশনাল খেলোয়াড়ই বিবেচনা করতে হবে। একটা অর্ধবসনা মেয়ে কার্ড শাফল করছে। এই বয়সের ছেলেদের তো এরকম মেয়ে দেখলে স্রেফ দমে যাওয়ার কথা। কিন্তু জহিরের মুখটা একদমই ভাবলেশহীন। এটা অবশ্য মালেক সাহেবেরই একটা চাল। খেলোয়াড়দের এসব মেয়ের সঙ্গে মাতিয়ে রেখে চুপিসারে নিজের কার্ড পালটে নেয়ার ট্রিকটা এতদিন মালেক সাহেবের সফলতার অন্যতম উপায় ছিল। কিন্তু আজ এই ছেলেটার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারে একটুও সুবিধা করা যাবে না। প্রথম দানে জহিরের কপাল অসাধারন কাজ করেছে। পাঁচ এর ট্রয় জহির রাজার ট্রয় করে আটকে দিয়েছে। মালেক সাহেবের কপালে ছয় ভাঁজ পড়ে গেল ব্যাপারটা দেখে। পরের পিটে জহির নেকলেসটা পকেটে রেখে টাকাগুলো দিয় এবারো জহিরের বাজিমাত। এইসের ডুওজ আর একটা রাজা নিয়ে খুব ভালোভাবেই জিতে গেল সে। কিন্তু এরপরের পিটটা আর জহিরের থাকল না। কালার ডুওজ থাকার পরও নাম্বার ডুওজের কাছেই হার মানতে হল তাকে। জহিরের মুখে আতংকের ছাপ। বাজির পুরো টাকাটাই গেল। বাকি রইল মায়ের নেকলেস। এটা দিয়েই শেষ পিট খেলতে হবে। কিন্তু জহির এবার একটু চালাকি করলো। হারলে নেকলেসটা তো হারাতেই হবে। শেষ ভরসা হিসেবে প্ল্যানটা কাজে লাগাতে হবে। -আমরা আমাদের সর্বস্ব বাজি ধরে এই পিটটা খেলব। রাজি? মালেক মিয়া একটু ভাবলেন। কি ভেবে উনি রাজি হয়েও গেলেন। জহিরের টোপ টা ভালোভাবেই গিলেছে সে। মালেক সাহেব কার্ড তিনটা নিয়ে ভাবছেন, ছেলেটা বোকা নাকি পাগল? এই পিটটায় ছেলেটার জেতার সম্ভাবনা শতকরার হিসেবে ভগ্নাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। মালেক সাহেব এইসের ট্রয় ফেললেন। বিকট একটা হাসি দিয়ে এটাই বোঝাতে চাইলেন যে ওল্ড ইজ গোল্ড। কিন্তু জহিরের দৃষ্টি এখনো তার কার্ডের দিকে। জহির একটা একটা করে কার্ড স্ট্রাইক করল। হার্টস এর তিন হার্টস এর ছয় হার্টস এর নয়. . . . . . . . . . মালেক সাহেব রুদ্ধশ্বাস দৃষ্টিতে দেখছেন যে জহির তার সব টাকা এবং সালমাকে নিয়ে চলে যাচ্ছে। মালেক সাহেবের চোখ ভারী হয়ে আসছে। তিনি জহিরের মুখের সাথে তার পুরোনো এক নর্তকীর চেহারার মিল পাচ্ছেন। মালেক মিয়া এখন নিঃস্ব। একা। তিনি ডুবে যাচ্ছেন অতলে। পুনশ্চঃ মালেক মিয়া নামের এক ত্রিশোর্ধ কেরানির লাশ বুড়িগঙ্গা উদ্ধার করা হয়েছে। উনি জুয়া খেলে বাড়ি ফিরছিলেন। তার পকেটে পাঁচশো টাকার নোটের তিনটা বান্ডেল পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারনা করছে এটা অপমৃত্যু।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জুয়া -রাফিন ইকরাম ।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now