বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জনৈক সীমান্তের শেষ স্বীকারোক্তি……

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X স্থান—কুমিল্লা,রেলস্টেশন। রেলস্টেশনের চা গুলো এতো বিস্বাদ হয় কেনো টং এর দোকানে বসে বসে তা ভাবছিলাম।অর্ধেক চা খেয়ে বাকিটা ফেলে দিয়ে চা এর বিল দেয়ার সময় দেখলাম মানিব্যাগে মাত্র ৪৭৫ টাকা আছে।৫ টাকা বিল দিয়ে এখন তার পরিমাণ আরো কমে গেলো।আর অবশিষ্ট সম্পদ বলতে পকেটে একটা নোকিয়া হ্যান্ডসেট,কাঁধে একটি ব্যাগ যার মাঝে আছে একটি ল্যাপটপ ও সর্বশেষ আমার বামহাতের আঙ্গুলে একটি রিং।আমার গন্তব্যহীন যাত্রাপথে এগুলোই আমার সম্বল।ও আপনাদের তো আমার পরিচয় দেয়াই হয়নি।আমি সীমান্ত,মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র ছেলে,H.S.C পাস করা একজন ছাত্র।বয়স মাত্র আঠারো। আপনারা হয়তো ভাবছেন এই অল্পবয়সী ছেলেটা রেলস্টেশনে কি করছে?….করলেন তো একটা বোকার মতো প্রশ্ন!অবশ্যই আমি ট্রেনে ভ্রমণ করতে এসেছি,আর কিইবা করব?! আমার বাবা,মা আমার দেখা সবচেয়ে সত্ মানুষগুলোর মাঝে দুজন।বাবার স্বপ্ন ছিল তিনি গায়ক হবেন আর মায়ের স্বপ্ন ছিল তিনি শিক্ষিকা হবেন।কিন্তু দুজনের কারোরই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।তাই উনাদের ইচ্ছা ছিল আমি এই দুটি স্বপ্ন পূরণ করব।আর কিছু নয় মাত্র দুটি স্বপ্ন,শুধু দুটি। ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত ছিলাম।স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর জানতে পারলাম মেধাবীও নাকি হয়েছি।s.s.c ও h.s.c দু দুটোতে জিপিএ ৫ পাওয়ার পর বন্ধুদের নিয়ে যখন চাঁদপুর ঘুরতে যাচ্ছিলাম তখন কতটা আনন্দে ছিলাম তা আপনাদের বলে বোঝাতে পারবনা।মনে হচ্ছিল যেন আমি আকাশে উড়ছি।তিনদিনের জন্য আমরা চাঁদপুর ঘুরতে এসেছিলাম।কত খুশিই না ছিলাম তখন। কিছু বন্ধু আছে যাদের আপনি ছোটবেলা থেকেই চিনেন।তারা আপনার খেলার সাথী,শৈশবের সঙ্গী,জীবনের অন্যতম অংশ,আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড।মাঝে মাঝে ঠাট্টা করে যাদের আমরা”ল্যাংটা কালের ফ্রেন্ড” খেতাবটা দেই।ঠিক তেমনি খেতাবধারী একজন হচ্ছে শ্রাবণ।আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।জীবনের এমন কোন মুহুর্ত আমাদের ছিলনা যা আমারা একে অপরের সাথে শেয়ার করিনি।অনেকের হিংসের বিষয় ছিল আমাদের বন্ধুত্ব।বিশ্বাস করুন আমার জীবনে কোন অপূর্নতা ছিলনা।পরিবার এবং ব্রেস্ট ফ্রেন্ডকে নিয়ে আমি যথেষ্ট সুখী ছিলাম কারন এরা ছিল আমার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ। দুদিন আমরা চারজন প্রচুর ঘুরাঘুরি করলাম।আমরা চারজন বলতে…..আমি,শ্রাবণ,রিয়াসাত আর আকাশ।এতটাই হৈ হল্লা করেছি যে শেষদিনে এসে রিয়াসাত আর আকাশ হোটেলের রুম থেকে বেরুতে চাইলনা।আমি ও শ্রাবণও ওদের তেমন জোর করলামনা কারণ ওরা বেশ ক্লান্ত ছিল।