বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অতিপ্রকৃত বড় গল্প
" জুংগা "
অপু তানভীর
------------------
(পর্ব ১)
মিশু পুকুর পাড়ের সামনে এসে দাড়ালো । হাতে চায়ের কাপ । নিজের জন্য না, পুকুরের বাঁধানো পাড়ে একজন বসে আছে । পুকুরের দিকে মুখ করে এক ভাবে তাকিয়ে আছে পানির দিকে। কাজের মেয়েটার এখানে আসার কথা ছিল কিন্তু কাজের মেয়েটা এক অদ্ভুদ কারনে সামনের মানুষটিকে ভয় করে । সামনে আসতে চায় না !
মিশুরও ভয় পাওয়ার কথা কিন্তু মিশু এসবে বিশ্বাস করে না । তবে সামনের মানুষটি বেশ মজার একজন মানুষ । কারন মানুষটির কাজ হচ্ছে ভুত তাড়ানো । সেটাও মিশুর খুব একটা আকর্ষনের বিষয় হত না কিন্তু মানুষটি অন্য সব ভুত তাড়ানো মানুষের মত হত । কিন্তু এই মানুষটি অন্য সবার ধারে কাছ দিয়েও না । প্রথম যেদিন দেখেছিলো তখন বিশ্বাসই হচ্ছিলো না ।
পরিপাটি ভাবে জিন্সের প্যান্টের সাথে কালো রংয়ের একটা শার্ট ইন করে পরা । মুখে এক দিনের খোঁচা খোঁচা দাড়ি তবে সেটা চেহারার সাথে একদম মানিয়ে গেছে । শার্টের ভেতরে একটা সান গ্লাসও দেখা যাচ্ছিলো । এই মানুষকে কোন ফ্যাশন হাউজের মডেল বলে নির্দ্বিধায় চালিয়ে দেওয়া যায় সেখানে সেই মানুষ কি না ভুত তাড়ায় ! মিশুর মানতেই কষ্ট হয়েছিলো তখন । বেশ মজাও লাগছিলো অবশ্য । আধুনিক ভুতের ওঁঝা !
মিশু আরও একটু এগিয়ে গেল । তখনই মানুষটা ওর দিকে ফিরে তাকালো । সাথে সাথেই একটু হাসলো ! এই মানুষের হাসি দেখে কেউ কিভাবে ভয় পেতে পারে মিশু ভেবে পেল না । শিউলিটা আসলেই একটা গাধা !
মিশুকে দেখে রাফায়েল একটু অবাক হওয়ার ভান করা হাসি দিল । তারপর বলল
-আরে তুমি চা নিয়েছো ? তোমাদের কাজের মেয়েটা শিউলী না কি নাম, সে কোথায় ?
মিশু বলল
-আপনাকে দেখে ও ভয় পায় । প্রথম দিন আপনি নাকি ওকে কি দেখিয়েছিলেন । সেটার পর থেকে আপনার নাম শুনলেই ওর খবর হয়ে যায় !
রাফায়েল শব্দ করে হাসলো । তারপর মিশুর দিকে তাকিয়ে বলল
-তোমার ভয় লাগে না ?
-আমাকে ভয় দেখানো এতো সহজ না !
-সাহসী মেয়ে আমার খুব পছন্দ । যাই হোক চা টা কি আমার জন্য ?
-ও ! হ্যা । মা পাঠিয়েছে
-তাই ? আমি ভাবলাম তুমি চা টা বানিয়েছো ?
-আমি বানিয়েছি কিন্তু মা বলল আর কি ! আপনি নাকি চা চেয়েছিলেন ?
রাফায়েল আবারও কিছু সময় মিশুর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল
-তুমি চা ভাল বানাও । তবে আজকে চায়ে চিনি দিতে ভুলে গেছো ।
-কি ? মোটেই না ! আমি চায়ে চিনি দিয়েছি !
-একটা চুমুক দিয়েই দেখ !
