বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যোদ্ধা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X লেখক,তুহিন(ড্রিম রাইটার) অনার্স শেষ করেই বেকারত্ব আর ৪ সদস্যের পরিবারের হাল ধরার জন্য চাকরি খুঁজতে থাকি হন্যে হয়ে।কয়েক মাস পরে একটা চাকরী পেয়েও যাই।বাবা একটা সরকারী জুট মিলে চাকরি করত।বছরের পর বছর লোকসান দিতে দিতে এক সময় সেটা বন্ধ হয়ে যায়।মিলটি বন্ধ হওয়ার পরে অল্প যে ক'টাকা বাবা পেয়েছে সেই টাকা দিয়েই কোন মতে আমাদের দুই ভাই বোনের লেখাপড়া আর সাংসারিক খরচ চলছিল।দুই বছর আগে বাবা ব্রেন স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে বিছানাতে শুয়ে দিন কাটাচ্ছেন।বাবার পাওনা টাকার বেশির ভাগ অর্থই ব্যয় হচ্ছে তার চিকিৎসার পেছনে।তাই তো আমাকে অনার্স শেষ করার পরেই চাকরি খুঁজতে হয়েছে। . বছর ঘুরতে না ঘুরতেই চেয়ারম্যান স্যার মারা গেল আর তার অনুপস্থিতে তার কোম্পানি দেখাশোনার দায়িত্ব পরল তার ছেলের উপর।তার ছেলের বিভিন্ন বিষয়ে আলসেমী,স্বজনপ্রীতি এক সময় শ্রমিক অসন্তোসের কারন হয়ে দাড়াল।তার উপরে ব্যাংকের কাছে কোম্পানির জায়গা বন্ধক থাকায় ব্যাংক থেকে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে কোম্পানিতে তালা ঝুলিয়ে দিল। . মিতার সাথে আমার তিন বছরের সম্পর্ক।সে আমাকে প্রায়ই বলত, ওর ফ্যামিলি থেকে বিয়ের জন্য অনেক প্রেশার দিচ্ছে।তাই আমাকে তাড়া দিত একটা চাকরি জুটিয়ে নিতে।চাকরি পাওয়ার পরে মিতাকে আমি বলতাম, চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি মিতা শুনছ এখন আর কেউ আটকাতে পারবেনা।মিতা শুধু হাসত। চাকরিটা হারানোর পরে সব কিছু যেন ওলট পালট হয়ে গেল।মিতা জানিয়ে দিল সে আর আমার সাথে রিলেশন রাখতে পারবে না।তার নাকি এক ছেলের সাথে বিয়ের কথাবার্তা অনেকটা পাকাপাকি হয়ে গেছে। . ফেসবুকে চৈতী মেয়েটার প্রোফাইলের ছবিটাও খুব সুন্দর,, এককথায় সুন্দরী বলা চলে,, বড় বড় চোখ মুখে মৃদু হাসি সত্যিই সুন্দর। তার লেখা গল্পগুলো সব সময় পড়তাম। মাঝে মাঝে তার গল্প গুলোতে কমেন্টস করতাম। সে যেন লেখা গুলো অনেক কষ্ট থেকে লিখত।তার অনেক ফলোয়ার ছিল তাই তাকে রিকুয়েস্ট না পাঠিয়ে ফলোয়ার হলাম সাথে সাথে ফিল্টার্ড ম্যাসেজ আসল। . চৈতী-এই ছেলে তুমি রিকুয়েস্ট না পাঠিয়ে ফলোয়ার হয়েছ কেন? . -রিকুয়েস্ট পাঠালে যদি ঝুলিয়ে রাখ, তাই। . চৈতী- আমি পাঠাচ্ছি একসেপ্ট কর। . রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করার পরে তাকে ক্লোজ ফ্রেন্ডের তালিকাতে রাখলাম যাতে সে লেখা পোষ্ট করার সাথে সাথে আমার নোটিফিকেশনে চলে আসে । যার স্ট্যাটাস আমি সবসময় পেতে চাই তাকেই আমি এই তালিকাতে রাখি। এরপর থেকে চৈতীর সাথে মাঝেমাঝে কথা হত সে শুধু হাঁ, হুম উত্তর দিত রোবটের মত। . কোম্পানি বন্ধ হওয়ার পর আবার বেকার হয়ে গেলাম।