বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।। জঙ্গলের একরাত্রীঃ শেষ পর্ব ।।
ওহ! নো এটা তিনি করতে পারেন না।কি
করছেন এসব।
এটা আপনি করতে পারেন না।
রেগে বলতে লাগলো তারেক।ম্যানেজার
সাহেব
কি করছেন আপনি?আপনি কি পাগল হয়ে
গেলেন নাকি!
চেচিয়ে বললো পাখি। ম্যানেজার কবরের
ভিতর
বসে মজা করে লাশ কড়মড় করে চিবিয়ে
খাচ্ছেন। হঠাৎ
ওদের কথা শুনে ম্যানেজার কবর থেকে
একটা মুন্ডু সমেত
উপরে লাফিয়ে উঠে একটা অদ্ভুত হাসি
দিলো।
যা শুনে মরা মানুষেরও হাড় কাপবে।
নিজেকে সামলে নিয়ে পাখি মুন্ডুটাতে
টর্চের
আলো ফেলতেই ভয়ে ওর হাত থেকে টর্চটা
পড়ে গেল।
ও দেখলো এটা তো জেমির মাথা।তারেক
বললো,আপনাকে তো স্বাভাবিকই মনে
হচ্ছিল কিন্তু আপনার
আচরন এত ভয়াবহ জানলে কিছুতেই আপনার
বাঙলো তে উঠতাম না।আমি স্বাভাবিক
কোন মানুষ নই
আমি একটা ভ্যামপায়ার মানে রক্ত চোষা
বাদুড়, তবে অর্ধেক
বাদুড় আর অর্ধেক মানুষ।আর বাঙলো! হা হা
হা এখানে কোন
বাঙলো নেই। তারেক বললো,তাহলে আমরা
ছিলাম কই!
ম্যানেজার বললো,ওটা একটা পোড়ো
বাড়ি। আর ওখানে সব
আত্মাদের বাস। কোন মানুষের গন্ধ পেলেই
ওটা বাঙলো তে পরিনিত হয়।আর বোকা
মানুষ ওটাকেই আশ্রয়
মনে করে নিজের মৃত্যুকেই আপন করে নেয়।
তারেক
বললো, ঐ অভিশপ্ত বাড়িটাতে না উঠলে
আমাদের কোন
বন্ধুকে হারাতে হতো না। ম্যানেজার
অদ্ভুত
হাসি দিয়ে বললেন,এটাই তোমাদের বড় ভুল
ছিল।
আমি চাইলে প্রথম দিনই তোমাদের মারতে
পারতাম কিন্তু
আমি তা করিনি কারন এতে কোন পর্যটক
আমার
বাঙলোতে উঠতো না আর এতে ওদের ঘাড়
মটকে খেতেও পারতাম না। সেদিন রাত
থেকেই আমি ওত
পেতেও ছিলাম যখনই তোমরা জঙ্গলে বের
হওয়ার সিদ্ধান্ত
নিলে ঠিক তখনই আমি স্থির করলাম
কিভাবে তোমাদের
সবাইকে একে একে আমি মারতে পারবো
এবং ওদের
কাচা চিবিয়ে খেতে পারবো।তোমরা কি
জানো সেদিন
রাতে তোমরা কিসের মাংস খেয়েছিলে,
মরা মানুষের মাংস ছিল।
আর সেটা কার ছিল জানো ঐ পাগল
ভিখারিটার।ও খুব
সমস্যা করছিলো,ওর কারনে ভয় পাচ্ছিলাম
এটা ভেবে যে তোমরা আমার বাঙলো
ছেড়ে দাও কিনা।ওহ!
নো। পাখি বললো। তারেকের মুখ বন্ধ হয়ে
গেল
কথাগুলো শুনে।ম্যানেজার আবার বলতে
লাগলো, সুমন
আমাকে বলেছিল একটা গাইডারের জন্য
আমিও
সুযোগটা নিয়ে নিলাম।আমার এক
চরকে মানে হরিকে তোমাদের সাথে
পাঠালাম
ভুলিয়ে ভালিয়ে এই কবরস্থানে নিয়ে
আসার জন্য।কিন্তু ও
তোমাদের সাথে এতটা আন্তরিক হয়ে গেল
যে আমি ভয়
পাচ্ছিলাম এটা ভেবে যে ওঁ আবার
তোমাদের আমার
ব্যাপারে সব বলে ফেলবে কিনা তাই ওকেও
রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেললাম।
পাখি সইতে না পেরে খেকিয়ে উঠে
ম্যানেজারকে মারতে তেড়ে আসলে
ম্যানেজার
ওর হাত ধরে বলে উঠল তোমার শিরায়
উপশিরায় তাজা রক্ত
বইছে। এমন সুস্বাদু খাবার হাতের
নাগালে পেয়ে ছেড়ে দেই কি করে?বলেই
যেইনা ওর
গলায় মড়ন কামড় বসাতে যাবে ঠিক সেই
সময়ে তারেক
বলে উঠলো, তবেরে শয়তান বলেই
ম্যানেজারের মাথায়
পাথর দিয়ে আঘাত করতেই ম্যানেজার
মাটিতে পড়ে গেল।
তারেক পাখির হাতটা শক্ত করে ধরে
