বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জোনাকী

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মাজহারুল মোর্শেদ (০ পয়েন্ট)

X জোনাকী মাজহারুল মোর্শেদ শীতের শেষের আকাশ, বেশ পরিষ্কার ঝলমলে রোদ। যদিও এখনো বসন্তের আগমন ঘটেনি তবুও গাছে গাছে তার আগমন বার্তা এসে গেছে। কবি গুরুর শান্তি নিকেতনের প্রকৃতি ভবন। চারিদিকে ছোট ছোট ফুলের গাছ, মনোরম সোভা বর্ধন করছে। রোদের তিব্রতা থেকে বাঁচার জন্য গোটা এলাকা গাছ-গাছালিতে ভরা। বাতাসে ফুলের গন্ধ, গাছের ডালেডালে পাখির গান, না শীত না গরম সবমিলিয়ে বেঁচে থাকার উপাদান গুলোকে পরিপূর্ণ দিতে প্রকৃতি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একটা মোটা তাজা কুকুর ডাক বাংলোরঠিক উল্টোদিকে রান্না ঘরের দরজায় শুয়ে তার পূর্ব পুরুষ কতৃক প্রাপ্ত দায়িত্ববোধ যথাযথ ভাবে পালন করে যাচ্চে। আজমান সাহেব ঘরের বাহিরে একটা চেয়ারে বসে কবি গুরুর সেই দিনগুলোর কথা ভাবছেন। আজ তিনি যেখানে বসে কবি গুরুর কথা ভাবছেন, হয়তো এখানেও তাঁর পদচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে। এমন সময় মাটিতে পড়ে যাওয়া থালা বাসনের প্রচÐ শব্দে তার মগ্নতা ভেঙ্গে যায়। পিছনের দিকে ফিরে দেখে অপরূপ এক যুবতি মাটিতে পড়ে যাওয়া থালা বাসন গুলো কুড়িয়ে রাখছে। প্রথম বার অযাচিত ভাবে দেখে চোখ ফিরিয়ে নেয়ার পর দ্বিতীয়বার কাউকে স্বইচ্ছায় দেখাটা ভীষণ নির্লজ্জার পর্যায়ে পরে। কিন্তু চোখের অতৃপ্ত তৃষ্ণাকে কোন ভাবেই সংবরণ করতে পাচ্ছিলেন না। ভাগ্যের সুপ্রসন্নতায় তার মনের আকুলতা হয়তো সৃষ্টিকর্তার কাছে খুব দ্রæত গিয়ে পৌছে যায় তাই এ বিষয়ে ভাবনা শেষ হতে না হতেই যুবতী তার কাছে এসে উপস্থিত হয়। স্যার? আপনার খাবার রেডি হয়ে গেছে। এখন খাবেন কি? বেলাতো গড়িয়ে গেলো। হ্যাঃ খাওয়া যেতে পারে। ও’ কোথায়? কি যেন নাম ওর ভুলে গেলাম। স্যার ওর নাম অমল। ও চান করতে গেছে। এই বাংলোর পিছনে আমাদের বাড়ি। ও আচ্ছা, তুমিও যাও চান করে আস আমরা সবাই মিলে একসাথে খাব এখন। না স্যার, আমি তো আপনার একার জন্যই রেধেছি। তা ছাড়া আমাদের রান্না তো বাড়িতে আছে, আমরা সেখাইেন খেয়ে নেব। কেন? এখানে খেলে তোমাদের জাত যাবে না কি? না স্যার, ঠিক তা নয়। তবে আমরা অশিক্ষিত গরিব মানুষ, আপনার সাথে আমাদের অনেক ফারাক। তাছাড়া এখানে যে বাবুরা আসেন তাদেও সবার সাথেই দুরত্ব বজায় রেখে চলি আমরা। জলে আর তেলে কখনো এক সাথে মেশে না স্যার। আরে বাহ! অসাধারণ, তুমি তো খুব সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পার? অশিক্ষিত কোন মেয়ে কি এভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে কথা বলতে পারে? স্যার আমি এখন যাই, চান সেরে আসছি। আচ্ছা আস। একটা উদ্দেলিত দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ছেড়া আধময়লা শাড়িখানা একটু গুছিয়ে নিয়ে বাড়ির দিকে যেতে শুরু করলো কি যেন মনে করে আবার ফিরে সে আবার ফিরে এলো- স্যার, আপনার বুঝি খুব খিদে পেয়েছে, আমি ভাতটা বাড়িয়ে দিয়ে যাই? আরে