বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
:কি হয়েছে এতদিন পর দেখা আর তুমি স্কুলও আসতেছো না কেনো??{রাফি}
:কেনো আমার ভাইয়া তোমাকে কিছু বলে নাই??
:না তো আমার সাথে দেখা হয় নি..
:আমাদের সম্পর্কের কথা বাড়িতে সবাই জেনে গেছে.
তাই আমার স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে.
আরও অনেক কিছু বলেছে
:কি বলেছে বলো..
:না এখন না তুমি কলেজে যাও আমাদের কেউ এই ভাবে রাস্তায় দেখলে বিপদ হয়ে যাবে.
:তা হলে কখন দেখা করবে??
:রাতে আমরা যেখানে দেখা করি সেখানে আসিও ৩টার সময়..
:ঠিক আছে স্কুলে যাও..
বলেই রাফি কলেজে চলে যায়...
[অনিকা আর রাফি পাশাপাশি গ্রামে থাকে | অনিকা এখন ক্লাস ১০ এ আর রাফি ১১তে পড়ে | তাদের সম্পর্ক শুরু হয় অনিকা যখন ক্লাস ৮ম এ পড়ে | অনিকার এই সম্পর্কে কখনই জড়াতে চায়নি তার বড় কারণ হচ্ছে রাফি মুসলিম আর অনিকা হিন্দু | রাফি অনিকাকে অনেক বার তার ভালোবাসার কথা বললেও অনিকা তাতে রাজি হয়নি কিন্তু এক সময় রাফির ভালোবাসার পাগলামি দেখে অনিকা আর তা দূরে থাকতে পারেনি]
ভালই যাচ্ছিল তাদের ভালোবাসা একে অপরকে জীবনের থেকেও বেশী ভালোবাসে এখন |
দেখতে দেখতে দুইটি বছর চলে যায় তাদের সম্পর্কের..
কিন্তু হঠাৎ বিপদ নেমে আসে...
সেই দিন রাতে......
:অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি
:ভাইয়া এই মাত্র ঘুমালো.
তোমার ভাইয়ার সাথে দেখা হয়েছিল কলেজ থেকে আসার সময় |
:কি বললো??
:অনেক কিছু বুঝালো বললো. অনিকাকে ভুলে যাও, এটা তোমাদের ঠিক হচ্ছে না, সমাজ এটা মেনে নিবে না আরো অনেক কিছু...
:তুমি কি বললে??
:আমি চুপ ছিলাম এক কান দিয়ে শুনে আর এক কান দিয়ে বের করে দিছি |
:এটা মজা ভেবে নিও না তোমাক কিছু করেনি এটাই অনেক..
:কেনো কি হয়েছে ??
:শোন তাহলে......
....৫দিন আগে.........
:অনিকা অনিকা কইরে তুই [ভাই]
:কি হয়েছে ভাইয়া ??
:কিরে তোর বাবা ঘুমাচ্ছে তুই চিল্লাছিস কেনো?? [মা]
:বাবা কে ডাকো মা |
বাবা আসার পর........
:বাবা তোমার মেয়ে স্কুল লেখা পড়া করার জন্য যায় না অন্য কিছু করার জন্য
:কি হয়েছে কি করেছে বাবা
:বাবা ও মানসম্মান সব ধূলয় মিশিয়ে দিয়েছে ও ঐ গ্রামের শরীফ এর ছেলের সাথে প্রেম করে বেড়াচ্ছে তাও আবার দুই বছর ধরে
:কি বলতেছিস এসব দূগা দূগা [মা]
:অনিকা তোর ভাইয়া যেসব বলছে এগুলো কি সত্যি?? [বাবা]
মাথা নিচু করে চুপ করে আছে অনিকা..
:কি হলো আমি কিছু জানতে চাইলাম ??
:বাবা আমি রাফি কে.....
:চুপ.. একদম কথা বলবিনা. তুই এসব কি করতেছিস এ সম্পর্ক কোন দিন পূর্ণ হবে না ওরা মুসলিম আমরা হিন্দু এসব কথা জানাজানি হলে আমরা মুখ দেখাব কি করে |এটা তোর ভুল মা তুই ভুলে যা রাফিকে আজ থেকে কোন যোগাযোগ রাখবিনা..