বললো,ও জেগে ওঠার
আগেই চলো পালাই এই মৃত্যুপুরী থেকে।
বলেই
ওরা দৌড়াতে শুরু করলো।
অদুরেই অনেকগুলো লাল আলো ডিব ডিব
করে জ্বলছিল।
পাখি দৌড়াচ্ছে আর বলছে আমি অনেক
আলো দেখতে পাচ্ছি হয়তো ওটাই
লোকালয়।আমরা বোধ
হয় এই
মৃত্যুপুরী থেকে বেচে যেতে পারি বলতে
না বলতেই
দুজনে একটা লোহার বেড়ার সাথে ধাক্কা
খেল।
পাখি বললো,এটা কোথায়
থেকে এলো এটা তো কালকে একবারও
দেখিনি।তারেক
বললো এখন ভাববার সময় নেই চলো নিচ
দিয়ে বেড়িয়ে যাই।আকাশে তখনো চাদটা
জ্বলছিলো,চাদের
আবছা আলোয় একটা নেমপ্লেটে চোখ
পড়লো পাখির।ও
দেখলো ওটাতে বড় করে লেখা খুব
বিপদজ্জনক
এলাকা,নিরাপদ দুরুত্ব বজায় রাখুন। লেখা
পড়ে ঘাবড়ে গেল পাখি।
এটা স্বপ্ন নাকি বাস্তব।কালকেই কিছু
ছিলো না আর আজকেই
এত কিছু।
অন্যদিকে তারেক বেড়ার নিচে প্রায়
কোমড় পরিমান
মাটি খুড়ে ফেলেছে।ও পাখিকে বললো,সময়
নেই ও
যে কোন মুহুর্তেই আসতে পারে।বলতে না
বলতেই
একটা অদ্ভুত শব্দ করে ম্যানেজার আসতে
লাগলো,
হাতে রক্তাক্ত অস্ত্রটা। তারেক
পাখিকে বললো তুমি আগে যাও।না, তুমি
আগে যাও,
পাখি বললো। তর্ক করার সময় নেই,চলে এসো
তাড়াতাড়ি,
তারেক হাপাতে হাপাতে বললো।অগত্য
পাখি আগে যেতে বাধ্য হলো। পাখি
বেড়ার
ওপাশে এসে তারেক কে বললো,তারেক
তাড়াতাড়ি করো ও
এসে পড়েছে। তারেক বললো, আমাকে হেল্প
করো প্লিজ।পাখি হাত বাড়িয়ে দেয়।
তারেক বেড়ার ওপাশে চলে এসেছে প্রায়
এমন সময় একট
হ্যাচকা টানে তারেককে বেড়ার ওপাশ
থেকে টানতে টানতে নিয়ে গেল
ম্যানেজার।তারেক
কে অনেক চেষ্টা করেও আটকাতে পারলো
না পাখি।
পাখি ফুপিয়ে কেদে বললো, তারেক
আমাকে ক্ষমা করো আমি তোমাকে
বাচাতে পারলাম না।
মুহুর্তেই একটা আর্তনাদ আর তারেকের
মাথাটা গড়াতে গড়াতে বেড়ার কাছে
আসতেই
পাখি লাফিয়ে উঠে দৌড়াতে গেল আর
হঠাৎই,,,
হঠাৎই সে একটা পিলারের সাথে ধাক্কা
খেয়ে পড়ে গেল।
আকাশটা অনেক ফর্সা হয়ে গেছে। সিংড়া
ফরেস্টের বেড়ার
পাশে জড়ো হয়েছে অনেক
লোকজন,সাংবাদিক আর পুলিশ।
ফরেস্ট অফিসার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে
বললেন
বেচারী মেয়েটা! শেষ পর্যন্ত রক্ষা
পেলনা।
একে নিয়ে এক বছরে দাড়ালো ৫৩টাতে।
সিপাহী লাশটা গাড়িতে তোল।
সিপাহীরা পাখির নিথর
দেহটা জিপে তুললো। অফিসার বেড়ার
মুখে বড়
করে নোটিশ সিলগালা করে দিলেন।
প্রায় ৫বছর পর
একটা মাইক্রো এসে থামলো সিংড়া
ফরেস্টের বাঙলোর
পার্কিং লটে। ম্যানেজার এসে দাড়ালো
মাইক্রোর সামনে।
একদল তরুন তরুনী মাইক্রো থেকে নেমে
বললো,
বাঙলোটা তো হেব্বি সুন্দর।ওদের
মধ্যে থেকে সুমি বলে উঠলো,বাঙলোতে
কোন রুম
পাওয়া যাবে ৭দিনের জন্য।ম্যানেজার
বললো,হ্যা ৩টা রুম
আছে আর আপনাদের আসার খবরে আমরা সব
বন্দোবস্ত
করে রেখেছি,রাতে আপনাদের জন্য রয়েছে
স্পেশাল
মাংস। সুমি মনে মনে ভাবলো আমরা
আসবো উনি জানলেন
কিভাবে,মানে ঢপ মারছেন।কোন কিছু
চিন্তা না করেই
ওরা ঢুকে পড়লো মৃত্যু গহ্বরে।
।। গল্পটি কেমন লাগল তা কমেন্ট করে
জানাবেন প্লিজ ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now