বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।। জঙ্গলের একরাত্রীঃ ৩য় পর্ব ।।
পাখি কাপা গলায় বলে উঠলো,এ,,,,টা তো
সে,,,ই কাটা মুন্ডুটা।
এটা এখানে কি করে এলো।আশ্চার্যের
ব্যাপার তখনই
তো এটা দেখলাম কবরস্থানে আর
এটা এখানে এলো কিভাবে? জেমি ভ্রু
কুচকে বললো, এই
তোরা দেখ এটাতে রক্ত লেগে নেই কিন্তু
কবরস্থানে যেটা ছিলো সেটার তো সারা
মাথায় রক্ত
লেগে ছিল। সহসা পলাশ বললো,এটা
আমাদের
সাথে কি হচ্ছে আত্মার খেলা নয় তো?
সবাই ঢোক
গিলে বললো আত্মা!! ওদের
সবাইকে থামিয়ে দিয়ে হরি দা বললেন,কুচ
নেহি বাবু সাব।
এটা কোন শেয়াল কুকুরের কাজ হবে।
দেখছেন না কোন
রক্ত লেগে নেই।ভয় নেই ম্যাডামজি, আমি
থাকতে কেউ কিছু
করতে পারবেক নাই।লেকিন সবাই একটু
সাবধানে থাকবেন।
কেউ দল ছাড়া হবেন না।আর একটা কথা
বাবুরা,
এখানে ঝোপে ঝাড়ে কে ঘাপটি মেড়ে
আছে বলা মুশকিল।
সবাই একটু কান খাড়া করে রাখবেন।মামুন
বললো, কিন্তু
হরি দা এখানে আছেটা কি।হরি
বললো,বলতে পারবোনা বাবু।
তারেক বলে উঠল, এবার চলা যাক।সবাই
হাটছে।মামুনের
চোটটা একটু বেশিই লেগেছে তাই ওকে
সাহয্য করছিল
জেমি।জেমি বললো,মামুন দুস্টামী
করবেনা।মামুন
বললো,যে তোমার চেহারা, আয়নায়
দাড়ালে দেখতে।একদম
পেত্নির মত।জেমি বললো তবে রে
দেখাচ্ছি মজা বলেই
ওকে মাটিতে ফেলে দিয়ে যেই
না হাটতে যাবে অমনি হরি দা জেমির
হাতটা খপ
করে ধরে বললেন,ম্যাডামজি আর এগুবেন না
সামনে ফাদ।
ফাদ! সবাই স্বমস্বরে বললো। হরি দা
বললো,দাড়ান
দেখচ্ছি বলে মাটির উপর
থেকে আস্তে করে শুকনো পাতা গুলো তুলে
ফেলতে লাগলেন।
শুকনো পাতার মচ মচ আওয়াজ
পরিবেশটাকে আরো থমথমে করে তুলছে।
কিছুক্ষন
তোলার পর ওরা সবাই দেখলো একটা গভীর
গর্ত আর তার
মুখে জ্বাল বিছানো। মামুন বললো,
আত্মারা বুঝি শক্তি হাড়িয়ে ফেলেছে
তাই ফাদ পেতে খাবার
খাচ্ছে।পাখি বললো, তুই থামবি। আচ্ছা
হরি দা এটা কিসের গর্ত?