মিশু কিছু সময় রাফায়েলের দিকে তাকিয়ে রইলো । তারপর বলল
-আপনি কি আমার সাথে কোন ট্রিকস খেলার চেষ্টা করছেন ? যদি করে থাকেন তাহলে বলে রাখি আমি কিন্তু শিউলি না । আমাকে এতো সহজে বোকা বানাতে পারবেন না ।
-এক চুমুক দিয়েই দেখো ।
মিশু আরও কয়েকটা মুহুর্ত রাফায়েলের চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো । মানুষটার চোখের ভেতরে অন্য রকম কিছু একটা আছে যেটা কোন ভাবেই অগ্রাহ্য করার কোন উপায় নেই । মিশু সেটা ভাবতে ভাবতেই চায়ের কাপে চুমুক দিল । তখনই মনে হল রাফায়েল ঠিক কথাই বলেছে । ও আসলেই চায়ে চিনি দেয় নি । একদমই চিনি দেই নি । একটু না অনেক খানি অবাক হল ও । এমনটা মোটেও হওয়ার কথা না । মিশু চায়ে চিনি ছাড়া খেতেই পারে না । যখনই ও চা বানায় সব সময় সবার আগে চিনি মেশাতে ভুল করে না । ওর বড় বোন মিমি তো বলে মিশু চা নয় শরবতে বানাতেই ভাল পারে ।
আজকে কি ও চিনি দিতে ভুলে গেল ?
নাহ । এমনটা হতে পারে না ।
তাহলে ?
তাহলে সামনের বসা মানুষটার কি কোন হাত আছে এতে
নাহ । এমন কোন হাত নেই । ও নিশ্চয়ই ভুলে গেছে চিনি দিতে । এমন হতেই পারে ।
মিশু বলল
-আমি নতুন করে বানিয়ে আনছি !
রাফায়েল বলে উঠলো
-কোন দরকার নেই । এই চা ই চলবে !
-আরে আমি মুখ দিয়েছি । আমার এটো আপনি খাবেন কেন ?
-আমি বললাম তো সমস্যা নেই । দাও চায়ের কাপটা আমার কাছে !
অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও মিশু চায়ের কাপটা রাফায়েলের হাতে দিল । এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো সে চায়ে চুমুক দিতে শুরু করেছে । এবং এমন একটা ভাব করছে যেন চা খেতে বেশ মজা হয়েছে ।
মিশুর কেমন যেন লাগছে শুরু করলো । একবার মনে হল এখান থেকে চলে যেতে কিন্তু সেটা করলো না ।
রাফায়েলের পাশে বসলো । তারপর বলল
-আপুর ব্যাপারে কি হল ?
-যা ভেবেছিলাম তাই ।
-সত্যিই ?
-হ্যা ! তোমরা হয়তো বিশ্বাস করবে না তবে এটাই সত্যি ।
মিশু কি বলবে খুজে পেল না । গত ৬ মাস ধরে ওদের ফ্যামিলির সব কিছু যেন কেমন ওলট পালট হয়ে গেছে । সব সময় হাসি খুশি থাকা ওর বড় বোন মিমি হঠাৎ করেই লক্ষ্য করা শুরু করলো ও শরীরে জোর পাচ্ছে না । সপ্তাহ যেতে না যেতেই একেবারে বিছানায় পরে গেল । দেশের সব থেকে বড় বড় ডাক্তার দেখানো হল, যাওয়া হল বাইরেও কিন্তু কোন কাজই হল না । দীর্ঘ চার মাস চিকিৎসা করার পরে ডাক্তাররা হাল ছেড়ে দিল । তারা কোন কিছু বুঝতে পারছে না । শেষে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন । দিন দিন মিমির প্রানশক্তি কমে আসছিলো । সে যে কদিন পরেই মারা যাবে সেটা বুঝতে আর কারো বাকি রইলো না । তাই ওরা ওদের ঢাকার বাসা ছেড়ে মুন্সিগঞ্জের এই বাগান বাড়িতে এসে উঠেছে । এটা মিমির অনেক পছন্দের একটা স্থান । সময় সুযোগ পেলেই দুবোন মিলে এখানে চলে আসতো । এখানে পুকুর পাড়ে বসে থাকতো নয়তো গ্রামের মধ্যে ঘোরাঘুরি করতো । শেষ দিন গুলো এখানেই কাটুক ওর ।
এখানে এসেই ওদের কেয়ারটেকারের কাছ থেকে রাফায়েলের কথা শুনতে পায় ওদের মা । ডুবন্ত মানুষ যেমন খড়কুটা যা পায় সব ধরে বেঁচে থাকতে চায় ঠিক তেমনই ওদের মা জোবাইদা বেগমও মেয়েকে বাঁচানোর জন্য রাফায়েলকে খবর দিলেন ।
রাফায়েল এসে হাজিরও হল । তখন ওকে দেখে কেবল মিশু কেন বাসার কারোই ঠিক বিশ্বাস হয় নি যে এই মানুষ ভুত তাড়ানোর ওঁঝা হতে পারে ।
প্রথম দিন রাফায়েল কারো সাথে তেমন কোন কথা বলে নি । কেবল কাজের কথা বলে মিমির রুমে বসে ছিল অনেকটা সময় । একেবারে চুপ করে । মিমির ঘুমন্ত চেহারার দিকে এক ভাবে তাকিয়ে ছিল । মিশু নিজেও সেই রুমে ছিল । রাফায়েল কি করলো কেউ জানতেও পারলো না । প্রায় ঘন্টা দুয়েক পার হওয়ার পর যেন রাফায়েলের ধ্যান ভাঙ্গলো । সে জোবাইদা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলল
-আপনারা এতো দেরি কেন করলেন ? শুরু দিকেই আমাকে খবর দিলে অবস্থা এতো খারাপ হত না !