না, আমার দেরিতে খাওয়ার অভ্যেস আছে, তুমি যাও। শেষ বিকেলের আলোটা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে, যদিও শীতের তীব্রতা আর নেই কিন্তু তার পরেও দিগন্তের কাছা কাছি দৃষ্টির শেষ সীমানায় কুয়াশা ভিড় জমিয়েছে। সাবলম্বি পাখিরা নিজের আহার শেষে নিড়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময় । অমল ও জোনাকি দুজনে মিলে পাশে এসে দাঁড়াল। অমলেন্দু বললো স্যার, একটু বাজারে যেতে হবে রাতের জন্য কি আনব মাছ না মাংস? একটা কিছু হলেই হয়, তবে ভালো ভালো সব্জি এনো, সব্জিটাই আসল বুঝলে অমল? আজ্ঞে স্যার। আমি আসি। আচ্ছা আস। অমলকে বাজারের ব্যাগ আর একটা লম্বা ফিরিস্তি হাতে দিয়ে জোনাকী এসে বলল-স্যার আপনাকে এক কাপ চা দিই? হ্যাঁ এই মুহুর্তে এক কাপ চা হলেতো মন্দ হয়না। স্যার চায়ে কি চিনি দেব, না চিনি ছাড়া? রঙ চায়ে সামান্য একটু চিনি দিও। একটু পরে হাতে একটা ট্রে নিয়ে হজির হলো অমলের বউ চায়ের সাথে কয়েকটা বিস্কুট ও এনেছে। আমি চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললাম-তোমার চাটা খুবই সুন্দর হয়েছে। এর জন্য তুমি প্রসংসার দাবিদার। আরে তোমার নামটি তো জানা হলো না এখন পর্যন্ত। গরিবের আবার নাম স্যার? যা হয় একটা কিছু করে ডাকলেই তো নাম হয়ে যায়। তা নাহয় হলো কিন্তু আমি তোমাকে ডাকব কি নাম ধরে বল? আমার নাম জোনাকী, জোনাকী কর্মকার। তো যাই হোক জোনাকী, তোমার বাড়ি কোথায়? এখানেই স্যার, এই ডাক বাংলোর পিছনে যে বাড়িটা ওখানেই আমরা থাকি। তাহলে অমলের বাড়ি? আমাদের পাড়াতেই, ওর বাবা এই ডাকবাংলোতে চাকরি করত। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই তাকে গোটা এলাকাটা দেখা শোনার ভার দিয়েছিলেন। সেই সুবাদে সবার সাথে তার খুব ভালো পরিচয়। স্যার আমি একটু উঠান টা ঝাড়– দিয়ে আসি ? বাজার আসলে তো আবার রান্নায় যেতে হবে। ঝাড়–খানা হাতে নিয়ে সে খুব মনোযোগের সাথে ঝাড়– দিচ্ছে কি কথা মনে আবার আমার কাছে এসে বলল স্যার আপনি কয়দিন থাকবেন এখানে? কয়দিন থাকব তা নিশ্চিত করে বলতে পাচ্ছিনা তবে কাজ শেষ হলেই চলে যাব। তার মনে কোন বিষয়টি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম নিয়েছে তা ঠিক স্পষ্ট বোঝা গেল না। ঝাড়– হাতে নিয়ে সে আবার মনোযোগ দিল কাজে। একচিলতে সোনালী রোদ একটু একটু করে বিদায় নিচ্ছে উঠান থেকে। ঐ হাল্কা রোদেও মাঝেই দেখা যাচ্ছে একটা রঙিন শাড়ি যেন উঠানের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে কেবল ছোটা ছুটি করছে। শরীরের প্রতিটি ভাঁজে আকাশি রেখায় যেন রঙধনুর সাত রঙ ঝিলমিল করছে। আমি বিশ্ময়ে তাকিয়ে থাকি, হায় বিধাতা ! তোমার কি অপরূপ সৃষ্টি। জোনাকী ইতিমধ্যে তার হাতের কাজ শেষ করে রাতের রান্নার জন্য অপেক্ষা করছে কিন্তু বাজার আসতে দেরি হওয়ায় খানিকটা সময় আমার পাশে এসে দাঁড়াল। স্যার একটা কথা বলি? আপনার লেখা লেখির ডিস্টার্ব হবে না তো? আরে না বল, কি বলতে চাও? স্যার আপনি কি খেতে পছন্দ করেন? আমাকে নিয়ে এতো ভাবার কিছু নেই বুঝলে জোনাকী? তোমরা