হরি বললো,ম্যাডামজি এটা হাতি ধরার
ফাদ।সুমন বললো, তার
মানে আমরা ডাকাতদের ডেরার
কাছাকাছি। হরি বললো,ভয় নেই
বাবু ডেরা এখান থেকে প্রায় ৫ মাইল দুরে।
মামুন বললো, ও
তাই বলুন।আমি তো মনে করেছিলাম আজই
আমাদের শেষ
দিন। পাখি বললো, দুপুর হয়ে গেছে চলো
এবার বিশ্রাম
নেয়া যাক।সবাই গোল হয়ে বসে পড়লো।
একটু নাস্তা সেরে সবাই উঠতে যাবে এমন
সময় নুপুরের
আওয়াজ।সবাই হতবাক,এই দুপুর বেলায় এত
গহীন
বনে মেয়ে আসলো কোথা থেকে।
পাখি মামুনকে বললো,হতচ্ছারা আমার নুপুর
বাজাচ্ছিস।তারেক
একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে
বললো,এমনিতেই মরি মরি তার
উপর আবার ভয় দেখাচ্ছিস। চল,উঠে পড়
খোড়া কোথাকার।
তোর কপালে যে কেমন
করে জেমিটা চেপে বসলো ভেবে পাইনা।
সবাই হাটছে।সুমন পাখিদের ছবি তুলছে।
পাখি ওর জানের
সাথে কথা বলছে।হঠাৎ শুকনো পাতার মচ
মচ শব্দ। সবাই সজাগ
দৃষ্টিতে পিছনে ফিরে দেখে কেউ নেই।
আবার চলা শুরু
করলো সবাই। আচমকা একটা গোঙানীর শব্দ
শুনে থেমে গেল তারেক। ও বললো,তোরা
কেউ কিছু
শুনতে পাচ্ছিস।পলাশ বলোলো, হ্যা একটা
বিকট শব্দ।
হরি দা বললো,বাবুরা পালান বন্য হাতির
দল আসছে।এটা শুনে সবাই
একসাথে দৌড়াতে লাগলো। পলাশ
দৌড়াচ্ছে আর
বলছে আমি আগেই বলেছিলাম এখান থেকে
চলে যাই। প্রায়
আধা ঘন্টা দৌড়ের পর সবাই থেমে
হাপাতে লাগলো। এমন সময়
জেমি বললো,মামুন কই।সবাই একসাথে
বললো,হ্যা ঠিকই
তো মামুন কই। সবাই মামুন কে খুজতে
লাগলো ও চিৎকার
করে বলতে লাগলো,মামুন।মামুন।কই তুই?
কিন্তু মামুনের
কোন সাড়া নেই। সুমন বললো, চলো ওকে
খুজে বের
করি।এদিকে হরি তাগাদা দিতে লাগলো।
এবং বললো, বাবু দিনের
আলো প্রায় শেষ আর কিছুক্ষন পর সন্ধ্যা
নামবে।চলুন
বাঙলো ফিরে যাই।রাতের বেলা জঙ্গল
জীবন্ত
হয়ে ওঠে।মামুন বাবুর আশা ছেড়ে দিন।
তারেক
হরিকে ধমকিয়ে বললো,এটা যদি আপনার
সাথে ঘটতো তাহলে কি আমরা চুপ করে
থাকতাম।সুমন
বললো, তর্ক বাদ দিয়ে সবাই কাজে লেগে
পড়।
প্রায় ২০মিনিট হাটার পর পলাশের পায়ে
কি যেন একটা লাগলো।
চেয়ে দেখে একটা ব্যাগ।
জেমি বলে,আরে এটা তো মামুনের ব্যাগ।
সুর্যটা পশ্চিম
আকাশে আস্তে আসতে ডুবে যাচ্ছে। সুমন
পকেট
থেকে লাইট টা বের করে জ্বালালো।
সুমনকে দেখে সবাই
পকেট থেকে লাইট বের করে জ্বালালো।
তারেক হঠাৎই
বলে উঠলো,আরে এগুলো কি,রক্ত! পাখির
মনটা ছ্যাৎ
করে উঠলো।রক্ত
গুলো দেখে ফুপিয়ে কাদতে লাগলো জেমি।
হঠাৎই
সে একটা পায়ের চিহ্ন দেখতে পেলো।সে