-কি করতে তুমি ?
কথাটা মিশুর বাবা আলতাফ মাহমুদ বলল ।
-দেশ বিদেশে বড় বড় ডাক্তার যেখানে কি করতে পারলো না, তুমি কি করবে ? ফু দিয়ে আমার মেয়েকে ঠিক করে দিবে ?
মিশু বলল
-বাবা প্লিজ !
-আমার মেয়েটাকে একটু শান্তিতে থাকতে দাও তোমরা ! তোমরা কেউ কি বুঝতে পারছো না যে ...
মিশু জানে উপরে উপরে ওর বাবা যতই কঠিন থাকার চেষ্টা করুক না কেন, সব থেকে তিনিই ভেঙ্গে পড়েছেন । এভাবে চোখের সামনে নিজের মেয়েকে চলে যেতে দেখা এবং বাবা হয়ে কিছু করতে না পারা, কত যে কষ্টের একটা ব্যাপার কেবল সেটা তিনিই বুঝতে পারছেন! জোবাইবা বেগম স্বামীকে নিয়ে অন্য রুমে চলে গেল । মিশু ভেবেছিলো রাফায়েল রাগ করে চলে যাবে তবে রাফায়েলের মুখ দেখে মনে হল এমন ঘটনা ওর জন্য খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার !
মিশু বলল
-আপনি প্লিজ বাবার কথায় কিছু মনে করবেন না ।
-না মনে করার কিছু নেই । আমার অভ্যাস আছে এরকম কথা শুনে । পরে উনি নিজের ভুল বুঝতে পারবেন।
মিশু বলল
-আপনার কি মনে হচ্ছে ?
-কেউ তোমার বোনকে কালো জাদু করেছে !
যদি কালো উর্দি পরা মানুষের মুখ থেকে এই কথাটা শুনতো তাহলে মিশুর খুব একটা অবাক লাগতো না তবে এমন ফিটফাট পোশাক পরা কারো কাছ থেকে এমন কথা আসলেই ওর কাছে কেমন বেখাপ্পা লাগছে ।
রাফায়েল বলল
-আচ্ছা তুমি আমাকে ঠিক বলতো ঠিক কোন দিন থেকে এমন শুরু হয়েছে ?
মিশু ঠিক ঠিক তারিখ আর দিনটা বলে দিল ।
রাফায়েল বলল
-এরকম ঠিক ঠিক তারিখ কিভাবে মনে রাখলে । ডায়রি লিখতে ?
-না ! আসলে ঐ দিনের আগের দিন আপুর পোষা বেড়ালটা মারা গিয়েছিল !
-বেড়াল !
বেড়ালের কথা শুনেই রাফায়েলের মুখটা একটু যেন অন্য রকম হয়ে গেল । সেটা মিশুর চোখ এড়ালো না ।
মিশু বলল
-হ্যা । আসলে বেড়ালটা আপু জন্ম দিনে উপহার পেয়েছিল । ফাহিম ভাইয়া দিয়েছিলো । আপুর সাথে পড়ে, খুব ভাল বন্ধু ওরা । মাত্র এক সপ্তাহ আগে ফাহিম ভাইয়া মিমি আপুকে বেড়ালটা উপহার দিয়েছিল । তারপর যখন বেড়ালটা মারা গেল আপু খুব কেঁদেছিল । বেড়ার মারা যাওয়ার ঠিক পরদিনই আপুর এই সমস্যাটা দেখা দেয় ! শরীরে বল পায় না ।
সেদিন আর কিছু জানতে চায় নি রাফায়েল । কেবল ফাহিমের নাম ঠিকানা আর ফোন নম্বর নিয়ে গিয়েছিলো । তারপর আরও দুদিন এই বাসা এসেছিল তবে খুব বেশি সময় থাকে নি । পুরো এক সপ্তাহ পরে আজকে আবার এসে হাজির ।
মিশু আরও অনেকটা সময় রাফায়েলের সাথেই পুকুর পাড়ে বসে রইলো । কোন কথা হল না অবশ্য দুজনের ভেতরে । মিশুর অবশ্য এখনও এই সময় কালো যাদু টাইপের কথাতে বিশ্বাস নেই তবে কেন জানি ওর বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে । কারন এটা ছাড়া আর কোন ব্যাখ্যা ওর কাছে নেই । ওর কেন কারো কাছে নেই ।
রাফায়েল হঠাৎ উঠে দাড়ালো । তারপর মিশুর দিকে তাকিয়ে বলল
-চল তোমার বাবা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে । আমি যা জানতে পেরেছি সেটা তাকে বলা দরকার !
