বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ২

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ।। জঙ্গলের একরাত্রীঃ ২য় পর্ব ।। তারেক ভ্যাবলাকান্তের মত দেয়ালে চেয়ে আছে।সবাই ওর চিৎকারে তড়িঘড়ি করে ছুটে আসে।সুমন তো এসেই বলছে, এত সকাল সকাল চিৎকার করছিস কেন?তারেক বললো,দেয়ালের দিকে দেখো সবাই।ওমা! এটা কি করে সম্ভব,পাখি একটু বিস্ময়ের সাথে বললো।সুমন বললো,সরে যা তোরা আমাকে দেখতে দে। ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে সে দেখলো দেয়ালে শুধু একটা ছাপ নয় প্রায় ৪টা ছাপ তাও আবার হাতের উলটো পিঠের।মজার ব্যাপার হলো, ছাপগুলো এত ছোট যে তা কারোও হাতের সাথে মিলছে না।মামুন জেমির হাতের দিকে তাকিয়ে বললো,জানু তোমার ছোট হাতটা একটু বের করোতো।জেমি বললো,দাড়া শয়তান তোকে মজা দেখাচ্ছি।সুমন মামুনকে বললো যাও তো ম্যানেজারকে ডেকে নিয়ে আসো। বলতে না বলতেই ম্যানেজার এসে উপস্থিত। স্যার কি হয়েছে, এত চেঁচামেচি কেন? সুমন ভাই সবিস্তারে সব বললেন। ম্যানেজার রুমাল দিয়ে বার বার ঘাম মুছছিলেন।ম্যানেজার সহসা বলে ফেললেন, ও এসে পড়েছে ও এসে পড়েছে।তারেক বললো কে এসে পড়েছে? ম্যানেজার বললো,সেইই,,,,,ই সেইই,,,,ই।সুমন এবার ধমকিয়ে বললেন, কি সেই সেই করছেন খোলাসা করে বলুন।ম্যানেজার বললো,গত বছর এই বাঙলে এক দম্পতি এসেছিল।প্রায় রাতেই ওদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হতো। আর ওদের একটা প্রিয় বিড়াল ছিল মিনি।ঘটনার দিন রাতে ঐ দম্পতি আবার ঝগড়া শুরু করেন,হঠাৎ দুটি আর্তনাদ।আমি ও আমার কর্মচারীদের নিয়ে দৌড়ে এসে যা দেখি তা দেখে আমাদের গা কাটা দিয়ে উঠলো।স্বামী তার স্ত্রীর বুকে ছুড়ি বসিয়েছেন আর আদুরে বিড়ালটার মাথা ও শরীর দুভাগ হয়ে গেছে,স্বামীটা বেহুশ। তবে ভয়ের ব্যাপার হলো এই যে,বিড়ালের মাথাটা তখনো মেঝেতে গড়াগড়ি করছে যেন সেটা জীবন্ত আর মাথাটা ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে খিল খিল করে হাসছে। তারেক বলে উঠলো,থামুন! আত্মা বলতে কিছু নেই। এমন সময় গাইডার হরি দা এসে হাজির।গতকাল রাতে ফোনে সুমন ভাই ওনাকে আসতে বলেছিলেন। উনি এসে বেকে বসলেন এবং বললেন বাবু রাগ করবেন না এটা আপনাদের শহর নয়,এটা গ্রাম। আর এখানে কত কিছুইনা ঘটে।বনের ভিতর এখনো আত্মারা ঘুড়ে বেড়ায়।পলাশ হরি দা কে থামিয়ে বললো,আপনি সত্যি প্রমান করতে পারবেন? হরি বললো,পারবোনা বৈকি! লেকিন সমস্যা বাবু একটাই বনের উত্তর পাশটায় খ্রিস্টানদের সমাধীস্থল।তারেক বললো, সমাধীস্থল তো পবিত্র। হরি বললেন,বাবু এটা সত্য কিন্তু সমাধী গুলো অজানা ব্যক্তির যারা বনে বাদাড়ে মরে থাকেন।জেমি বলে বসলো আপনার এই ভুতুরে গল্প থামান।এখন বলুন বনের ভিতর আমরা যাচ্ছি কখন। হরি বললেন, সকালের নাস্তা সেড়ে বেড়িয়ে পড়বো। তবে বাবুরা সন্ধ্যের আগেই বাঙলো ফিরতে হবে কিন্তু। তারেক বললো,ওকে নো প্রোবলেম। সকালের নাস্তার মেনু দেখে মামুনের জিভ লক লক করছে। ডিমের অমলেট,রুটি,নুডুলস,জেলি,পাউরুটি, ডাল আর সবজী।এত খাবার দেখে মামুন আর সামলাতে পারছেনা। সব খেয়ে একটা সাচ্ছন্দ্যের ঢেকুড় তুললো মামুন। এমন সময় হরি এসে বললো,বাবুরা গাড়ি রেডি। সবাই তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গাড়িতে তুলছে এমন সময় পাখির চোখ গেল একটা বস্তায়।ও চেচিয়ে বললো,এগুলো কি? হরি বললো ভয় পাবেন না ম্যাডামজি এগুলো রাইফেল।তারেক বললো কিন্তু কেন? হরি বললো,হিংস্র জানোয়ার থাকতে পাড়ে আর আসল বিষয় হচ্ছে এখানে ডাকাতের একটা দল আছে। ওরা যদি আক্রমন করে তাই আত্মরক্ষার্থে এই ব্যাবস্থা। গাড়ি চলতে শুরু করেছে।চারিদিকে পাখির কলরবে পরিবেশটা খুব সুন্দর লাগছে। সমাধীস্থলটার পাশ ঘেষা রাস্তা দিয়ে দুরন্ত বেগে ছুটে চলছে গাড়িটা।হঠাৎ জেমির চোখ পড়লো কবরগুলোর মাঝখানে একটা কাটা মুন্ডু। এখনো রক্ত ঝড়ছে।ও সবাইকে দেখিয়ে বললো,ঐ দেখ।হরি বললো,বাবুরা ঐ দিকে তাকাবেন না এটা অপয়া কবরস্থান। যাইহোক গাড়িটা ২০ মিনিট চলার পড় একটা ডেড়ার কাছে এসে থামলো।তারেক বললো এটা কি? হরি বললো,এটা ফরেস্ট অফিসারদের ডিউটির জায়গা।মামুন বললো,ও তাই বলুন আমি তো ভেবেছিলাম ভুতের ডেরা। বলে সে হাসি দিতে লাগলো।হরি বললো চলুন বাবুরা এবার হাটা যাক।সুমন বললো চলুন।কিছুদুর যাওয়ার পর হরি বলতে শুরু করলো,বাবু যখন আমি জোয়ান ছিলাম তখন প্রায়ই এখানে আসতাম নুপুরের আওয়াজ সুনতে। তারেক বললো,নুপুরের আওয়াজ মানে।হরি বললো সন্ধ্যার দিকে প্রায়ই এখানে একটা মেয়ে নুপুর পড়ে দৌড়ায়।হরি গল্প বলছেন আর সবাই গল্পে মশগুল।সহসা মামুন কিসের সাথে যেন পায়ে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেল। ও উহ! শব্দ করেই চুপ।সবাই ফিরে তাকায়।পাখি কাপা গলায় বলে ওঠে এ,,,,টা তো সে,,,,,ই (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ৫ শেষ
→ জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ৪
→ জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ৩
→ জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ২
→ জঙ্গলের একরাত্রিঃ পর্ব ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now