যা খাও আমাকে তাই খাওয়ালেই চলবে। আমার জন্য অতিরিক্ত কিছু করতে হবে না । তা কেমনে হয় স্যার? আমরা গরীব মানুষ, যখন যা জোটে তাই খাই, না জুটলে খাই না। এভাবেই আমাদের দিন বেশ চলে যায়। আমি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপর লেখার একটা বিষয় বস্তু নিয়ে একটু গভীরে ডুবে থাকি। তাই সে কি বলেছে তা পুরোপুরি কর্ণগোচর হয়নি। আর একবার তার কাছে বিষয়টি যানতে চাইলে সে অনেকটা বিরক্ত হয়ে বলে- স্যার কিছু মনে না করলে ছোট মুখে একটা কথা বলি? ওঃ হুম আচ্ছা বল, আমি শুনছি না থাক, আর একদিন বলবো। আচ্ছা বোল। হঠাৎ আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, প্রচন্ড রাগে, অভিমানে তার আঙ্গুর ফলের মতো ঠস-ঠসে রসালো মুখ খানা প্রভাতের রক্তিম আভার মতো লাল হয়ে আছে। হরিণের মতো টানা টানা চোখ দুটোয় খোয়াই নদীর জল ছলছল করছে। সে ধরে নিয়েছেযে আমি ভীষণ বিরক্ত হয়ে তাকে অবহেলা করেছি। সহজ হওয়ার জন্য আমি তাকে বললাম-জোনাকী, এক কাপ চা দেয়া যাবে? কোন কিছুর উত্তর না দিয়ে সে হন হন করে উনুনে চলেগেল। কিছুক্ষণ পর এককাপ চা সাথে দুটো টোষ্ট বিস্কুট নিয়ে হাজির হলো- স্যার আপনার চা? আমি কলমটা রেখে হাত বাড়িয়ে দিলাম অমনি সে একটা মুচকি হাসি দিল। আমি অপ্রস্তুত হয়ে চোখ নামিয়ে নিলাম, তাকে কিছু একটা বলার জন্য মনে মনে ভাবছি এমন সময় সে মৃদুস্বরে বলে উঠল- স্যারের কাছে কি দুটো হাত সমানভাবে ব্যবহার হয় নাকি? এতোক্ষণে আমি তার মুচকি হাসির কারণটা অনুধাবন করতে সক্ষম হলাম তার কাছথেকে চায়ের কাপটা আমি বাম হাতে নিয়েছিলাম। ্আমার একটা বদ অভ্যাস হলো রাত জেগে জেগে খুব দেরিত ঘুমান, স্বভাবতই সকালে ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরিহ হয়। আজও তাই হলো ঘুম থেকে জেগে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি নয়টা বাজতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। তোয়ালাটা ঘাড়ে ফেলে বাথরুমে গেলাম যেই মাত্র দরজাটা বন্ধ করলাম পুরো বাথরুমটা রাতের মতো অন্ধকার হয়েগেল আমি আমার নিজেকে দেখতে পাচ্ছিনা আর বাতির সুইস খুজব কিভাবে? আবার দরজা খুলে বাহির থেকে আলো নিয়ে সুইজটা অন করলাম কিন্তু তাতে কোন কাজ হলোনা বিদ্যুত নেই। গোসল আর করা হলো না হাত মুখ ধুয়ে রুমে ফিরে এলাম। স্যার আপনার নাস্তা টেবিলে রেখেছি খেতে আসেন। এই বলে জোনাকি রান্না ঘরে চলে গেল। আমি নাস্তা সেরে বাহিরে গিয়ে বসলাম, জোনাকি চা নিয়ে এসে বলল স্যার দুপুরে কি খাবেন মাছ না মাংস? আমি বললাম কিছু না শুধু সব্জি কর আর তার সাথে একটু ডাল হলেই চলবে। অমল কোথায়? কাজে গেছে মানে হয়। সে আবার কি কাজ করে? কাজ না করলে খাব কি স্যার? আমি আর কয়টাকা পাই তাদিয়ে কি সংসার চলে? এ জন্য সে রিক্সা চালায় আর মাঝে মধ্যে আমার কাজে সাহায্য করে। তোমাদের বাচ্চা কয়টা? না স্যার, একটিও নেই । বিয়ে হওয়ার কতদিন হলো? বছর সাতেক তো হবে স্যার ? তাহলে বাচ্চা কাচ্চা নিচ্ছনা কেন? নিচ্ছিনা সে তো ইচ্ছে করে নয় স্যার? হচ্ছে না। ও আচ্ছা। তাহলে চিকিৎসা কর, ডাক্তারের