-আপনি কিভাবে বুঝলেন বাবা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে !
এই কথা বলতে না বলতেই ওর চোখ ওদের বাসার দিকে গেল । দরজায় ওদের কাজের মেয়েটাকে দেখা গেল পর মুহুর্তেই । ওদের দিকে তাকিয়ে শিউলি চিৎকার করে বলল
-সাহেব আপনারে ডাকে !
এই লাইণ বলেই শিউলি আবার দ্রুত ভেতরে চলে গেল । ওর চোখের ভীত ভাবটা মিশুর চোখ এড়াই নি । ততক্ষনে রাফায়েল হাটা শুরু করে দিয়েছে । চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে মিশু পেছন পেছন হাতে লাগলো । চায়ের কাপের দিকে চোখ পড়তেই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো সেদিকে কিছুটা সময় । চা একেবারে শেষ হয়ে গেছে । সেখানে কয়েকটি চিনির দানা এখনও অগলিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে
তার মানে ও ঠিকই চায়ে চিনি দিয়েছিলো !
কিন্তু চা তখন এমন পানসে কিভাবে লাগলো !!
মিশুর কেন জানি শরীরটা একটু শিরশির করে উঠলো । চারিদিকটা একদম নির্জন হয়ে আছে ! সে একটু জোরে পা চালিয়ে বাসার দিকে রওনা দিল !
দিবার কাছে বেড়াল ছানাটা দেখে ফাহিম অবাক না হয়ে পারলো না । ফাহিম যতদুর জানে দিবা পোষা প্রাণী বিশেষ করে কুকুর বেড়াল টাইপের প্রাণী একদম সহ্য করতে পারে না । তাহলে আজকে ওর কাছে এই বেড়াল ছানা কেন ?
-আজকে কি হয়েছে তোমার ? বিড়াল কেন ?
দিবা একটু হাসার চেষ্টা করলো তবে সেটা খুব একটা কাজে এল না । মেয়েটা যেন কোন কিছু নিয়ে চিন্তিত । দিবা বলল
-আমার জন্য না । এটা মিমির জন্য !
-মিমি ?
-আজকে ওর জন্মদিনের পার্টিতে যাচ্ছো না তুমি ?
-কেন, তুমি যাচ্ছো না ?
-না । আমার একটা কাজ পড়ে গেছে । সেখানে যেতে হবে । মিমিকে ফোন দিয়েছিলাম ওতো আমার উপর রেগে আগুন । কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে ।
ফাহিম হাসলো । মিমির সব কিছুতেই ফাহিমের একটা নিরব সম্মতি আছে । ফাহিম বলল
-তো আমাকে কি করতে হবে ?
-এটা নিয়ে ওকে দিবে কিন্তু বলবা না যে আমি দিয়েছি । ঠিক আছে ? বলবা তুমি দিয়েছো ।
-কেন ? সমস্যা কি ?
-সমস্যা আছে । কদিন পরে আমিই ওকে বলবো নে ! ঠিক আছে ?
-আচ্ছা
ফাহিম আর কথা বাড়ালো না । বেড়ালটা নিয়ে রওনা দিল মিমির বাসার দিকে । ফাহিমকে চলে যেতে দেখলো । একবার মনে হল ও কাজটা করতে করতে যাচ্ছে সেটা বন্ধ করার এখনও উপায় আছে । এখন যদি দৌড়ে গিয়ে ফাহিমকে আটকায় তাহলেও আর কিছু হবে না । কিন্তু ও কাজটা করলো না । কাজটা ওকে করতেই হবে । ওর চোখের সামনে দিয়ে ওর ভালবাসার মানুষটা অন্য কাউকে পছন্দ করবে সেটা ও কোন ভাবেই মেনে নিতে পারে না । অন্তত এভাবে চোখের সামনে ফাহিমকে চলে যেতে দিতে পারে না ।
দিবা খুব ভাল করেই জানে যে ফাহিম কেন মিমিকে পছন্দ করে । চেহারার কথা বিবেচনা করলে মিমি কোন দিনও দিবার সাথে পারবে না । কিন্তু তবুও ফাহিমের পছন্দ মিমিকেই । মিমির বাবা দিবার বাবার থেকে অনেক বেশি বড়লোক । মিমির গাড়িটার দাম ওর গাড়িটার থেকেও অনেক বেশি । দিবা এটা মেনে নিতে পারছে না । এটা ওকে করতে হবেই । মিমির জন্য যে ওর খারাপ লাগছে না সেটা না তবে ও এটার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনেক দিন থেকেই ।
যে কাজটা ও করতে যাচ্ছে সেটার বীজ ও গতকালকেই বুনে দিয়ে এসেছে । আজকে সব শেষ ধাপটা !
