বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জোছনা তার প্রিয় ছিল

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাফিজ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X জোছনা তার প্রিয় ছিল লেখকঃ নাফিজ আহমেদ বিচারপতি আব্দুল হামিদ রনির মামলার রায় দিলো আজ। তার রায়ে বলা হলো আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দকৃত মালামাল এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে এ মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করিয়েছেন, যা Customs Act, 1969 এর বিধান লঙ্ঘন করে। অতএব, আদালত নিম্নোক্ত রায় প্রদান করিতেছে— অভিযুক্তকে ৫ (পাঁচ) বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। তাকে পাঁচবছর বছরে সশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডিত করা হলো। কিন্তু কেন? চলুন একটু পিছন থেকে ঘুরে আসি। গ্রামের এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে আদরের ছেলে রনি। জীবনে কখনো কোন ঝামেলায় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেনি। ঝগড়া বিবাদ দেখলেই দশহাত দূরে চলে যায়। গ্রামের প্রকৃতির সাথে তার ছিল এক অন্য রকমের সখ্যতা। প্রকৃতি প্রেমী রনি প্রতিদিন পড়ন্ত বিকালে একাকী চলে যেত তেপান্তরের মাঠে আপন মনে অবলোকন করতো এই নিরব প্রকৃতিকে। প্রকৃতির সাথে তার ছিল গভীর মিতালি। পাগলা মোহও কোন অংশে কম ছিলনা। এমনই ভাবে এক জোসনা মুখরিত রাতে রনির তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে আজ সে সারারাত তার প্রিয় সেই দক্ষিণা মাঠে একাকী শুয়ে শুয়ে চাঁদ দেখবে। সেদিন চাদঁ ছিল পূর্ণ। জোছনা তার খুবই ভালো লাগে এইজন্য প্রায়শই সে জোছনা দেখে তবে আজকেরটা ভিন্ন। আজ সে তেপান্তরের মাঠে একাকী জোছনা দেখবে। মাঠে তখন কেউ থাকবেনা। চারদিকে নিস্তব্ধতা বিরাজ করবে। প্রকৃতি তার আপন শব্দ পৌঁছিয়ে দিবে মাঠের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে। যেই ভাবনা সেই কাজ রনি রাতে খাবার খেয়ে পরিবারকে বললো আজ রাতে শিহাবদের বাসায় থাকবে। শিহাব রনির খুবই কাছের বন্ধু। ছেলে খারাপ না। গ্রামে তার সুনাম আছে। এজন্য রনির বাবা মাও তাকে শিহাবের সাথে মিশতে বাধা দেয়না। প্রায়ই সে শিহাবদের বাসায় থাকে। এজন্য পরিবারের কাছেও বিষয়টা নরমাল হয়ে গেছে। রাত তখন গভীর হতে শুরু করেছে। রনি তার গন্তব্য পানে একাকী হেঁটে যাচ্ছে। পশ্চিম পাড়ায় তার প্রিয় জায়গা টা । পথিমধ্যে কবরস্থান পরে। রনির কিছু মনেই করে না। তার ধর্মীয় শিক্ষা যথেষ্ট। এজন্য জিন ভুত তার খুব একটা ভয় লাগে না। তাছাড়া যুগে যুগে প্রকৃতি প্রেমীদের সম্মুখে এগুলো কখনোই অন্তরায় সৃষ্টি করে নি। প্রকৃতি প্রেমীরা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে কখনো মাঠে কখনো ঘাটে কখনো বা জঙ্গলে একাকী চলে গেছে। আজ রনিও সেটাই করছে। রনি এতক্ষণে দক্ষিণা মাঠে পৌঁছে গেছে। যেখানে বসে বসে সে একটা তেজস্বীয় সূর্য সময়ের পরিপাকে মেঘের দেশে মিলিয়ে যেতে দেখে। একটা ধ্রুব তারা বিশাল আকাশে জ্বলে উঠতে দেখে। আজ সেই মাঠেই রনি একটা পূর্ণ চাঁদ অবলোকন করছে। সূর্যের কাছ থেকে চুরি করা আলো চাঁদটা কত সুন্দর করে পৃথিবীর প্রতিটা আঙিনায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। শহরের নিয়নবাতি মাঝে এই নরম আলো দেখা যায় না। শহরের কৃত্রিম আলো