কাছে যাও, এখন চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক উন্নত, এটা কোন ব্যাপারেই না। আমরা গরীব মানুষ এতো টাকা কই পাব স্যার, তবুও কয়েকবার ডাক্তারের কাছে গেছি ডাক্তার সাব অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষা করে বলেছে সবকিছু নাকি পজেটিভ, তার পরেও বাচ্চা কাচ্চা কেন যে হচ্ছেনা একমাত্র ভগবানই জানেন। সবাই বলে এটা নাকি পাপের প্রয়শ্চিত্য। কারণ আমি বাবা মায়ের অমতে বিয়েটা করেছিলাম। কি অমলের হাত ধরে পালিয়েছিলে ? হ্যাঁ স্যার, সে অনেক কথা। আমি তখন মাধ্যমিকে পড়ি আর টেনে পড়ি আর অমল উচ্চ মাধ্যমিকে। আমাদের বাড়িও একই পাড়ায়। আমার দাদার বন্ধু ছিলো অমল তাই সে সব সময় আমাদের বাড়িতে আসত। আমি দেখতে শুনতে ভালই ছিলাম তাই ঘন ঘন বিয়ের প্রস্তাব আসত। অমল একবার বিয়ের প্রস্তাবও দেয় কিন্তু আমি মুসলমান আর অমল হিন্দু। তা কি আর পরিবার মেনে নেয়? এর পরযে কি হলো তা আমি নিজেই বলতে পারি না এক সময় আমি অমলের জন্য পাগল হয়ে গেলাম, এদিন রাতের আঁধারে তার হাত ধরে পালিয়ে গেলাম। অনেকদিন পর মায়ের কাছে শুনেছি আমাকে নাকি জাদুটোনা করা হয়েছিল। আর এ জাদুটোনার কাজে সহায়তা করেছে অমলের কাকাত বোন সেও আমার বান্ধবী ছিলো। আমার মাথার চুল, গোসলের পানি ইত্যাদি জোগাড় করে দিয়েছিল জাদুটোনার জন্য। আমাদের বাড়ির আঙ্গিনায়, রান্নাকরার চুলোর পাশে এমন কি আমার বালিশের নিচেও নাকি এসব জাদুটোনার জিনিস পত্র রেখে দেয়া হয়েছিল। সেই তান্ত্রিক নাকি বলেছে একুশ দিনের মধ্যে সে যদি এসকল জিনিস স্পর্শ করে তাহলে সে অমলের জন্য পাগল হয়ে যাবে। আমি জানি না জাদুটোনা কি, তবে সত্যি সত্যি আমি অমলের জন্য পাগল হয়ে গেলাম। যতোই দিন যাচ্ছিল আমি ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে পড়ি, এমনটা কখনই আগে অনুভব করি নি। আমার শরীর ক্রমে উষ্ণ হয়ে ওঠে, রক্ত গুলো টকবক করে, একটু শীতল হওয়ার জন্য আমি বার বার গোসল করি, আমি খেতে পারি না , ঘুমোতে পারি না। কি অসহ্য সময় বিশেষ করে সন্ধ্যা বেলা ঠিক সূর্য ডুবার ক্ষণে যখন পৃথিবী তার সারাদিনের সঞ্চিত উত্তাপ ছাড়তে শুরু করে। আমার শরীরে অগ্নি জ্বালা শুরু হয়, যেন ভেতরে কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমি বুক ফেটে চিৎকার করতে চাচ্ছি, নিজের চুল নিজেই টেনে ছিড়তে চাচ্ছি কিন্তু কিছুই করতে পাচ্ছি না। আমি যেন এক বৃত্তের ভেতর কঠিন মায়াজালের গোলক ধাঁধাঁয় পড়ে আছি। আমার নাওয়া খাওয়া, ঘুম বিশ্রাম এক অস্থির উত্তেজনার মধ্যে সন্ত্রস্ত। কোথায় বাড়ি কোথায় ঘর, কে আপন কে পর ইত্যাদি ভাবনা ছিল অবান্তর। আমার এ অব¯থা দেখে এক ভয়ানক রুপে কঠিন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে মা বলল, তুই পালাতে পারবি? আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম, এ যেন এক ভয়ংকর গল্প কথার চিত্ররূপ। আমি মায়ের দিকে তাকিয়ে বললাম তুমি এসব কি বলছ মা? চকিতে মায়ের চোখে শ্রাবনের বয়ে যেতে লাগল। বিলাপের সুরে শুধুই বলল- এ ছাড়া তোর আর কোন পথ নেইরে