:কি করছিস মা তুই এগুলো?? এই গুলো কখনই সমাজ মেনে নিবে না | তুই সব ভুলে যা [মা]
:মা আমি রাফিকে ভালোবাসি | ওকে কখনই ভুলতে পারব না [কান্না করে]
:কি বললি তুই?? বড়দের মুখের উপর কথা | আজ থেকে ওর বাইরে যাওয়া বন্ধ [থাপ্পর মেরে]
বর্তমান.........
:আরো অনেক কিছু বলেছে | স্যার বাসায় ফোন দেয় তাই আমাকে আজ স্কুলে যেতে দেয় | ওরা কি বলে বলুক রাফি আমি তোমাকে ছাঁড়া থাকতে পারব না |
:আমিও থাকতে পারব না কখনো | এখন চলে যাও কাল রাস্তায় দেখা হবে আর কাল আবার আসিও......
এভাবে চলতে থাকে তাদের লুকনো ভালোবাসা | লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করা কিন্তু তা বেশী দিন হতো না তার ভাই এখন অনিকাকে ফলো করে কোথাও যেতে দেয় না অনিকার বাবা রাফির বাবাকে কথা গুলো সব বলে অনেক অপমান করে |
এখন রাফিও তাদের চোখে চোখে | মাঝে মাঝে তাদের কথা হতো কিন্তু অনিকার ভাই দেখে ফেলত অনেক মারধোর করত তাকে আর অনিকার বাবা এসব বলে রাফির বাবাকে অপমান করত | এসব সয্য করতে না পেরে রাফিকেও মারত | এভাবে অনেক দিন চলে যায় | অসয্য হয়ে যায় তাদের এই পরিস্থিতি.....
তারপর অনেক কষ্টে তারা দেখা করে.....
:আমি আর পারছিনা [অনিকা]
:আমিও পারছিনা এদের এই ব্যবহার মানতে [রাফি]
:চলো না আমরা কোথাও চলে যাই|
:কোথায় যাবে বলো?? আমাদের এখন পূর্ণ বয়স হয়নি
যদিও চলে যাই তাহলে ওদের বেশী দিন লাগবে না আমাদের খুঁজে বের করতে | আবার এসে নির্যাতন করবে |
:আমি আর পারিনা | আমি মুক্তি চাই | যা করতে হয় করো কিন্তু আমি তোমাকে ছাঁড়া বাঁচব না |
:আমি ও যে বাঁচব না |
আরো অনেক কথা হয় তাদের মাঝে ..........
তারপর হঠাৎ অনিকা বলে
......
:এই দুনিয়ার কোন মানুষ আমাদের মেনে নিবে না | কোন সমাজ নাকি মানবে না, তাদের কাছে নাকি মানসম্মান সব কিছু ,তারা কোন দিন আমাদের এক হতে দিবে না |
:তাহলে কি করব বলো কি ??করব আমি ??
:আমরা তো কোন পাপ করিনি ভালোবেসে |
:হ্যাঁ কিন্তু এই সমাজ ধর্ম ভেদাভেদ বুঝল, তাদের সম্মান বুঝল, আর আমাদের পবিত্র ভালোবাসা কেউ বুঝল না পৃথিবীতে কোন দিন আমরা এক হতে পারব না রাফি
:না আমাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না |
:আমি আর থাকে চাই না চলো আমরা ঐপাড়ে চলে যাই,যেখানে কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না | শুধু তুমি আর আমি থাকব |
:হ্যাঁ এই সমাজের মানুষ গুলি ভালো থাকুক থাকুক তাদের সম্মান নিয়ে ধর্ম ভেদাভেদ নিয়ে |
:আমাদের ভালোবাসা সাত জনমের ভালোবাসা কেউ আলাদা করতে পারবে না ভালো থাকুক তারা যারা পবিত্র ভালোবাসাকে মূল্য দিতে যানেনা....................
[কথা শেষে গ্রামের একটু দূরে একটি বট গাছের সাথে একই দড়িঁতে দুজন দুই দিকে তাদের জীবন স্মৃতিময় করে রাখে চলে যায় পরকালে]
জীবন দিয়ে ভালোবাসাকে আগলে রেখেছিল তারা।
তাদের এই পবিত্র ভালোবাসা কেউ মেনে নিতে পারে নি। শুধু মেনে নিতে পারে আজকের এই আধুনিক যুগের নোংরা ভালোবাসা।
ভালো থাকুক তাদের পরকালের জীবন।যুগ যুগ বেঁচে থাকুক তাদের ভালোবাসা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now