বেড়ালটা কেবল মিমির হাতে পৌছালেই হবে । ব্যাস ! তার পর বাকি কাজ এমনি এমনিই হবে !
আলতাফ মাহমুদ রাফায়েলের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো । একটু যেন বিরক্ত । রাফায়েলকে সে ঠিক পছন্দ করে না । তার এসবে ঠিক বিশ্বাস নেই । তবুও তার স্ত্রী এবং মেয়ের কথা চিন্তা করে তিনি কিছু বলছেন না । কিন্তু একটু আগে সে যা বলেছে সেটা তার কাছে বুলশিট ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নি ।
আলতাফ মাহমদ বলল
-তো তুমি বলতে চাও আমার মেয়েকে তার সব থেকে কাছের বন্ধু দিবা কালো যাদু করেছে ! কেন করেছে ? কারন সে ফাহিমকে পছন্দ করে কিন্তু ফাহিম পছন্দ করে মিমিকে । এই জন্য মিমিকে পথ থেকে সরানোর জন্য এই কাজ করেছে ?
রাফায়েল খুব স্বাভাবিক ভাবেই বলল
-জি
-তুমি কি জীবনটা বাংলা সিনেমা পেয়েছো ? আর আমরা বাংলা সিনেমার দর্শক ! যা বলবে যা গেলাবে তাই গিলবো ! তোমার টাকার দরকার আমাকে বল । আমি দিচ্ছি তবুও প্লিজ এমন বেহুদা কথা বার্তা বল না !
-আমি জানতাম আপনি বিশ্বাস করবেন না । তবে এবার আমি যাতে আপনি বিশ্বাস করেন সেই ব্যবস্থা করেই এসেছি ।
এই বলেই রাফায়েল নিজের পকেট থেকে মোবাইলটা বের করলো । তারপর সেটাতে কিছু সময়ে কি যেন টেপাটেপি করে একটা ভিডিও বের করলো । এবার সেটা চালু করে আলতাফ মাহমুদের সামনের টেবিলে রাখলো ।
কালো স্ক্রিনের সামনে একটু পরেই দিবাকে দেখা গেল । মেয়েটা কাঁদছে । মিশু সেই সাথে জোবাইদা বেগমও সরে এল স্ক্রিনে কি আছে দেখার জন্য । ভিডিওতে দিবা তখন কথা বলতে শুরু করেছে ।
-আই এম সরি আঙ্কেল !
দিবা কাঁদতে কাঁদতে বলছে কথা গুলো ।
-আমি কোন দিন ভাবি নি মিমির এই অবস্থা হবে । আমি কেবল ওকে কিছু দিনের জন্য বিছানার আটকে রাখতে চেয়েছিলাম । যাতে আমি ফাহিমকে এই সময়ের ভেতরে নিজের করে নিতে পারি । আমি কোন দিন বুঝতে পারি নি ব্যাপারটা এরকম চলে যাবে ! এই দিকে চলে যাবে ......
সবাই দেখলো দিবা কান্না আর কথাই বলতে পারলো না।
ফোনটা বন্ধ করে রাফায়েল কিছুটা সময় সবার দিকে তাকিয়ে রইলো । কারো মুখে কোন কথা নেই । সবাই এখনও ব্যাপারটা ঠিক বিশ্বাস করে নিতে পারছে না । রাফায়েল বলল
-আমি যখনই বিড়ালের কথা শুনলাম তখনই ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরেছিলাম । ব্যাপারটা ভাল কিছু নয় কোন ভাবেই । তারপর খোজ খবর নিতে শুরু করলাম । দিবাকে একটু চাপ দিতেই ও সব বলে দিল ।
-এখন ?
কথাটা বলল আলতাফ মাহমুদ !
রাফায়েলের মুখ বেশ খানিকটা চিন্তিত মনে হল । ও মিশুর দিকে তাকিয়ে বলল
মিমির ভার্সিটি যাওয়ার একটা ব্যাগ আছে না ? কালো আর বেগুনি রংয়ের ?
-হ্যা !