বললো,
তারেক দেখ পায়ের ছাপ। তারেক এগিয়ে
এসে বললো কই
দেখি।হুম বুটের ছাপ।তার মানে হচ্ছে ও
এখন ডাকাত দলের
কাছে। চল সবাই ডাকাতের ডেরায় গিয়ে
মামুনকে উদ্ধার করি।
হরি বললো,লেকিন বাবু ওরা খুব খতরনাক
আদমী।আমাদের
সকলকে মেরে ফেলতে পারে। ভয় নেই, সুমন
বলে উঠলো।চলো এবার চলা যাক।তবে
সাবধান কেউ যেন
দলছাড়া না হয়।সবাই লাইট জ্বালিয়ে
হাটা শুরু করলো।হাটছেই
তো হাটছে।হঠাৎ সবার নজর পড়লো কয়েকটা
ডেরার উপর।
হরি বললো বাবু হয়তো এটা ডাকাতদের
ডেরা হবে। সুমন
বললো এগিয়ে দেখা যাক।
ডেরার কাছাকাছি এসে সুমন হাতের
ইশারা করে থামিয়ে দেয়
আর বলে আমরা ভুল পথে এসেছি এটা তো
জংলীদের
আস্তানা মনে হচ্ছে।পলাশ ভয়ে বলে,
জংলী মানে মানুষ
খেকোর আস্তানা।হুম,পাখি জবাব দেয়।
জেমি বলে, দেখ
দেখ ওখানে কি হচ্ছে। সবাই তাকিয়ে
দেখে মামুন আর
একটা বিদেশীকে জংলীগুলো চ্যাঙ
তোলা করে নিয়ে যাচ্ছে।পলাশ বললো,ঐ
দেখ
বিদেশীটার পায়ে বুট।ওহ! নো আমার
ধারনাটা ভুল ছিল।ওটা ডাকাত
সদস্যের বুটের ছাপ ছিলোনা,বুটের ছাপ ছিল
এই বিদেশীটার।
একটা অদ্ভুত চিৎকার করে একটা খাটো
মানুষ
এসে জংলীগুলোকে কি যেন বলছিল।সুমন
বললো,আমার
ধারনা যদি ভুল না হয় তাহলে এই খাটো
মানুষটা ওদের রাজা।
খাটো জংলীটার নির্দেশে বাকি জংলী
গুলো মামুন আর
বিদেশীটাকে একটা দাড় করানো কাঠের
সাথে বাধল
এবং চারদিকে আগুন লাগিয়ে দিল। জেমি
চিৎকার করতে যাবে ঠিক
সেই সময়ে তারেক ওর মুখ চেপে বললো,থাম
চিৎকার করিস
না।চিৎকার করলে ওরা সবাই আমাদের
মেরে ফেলবে।
জেমি অবোধ বালিকার মত মুখে হাত দিয়ে
কাদতে লাগলো।
কিছুক্ষন পর
ওরা যা দেখলো তা দেখে পাখি বমি করে
করে ভাব।
ওরা দেখলো জংলীগুলো মামুন আর
বিদেশীটার মাংস
ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে।এটা দেখে জেমি আর
সইতে না পেরে গলা ফাটিয়ে চিৎকার
করতে লাগলো।ওর
চিৎকারে মুহুর্তেই জংলীগুলো সজাগ হয়ে
গেল
এবং চেঁচামেচি শুরু করলো।ওদের মধ্যে
একজন
তারেকদের দলটাকে দেখতে পেয়ে অদ্ভুত
শব্দ
করে উঠলো।আর
সাথে সাথে বাকি জংলীগুলো বল্লম,ছুড়ি
নিয়ে তারেকদের
আক্রমন করলো। তারেকসহ সকলেই প্রান
বাচাতে প্রানপণে দৌড়াতে লাগলো।
জংলীগুলোও ওদের
ধাওয়া করতে লাগলো।তারেকসহ সকলেই
দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছে। মুহুর্তেই একটা
আর্তনাদ,,,,
(চলবে)
।। ৪র্থ পর্ব ২ ঘন্টা পর শেয়ার করা হবে ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now