মনে করলাম কিছুদিনের মধ্যে একটা কাজ জুটিয়ে নিতে পারব কিন্তু যেখানেই চাকরির জন্য যাই সেখানে সবাই ৩ থেকে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা চাচ্ছে।এদিকে সংসারের খরচ চালানোর জন্য মা তার গয়না বন্ধক রাখল স্বর্নের দোকানে।ছোট বোন টার যেখানে সারাদিন মুখ চলতো সেও এখন খিদে নেই বলে খালি পেটে ঘুমিয়ে পরে। . মা বাবার মুখের দিকে তাকাতেই পারছি না।দু:খে পরলে নাকি সবাই আপন জনদের খুজে বেড়ায় তাই আমিও মিতাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি অথচ মিতাই সবার আগে আমাকে ছেড়ে চলে গেল।ছোট বোন টা কিছু না খেয়েই বইয়ের উপরে পরে রয়েছে।অভাব যে কি জিনিস তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। . আর পারছিনা সহ্য করতে উলটা পালটা চিন্তা মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছে।সুইসাইড করা ছাড়া আর কোন উপায় দেখছি না।রাতের অন্ধকারে বাহিরে হাটছি আর মাথায় সুইসাইড ঘুরছে নাহ শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম।মোবাইল টা বের করে জিরো এমবি দিয়ে লিস্টে প্রথমে অন থাকা মিতাকে গুডবাই জানালাম সে কোন রিপ্লাই দিল না ব্যস্ত আছে হয়তো অন্য ছেলের সাথে। বন্ধুদের ও দিলাম ফরোয়ার্ড করে তারাও গুডবাই দিল কেউ বলল গুড নাইট। শুধু চৈতী বুঝতে পারল বেপারটা। সে রিপ্লাই দিল এই কোথায় যাচ্ছ শুনি?আমি কোন রিপ্লাই দিলাম না। সে আবার ম্যাসেজ দিল তুমি কি সুইসাইড করার চিন্তা করছ নাতো ?আমি মনে মনে ভাবলাম যে মেয়ে শুধু হাঁ,হুম দিয়েই রিপ্লাই দিত সে কিভাবে আমার মনের কথা বুঝতে পারল!! চৈতী আবার টেক্সট করল। . চৈতী- তুমি কি মানসিক ভাবে খুব বিপর্যস্ত? আমাকে বলা যাবে?আমি চৈতীকে সব খুলে বুললাম। . চৈতী- আমাদের জীবনটা হচ্ছে মুদ্রার এপিট ওপিঠ।আল্লাহ কখনো আমাদের দুখ দিয়ে পরীক্ষা করেন আবার কখনো সুখ দিয়ে পরীক্ষা করেন।তুমি ইচ্ছে করলে আমাকে ভালবাসতে পার কথা দিলাম যতদিন বেঁচে থাকব তোমাকে ঠকাবো না । . চৈতী- তুমি একজন বীর যোদ্ধা।কথা দাও এই যুদ্ধ তুমি লড়বে এবং জয়ী হবে। তোমার এই লড়াইয়ের উপর আরো তিন টি প্রানীর বাঁচা মরা জড়িয়ে আছে।আজকের অন্ধকার রাত কাটলেই দেখতে পাবে তুমি সকালের সূর্যটা।তাই এখন পাগলামি না করে সোজা ঘুমিয়ে পর। . আমি কাপা কাপা আঙুলে ম্যাসেজ দিলাম আমি কি তোমার সাথে দেখা করতে পারি? . চৈতী- কেন নয়? তুমি আমার যোদ্ধা। তুমিই বল কোথায় কখন দেখা করতে হবে? . -কাল বিকেল ৫টায় দিয়াবাড়ি তে। . চৈতী- তুমি আসবে তো? নাকি আমাকে বসিয়ে রাখবে? তোমার নাম্বারটা দাও তোমার আসতে দেরী হলেও আমি অপেক্ষা করব।