-ওটা নিয়ে এসো !
মিশু যেন দৌড় চলে গেল । ফিরে এল একটু পরেই । রাফায়েল ব্যাগটা উপুর করে সব কিছু ফেলে ছিল । তারপর সেটা খানিকটা উল্টে সেখান ভেতরের দিকটা বাইরে বের করে আনলো । কালো অংশের প্রথমে কিছু দেখা না গেলেও রাফায়েল হাত দিয়ে দেখানোর ফলে সবাই দেখতে পেল । একটা কালো রংয়ের মোটা টেপ মারা রয়েছে । এবং টেপের মাঝের কিছু অংশ ফুলে আছে । দেখে মনে হচ্ছে সেখানে কিছু আটকে রাখা হয়েছে ।
টেপটা খুলে ফেলতেই দেখান থেকে ঝুড়ঝুড় করে কিছু পড়লো টেবিলের উপর । রাফায়েল তুলে দেখালো ।
চুল !
রাফায়েল বলল
-এটা মিমি ! কালো জাদু করার জন্য এটা করা হয়েছে !
-তাহলে এখন কি আপু ঠিক হয়ে উঠবে ?
রাফায়েল মাথা নাড়ালো ! বলল
- ব্যাপারটা এতো সহজ না । কোন কোন ক্ষেত্রে উঠতো তবে এই ক্ষেত্রে না !
উঠে দাড়িয়ে একটু পায়চারি করে আবার নিজের সোফাতে এসে বসলো রাফায়েল । তারপর বলল
-কালো জাদু দুই ভাবে করা যায় । একটা পদ্ধতি খুব সহজ । কেবল ভিটটিমের শরীরের কোন অংশে এভাবে সংগ্রহ করে তার বসবাসার আশে রেখে দিতে হয় । এটা করা যেমন সহজ ঠিক তেমনি ভাঙ্গাযও সহজ । কিন্তু এই ক্ষেত্রে, দিবা খুব খারাপ একটা কাজ করেছে । যা করেছে না বুঝে করেছে তবে খুব খারাপ হয়েছে কাজটা !
সবাই কোন কথা না বলে কেবল চুপ করে রাফায়েলের কথা শুনে যাচ্ছে ।
রাফায়েল বলেই চলেছে
-যখন এভাবে কালো জাদু করা হয় তখন আমাদের এই পৃথিবীতেই থাকা বেশ কিছু নেমেটিভ এনার্জি কিংবা অপ-আত্মা এসে ভিটটিমের উপর ভর করে । তাই তাদের কাছ থেকে ভিটটিমকে রক্ষা করা খুব একটা কঠিন হয় না । কিন্তু দিবা যেটা করেছে সেটা অন্য কিছু।
মিশু বলল
-কি রকম ?
-ও পৃথিবীর কোন অশুভ আত্মাকে ডেকে নিয়ে আসে নি । অন্য জগতের এক অপদেবতাকে ডেকে নিয়েছে । আমাদের এই জগতে বেড়াল প্রাণীটাকে খুব অশুভ হিসাবে দেখা হয় । আর যারা কালো জাদু করে তাদের জন্য এই বেড়াল হচ্ছে অন্যতম বড় একটা উপাদান । এই অশুভ আত্মারা ঠিক আমাদের জগতে বাস করে না । একটা দেওয়াল দিয়ে সেয়া আলাদা করা । এদের জগৎ আর আমাদের জগতের মাঝে একটা দরজা খোলা সম্ভব ! সেটা এই বেড়ালের মৃত্যুর মাধ্যমে । উপযুক্ত রিচুয়্যাল করলে এটা সম্ভব । এর জন্য দরকার পানি একটা বিড়ালের আত্মাহুতি । দিবার উপহার দেওয়া বেড়ালটা নিশ্চয় পানিতে ডুবে মারা গেছে ?
জোবাইদা বেগম আর আলতাম মাহমুদ কোন কথা বলছেন না । তাদের মুখে এখনই ঠিক অবিশ্বাসের একটা রেখে দেখা যাচ্ছে । আবার তারা এটা না মেনে পারছেনও না !
মিশু বলল
-হ্যা ! আমরা খুব অবাক হয়েছিলাম । আপুর বাথটাবে যখন বেড়ালটাকে মৃত অবস্থায় পেলাম । এমনটা তো হওয়ার কথা না, তাই না ? বিড়াল তো বাথটাবের মত জায়গাতে ডুবে মরতে পারে না !