মা । তোকে বাঁচতে হলে অমলকে ছেড়ে আসতে হবে, নতুবা পালিয়ে যেয়ে অমলের ঘর করতে হবে। এখন তুই বেচে নে কোনটা করবি? আমার মাথায় যেন চতুর্থ আসমান ভেঙ্গে পড়ল। কিঙ্ককর্তব্য বিমুর হয়ে আমি বিছাণায় বসে পড়লাম, আমার নির্বুদ্ধিতার কাছে পরাজিত হয়ে আমি মানুষ হওয়ার বদলে জীবনের কঠিনতম সিদ্ধান্তটি নিতে সেদিন এক মুহুর্ত দেরি করিনি। চৈতন্য আসে যখন তখন কেবলি মনে হয় মানুষ যদি নাই হতে পারি তবে এসব জাত ক’লের কি দাম আছে। কি হবে এসব জাত ধর্মকে আঁকড়ে ধরে? একরাতে আমি অমলের হাত ধরে পারিদিলাম কোন এক অজানার উদ্দেশ্যে। সেদিন অমল আমাকে তার বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিল, আর বলেছিল আমি বোধয় জেনেশুনে তোমার জীবনটাকে নষ্ট করে দিলাম। আমি সান্তনা দিয়ে তাকে বলেছিলাম-তুমিও দেখি আমার মতোই আপাতমস্তক একটা নির্বোধ প্রাণী হয়েই রইলে, যদি বুঝতে পার ভ’ল হয়েছে তাহলে এ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামনের পথ চলতে হবে। তবে স্যার, আমার বড় সান্তনা ছিল এটাই যে মা আমার পক্ষে ছিল। জীবনে অনেক হারিয়েছি, সামান্য কিছু প্রাপ্তির আশায়। এখনও মাঝে মধ্যে কিছু ফিরে আসে কল্পনায়, কিছু হয়তো চিরকালের জন্য পথের ধুলায় লুটিয়ে পড়ে। এরই মাঝে জীবনের নিত্য নতুন গল্প সাজে নতুন স¤ভাবনায়। এটুকুই আমার নিজেস্ব পুঁজি, যাকে খুজে বেড়ানোর ব্যস্তায় কাটে দিন মাস, বছর। হাহাকারের মিছিল ছেড়ে আলোর ভুবনে নতুন গান শুনি ফিরে পাই নতুন ছন্দ। হারজিতের খেলা খেলি নিজেই নিজের সাথে, ভালোবাসি যে যতোটা বাসা যায় তার সীমানা ছাড়িয়ে। বারবার ফিরে আসি ঐ একই আবর্তে। আরে বাহ! তুমি তো অসাধারণ এক মেয়ে। তোমার মহিমান্বিত বক্তব্যে তালি দেয়ার জন্য আমার হাত দুটো কেমন নিসপিস করছে। আমি লক্ষ্য করলাম জোনাকীর উদ্ধত বক্ষের দুরুদুরু কম্পনে সহসা ঝরে পড়ল একটা উতল দীর্ঘশ্বাস কিন্তু সে ব্যথাতুর ভাব তার স্থায়ী হলো না। কুড়ি বছরের পূর্ণ জাগ্রত যৌবনা তরুণী জোনাকীকে মূহুর্তে সজাক করে তুলল। তার গোলগাল সুঠাম বাহুদ্বয়ে লাবণ্যেও হিল্লোল তুলে তরুণ চিত্তে অতর্কিত ভাবে এসে পড়া দুঃখবোধটুকু ঝেড়ে ফেলে জিহŸা দিয়ে নিজের ঠোট দুটি একবার ভিজে নেয়। তারপর সে স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে। অতীতের কষ্টেভরা দিনগুলো স্মৃতির সাদাকালো পর্দায় খোয়াই নদীর ঢেউয়ের মতো উচ্ছল হয়ে ওঠে তবুও সেই মলিনতাকে হৃদয়ের উষ্ণতায় চাঁপা দিয়ে ঠোঁটের কোণে ফুটিয়ে তোলে হাসি। দরিদ্রতার সকল দৈন্য সংকীর্ণতাকে মুছে ফেলে যেন নিমিশে এক স্বর্গসুখের আবাস তৈরি করে। স্যার কথা বলতে বলতে তো বেলাই গড়িয়ে গেল, দুপুরের খাবার আপনাকে কে খাওয়াবে শুনি? আমি গেলাম রান্না ঘরে। জোনাকী শোন ? জি স্যার বলেন? অমলেন্দুকে ফোন করে দাও, আসার সময় হোটেল থেকে খাবার নিয়ে আসবে। ব্যাস! ঝামেলা মিটে গেল। না স্যার আমাদের জন্য রান্না করতে হবে না? আরে বাবা সবার জন্য নিয়ে আসবে ? তার দরকার হবে না স্যার? আপনার রান্নার সাথে আমাদেরটাও করে নেব এখন। তোমাদেও জন্য আবার আলাদাভাবে