চৈতী ওর নাম্বারটা ও দিল ম্যাসেজ করে। . চৈতী:- এই চুপ করে আছ কেন? এখনো কি সুইসাইডের প্ল্যান মাথা থেকে যায়নি?? . - না এমনি ভাবছি অন্য কিছু। . চৈতী:- কাল আমাদের দেখা হচ্ছে। তুমি এখন লক্ষ্মী ছেলের মত ঘুমিয়ে পর। . বাসায় এসে চৈতীর কথা গুলো শুধু কানে বাজছে। নিজেকে এখন যোদ্ধা মনে হচ্ছে।আমি কি পারব এই যুদ্ধে জয়ী হতে? তাছাড়া কে এই চৈতী? যার কথায় আমি বদলে গেলাম। এমন অনেক চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লাম। . আর্থিক অনটনের কারনে বাসায় সকালের নাস্তা রেডি হয় না তাই অনেক সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকি।মায়ের ডাকে ঘুম টা ভেঙে গেল।একটা খাম দিয়ে গেল ।খামটা খুলে দেখি এপয়েনমেন্ট লেটার। একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম এক্সিকিউটিভ প্রশাসন পদে মনেও ছিল না এটার কথা। আমার অনার্সের বিষয় ইংলিশ ছিল তাই এই ভাষার উপরে একটু দক্ষতা আছে সে জন্যই আমাকে সিলেক্ট করা হয়েছে।আমি চাকরির খবরটা ম্যাসেজ করলাম চৈতীকে,রিপ্লাই আসল কনগ্রাটস। gj . ৫টার আগে এসে চৈতীকে চমকে দিতে চেয়েছিলাম গিয়ে দেখি চৈতী অনেক আগে এসে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। . চৈতী- বাহ, তুমি তো সময়ের আগেই চলে এসেছ।এভাবেই সময়ের মুল্য দিও তাহলেই সব যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে। . দুজন বাঁধের উপরে গিয়ে বসলাম।হঠাৎ চৈতী বলে উঠল তুমি কি বলবে বলে ডেকেছিলে বললে নাতো। . -আমার সব কিছুই তো তোমাকে বললাম। . চৈতী- জান, আমার প্রেমের মেয়াদ কত দিনের? . - না, জানি না। . চৈতী-মাত্র ১ দিনের। . চৈতী- তুমি কি জান কেন আমি তোমার সাথে একদিনের বেশি সম্পর্ক রাখব না। . - না,জানি না। . চৈতী- একজন যোদ্ধা তৈরী করতে আমার কাছে একদিনই যথেষ্ঠ।তুমি কি এখন জীবন যুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত? . -হাঁ, আমি প্রস্তুত। . চৈতী- তুমি কি জান , আমি আর কতদিন বাঁচব ? . আমি এই কথা শুনে একটু অবাক হলাম কি বলছে এই মেয়েটা!!! সে বলে চলল, . চৈতী- আমি আর বেশিদিন বাচব না। বড়জোর ১মাস।ব্ল্যাড ক্যান্সারে আক্রান্ত।একটু একটু করে প্রতিদিন এগিয়ে যাচ্ছি মৃত্যুর দিকে।প্রতিদিন মনে মনে বলি আর যদি কিছুদিন বেঁচে থাকতাম।