-হ্যা ! হওয়ার কথা না কিন্তু এমনই হয়েছে । এভাবে জুংগাকে ডেকে আনা হয়েছে । সে তোমার আপুর এই জগতের আত্মাকে টেনে নিয়ে গেছে নিজের জগতে । বেড়ালের মৃত্যুর ফলে যে দরজাটা খুলেছে সেটা দিয়ে ! তবে আশার কথা হচ্ছে এখন সেটা পুরোপুরি যায় নি । ভিটটিম যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন দরজাটা খোলা থাকবে ? মারা গেলে সেটা বন্ধ হয়ে যাবে !
-কি রকম ?
রাফায়েল উঠে দরজার কাছে চলে গেল । তারপর নিজের হাতটা দরজার মাঝে দিয়ে সেটা বন্ধ করার চেষ্টা করলো । তারপর বলল
-দেখুন আমি ভেতরে আছি । কেউ যদি এখন দরজাটা বন্ধ করতে যায় তাহলে সেটা কোন ভাবেই বন্ধ করা সম্ভব না । এভাবেই এই জগতের সাথে ও জগতের সংযোগ রয়েছে । যখনও আমি হাত সরিয়ে নেব কিংবা আমি দরজা দিয়ে চলে যাবো তখন দরজা টা বন্ধ করা যাবে । ঠিক তেমনই ভাবে মিমির ভেতরে যখন আর কিছু থাকবে না তখন জুংগা ওকে টেনে নিয়ে যাবে । দরজাটা বন্ধ হয়ে যাবে । এবং আমাদের এই দরজা বন্ধ হওয়ার আগেই যা করার করতে হবে ।
আলতাফ মাহমুদ বললেন
-কিছুই কি করার নেই ? কোন ভাবেই আমার মেয়েটাকে বাঁচানো কি সম্ভব ?
-সম্ভব ! তবে সেটা অনেক বড় একটা ঝুকির কাজ !
-যে কোন ঝুকি আমি নিতে প্রস্তুত । যত টাকা লাগে আমি খরচ করবো !
-দেখুন টাকা দিয়েই সব কিছু সম্ভব না । আমি টাকা দিকে কাউকে বলতে পারেন না যে, যাও মর ! আর কাজটা এমনই কঠিন !
আলতাফ মাহমুদ একটু যেন বিমর্ষ হয়ে গেল । একটু আগে তার চোখে যে আশার আলো দেখা গেছিলো সেটা নিভে গেছে ।
রাফায়েল বলল
-আমাদের হাতে কেবল একটা পজেটিভ দিক আছে । সেটা হচ্ছে এই জুংগার মেয়েদের আত্মার উপর ভীষন লোভ ! নতুন কাউকে পেলেই সে পেছনের আত্মার উপর থেকে খানিক্ষনের জন্য কব্জা ছেড়ে নতুনটাকে ধরতে আসে । আমাদের এই সময়ের ভেতরেই মিমির চারিদিকে একটা বলয় তৈরি করতে হবে যাতে জুংগা যখন আবার ফিরে আসে তখন আর ওকে স্পর্শ না করতে পারে !
-তাহলে কর ! সেটা কর ! কি কি করতে হবে আমাকে বল !
-তার জন্য আমাদের একটা টোপ বিছাতে হবে ।
-টোপ ?
-হ্যা ! টোপ । এবং সেটা কোন মেয়ে হওয়া লাগবে !
মিশুর কাছে ওদের বাগান বাড়ির পুকুর পাড়টা কোন দিন ভয়ের কোন জায়গা ছিল না কিন্তু আজকে ওখানে যেতে ওর একটু একটু ভয় ভয় করছে । রাফায়েল ওকে ওখানে গিয়েই অপেক্ষা করতে বলেছে । সেখান থেকেই ওদের যাত্রা শুরু হবে !
অন্য জগতের যাওয়ার রাস্তা টা ওখানেই আছে !