রান্না করতে হবে কেন? বারে? আমরা না খেয়ে থাকব না কি? আহা, আমি তা বলিনি জোনাকি? তোমাদের রান্না থেকে দুমুঠো ভাত আমাকে দিলেই তো হয়ে যায়। কি যে বলেন স্যার? আমরা কি আর চিকন চালের ভাত খেতে পারি? ও আসল ঘটনা এই, তবে শোন জোনাকি? আমি যে কয়েকদিন এখানে আছি তোমাদের জন্য আলাদা রান্না করতে হবে না, আমি যা খাব তোমরাও তাই খাবে । আজ বিকেলের প্রকৃতিটা বেশভারি মনে হচ্ছে রোদও একেবারে হালকা হয়তো খানিকটা কুয়াশাও পড়বে। বাংলো থেকে একটু দূরে কবিগুরুর সেই খোয়াই নদী। পানিগুলো বেশ স্বচ্ছ টলটলে। স্বচ্ছ পানিতে তখনও দেখা যাচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ গুলো কি মহা আনন্দে খেলা করছে। কয়েকটা হাঁস মনের আনন্দে ছুটোছুটি করে মাছগুলোর সাথে খেলা করছে। মনে পড়ে গেলো এমনি এক পরিবেশে কবি গুরু এখানে বসেই রিখেছেন কতো-শত কালজয়ী কবিতা। নির্জন ঘাটে বেশ ভালোই লাগছিল শেষবিকেলের সোনালী আলোয় কাকরে কাকরে ঠোঁকা ঠুঁকি আর সর্নালী মাছের গান। হঠাৎ সমস্ত নির্জনতা ভেঙ্গে দিয়ে জোনাকি বলে- স্যার আপনার চা? এযেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি, এমন মোহনীয় ক্ষণে এক কাপ চায়ের ভীষণ প্রয়োজন ছিল। তাই মাথা উঁচু করে জোনাকির দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালাম। বুঝে গেছি স্যার? কি বুঝলে? আপনার মন বলছে- ’এ মূহুর্তে এক কাপ চায়ের খুব প্রয়োজন ছিল’ ঠিক বলেছি স্যার? আলবাত ঠিক, আসলে জোনাকী নামটা তোমার জন্য সার্থক হয়েছে। স্যার আপনারা বড়লোক মানুষ, সকাল বিকাল চায়ের উপর বেচে থাকেন, এ আমার জানা। আর কি কি জান তুমি? অনেক কিছুই জানি স্যার, ভালটা যেমন জানি এর উল্টোটাও কম জানি না। দিন দিন বয়স বেড়ে যাচ্ছে তো তাই অভিজ্ঞতাও বারছে। এই বাংলোয় প্রতিনিয়ত মানুষ আসে, কতো রকমের মানুষের সাথে আমাকে মিশতে হয়; কার চাকর হয়ে, কার কাজের বুয়ো হয়ে। রান্নায় আলুটা একটু কম সেদ্ধ হলে কিংবা লবনটা একটু চড়া হলে কতো কথা শুনতে হয়, কেউ কেউ চাকরিটাও নট” করে দেয়ার ধুমকি ধামকিও দেয়। তখন খুব খারাপ লাগে স্যার, নিজের উপর ভীষণ ঘৃণা হয়। কেবলি মনে হয় এ পরিস্থিতির জন্য আমি দায়ী। না জোনাকী, মন খারাপ করে লাভ নেই। আমাদের পৃথিবী নামক এই চোট্ট গ্রহটিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ’শ কোটি মানুষ বসবাস করে, কার সাথে কার শতভাগ মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এটাই সৃষ্টি কর্তার এক বিরাট গোপন রহস্য। আমরা সবাই মানুষ, সৃষ্টি কর্তার একই সৃষ্টি। আমাদের সকলেরই ক্ষুধা তৃষ্ণা কামনা বাসনা এবং একই রকম অনুভুতি শক্তি রয়েছে। আঘাৎ লাগলে আমরা সবাই ব্যথা পাই, কষ্টে কাঁদি, আনন্দে হাসি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমাদের সকলের আবেক অনুভুতি বিচার বিবেচনা একই রকম হয় না। তাই তুমি কষ্ট পাও, আর একজন তোমাকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পায়। যাক তুমি এখানে কি করে এলে? আপনি বাগানে নেই, তাই অমলকে বললাম-চলো স্যারের কাছে যাই। অমল কোথায়? চায়ের