মাঝে মাঝে যারা সুইসাইড করে তাদের জন্য খুব খারাপ লাগে এত সুন্দর একটা জীবনকে তারা মেরে ফেলে । অথচ দেখো প্রতিদিন আল্লাহর কাছে বলি তিনি যেন আমাকে সুস্থ করেন। . চৈতীর কথা শুনে আমার চোখ ভিজে গেল। . চৈতী-কি হল তোমার? তুমি কাঁদছ কেন? তুমি না আমার যোদ্ধা , এই কথা বলে আমার চোখ মুছে দিচ্ছে হাত দিয়ে। . -আমি তোমার কথা ভেবে কাঁদছি। তোমার যে মহৎ উদ্দেশ্য, তার কথা ভেবে কাঁদছি,, এখন আমি বুঝতে পারছি তোমার এই একদিনের ভালবাসায় আমি বাঁচার শক্তি ফিরে পাব। তোমার অবর্তমানে যারা তোমার এই ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হবে,, তাদের কথা ভেবে কাঁদছি। . এবার চৈতী ও কাঁদছে।আচ্ছা শুন আজকের পরে আমরা আর দেখা করব না এবং তুমি কোন টেক্সটও করবে না।আমি এই পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার আগে শেষ বার তোমার সাথে দেখা করার চেষ্টা করব।ফেসবুকে আমার উপস্থিতি দেখেও কখনো ম্যাসেজ করবেনা,,..।কখনো যদি আমার জন্য মনটা কেঁদে ওঠে,, এই সময়,, এইখানে এসে বসো। আর ডুবে যাওয়া ঐ সুর্য্যটাকে দেখো। . একটা দির্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,,যোদ্ধা এবার আমাকে উঠতে হবে,,আমার অনেক কাজ আর হাতে সময় খুবই কম, তুমি অনুমতি দাও,,,,,,,, . আমি বললাম হুম। আমার হাত টা শেষ বারের মত ধরল আর বলল জীবন যুদ্ধে জয়ী হও।চৈতী বাঁধ ধরে যেতে লাগল একসময় চোখের আড়াল হয়ে গেল।প্রতিদিন ফেসবুকে চৈতী কে দেখি একটিভ অন । অনেক ম্যাসেজ আসে তার মধ্যে মিতার ম্যাসেজ ও ছিল ঐ ছেলেটার সাথে তার বিয়ে হচ্ছে না কিন্তু কোন ম্যাসেজের রিপ্লাই দিতে মন চাচ্ছে না শুধু তাকিয়ে আছি এক উৎকণ্ঠা নিয়ে চৈতীর আইডির দিকে । . নতুন চাকরিতে জয়েন করলাম আর নিজেকে আসতে আসতে করে গুছিয়ে নিচ্ছি । ব্যস্ততার কারনে কিছুদিন ফেসবুকে আশা হয়নি অফিস থেকে এসে রাতে ফেসবুক অন করে চৈতীর আইডিতে গেলাম একটিভ অন 9 আওয়ার এগো বুকের ভেতরটা চিন চিন করে ব্যাথা করতে লাগল আর ভয় পাচ্ছিলাম। . সকালে অফিসে যাওয়ার আগে আবার চৈতীর আইডিতে গেলাম একটিভ অন 17 আওয়ার এগো। মোবাইলে ওর ফোন নাম্বারটা বের করে ফোন করলাম সুইচড অফ।অফিসে গিয়ে ওর টাইমলাইনে গেলাম সবাই শোকবার্তা দিচ্ছে আমার বুঝতে আর কিছুই বাকি রইল না।কোন কাজেই মন বসছে না তাই ৩ টা বাজে বেড়িয়ে পরলাম অফিস থেকে সোজা চলে গেলাম দিয়াবাড়িতে সেই পরিচিত জায়গায় আর তাকিয়ে আছি খোলা আকাশের দিকে। . ****সমাপ্ত*****


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পাগলা মুক্তিযোদ্ধা
→ রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে পার্থক্য
→ একজন যোদ্ধা
→ "ওরা ১১ যোদ্ধা'
→ যোদ্ধা
→ পতাকা আর এক যোদ্ধার গল্প
→ স্বপ্ন যোদ্ধা
→ মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার
→ স্বপ্ন যোদ্ধা
→ মুক্তিযোদ্ধা
→ একজন যোদ্ধার গল্প-৪(শেষ)
→ একজন যোদ্ধার গল্প-৪
→ একজন যোদ্ধার গল্প-৩
→ একজন যোদ্ধার গল্প-২
→ একজন যোদ্ধার গল্প-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now