রাফায়েল প্রথম যখন টোপের কথাটা বলল ওরা কেউ ই ঠিক মত বুঝতে পারে নি । কিন্তু পরে যখন বুঝতে পারলো তখন কারো মুখেই কোন কথা ছিল না । জুংগা নামের সেই অপদেবতাটা একটা দুর্বলতা আছে । এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের আত্মার উপর তার লোভ । অন্য সকল অশুভ দেবতারা যখন কাউকে ধরে, বাধ্য কারা না হলে তার জীবন রস পুরো টুকু শুসে না নিয়ে তাকে ছাড়ে না । কিংবা একই সাথে অনেককে ধরার ক্ষমতা রাখে কিন্তু বেশি লোভের কারনে এই জুংগা তেমনটা করে না । একজনের উপর ভর করে থাকা অবস্থায় যদি নতুন কারোর সন্ধ্যান পায় কিংবা তার টেরিটোরির ভেতরে চলে তাহলে কোন মেয়ে তাহলে আগের জনকে ছেড়েই সেই নতুন জনের পেছনে চলে আসে । এবং নতুনকে ধরে নিয়ে আবার আগের জায়গাতে নিয়ে যায়।
এইটাই হচ্ছে পয়েন্ট । নতুন জনের উপর ভর করার জন্য কিছু সময়ের জন্য পুরো ভিট টিমকে ছেড়ে আসে বেশি লোভের কারনে । এই চলে আসা এবং ফিরে যাওয়ার সময় মেয়েটার বডি একদম জুংগার প্রভাব মুক্ত থাকে । যদি প্রোজেশনটা অল্প কয়েক দিনের হয় তাহলে খুব অল্প সময়ের ভেতরেই মেয়েটার নিয়ে যাওয়া আত্মা কিংবা প্রানরস যাই বলেন না কেন, সেটা আবার নিজের শরীরে ফেরৎ চলে আছে এবং জুংগা যখন আবার ফেরৎ যায় তখন কাউকে পায় না । আসতেও পারে না কারন দরজা ততক্ষনে বন্ধ হয়ে গেছে !
জোবাইদা বেগম বললেন
-তাহলে এভাবে মিমিও ফিরে আসতে পারবে ?
-হ্যা পারবে । যখন জুংগা ওকে ছেড়ে অন্য কারো কাছে চলে যাবে তখনই ওর প্রানরস ঐ জগত থেকে এই জগতে আসতে শুরু করবে ! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ও অনেক দিন ধরে জুংগার কাছে আটকা রয়েছে এবং ওর জীবনী শক্তির অনেকটাই চলে গেছে ওপারে । এভাবে আসতে সময় লাগবে । অনেক সময় লাগবে এবং এতো জুংগাকে ধাঁধায় রাখার কোন উপায় নেই ।
-তাহলে ?
-সেটারও উপায় আছে । ওর চারিপাশে একটা খাঁচার মত সৃষ্টি করতে হবে । যাতে সেখানে জুংগা ঢুকতে না পারে !
এই কথা শুনে আলতাফ মাহমুদ বললেন
-তাহলে কর ! করছো না কেন ? আমি তো বলেছি যা যা দরকার সব আমি নিয়ে আসবো সব ব্যবস্থা করবো !
রাফায়েল বলল
-আপনি মনে হয় আসলে সমস্যা টা এখনও বুঝতে পারেন নি ! টোপটা হবে কে ? কে যাবে ?
এই লাইনটা বলে রাফায়েল চুপ করে গেল । ও কি বলতে চাচ্ছে সেটা বাকিদেরকে বুঝতে দিতে চাচ্ছে !
বেশ কিছু সময় চুপ থেকে মিশু বলল
-আমি যাবো !
-হোয়্যাট ! কি বললি তুই ?
আলতাফ মাহমুদ নিজের ছোট মেয়ের দিকে তাকালো !
মিশু খুব স্বাভাবিক কন্ঠে বলল
-আমি টোপ হিসাবে যাবো !
-হোয়্যাট ননসেন্স ! এক মেয়েকে বাঁচানোর জন্য আরেক মেয়েকে আমি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না । কোন ভাবেই পারি না !
-বাবা, আর কেউ নেই আর তুমি তোমার মেয়েকে বাঁচাতর আর কাকে কবরে ঠেলে দেবে ?
-যে কাউকে দিবো ! কিন্তু তোকে না !
কথা বার্তা আর বেশি দুর এগোই নি । তবে মিশু ঠিক করে ফেলেছিলো তাকে কি করা লাগবে । এবং তাই সে করেছে । রাফায়েল সব ব্যবস্থাও করে ফেলেছে । ওকে বলে দিয়েছে কি কি করতে হবে । রাতে ঘুমানোর সময় ওর কিছুতেই ঘুম আসছিলো না । বার বার মনে হচ্ছিলো যে ও বুঝি আর ফেরৎ আসতে পারবে না ।
না পারুক !
ও ওর আপুকে খুব বেশিই ভালবাসে । ওর জন্য সে না চলে যাক ! তবুও সেই ফিরে আসুক ! তবে সব থেকে আশার কথা হচ্ছে রাফায়েল ওর সাথে যাবে । মানুষটার উপর এখনই কেমন একটা ভরশা চলে এসেছে । বিশেষ করে ওর চোখের দিকে তাকালে মিশু অন্য কিছু একটা দেখতে পায় । অন্য কোন একটা অনুভুতি হয় !
(শেষ পর্ব আজকেই দেওয়া হবে)
---------------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now