দোকানে স্যার। আপনার জন্য চা পাঠিয়ে এখন হয়তো সে খাচ্ছে। ও আচ্ছা- চলো আমরা হেঁটে হেঁটেই বাংলোয় ফিরি। তুমি যেন কি বলতে চেয়েছিলে, বলো- এ পৃথিবীতে কার উপর আমার কোন অভিযোগ নেই স্যার। অভিযোগ শুধু আমার নিজের ভাগ্যেও উপর। সারাজীবন ভাগ্য আমার হাতধরে কেবল অন্ধকারের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম ছেড়ে একদিন অমলের হাত ধরে শহরে এলে চাকরি বাকরি করে অপেক্ষাকৃত স্বাচ্ছন্দে দিন যাচ্ছিল। কিন্তু অমল হঠাৎ করে এক কঠিন ব্যারামে আক্রান্ত হলে রমেশ মহাজনের কাছে কিছু টাকা পয়সা দেনা হয়ে পড়ে। সময়মতো শোধ দিতে না পেরে এখন সেটা নাকি সুদে আসলে চারগুণ হয়ে যায়। রমেশ মহাজন দিনে রাতে তার চাকর বাকর পাঠিয়ে নানা কথা শোনায়। কিই আছে তার? আর কিদিয়েই বা পরিশোধ করবে সেই ঋণ? হাতে গ্লাার চুড়ি, পায়ে কাঁসার মল, গলায় পুঁথির মালা- এইতো তার সম্বল। দরিদ্রের রোশানলে পড়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ জীবনে উন্নত বক্ষ কম্পিত করে সহসা ঝরে পড়ল একটা উতল দীর্ঘশ্বাস। কিন্তু সেই বেদনা-বিধুর ভাব তার দীর্ঘস্থায়ী হলোনা । কুড়ি বছরের পূর্ণ জাগ্রত যৌবনা তরুণী জোনাকীকে মুহুর্তে সজাগ করে তোলে। শিথিল মুষ্টিতে নিজের অস্তিত্বকে স্বজোর চেপে ধরে গোল গাল বাহুদ্বয়ে লাবণ্যের হিল্লোল তুলে তরুণচিত্তে অতর্কিতে এসেপড়া গøানিটুকু নিঃশেষে ঝেড়ে ফেলার জন্য একটা মিষ্টি করে হাসি দেয়। সেই হাসিতে যেন চারিদিকের স্তব্ধ সমীরন চঞ্চল হয়ে ওঠে। তারুণ্যের লীলায়িত দেহখানি তটে-তটে পরিপূর্ণ যৌবন সায়রের ছল-ছল ঢেউ কেবলি উচ্ছল হয়ে ওঠে। সেই যৌবনের মাদকতা, তারুণ্যের মায়া, দরিদ্রের দীর্ণ কুটীরের সকল দৈন্য, সকল হীনতা মুছে দিয়ে নিমেষে হৃদয় প্রাচুর্যে পরিপূর্ণতা আনে। বউদি বাড়িতে আছ কি? ও তপন? আয়, ভেতরে আয়। বসবার টাইম নাই বউদি, মহাজন তোমায় এখুনি ডাকে। খুব নাকি জরুরী কাম আছে। আমার সাথে তোর মহাজনের আবার কি জরুরি কামরে তপু? সত্যি করে বলছি বউদি, সেই লোকটা একটি জিনিস এখনি চায়, টাকা নয় তোমার যৌবন। তপু কথার মধ্যে থেমে গিয়ে জোনাকীর দিকে চেয়ে রইল। এক অজানা আসঙ্কায় জোনাকীর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। তার কাজল কালো চঞ্চল আঁখিদুটিতে একটা চাপা ব্যথার আভাস জেগে ওঠে। মহাজন যে ভালো জাতের মানুষ নয় সেটা তার হাড়ে হাড়ে জানা। জোনাকী তখন রান্নার কাজ ছেড়ে নিজ আঁছলে হাত দুখানা ভালোকরে মুছতেছিল। তার লাবণ্যের ঢল শ্যামল মুখখানায় ভীষণ চঞ্চল হয়ে ওঠে, তার কাজল কালো চোখ দু’টিতে কি মধুর উত্তাপ খেলছিল। স্বাস্থ্য পুষ্ট যৌবন পুষ্পিত তনুকান্তি, জীর্ণ মলিন বাসে সবটুকু ঢাকা পড়ে নি, সতৃষ্ণ লুব্ধ দুষ্টিতে সেদিকে খানিক্ষণ চেয়ে থেকে ভিতরে ভিতরে একটা চাপা নিঃশ্বাস ফেলে তপু বলে- বউদি আমি যাই। এই দরিদ্র সংসারে দুঃখ দৈন্য অভাবের শত তাড়না সয়ে, দিনব্যাপি কঠোর পরিশ্রমের পর রাতে যখন স্বামীর বলিষ্ঠ বাহুতে মাথা রেখে শয়ন করে তখন সে রাজ্য লাভের স্বপ্ন দেখে, সে তখন প্রাণময়ী নয়, যৌবনময়ী হয়ে নিঃস্ব