এই স্নিগ্ধ আলোকে ঢেকে দেয়। তবে আজ গ্রামের ভিতর থেকে খুব সুন্দর করে এই আলো উপভোগ করছে রনি। তার খুবই ভালো লাগছে। তার কবি প্রতিভা যেন প্রস্ফুটিত হতে চাচ্ছে। এই নিস্তব্ধ মাঠে রনি একা। তারপরও তার ভিতর কোন রকম ভয় কাজ করছে না। সেই মাটির সাথে মিশে গিয়েছে। জীবনের কতটা প্রহর পর আজ এই নিশুতি রাতে রনি নিজের নিথর শরীরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিল। মাথার নিচে দু্ইটা হাত দিয়ে এক নাগারে জোসনা দেখে যাচ্ছে। আকাশের বিশালতা আপন মনেই তাকে ভাবিয়ে তুলছে। সৃষ্টিকর্তার কি বিশাল সৃজন। এইসব ভাবতে ভাবতে তার দুটি চোখ নিজের অজান্তেই এক হতে চাইল। এমনত অবস্থায় কারা যেন তাকে জোর করে তুললো। রনির জ্ঞান ফিরতেই আবিস্কার করলো সম্মুখে কয়েকজন খাকি পোশাক পরিহিত দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার দাঁড়িয়ে আছে। সে তো হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। বাকরুদ্ধ হয়ে তাদের দিকে চেয়ে আছে। এতরাতে তারা এখানে কি করছে? তাহলে কেউকি তাদের কাছে রনির বিষয়ে কোন ভুল তথ্য দিয়েছে? নানান প্রশ্ন তাকে অস্থির করে তুলছে। হঠাৎ এসআই শরীফ তার সাথে থাকা কনস্টেবল মাসুদ কে বলছে ওকে হাতকড়া লাগাও এবং গাড়িতে তোল। রনি তো এবার কিছুটা ঘাবড়িয়ে গেল। সে পুলিশদের কাছে জিজ্ঞাসা করলো আমার দোষ কি? আমাকে কেন সাথে নিয়ে যাবেন? এসআই শরীফ বললো আমাদের কাছে তথ্য আছে তুই এখান দিয়ে ইসমাগলিং করিস। অবৈধ চোরাকারবার করিস এই গোপন রাস্তা দিয়ে। এইজন্য প্রায়শই তুই এখানে রাত্রিযাপন করিস। প্রতিরাতেই ভারত থেকে নানান অবৈধ মাল তোর হাত দিয়ে বর্ডার পার হয়। এইজন্য তোকে আমাদের সাথে যেতে হবে। বিশ্বাস করুন আমি এইসবের সাথে জড়িত না। কেউ আপনাদেরকে ভুল তথ্য দিয়েছে। আপনি আমার গ্রামে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। কেউ আমাকে খারাপ বলতে পারবে না। তুই যদি এতই ভালো হোস তাহলে এই রাতে এখানে কি করিস। আমি তো এখানে চাঁদ দেখতে এসেছি। রনির কথা শুনে তারা কিছুটা কটুক্তির হাসি দিলো। চাঁদ দেখতে এসেছিস আমাদের সাথে চল তোমাকে চাঁদ আমরা দেখাবো। রনির মনের কথা তাদেরকে কিভাবে বোঝাবে? তার পাগলামির জন্য আজ তার এই দশা। পুলিশেরা আর কথা না শুনে রনি কে থানায় নিয়ে চলে গেল। এবং হাজতে নিয়ে নানান ভাবে স্বীকার করানোর চেষ্টা করলো যে সে অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রয়োজনে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও করলো। কিন্তু রনি যেটা কখনো করেইনি সেটা কিভাবে স্বীকার করবে? অতঃপর রনিকে ফাসানোর জন্য একশত পিস ফেনসিডিল ও কয়েক কেজি গাঁজা সহ তাকে কোর্টে চালান দিলো এবং খুব শক্ত একটা চারশীট তৈরি করলো। যাতে রনির অনেকদিন জেল হয়ে যায়। যেটা ইচ্ছা সেটাই বাস্তবায়ন হলো আজ রনিকে বিচারপতি আব্দুল হামিদের রায়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো। স্বাধীন রনি আজ থেকে পরাধীনতায় পেয়ে বসলো। রনি এখন বন্দী। একজন প্রকৃতি প্রেমী আজ থেকে প্রকৃতি থেকে অনেকটা দূরে চলে গেল। চার দেয়ালের মাঝে তাকে আটক থাকতে হবে। জীবনের কিছু কিছু হিসাব বরাবরই অমিল থেকে যায়। হয়তো জোছনা তার প্রিয় ছিল বিধায় আজ রনির এই অবস্থা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জোছনা তার প্রিয় ছিল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now