আমি সংগীত প্রেমিক হলেও আমার বন্ধুটি ছিল প্রক্ তি প্রেমিক।তাই ও যখন নৌকা দিয়ে নদীতে ঘুরতে চাইল আমি তখন মানা করতে পারিনি।আর মানা করবই বা কিভাবে..জানের দোস্ত বলে কথা।কিন্তু যখন সে নৌকাচালক ছাড়া নৌকা চড়তে চাইল তখন আমি একটু চিন্তিত হলাম কারন আমি সাঁতার পারলেও ও সাঁতার পারতোনা। নদীর ঢেউ আর সাগরের ঢেউয়ের পার্থক্য যে কত বিশাল ঐদিনই তা টের পেয়েছিলাম।নদীর ঢেউগুলোকে আপন আপন লাগে।কেন জানি মনে হল এরা বড্ড নিরাপদ।জিন্স পায়ের কিছুটা উপরে উঠিয়ে যেই পা দুটো পানিতে রাখলাম।ইইইশশশ…….কি ঠান্ডা পানি।অথচ অদ্ভুত একটা আনন্দ পাচ্ছিলাম তখন।প্রক্ তিকে খুব সুন্দর লাগছিল। আমি খুব অবাক হলাম শ্রাবণের বৈঠা বাওয়া দেখে।শালা আগের জন্মে বোধহয় মাঝি ছিল।পাক্কা একঘন্টা কি সুন্দর নৌকা চালালো।ওর বৈঠা বাওয়া দেখে আমারো সাধ জাগলো বৈঠা বাওয়ার।তাই ওকে বিশ্রাম নিতে বলে আমি বৈঠা ধরতে এগোলাম।কিন্তু যখনই আমি বৈঠা ধরলাম।ঢেউয়ে হঠাত্ নৌকাটা দুলে উঠল।আর শ্রাবণ ভারসাম্য রাখতে না পেরে পানিতে পড়ে গেল।ঘটনার আকস্মিকতায় আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না।ও বারবার হাত পা ছুড়াছুড়ি করছিল।আমার কাছে কেন যেন মনে হল সময় তখন থেমে গেছে। আপনারা নিশ্চয় ভাবছেন যে তখনই আমি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছি বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য।কিন্তু না আপনাদের ধারনা ভুল।আমি সেদিন সাঁতার পারা সত্ত্বেও নদীতে ঝাঁপ দিতে পারিনি কারন আমাকে মরণভয় গ্রাস করেছিল।নিজের প্রাণপ্রিয় বন্ধুকে ঐদিন নিজের ম্ ত্যুর কথা ভেবে বাঁচাতে পারিনি।আমি শুধু নির্বাক হয়ে ওর ডুবে যাওয়া দেখলাম। ওর ম্ ত্যুর আজ ২৭ দিন হল।২৭ ওর খুব প্রিয় একটা তারিখ কারন ২৭ই ডিসেম্বর আমার বার্থডে।কিন্তু এই ২৭ দিন বেঁচে থেকে বুঝতে পারলাম আমার ম্ ত্যু ২৭ দিন আগেই হয়ে গেছে। আমি ভীতু মানুষ,আত্মহত্যা করার মত সাহস আমার নেই।তাইতো আজ ট্রেনের শেষ গন্তব্যের টিকেট টা কেটে ফেললাম হারিয়ে যাব বলে।পকেটে টাকা বেশি নিয়ে আসিনি।সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজেকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারব।ম্ ত্যু ডেকে আনবো তবে তবে ধীরে ধীরে।আমি আপনাদের দোয়া প্রত্যাশী যেন যন্ত্রনাদায়ক ম্ ত্যু পাই। আরেকটা কথা…….ইদানীং আমার কানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।না না না কানে কম শুনি এমন কিছুই নয়।আসলে দুই কানে খালি একটা আওয়াজই সারাক্ষণ শুনি—– “সীমান্ত,দোস্ত আমারে বাঁচা…….আমারে বাঁচা ” [গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।যদি কারো জীবনের সাথে এটি মিলে যায় তবে এটি নিতান্ত কাকতালিয় ছাড়া আর কিছুই নয়]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জনৈক সীমান্তের শেষ স্বীকারোক্তি……

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now