শ্রান্ত দয়িতকে এ মাটির পৃথিবীর অনেক উর্দ্ধে, স্বর্গের কাছাকাছি পৌছে দেয়। সেই যৌবন তার এক লম্পটের লালসা নিবৃতির জন্য--না-- না, ভাবতে তার গা কাঁটা দিয়ে ওঠে। কিন্তু দেনার কি হবে? কে দেবে তাদের এতো টাকা? সব শুনে অমল বলে- আমি তোমায় আগেই বলেছি জোনাকী, তুমি আমাকে দু”মাসের জন্য ছেড়ে দাও, আমি ঢাকা যেয়ে রোজগার করে মহাজনের দেদনা পরিশোধ করি। তুমি তো সেটাও শুনছো না। একটা তপ্ত নিঃশ্বাস এসে অমলেন্দুর বুকের উপর আচড়ে পড়ল। দিন মাস তারপর বছর--উঃ। ভীতি ব্যাকুল বাহু পাশে স্বামীর কণ্ঠবেষ্টন করে ভয়ে ভয়ে জোনাকী বলে- চল আমরা দু’জনে মিলে চুপি চুপি পালিয়ে যাই। যেখানে আমাদের কেউ খুজে পাবে না। এদিকে শেষবিকেলের আলোটাও একটু একটু করে কমে যেতে শুরু করলো হয়তো এর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা নেমে আসবে তবুও অমল কিংবা জোনাকী কারও কোন খবর নেই্। এমনতো কখনও হয়নি। খাওয়ার টেবিলে ভাত রেখে সে চলে গেল চান করতে আর ফিরে এলো না। কোন বিপদ হয়নি তো তাদের? এমন সময় ক্লান্তি মাখা মলিন মুখ, উসকো খুসকো চুলে সম্পূর্ণ অগোছালো হয়ে জোনাকী রান্না ঘরে প্রবেশ করে। এ অবস্থায় তাকে দেখে আজমল সাহেব চমকে ওঠে, জোনাকী, এই জোনাকী? এদিকে আসো। স্যারের ডাক শোনে সে হাউ-মাউ করে কেঁদে ফেলে। হায় ভগবান তোর পৃথিবীতে কতো রকমের মানুষ আছে। কেউ স্বর্গের দেবতার মতো আবার কেউ নরকের অসুর। আজমল সাহেব জোনাকীর কান্নার শব্দ শুনে হাটতে হাটতে তার কাছে গেল। জোনাকী তাকে পুরো ঘটনাটা খুলে বললো। তারপর বলে স্যার, আজকে রাতেই আমাদের হয় পালিয়ে যেতে হবে, না হয় বিষ খেয়ে দুজনাকে মরতে হবে। আচ্ছা জোনাকী তুমি না আমাকে খুব আপন মনে কর? বড় দাদার মতো দেখ, ঠিক বলছি না। সেকি আর বলার অপেক্ষা রাখে স্যার। শুধু বড় দাদা কেন আমি আপনাকে আমার দেবতা মনে করি। সে তুমি যাই ভাব, তবে তোমরা এতো বড় একটা জঘন্য সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমাকে তো একটা কথা জানাতে পারতে? জোনাকী যাও অমলকে ডেকে নিয়ে আস আমার কিছু কথা আছে। স্যার, আমাকে ডেকেছেন? হ্যাঃ অমল এদিকে আসো। আমার ঐ কালো ব্যাগটা নিয়ে আসো। আজমল সাহেব ব্যাগ থেকে চেক বইটা নিয়ে একটা চেকের পাতায় সই করে অমলের হাতে দিয়ে বলে- জানিনা তোমার কতো টাকা দেনা আছে যতো টাকা লাগে ওখানে পরিমানটা বসিয়ে দিয়ে কালকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলবে। আর হ্যাঁ শোন আমার জন্য দশ হাজার টাকা বেশী তুলবে বুঝলে? আর কোন সমস্যা আছে? না স্যার? এই বলে সে হুড় মুড় করে আজমল সাহেবের পায়ে পড়ল। জোনাকী ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল অমলের এ অবস্থা দেখে সেও আজমল সাহেবের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ পর জোনাকী অমলকে বলে- কে বলে তোমার দেবতারা শুধু স্বর্গেই থাকে? আমাদের মতো অসহায় মানুষের জন্য তারা মর্তেও নেমে আসে উত্তম নররূপে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জোনাকী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now